একজন মাদক গ্রহণকারীর হৃদরোগ, যক্ষ্মা, ক্যান্সার ও শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি রোগ হতে পারে, যা তার শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি করে।
উপযুক্ত পরিকল্পনা দিয়ে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করা যায়। কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা, দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার প্রভৃতির মাধ্যমে অধিক জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করা যায়।
উদ্দীপকের সাঈদের কর্মকাণ্ড অন্যতম সামাজিক সমস্যা কিশোর অপরাধকে নির্দেশ করছে।
অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে বা কিশোরদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধকে কিশোর অপরাধ বলে। কিশোর অপরাধ আমাদের অন্যতম সামাজিক সমস্যা। উদ্দীপকে সাঈদের পিতা-মাতা সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় প্রায়ই অন্যত্র বদলি হয় বলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সাঈদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সে ঘরে বসে মোবাইলে গেম খেলে এবং ইন্টারনেটে অশোভন ছবি দেখে। তার এসব কর্মকান্ড কিশোর অপরাধ। যেসব কাজ কিশোর অপরাধের পর্যায়ে পড়ে সেগুলো হলো- চুরি, খুন, জুয়াখেলা, স্কুল পালানো, বাড়ি থেকে পালানো, পরীক্ষায় নকল করা, বিদ্যালয়ে ও পথে-ঘাটে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, পকেটমারা, মারপিট করা, বোমাবাজি, গাড়ি ভাংচুর, বিনা টিকিটে ভ্রমণ, পথেঘাটে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা, এসিড নিক্ষেপ, নারী নির্যাতন, অশোভন ছবি দেখা, মাদক গ্রহণ ইত্যাদি। আমাদের দেশের কিশোর অপরাধীরা সাধারণত এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে। তাই বলা যায়, সাঈদের কর্মকান্ড কিশোর অপরাধকে নির্দেশ করে।
হ্যাঁ, সাঈদের চাচা কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপই কিশোর অপরাধের মতো সমস্যা সমাধানের একমাত্র কার্যকর পদক্ষেপ বলে আমি মনে করি। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধের অন্যতম উপায় হলো পারিবারিক সচেতনতা।. কিশোরদের অপরাধ প্রবণতার ধরন, তার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে পিতামাতা ও পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা যদি সচেতন থাকেন, তবে তারা সহজেই কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে বা সে পথ থেকে সরিয়ে আনতে পারবেন। উদ্দীপকে উল্লিখিত অস্টম শ্রেণির ছাত্র সাঈদের বাবা-মা সরকারি চাকরির সুবাদে তার সঠিক খেয়াল রাখতে পারেন না। ফলে তার মনে একটি বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ফলে সে মোবাইলে গেম খেলে এবং ইন্টারনেটে অশোভন ছবি দেখে। বিষয়টি তার চাচার নজরে আসলে তিনি সাঈদের বাবা-মাকে তার প্রতি নজর-দিতে বলেন এবং বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে নিয়ে যেতে বলেন। সাঈদের বাবা-মা তার চাচার পরামর্শ মেনে চলায় সাঈদ আস্তে আস্তে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। প্রতিটি শিশুর বিকাশে সুস্থ পারিবারিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এজন্য পরিবারের সন্তানদের মানসিক বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। তাদের চলাফেরার ওপর নজর রাখতে হবে। সন্তানদের সঙ্গে সহজ ও স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তাদের পড়াশুনার খোঁজ-খবর নিতে হবে। তাদের বন্ধু ও সাথিদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখতে হবে। তাদের চিত্তবিনোদনের সঠিক ব্যবস্থা করতে হবে।
সর্বোপরি পরিবারের সদস্যদের সচেতনতা ও শিশুর বিকাশের প্রতি তাদের সতর্কতা একটি শিশু ও কিশোরকে অপরাধ থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।
Related Question
View Allসামাজিক সমস্যা হলো সমাজে বিরাজিত একটি অবস্থা, যা জনগণের উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে এবং এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালায়। বাংলাদেশে নানা সামাজিক সমস্যা রয়েছে।
বাংলাদেশে নানা সামাজিক সমস্যা রয়েছে। তার মধ্যে কিশোর অপরাধ ও মাদকাসক্তি দুটি বড়ো সমস্যা। বর্তমানে এ দুটি সমস্যা সবার জন্যই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণভাবে রাষ্ট্র বা সমাজ স্বীকৃত নয় এমন কজকে অপরাধ বলে। অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে বা কিশোরদের দ্বারা সংগঠিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধকেই বলা হয় কিশোর অপরাধ। কিশোর বয়সে এরা রাষ্ট্র ও সমাজের আইন ও নিয়ম ভাঙে বলেই তারা কিশোর অপরাধী।
বিভিন্ন দেশের সমাজবিজ্ঞানী ও আইনবিদদের মধ্যে কিশোর অপরাধের বয়স নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কাজকে কিশোর অপরাধ বলা হয়। অন্যদিকে, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডে কিশোর অপরাধীর বয়স ৭ থেকে ১৮ বছর। আর জাপানে এ বয়সীমা ১৪ থেকে ২০ বছর।
আমাদের দেশে কিশোর অপরাধের অন্যতম প্রধান কারণ দারিদ্র্য। দরিদ্র পরিবারের কিশোরদের অনেক সাধ বা ইচ্ছাই অপূর্ণ থেকে যায়। এর ফলে তাদের মধ্যে বাড়ে হতাশা এবং এ হতাশাই তাদের অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়।
বাড়ির বাইরে বা কর্মস্থলে অতি ব্যস্ততার কারণে মাতাপিতার পক্ষে তাদের সন্তানদের যথেষ্ট সময় বা মনোযোগ দিতে না পারা, আদর-যত্নের অভাব, মাতাপিতার অকালমৃত্যু বা বিবাহবিচ্ছেদ এমনকি অভিভাবকদের অতিরিক্ত শাসনের কারণেও অনেক কিশোর ধীরে ধীরে অপরাধী হয়ে ওঠে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!