সাধারণত (৩০-৪০) বছরের আবহাওয়ার দৈনন্দিন গড় অবস্থাকেই জলবায়ু বলে।
মেরুদেশীয় জলবায়ু অঞ্চলে সূর্যরশ্মি দেখা যায় না বললেই চলে। ফলে এ অঞ্চলে হিমশীতল বায়ু প্রবাহিত হয়। যে কারণে একে মেরুদেশীয় তুন্দ্রা জলবায়ু বলে। হিমশীতল জলবায়ু তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
সাইফুল ইসলামের গমনকৃত জলবায়ু অঞ্চলটি ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল, যেখানে শীতকালে বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয় এবং সারাবছরই মেঘমুক্ত রৌদ্রকরোজ্জ্বল আবহাওয়া থাকে। নিচে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল চিত্রের মাধ্যমে দেখানো হলো-

উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত জলবায়ু অঞ্চল দুটি হচ্ছে-(১) ভূমধ্যসাগরীয় ও (২) মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চল। এ দুটি জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যে বৈশিষ্ট্যগত ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।
মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবং শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়। ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে শুদ্ধ অয়ন বায়ু এবং শীতকালে আর্দ্র পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত হয়।মৌসুমি জলবায়ুতে গ্রীষ্মকাল বৃষ্টিবহুল এবং শীতকাল বৃষ্টিহীন। অপরদিকে, ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুতে গ্রীষ্মকাল বৃষ্টিহীন এবং শীতকাল বৃষ্টিবহুল। মৌসুমি জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ু গ্রীষ্মকালে জল হতে স্থলভাগের দিকে এবং শীতকালে স্থল হতে জলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়।
অপরদিকে, ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুতে গ্রীষ্মকালে অয়ন বায়ু স্খল থেকে জলভাগের দিকে এবং শীতকালে পশ্চিমা বায়ু জলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। মৌসুমি জলবায়ুতে গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা সেলসিয়াসের অধিক থাকে। অপরদিকে, ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুতে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অত্যধিক বৃদ্ধি পায়
মৌসুমি জলবায়ুতে শীত ও গ্রীষ্মের গড় তাপমাত্রার পার্থক্য প্রায় সে এবং ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুতে শীত ও গ্রীষ্মের গড় তাপমাত্রা প্রায় ° সে.।
মৌসুমি অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১২৫-২০০ সেন্টিমিটার এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে বার্ষিক ২৫-৭৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়
Related Question
View Allবায়ুতে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে।
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে সূর্য সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে অধিক তাপ থাকে। এই অধিক তাপই জলীয়বাষ্প তৈরির মাধ্যমে সারাবছরই অধিক বৃষ্টিপাত ঘটায়। যেকোনো অঞ্চলে বৃক্ষ বেড়ে ওঠার জন্য তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত অতীব প্রয়োজনীয় উপাদান। সারাবছর এরূপ বৃষ্টিপাত ও তাপের জন্য নিরক্ষীয় অঞ্চলে গভীর অরণ্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্দীপকে তৌকিরের গমনকৃত অঞ্চলটি ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর অন্তর্গত। ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে মূলত আর্দ্র পশ্চিমা বায়ুপ্রবাহের জন্য।
শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় মহাদেশীয় ভূভাগের পশ্চিম প্রান্তে হতে ৪০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী স্থানে যে জলবায়ু দেখা যায় তাকে পশ্চিম উপকূলবর্তী উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু বলে। ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী দেশসমূহে এ শ্রেণির জলবায়ু দেখা যায়। এ কারণে এ জলবায়ুকে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু বলে। ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মৃদুভাবাপন্ন শীত ও রৌদ্রকরোজ্জ্বল আবহাওয়া। ফলে এ অঞ্চলের দেশগুলো নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলে অবস্থিত হওয়ার কারণে তাপের তেমন প্রখরতা অনুভূত হয় না। ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে বৃষ্টিবহুল শীতকাল এবং বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল পরিলক্ষিত হয়। এ অঞ্চলে তৃণভূমির পরিমাণ কম। উদ্দীপকে তৌকিরের গমনকৃত দেশটিতে সারাবছর রৌদ্রকরোজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করে এবং শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় তা ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য।
তৌকিরের নিজের দেশটি মৌসুমি জলবায়ুর অন্তর্গত এবং গমনকৃত দেশটি ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর অন্তর্গত। অবস্থানগত কারণে এ দুই দেশের জলবায়ু ভিন্ন প্রকৃতির। নিচে মৌসুমি ও ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর পার্থক্য তুলে ধরা হলো।
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা থেকে সেলসিয়াস এবং শীতকালীন তাপমাত্রা -সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে জুন-জুলাই মাসে সূর্য কর্কটক্রান্তির নিকটবর্তী হয় তখন চাপবলয়গুলো উত্তর দিকে সরে যায়। এ অঞ্চলে শীতকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং গ্রীষ্মকালে বৃষ্টিপাত হয় না। ফলে শীতকাল আর্দ্র এবং গ্রীষ্মকাল শুষ্ক হয়ে থাকে।
অন্যদিকে, মৌসুমি অঞ্চলে সারাবছর তাপমাত্রার পরিমাণ বেশি থাকে। গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা সেলসিয়াসের বেশি থাকে। শীতকালীন তাপমাত্রা সেল সিয়াস থেকে সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। এ অঞ্চলের বায়ুপ্রবাহ ঋতু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কযুক্ত। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এ বায়ুপ্রবাহের গতি ও দিক পরিবর্তন হয় এবং বায়ুর চাপেরও বৈষম্য হয়। এ অঞ্চলের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত সাধারণত ১২৫ থেকে ২০৩ সেমি পর্যন্ত দেখা যায়। এ অঞ্চলে জুন মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে সাধারণত বর্ষাকালে ও গ্রীষ্মকালে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়।
সুতরাং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের জলবায়ু এবং মৌসুমি অঞ্চলের জলবায়ু সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির।
মৌসুমি প্রবাহিত ও নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের জলবায়ুকে মৌসুমি জলবায়ু বলে।
মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড যেমন শিল্প-কারখানা স্থাপন, কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিক সারের ব্যবহার, ফ্রিজ ও এসি ব্যবহার ইত্যাদির কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার প্রাকৃতিক বিভিন্ন গ্যাস যেমন- কার্বন ডাইঅক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, মিথেন গ্যাস ইত্যাদির কারণে বায়ুমণ্ডলের ওপর নেতিবাচক চাপ পড়ছে যা সরাসরি বৈশ্বয়িক উষ্ণায়ন সৃষ্টি করছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!