জসীমউদ্দীন রচিত একটি কিশোর উপযোগী গল্প হলো 'জিদ'। এ গল্পে এক তাঁতি ও তার বউয়ের জিদের কারণে সৃষ্ট নানান জটিলতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেই সাথে গল্পটিতে উঠে এসেছে আগেকার দিনে তাঁতি সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা ও তাদের কাপড় বোনার কৌশল। সেসময় তাঁতি ও তাঁতি বউয়েরা অনেক সময় ধরে যত্ন নিয়ে নিজ হাতে সুতা কেটে তাতে রং করে একেকটি সরু সুতার নকশি-শাড়ি তৈরি করত।
'জিদ' গল্পে তাঁতিদের তৈরি নকশি-শাড়ির খ্যাতি বর্ণনা করা হয়েছে। আগেকার দিনে বাদশাজাদি, নবাবজাদিরা এরকম একেকটি শাড়ি পাওয়ার জন্য তাঁতিদের উঠানে গড়াগড়ি করত। সরু সুতার নকশি শাড়ি তৈরিতে খুব যত্ন নিতে হতো। তাঁতির বউ রাত থাকতে উঠে চরকা নিয়ে সুতা কাটত। ভোরবেলার আগেই সুতা-কাটা শেষ করতে হতো। কারণ, সূর্য ওঠার পর সুতা কাটলে সেই সুতা মোলায়েম হতো না।
তাঁতির বউ সুতা কাটত। তাঁতি সেই সুতায় নানারকমের রং মাখাত। সুতা এতটা সরু ছিল যে, আঙুল দিয়ে ধরলে ছিঁড়ে যেত। তাই বাঁশের সরু শলার সাথে আটকিয়ে, সেই সুতা তাঁতে পরিয়ে, নানারকম নকশা করে তাঁতি কাপড় বুনত। তাঁতির বোনা সেই শাড়ির উপর বুনট করা থাকত রাজকন্যার মুখের রঙিন হাসি, রূপকথার কাহিনি, বেহেশতের আরামবাজের কেচ্ছা ইত্যাদি। ঘরে ঘরে মেয়েরা এই নকশি-শাড়ি পরে হাঁটতে। শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে যেন গুল-এ বকওয়ালি আর লুবাবাকন্যাদের কাহিনি ছড়িয়ে পড়ত।
তাঁতিদের তৈরি এসব নকশি-শাড়ির নামও ছিল খুব সুন্দর সুন্দর। যেমন: কলমি ফুল, গোলাপ ফুল, মন-খুশি, রাসমণ্ডন, মধুমালা কাজললতা, বালুচর ইত্যাদি। শাড়ির নাম শুনেও মানুষের কান জুড়িয়ে যেত। আর শাড়ির সরু সুতার বুনন, সূক্ষ্ম নকশা প্রভৃতি দেখে মুগ্ধ হয়ে মেয়েরা তাঁতিদের কাছ থেকে নকশি-শাড়ি না কিনে পারত না। তাঁতিদের তৈরি নকশি-শাড়িগুলো যেন ছিল সেসময়ের প্রকৃতি ও জনজীবনের একেকটি আখ্যান।
এভাবেই তাঁতিরা প্রচুর ধৈর্য, পরিশ্রম ও আবেগ দিয়ে সরু সুতার নকশি শাড়ি বুনত।
Related Question
View Allপাড়ার লোকেরা তাঁতির দরজায় এসে ডাকাডাকি আরম্ভ করল।
তাঁতি ও তাঁতির বউকে না দেখে পাড়ার লোকেরা অস্থির হয়ে উঠল।
'জিদ' গল্পে পাড়ার লোকেরা তাঁতিকে না দেখে বলাবলি করে, 'আরে 'ভাই! আজ তাঁতি আর তাঁতির বউকে দেখিতেছি না কেন? তাদের বাড়িতে তাঁতের খটর-খটরও শুনি না, চরকার ঘড়র-ঘড়রও শুনি না। কোনো অসুখ-বিসুখ করিল নাকি? আহা! তাঁতি বড়ো ভালো মানুষটি। বেচারা গরিব হইলে কী হয়, কারো কোনো ক্ষতি করে নাই কোনোদিন।'
উদ্দীপকটি 'জিদ' গল্পের তাঁতির অভাব-অনটনের দিকটিকে নির্দেশ করে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়। মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। এ সময় মানুষের জীবনে নানা সমস্যা-সংকট নেমে আসে।
উদ্দীপকে দুর্যোগে আটকে পড়া এক চাষির জীবনের করুণ অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। অনেক দিন ধরে চলা দুর্যোগের কারণে চাষি দারুণ অভাবে পড়ে। উপোস করে সে বেশি দিন চলতে পারে না। ফলে একে একে সে তার ভেড়া, ছাগল, ষাঁড় সব জবাই করে খেতে বাধ্য হলো। উদ্দীপকের চাষির এই অভাবের দিকটি 'জিদ' গল্পে তাঁতির অভাবের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। বিদেশি বণিকরা শহরে কাপড়ের কল বসালে তাঁতির জীবনে অভাব নেমে আসে। কলের তৈরি কাপড় সন্তা-টেকসই, যেখানে সেখানে পাওয়া যায়। তাই তাঁতির কাপড় কেউ কিনতে চায় না। তাঁতি নকশি-শাড়ি বিক্রি করতে না পেরে হাট থেকে ফিরিয়ে আনে। তার সংসারে ভীষণ অভাব নেমে আসে।
"মিল থাকলেও উদ্দীপকের মূলভাব এবং 'জিদ' গল্পের মূলভাব এক নয়।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা কারণে সংসারে অভাবে দেখা দেয়। অভাবের সংসারে মানুষ ইচ্ছা থাকলেও উপায় করতে পারে না। এমনকি প্রয়োজনীয় খাদ্যও জোগাড় করতে পারে না।
উদ্দীপকে এক চাষির জীবনে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। এখানে চাষি বাড়িতে আটকে পড়ে অভাবের শিকার হয়! উপোস করে চলতে না পেরে সে তার ভেড়া, ছাগল, ষাঁড় জবাই করে ক্ষুধা নিবারণ করেছে। এ দিকটি 'জিদ' গল্পের তাঁতির অভাবের দিকটিকে নির্দেশ করেছে। এ বিষয়টি ছাড়া এই গল্পের অন্যান্য বিষয় উদ্দীপকে নেই। 'জিদ' গল্পে বিদেশি বণিকদের শহরে কাপড়ের কল স্থাপন করার ফলে তাঁতির অভাবে পড়া এবং তা থেকে উত্তরণে তাঁতির চেষ্টার দিকটি উদ্দীপকে নেই।
'জিদ' গল্পে তাঁতি তার বউয়ের আবদার রক্ষা করতে গিয়ে বাজার থেকে তিনটি মাছ কিনে আনলে তাঁতিবউ তা শখ করে রান্না করে। দুটি মাছ কে খাবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয় তারা চুপ করে থাকবে, যে আগে কথা বলবে সে-ই একটি খাবে, অন্যজন দুটি খাবে। এটি নিয়ে তারা দুজনে জিদ করে কথা বলা বন্ধ রাখে। এতে না খেয়ে তাদের মরে যাওয়ার জোগাড় হয়। এ বিষয়টি উদ্দীপকে নেই। অনাবশ্যক জেদ যে মানুষের জীবনকে জটিল করে তোলে এবং অন্যকে সমস্যায় ফেলে এ বিষয়টি 'জিদ' গল্পে থাকলেও উদ্দীপকে নেই। এ দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
ঘোড়ার গায়ে জোরে জোরে চাবুক মারেন মোল্লা সাহেব।
'তুই দুইটা খা, আমি একটা খাব'- তাঁতি এ কথা তার বউকে বলেছিল।
'জিদ' গল্পে দুটি মাছ খাওয়ার জন্য তাঁতি ও তাঁতির বউ জিদ করে কথা বলা বন্ধ করে এবং সব কাজকর্ম ছেড়ে ঘরে পড়ে থাকে। পাড়ার লোকেরা ঘরের দরজা ভেঙে তাদেরকে মড়ার মতো পড়ে থাকতে দেখে। তাঁতি এবং তাঁতিবউ মারা গেছে ভেবে পাড়ার লোকেরা তাদের গোসল করিয়ে কবরে শোয়ায়। তখনও তারা জিদ করে কথা বলে না। এক পর্যায়ে লোকেরা তাদের বুকের ওপর বাঁশ চাপিয়ে দিয়ে তার ওপর কোদাল দিয়ে মাটি ফেলতে শুরু করে। তখন তাঁতি বাঁশ-খুঁটিসহ লাফিয়ে ওঠে এবং তার বউকে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
