সহপাঠীর টাকা চুরি করে ধরা পড়েছে তুহিন। সহপাঠীরা তাকে কঠিন শাস্তি দিতে চায়। তুহিন তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত এবং ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু তার সহপাঠীরা কোনো কথাই কানে তুলছে না। তুহিনকে তারা শাস্তি দিবে। এমন সময় সেখানে এসে হাজির হলেন তাদের ধর্ম শিক্ষক। তিনি সব কিছু শুনে তাদের ধর্ম বইয়ের কালীয় নাগ দমনের কাহিনীটি শোনালেন। বন্ধুরা তুহিনকে ক্ষমা করে বুকে টেনে নিলেন।

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

শ্রীকৃষ্ণের কালীয় নাগ দমনের কাহিনীটি দ্বাপর যুগের ঘটনা।

উত্তরঃ

তপন তার সহপাঠীর টাকা চুরি করে ধরা পড়ে। সহপাঠীরা যখন তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য আসে তখন ধর্ম শিক্ষক তাদেরকে কালীয় নাগের কাহিনীটি শোনান। এ কাহিনীর মধ্য দিয়ে ধর্ম শিক্ষক বোঝাতে সক্ষম হন যে, ক্ষমাই মহতের লক্ষণ। পাপকে ঘৃণা করা উচিত পাপীকে নয়। একথা শোনার পর বন্ধুরা তপনকে ক্ষমা করে বুকে টেনে নেয়।

উত্তরঃ

ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। শ্রীকৃষ্ণের কালীয় নাগ দমনের ঘটনা আমাকে প্রভাবিত করে। একদিন শ্রীকৃষ্ণ গোপ বালকদের নিয়ে হ্রদের পাশে খেলছিলেন। তখন তৃষ্ণার্থ কয়েজন বালক হ্রদের জলপান করলে তাদের মৃত্যু হয়। শ্রীকৃষ্ণ দিব্যজ্ঞানে কালীয় নাগের কথা জানতে পারেন। শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় গোপ বালকগণ জীবন ফিরে পান।
শ্রীকৃষ্ণ হ্রদের জলে ঝাঁপ দিলে কালীয় নাগ শ্রীকৃষ্ণকে পেঁচিয়ে ধরে। শ্রীকৃষ্ণ কালীয়কে এমনভাবে গলা চেপে ধরনের যে তার প্রাণ যায় যায়। কালীয় নাগ বুঝতে পারে ইনি স্বয়ং ভগবান। সে ক্ষমা প্রার্থনা করলে শ্রীকৃষ্ণ তাকে হ্রদ থেকে চলে যেতে বলেন। কালীয় তার মূল আশ্রয় রমনক দ্বীপে ফিরে যায়। কালীয় নাগকে হত্যা না করে ক্ষমা করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে শ্রীকৃষ্ণ ক্ষমার আদর্শও স্থাপন করেছেন। শ্রীকৃষ্ণের উক্ত, ক্ষমা প্রদর্শন থেকে আমিও সকল অবস্থায় ক্ষমা প্রদর্শন করতে শিখব। এমনকি ঘোরতর অপরাধীও যদি তার ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা প্রার্থনা করে তাহলে তাকে ক্ষমা করে তার ভুল শুধরানোর সুযোগ করে দেব।

উত্তরঃ

গরুড়ের ভয়ে কালিন্দী হ্রদে আশ্রয় নিয়েছিল কালীয় নামে এক মহাবিষধর সাপ। তার বিষে হ্রদের জল হয়ে গিয়েছিল বিষাক্ত। যে-কেউ ঐ হ্রদের জল পান করলে তৎক্ষণাৎ মারা যেত। একদিন শ্রীকৃষ্ণ গোপবালকদের সঙ্গে নিয়ে ঐ হ্রদের পাড়ে খেলছিলেন। তখন তৃষ্ণার্ত হয়ে কয়েকজন বালক হ্রদের জল পান করে। এতে তাদের মৃত্যু হয়। কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় তারা জীবন ফিরে পায়। কৃষ্ণ বুঝতে পারলেন, নিশ্চয়ই এই হ্রদে বিষধর কোনো সাপ আছে। তার বিষেই হ্রদের জল বিষাক্ত হয়েছে। তিনি তখন দিব্যজ্ঞানে কালীয় নাগের কথা জানতে পারেন। কৃষ্ণ সঙ্গে সঙ্গে জলে ঝাঁপ দেন। আর খাদ্য মনে করে কালীয় নাগ এসে কৃষ্ণকে পেঁচিয়ে ধরে। কৃষ্ণও এমনভাবে কালীয়ের গলা চেপে ধরেন যে তার প্রাণ যায় যায়। তখন কালীয় বুঝতে পারে ইনি সাধারণ লোক নন। স্বয়ং ভগবান। তখন সে ক্ষমা প্রার্থনা করে। কৃষ্ণ তখনই তাঁকে হ্রদ থেকে চলে যেতে বললেন। কালীয় তখন তার মূল আশ্রয় রমণক দ্বীপে ফিরে যায়। এরপর থেকে কালিন্দীর জল আবার পানের যোগ্য হয়। কালীয় নাগ দমনের কাহিনীটির সারকথা হচ্ছে ক্ষমা। এ ঘটনার মাধ্যমে স্বয়ং ভগবান ক্ষমার এক উজ্জ্বল আদর্শ স্থাপন করেছেন।

233

জগতের সকল মানুষ এক রকম নয়। কেউ কেউ নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকে। সবসময় নিজের মঙ্গলের কথাই চিন্তা করে। এরা সাধারণ মানুষ। আবার কেউ কেউ আছেন এর বিপরীত। তাঁরা অপরের মঙ্গলের কথাও চিন্তা করেন। নিজের ক্ষতি হলেও অপরের মঙ্গল করেন। কেউ কেউ সংসারের সুখ ত্যাগ করে জগতের মঙ্গল সাধন করেন। এঁরা হলেন মহাপুরুষ বা মহীয়সী নারী। এঁদের জীবনচরিতই আদর্শ জীবনচরিত। এঁদের জীবনী থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি। আমাদের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়তে পারি। এঁদের পথ অনুসরণ করে আমরাও জগতের মঙ্গল করতে পারি। এ অধ্যায়ে এরূপ ছয়জন মহাপুরুষ ও মহীয়সী নারীর বর্ণনা করা হলো। এঁরা হলেন শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীচৈতন্য, স্বামী বিবেকানন্দ, মা সারদা দেবী, সাধক রামপ্রসাদ এবং প্রভু জগদ্বন্ধু।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • শ্রীকৃষ্ণের বাল্য ও কৈশোরজীবনে বর্ণিত বিভিন্ন ঘটনায় প্রীতি, ন্যায় প্রতিষ্ঠা, জীবপ্রেমসহ বিভিন্ন আদর্শিক দিকের বর্ণনা করতে পারব
  • নৈতিকতা গঠনে শ্রীচৈতন্যদেবের জীবন ও শিক্ষার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব
  • নৈতিকতা গঠনে স্বামী বিবেকানন্দের জীবন ও শিক্ষার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব
  • নৈতিকতা গঠনে মা সারদা দেবীর জীবন ও শিক্ষার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব
  • নৈতিকতা গঠনে সাধক রামপ্রসাদের জীবন ও শিক্ষার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব
  • নৈতিকতা গঠনে প্রভু জগদ্বন্ধুর জীবন ও শিক্ষার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • মহাপুরুষ ও মহীয়সী নারীদের জীবনাদর্শের শিক্ষা নিজ জীবনাচরণে মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ হব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

যারা পরের কল্যাণ এবং জগতের কল্যাণ ও মঙ্গলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেন তারাই হচ্ছেন মহাপুরুষ।

490
উত্তরঃ

কৃষ্ণকে ভজন করতে জাতি ও কুলের বিচার করতে হয় না। বাণীটি বলেছেন শ্রীচৈতন্যদেব।
হিন্দু সমাজে তখন বর্ণভেদ ও অস্পৃশ্যতা প্রবলভাবে বিদ্যমান ছিল। শূদ্র ও চণ্ডালদের সবাই ঘৃণা করত। কিন্তু কৃষ্ণ ভজনে উচ্চ-নীচ, বর্ণভেদ ও অস্পৃশ্যতার কোনো স্থান ছিল না। এখানে ব্রাহ্মণ সন্তান হয়েও চন্ডালদের সাথে এক সারিতে বসে কৃষ্ণ নাম জপ করতে হতো।

144
উত্তরঃ

শ্রীচৈতন্যদেবের নৈতিক আদর্শটি অধ্যাপিকা চিত্রলেখার আচরণের প্রতিফলিত হয়েছে।
শ্রীচৈতন্যদেব তাঁর উদারতা ও ভালোবাসা দিয়ে নবদ্বীপবাসীকে আপন করে নিয়েছিলেন। উদ্দীপকের চিত্রলেখা দেবী তাঁর উদারতা ও ভালোরাসা দিয়ে সকলকে জয় করেছেন। শ্রীচৈতন্যদেব ছিলেন কৃষ্ণভক্ত। তিনি পথে পথে কৃষ্ণনাম প্রচার করতেন। অনেকে বাধা দেন। জগাই-মাধাই নামে মাতাল দুই ভাই একদিন চৈতন্যদেবকে আক্রমণ করে। কিন্তু চৈতন্যদেব তাঁর প্রেমভক্তি দিয়ে তিনি সবাইকে আপন করে নেন। তারা সকলে নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে চৈতন্যদেবের প্রেমভক্তি ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হন। চৈতন্যদেবের এসব আদর্শের কতকগুলো দিক অধ্যাপিকা চিত্রলেখার চরিত্রে লক্ষ করা যায়।

139
উত্তরঃ

নিরহংকার আদর্শ সবাইকে আকৃষ্ট করে কথাটি বাস্তব সত্য।
উদ্দীপকের অধ্যাপিকা চিত্রলেখা একজন কৃষ্ণভক্ত। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও অমায়িক। তিনি জাগতিক ও আত্মিক উন্নয়নমূলক নানা গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি সন্তানদের অন্য বর্ণে বিয়ে দিয়ে এক দৃষ্টান্তমূলক নজির স্থাপন করেন। উদারতা ও ভালোবাসা দিয়ে তিনি সবার মন জয় করেন।
শ্রীচৈতন্যদেবও তাঁর কৃষ্ণভক্তি ও ভালোবাসা দিয়ে নদীয়াবাসীর মন জয় করেছিলেন। তিনি নবদ্বীতীর ঘরে ঘরে কৃষ্ণনাম প্রচার করেন। অনেকে তাঁর প্রতি ক্ষুব্ধ হন। কিন্তু চৈতন্যদেব তাঁর প্রেমভক্তি দিয়ে সবাইকে আপন করে নেন। তাঁর কাছে কোনো জাতিভেদ ছিল না। নিজে ব্রাহ্মণ সন্তান হয়েও চন্ডালদের সাথে এক সারিতে বসে আহার করেছেন। পরিশেষে একথা বলা যায়, উদ্দীপকের চিত্রলেখা দেবী ও শ্রীচৈতন্যদেব উভয়েই তাঁদের নিরহংকার আদর্শ দিয়ে সবাইকে আকৃষ্ট করেছিলেন।

112
উত্তরঃ

স্বামী বিবেকানন্দের দীক্ষাগুরু হচ্ছেন শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব

149
উত্তরঃ

প্রত্যেক জীবের সৃষ্টিকর্তা হচ্ছেন ঈশ্বর, অর্থাৎ প্রতিটি জীবের মধ্যে স্রষ্টা বিদ্যমান। সেহেতু জীবের প্রতি ভালোবাসা ও প্রেম স্রষ্টার প্রতি ভালোবাসা ও প্রেমের শামিল। সুতরাং স্রষ্টাকে পাবার শ্রেষ্ঠ পথ হচ্ছে তার সৃষ্ট জীবের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করা। সেহেতু জীবে দয়া মানুষের ধর্মীয় কর্তব্য। স্বামী বিবেকানন্দ তাই বলেছেন, "জীব সেবাই ঈশ্বর সেবা।"

171
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews