ব্যবসায়ী বা বণিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্ব পালনকারী স্বেচ্ছামূলক প্রতিষ্ঠানকে বণিক সমিতি বলে।
CSR-এর পূর্ণরূপ হলো- Corporate Social Responsibility বা কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্ব।
এটি বড় কোম্পানিসমূহের অবশ্যই করণীয় এমন কর্তব্যের বাইরে সমাজ ও সমাজ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতি দায়িত্ব। এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সামর্থ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকায় তারা ব্যবসায়ের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন পক্ষের প্রতি নানাভাবে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
উদ্দীপকে সাঈদ সাহেব সমাজের ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি সামাজিক দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন।
ক্রেতা ও ভোক্তা ব্যবসায়ের প্রাণ। তাদের আস্থা ও সহযোগিতার ওপর ব্যবসায়ের সফলতা নির্ভর করে। এজন্য প্রত্যেক ব্যবসায়ীরই ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হয়। ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ, ভেজাল না মিশানো, পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা প্রভৃতি এ পক্ষের প্রতি ব্যবসায়ের সামাজিক দায়িত্ব।
উদ্দীপকের সাঈদ সাহেব একজন চাল আমদানিকারক। হাওর এলাকায় বন্যা হওয়ায় দেশে চালের ঘাটতি দেখা দেয়। এ সুযোগে সাঈদ সাহেব বিদেশ থেকে প্রচুর চাল আমদানি করেন। কিন্তু, তিনি সে সময়ে বাজারে তা সরবরাহ করেননি। রমজানে চালের ঘাটতির ফলে বাজারে এর দাম বেড়ে যায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি তখন প্রতি কেজি চালে ৪-৮ টাকা বেশি দামে বিক্রি করেন। ফলে তিনি প্রচুর মুনাফা করেন। ক্রেতা ও ভোক্তাদের দিকটি বিবেচনা না করে তিনি মুনাফা অর্জনকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তারা বাধ্য হয়েই তার কাছ থেকে বেশি দামে চাল কিনেছেন। তার মতো অসাধু ব্যবসায়ীরাই পণ্যের বাজার অস্থিতিশীল করে তোলেন। সুতরাং, সাঈদ সাহেব ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি সামাজিক দায়িত্ব পালন করছেন না।
উদ্দীপকের সাঈদ সাহেবের কাজটি ব্যবসায় নৈতিকতার মানদণ্ডে অনৈতিক বলে আমি মনে করি।
নৈতিকতার মাধ্যমে ব্যবসায়ে ভালো-মন্দ, সত্য-মিথ্যা, সঠিক-ভুল বিচার করা উচিত। ওজন কম দেওয়া, বেশি মুনাফা করা, নিম্নমানের পণ্য দেওয়া প্রভৃতি ব্যবসায়ের অনৈতিক কাজ।
উদ্দীপকের সাঈদ সাহেব চাল আমদানিকারক। হাওর এলাকায় বন্যা হওয়ায় দেশে চালের ঘাটতি দেখা দেয়। এ সুযোগে সাঈদ সাহেব বিদেশ থেকে প্রচুর চাল আমদানি করেন; যা ভোক্তাদের জন্য পর্যাপ্ত ছিল। কিন্তু যথাসময়ে তিনি তা বাজারজাত করেননি। চালের ঘাটতির ফলে বাজারে এর দাম বাড়ার পর তা বিক্রি করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করেন। এভাবে ব্যবসায় ভালো চললেও পরবর্তী সময়ে তার বিক্রির পরিমাণ কমে যাবে।
সাঈদ সাহেব বেশি লাভের আশায় সঠিক সময়ে ও ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ করেননি। এটি ব্যবসায়ের নৈতিকতা বহির্ভূত কাজ। তার এরূপ কাজের জন্য ক্রেতা ও ভোক্তারা ভোগান্তির শিকার হন। ফলে ক্রেতা সমাজে তার সুনাম নষ্ট হবে। ভবিষ্যতে তিনি অন্য সৎ ব্যবসায়ীদের সাথে টিকে থাকতে পারবেন না। তাই বলা যায়, নৈতিকতার মানদণ্ডে সাঈদ সাহেবের ব্যবসায়িক কাজ সম্পূর্ণ অনৈতিক।
Related Question
View Allইথস শব্দের অর্থ মানব আচরণের মানদণ্ড।
পণ্যের মজুতদারি না করা সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা।
ব্যবসায় একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায় জগতে ব্যবসায়ীকে মুনাফা বাড়ানোর জন্য অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। সমাজ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েই ব্যবসায়ের উন্নতি ও প্রবৃদ্ধি হয়। তাই মজুতদারি না করে সমাজে সঠিকভাবে পণ্য বণ্টন করা উচিত।
উদ্দীপকে ব্যবসায় নৈতিকতার কারণে সাহিদ মানসিক প্রশান্তিতে আছে। ব্যবসায় নৈতিকতা ব্যবসায় জগতে ব্যবসায়ীর আচরণকে সঠিকপথে পরিচালিত করে। একটি ব্যবসায়ের ধারণা চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে এটি সফলভাবে পরিচালনার সাথে অনেক কাজ জড়িত থাকে। এসব কাজ সুন্দর, সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নৈতিকতা দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে সাহিদ ও নাদিম দুজনই ব্যবসায়ী। সাহিদ স্বচ্ছতার সাথে ব্যবসায় করে সীমিত মুনাফা অর্জন করেন। তিনি ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করেন না। আর নাদিম চাকচিক্যের আড়ালে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করেন। কম মুনাফা অর্জন করলেও সাহিদ জানে তার ব্যবসায়ের সুনামহানি হবে না। ভালো মানের পণ্য সরবরাহের কারণে সাহিদ মানসিকভাবে অনেক সুখী। আর সৎ ভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করায় তার কাজে নৈতিকতারই প্রতিফলন হচ্ছে।
নাদিম বর্তমানে প্রচুর মুনাফা করলেও ভবিষ্যতে এ ব্যবসায়ে টিকে থাকতে পারবে না বলে আমি মনে করি।
নৈতিকতা ব্যবসায়ের অপরিহার্য উপাদান। যেকোনো ব্যবসায়ের সাফল্য লাভে নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নৈতিকতা মেনে না চললে ব্যবসায়ে টিকে থাকা যায় না।
উদ্দীপকে নাদিম বর্তমানে প্রচুর মুনাফা করলেও তার ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব কম হবে। কারণ অনৈতিকভাবে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য ক্রেতা বা ভোক্তারা বারবার কেনে না। ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের মাধ্যমে মানুষ কঠিন ও জটিল রোগে আক্রান্ত হলে ঐ পণ্য মানুষ আর কিনবে না।
তাছাড়া বাইরের চাকচিক্য বজায় রেখে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করলে ক্রেতা বা ভোক্তারা একসময় তা জানতে পারবে এবং ঐ প্রতিষ্ঠানের পণ্য প্রত্যাখ্যান করবে। তাই বলা যায়, নাদিম অনৈতিকতা ও ভেজাল মিশ্রণ করে ব্যবসায় পরিচালনা করার জন্য ভবিষ্যতে তার ব্যবসায় টিকে থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
কল-কারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া পরিবেশের বায়ু দূষণ করে।
ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ভালো ব্যবস্থাকে নেওয়া ও মন্দটিকে এড়িয়ে চলা হলো ব্যবসায় নৈতিকতা।
ব্যবসায়ের নীতি বা আদর্শ মেনে (করণীয় ও বর্জনীয়) ব্যবসায় পরিচালনা করা অপরিহার্য। সঠিক মাপে পণ্য দেওয়া, ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করা, ক্রেতাদের সাথে উত্তম আচরণ করা প্রভৃতি ব্যবসায় নৈতিকতার আওতায় পড়ে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
