সময়ের মূল্য
সূচনা: শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বয়ে চলেছে সময়। কিন্তু মানুষের জীবনে সময় সীমার বাঁধনে বাঁধা। নির্ধারিত জীবনকালের বেশি একটি মুহূর্তও সে ব্যবহার করতে পারে না। সময়কে ভালোভাবে কাজে লাগানোর উপরই নির্ভর করে মানুষের সফলতা। জীবনে সফল হতে হলে লক্ষ রাখতে হয় যেন সময়ের অপচয় না হয়, যেন সময়ের উপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করার, মাধ্যমেই কেবল জীবনে সফলতা আনা সম্ভব হয়।
সময়ের সদ্ব্যবহার: আমাদের জীবনের সময়কাল অত্যন্ত ক্ষুদ্র। আমাদের প্রত্যেকের জীবনে সময় খুবই মূল্যবান। মূল্যবান এই জন্য যে সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না। আর একবার সময় চলে গেলে তা আর ফিরে পাওয়া যায় না। ইংরেজিতে বলা হয়েছে, 'Time and Tide wait for none'-এর বাংলা অর্থ হলো সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না।
এজন্য কখনো অলস হয়ে বসে থাকা উচিত নয়। সবসময় সময়কে কাজে লাগানো উচিত। অল্প সময়ে যে কাজ সম্পন্ন হয়, তার জন্য অযথা বেশি সময় নষ্ট করা উচিত নয়। এতে মূল্যবান সময়ের অপচয় হয়। এ কারণে সময়কে ভালোভাবে এবং সফলতার সজো কাজে লাগানো দরকার। যখনকার কাজ তখনই সম্পাদন করা দরকার। প্রতিদিনের কাজের জন্য নির্ধারিত কর্মসূচি তৈরি করে কাজ করলে সময়কে ভালোভাবে ব্যবহার করা যায়। আমাদের প্রতিদিনের পড়ালেখার জন্যও চাই ক্লাসে ও বাসায় পরিকল্পিত রুটিন। তাহলে লেখাপড়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন নানা কাজে, খেলাধুলায় ও সুস্থ বিনোদনে আমরা সময়কে ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারি। আমাদের প্রত্যেকের উচিত সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।
ছাত্রজীবন ও সময়নিষ্ঠা: ছাত্রজীবন হলো ভবিষ্যৎ জীবন গঠনের প্রস্তুতিকাল। সময়ানুবর্তিতার অভ্যাস গড়ে তোলার এ হলো সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এসময় পড়ালেখা, বিনোদন ও বিশ্রামের জন্য সময়-পরিকল্পনার ছক অনুসরণ করা দরকার। মনে রাখা দরকার শ্রমবিমুখ, সময়-অসচেতন ও আলস্যপ্রিয় ছাত্র যেমন লেখাপড়ায় পিছিয়ে যায়, তেমনি জীবনেও ব্যর্থতার অভিশাপ ডেকে আনে। ছাত্রজীবনে সময়নিষ্ঠা অভ্যাস করলে ভবিষ্যৎ জীবনে তা কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখে।
আধুনিককালে সময়ের সদ্ব্যবহার: আধুনিককালে আমাদের জীবন হয়ে পড়েছে জটিল ও বহুমুখী। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনেক কিছুর সঙ্গে আমাদের তাল মিলিয়ে চলতে হয়। রাস্তাঘাটে যানজটে অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। অপ্রয়োজনীয় বিনোদনেও প্রচুর সময় যায়। এসব মনে রেখে মূল করণীয় অনুযায়ী সময়ের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হওয়া উচিত।
সময়ের অপচয়ের কুফল: আমাদের জীবন গঠনের সময় নির্ধারিত। তাই জীবনের প্রস্তুতির সময় আমরা যদি আলস্য-অবহেলায় সময় নষ্ট করি, তবে জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। নিজেকে তৈরি করার সময় একবার পিছিয়ে গেলে পুনরায় এগিয়ে যাওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় সময়ের কাজ সময়ে না করলে কাজের বোঝা বাড়ে। পরে সময়ের অভাবে মূল্যবান কাজও যথাসময় শেষ করা যায় না। শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতা আসে। এজন্য কথায় বলে, 'সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়।' তাই পরে করব বলে কোনো কাজ অসম্পন্ন রাখতে নেই।
উপসংহার: সময় নদীর মতো বয়ে যায়। তা কারো জন্য অপেক্ষা করে না। ধনসম্পদ নষ্ট হলে বা হারিয়ে গেলে পুনরায় তা অর্জনের সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু যে সময় চলে যায় তাকে আর কখনো ফিরে পাওয়া যায় না। ছেলেবেলা থেকেই আমাদের সময়ের প্রতি সচেতন হতে হবে। একুশ শতকের পৃথিবী হাজারো কাজের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলছে বিস্ময়কর দ্রুতগতিতে। সুপরিকল্পিত সময়নিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। সময়ের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত না হলে ছিটকে পড়তে হবে অনেক পেছনে। তাই প্রত্যেকের জীবনের জন্য সময়ানুবর্তিতা অনস্বীকার্য।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!