ডঙ্কা শব্দের অর্থ হলো জয়ঢাক।
নারীকে বিজয়-লক্ষ্মী বলার কারণ হলো- বিশ্বের পুরুষের সব বিজয়ের নেপথ্যেই নারীদের অপরিসীম অবদান রয়েছে।
যুদ্ধ মানেই মৃত্যু আর আত্মত্যাগ, যার জন্য প্রয়োজন অফুরন্ত সাহস এবং অপরিসীম অনুপ্রেরণা। প্রয়োজন আন্তরিক সেবা। প্রেরণা আর সাহস না থাকলে শক্তির বারুদ জ্বলে ওঠে না। যুগে যুগে বীরদের মাঝে এ প্রেরণা আর সাহস একমাত্র নারীরাই জুগিয়েছে। আহত হলে আন্তরিক সেবা করেছে বোনেরা। এ কারণেই নারীকে বিজয়লক্ষ্মী বলা হয়েছে।
নারীকে তার যোগ্য সম্মান জানানোর দিক থেকে 'নারী' কবিতার সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।
সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই পুরুষের পাশাপাশি নারীরা সমান ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু আমাদের পুরুষশাসিত সমাজ নারীর সেই অবদানের কথা স্বীকার করতে চায় না। তবে যুগের পরিবর্তনে নারীরা এখন যথাযোগ্য মর্যাদায় আসীন হতে পেরেছে।
উদ্দীপকে নারীর অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও নারীর মর্যাদার বিষয়টি উঠে এসেছে আব্দুল আজিজের কর্মকান্ড ও চেতনার মাধ্যমে। সে সাধ্যমতো তার স্ত্রীর প্রতি খেয়াল রাখে ও যত্ন নেয়। নতুন বাড়ি করে সেটাকে স্ত্রীর নামে নাম রাখে। নারীদের প্রতি এই সম্মানবোধ 'নারী' কবিতায়ও চমৎকারভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। কবি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে নারীর অবদানের কথা স্বীকার করেছেন। তাছাড়া যারা নারীর প্রতি উদাসীন, নারীদের অবহেলা করে কবি তাদের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন। কবির এই সাম্য চেতনা উদ্দীপকে উপস্থাপিত হয়েছে। তাই বলা যায় যে, আলোচ্য কবিতার নারীকে যথাযোগ্য সম্মান দেখানো সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে 'নারী' কবিতার একটি বিশেষ দিকের ইঙ্গিত রয়েছে, সম্পূর্ণটা নয়। বক্তব্যটি যথার্থ।
মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও সমান অবদান রয়েছে। যেকোনো কাজে সফলতা শুধু পুরুষের দ্বারা সম্ভব নয়। বিশ্বের নানা কল্যাণকর কাজে পুরুষের সঙ্গে সঙ্গে নারীও যে সমানভাবে অবদান রেখেছে সেকথা আমাদের সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ রাখতে হবে।
উদ্দীপকে নারীর প্রতি সম্মান জানানোর বিষয়টি উঠে এসেছে। আব্দুল আজিজ তার স্ত্রীকে যথাযোগ্য সম্মান জানায়। স্ত্রীর প্রতি যত্নশীল এ ব্যক্তি নতুন বাড়িটি স্ত্রীর নামে করে যা তার প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশক। এ বিষয়টি 'নারী' কবিতায়ও উঠে এসেছে। তবে উক্ত বিষয়টিই 'নারী' কবিতার একমাত্র বিষয় নয়। এছাড়া আলোচ্য কবিতায় বহুমুখী ভাবের প্রকাশ ঘটেছে।
'নারী' কবিতায় কবি নারীর প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করেছেন। মানবসভ্যতা বিকাশে নারীর অবদানের কথা স্বীকার করে নারীদের প্রতি পুরুষের বৈষম্যমূলক আচরণের দিকটিও তুলে ধরেছেন। কবিতার এসব বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All'নারী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
মানবসভ্যতার অগ্রগতি সাধনে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের যথার্থ মূল্যায়ন করা হয়নি বলে কবি বর্তমান সময়কে 'বেদনার যুগ' বলেছেন।
এক সময় নারীরা ছিল অবরোধবাসিনী। নারীদের সঙ্গে দাসীর মতো আচরণ করা হতো। অনেক দিন আগে সে যুগ শেষ হয়েছে। বর্তমানে সভ্যতার অনেক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এর পেছনে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অবদান কম নয়। শিক্ষা ও সচেতনতায় যুগেরও পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু তবুও নারীসমাজের যথার্থ মূল্যায়ন হয়নি। বর্তমান সময়কে 'বেদনার যুগ' বলতে কবি এ কথাই বুঝিয়েছেন।
আনোয়ারার কার্যক্রমে 'নারী' কবিতায় বর্ণিত নারী-পুরুষের পাশাপাশি অবস্থান ও অবদানের দিকটি ফুটে উঠেছে।
পৃথিবীতে মানবসভ্যতা নির্মাণে নারী ও পুরুষের সমান অবদান রয়েছে। পুরুষের পাশাপাশি বর্তমানে নারীরা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছে।
উদ্দীপকের আনোয়ারা জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে অংশগ্রহণ করেছেন এবং সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মতো বিশাল কর্মযজ্ঞ কৃতিত্বের সাথে শেষ করেছেন। রিটার্নিং অফিসার হিসেবে সহযোগিতাও পেয়েছেন পুরুষ সহকর্মীদের কাছ থেকে। নারী বলে কোথাও তাকে সমস্যায় পড়তে হয়নি। 'নারী' কবিতায় কবি এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন। কবি নারী-পুরুষের সম অধিকারে বিশ্বাসী। পুরুষের অবদানের পেছনে থাকে নারীর ত্যাগ। মানুষ যেন ত্যাগকে সম্মান করে তাই তিনি চান। কারণ কবি মনে করেন নারীকে যে পুরুষ ঠকাবে সেই একদিন ঠকবে। তাই বলা যায় যে, আনোয়ারার কার্যক্রমে 'নারী' কবিতায় বর্ণিত নারী-পুরুষের পাশাপাশি অবস্থান ও অবদানের দিকটি ফুটে উঠেছে।
"উদ্দীপকে কবি কাজী নজরুল ইসলামের অনুভূতির প্রতিফলন ঘটলেও 'নারী' কবিতায় কবি আরও বাত্ময়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
সাম্যের দৃষ্টি দিয়ে দেখলে নারী আর পুরুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। নারী ও পুরুষের সম্মিলিত প্রয়াসেই মানবসভ্যতার অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।
উদ্দীপকে আনোয়ারা নামে একজন নারীর কৃতিত্বের কথা বলা হয়েছে। তিনি নারী হয়েও জাতিসংঘসহ বিশ্বের নানা দেশে নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ করেছেন। রিটার্নিং অফিসার হিসেবে তিনি অন্য পুরুষ সহকর্মীদের কাছ থেকে যথাযথ সাহায্য-সহযোগিতা পেয়েছেন। অন্যদিকে 'নারী' কবিতার কবি জগতে নর ও নারীর সাম্য বা সমান অধিকারে আস্থাবান। তাঁর মতে, বিশ্বে মানুষের শাশ্বত কল্যাণে যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে, তার অর্ধেক করেছে নারী আর অর্ধেক করেছে পুরুষ। আবার বিশ্বে যত পাপ-তাপ ও বেদনার অশ্রুবারি এসেছে, তাতেও নারী-পুরুষের সমান ভাগ রয়েছে।
উদ্দীপকে নারীর মর্যাদা ও পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার কথা প্রকাশ পেয়েছে। এই বিষয়টি আলোচ্য কবিতার কবি প্রত্যাশা করেন। তার প্রত্যাশার প্রতিফলন উদ্দীপকে ঘটলেও নারী কবিতায় আরও বেশি বাঙ্ঘয়। কারণ সেখানে তিনি শুধু নারীর অধিকার নয়, তার অবদান ও সভ্যতায় দৃঢ় অবস্থার কথাও প্রকাশ করেছেন। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে কবি কাজী নজরুল ইসলামের অনুভূতির প্রতিফলন ঘটলেও 'নারী' কবিতায় কবি আরও বেশি বাঙ্ময়। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।
"বিজয়-লক্ষ্মী নারী' অর্থ হচ্ছে জয়ের নিয়ন্তা যে নারী বা দেবী।
'নারী' কবিতায় কবি সাম্যের গান বলতে মানুষ হিসেবে নারী-পুরুষের সম-অধিকার ও সম-মর্যাদাকে বুঝিয়েছেন।
পৃথিবীতে সভ্যতার যে বিকাশ ঘটেছে তার নেপথ্যে নারী ও পুরুষ উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কবি এ বিষয়টি উদাহরণসহ 'নারী' কবিতায় তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন যে, সমাজের মানুষ নারীদের অবদানকে অস্বীকার করতে চায়। তাদের যোগ্য মর্যাদা না দিয়ে অবহেলা করে। প্রকৃতপক্ষে তা করা অন্যায়। কারণ, পৃথিবীর শুরু থেকেই নারী নানাভাবে পুরুষকে সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা জুগিয়ে এসেছে। সমাজ, সভ্যতার জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছে। এসব দিক বিচারে কবির কাছে তাই নারী এবং পুরুষের কর্ম, মূল্য ও মর্যাদার মধ্যে কোনো বিভেদ বা পার্থক্য নেই। তারা মানুষ হিসেবে অভিন্ন মর্যাদার অধিকারী। কবি সমঅধিকারের চেতনাকেই এখানে সাম্যের গান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!