প্রত্নতত্ত্ব হলো অতীত যুগের মানুষের ব্যবহার্য দ্রব্যসামগ্রীর ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সে যুগের সংস্কৃতি সম্পর্কে অধ্যয়ন।
ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণের মাধ্যমে আমরা অতীতকালের মানুষের সামাজিক, সাংস্কৃতিক অবস্থা, জীবনযাত্রা, বিশ্বাস, সংস্কার, রুচি বা দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারি। এর ফলে আমাদের অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানলাভ হয়। এজন্য ঐতিহাসিক স্থানগুলো আমাদের ভ্রমণ করা উচিত।
আমার পাঠ্যবইয়ের ঢাকাস্থ জাতীয় জাদুঘরটি সাগর পরিদর্শন করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সাগর ঢাকার যে জাদুঘরটি পরিদর্শন করে সেখানে ঔপনিবেশিক আমলের জমিদার ও শাসকদের বিভিন্ন জিনিসপত্র সংরক্ষিত ছিল। অনুরূপভাবে, ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘরেও বাংলার নবাব, জমিদার ও ইংরেজ শাসনকালের বেশকিছু প্রত্নসম্পদ সংরক্ষিত আছে। এসব প্রত্নসম্পদের মধ্যে দিনাজপুরের মহারাজার ব্যবহার করা দ্রব্য ও হাতির দাঁতের কারুকাজ করা শিল্পদ্রব্য রয়েছে। আরও আছে বলধার জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীর পোশাক, হাতির দাঁতের নানা কারুকাজ করা দ্রব্য ও ঢাক-তলোয়ার প্রভৃতি। ইংরেজ শাসনামলের বিভিন্ন অস্ত্র, ব্যবহৃত দ্রব্যাদি এই জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। জাদুঘরের এসব নিদর্শনসমূহ আমাদেরকে অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে শিক্ষা দেয়। তাই বলা যায়, ঢাকায় সাগরের পরিদর্শনকৃত জাদুঘরটি ছিল জাতীয় জাদুঘর। এ জাদুঘরে জমিদার ও ইংরেজ শাসনামলের প্রত্ননিদর্শন ছাড়াও বাংলাদেশের লোকজ কৃষ্টি, সংস্কৃতি নানা উপাদানও সংরক্ষিত আছে।
কামাল যে জায়গাটি পরিদর্শন করেছে তা হলো পানাম নগর। উদ্দীপকে কামাল ঢাকার বাইরের যে ঐতিহাসিক জায়গায় যায় তা, প্রাচীনকালের ব্যবসায় বাণিজ্যের জন্য বিখ্যাত ছিল। সেখানকার ভবনগুলোর ভগ্ন অবস্থা দেখে সে ব্যথিত হয়। এজন্য কামাল মনে করে এ ভবনগুলো যেহেতু আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত, তাই এগুলো সংরক্ষণ করা আমাদের উচিত।
উনিশ শতকে ধনী ব্যবসায়ীদের অনেকে বসবাসের জন্য সোনারগাঁওয়ের পানাম এলাকাটি বেছে নেন। পানাম নগর একসময় বাংলার বিখ্যাত মসলিন শাড়ি উৎপাদন ও ব্যবসায় কেন্দ্র ছিল। পানাম নগরের মূল সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে ৫২টি ইমারত আজও টিকে আছে। তবে প্রায় সবগুলো ইমারতই ভগ্ন অবস্থায় আছে এবং কয়েকটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। এসব ইমারতসহ প্রত্ননিদর্শনগুলো আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে জড়িত। তাই যদি এগুলো সবই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে যায় তাহলে আমরা আমাদের অতীত পরিচয়ই হারিয়ে ফেলব। আর তাই এই প্রত্ননিদর্শনগুলো সংরক্ষণ করা আমাদের উচিত। অতএব উদ্দীপকের কামালের উক্তিটি যথার্থ।
Related Question
View All'প্রত্ন' শব্দের অর্থ হলো পুরানো। প্রত্নসম্প বলতে পুরানো স্থাপত্য ও শিল্পকর্মা, মূর্তি বা ভাস্কর্য, অলঙ্কার, প্রাচীন আমলের মুদ্রা ইত্যাদিকে বোঝায়। এসব প্রত্ননিদর্শনের মধ্য দিয়ে সেকালের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা, জীবনযাত্রা, বিশ্বাস-সংস্কার, রুচি বা দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়।
ঢাকার মসজিদগুলোতে মোগল স্থাপত্যশৈলীর প্রাধান্য দেখা যায়। তবে এর সঙ্গে কিছুটা ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর মিশেলও রয়েছে। এসব মসজিদের নির্মাণশৈলী এবং কারুকাজ অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক। এসব মসজিদ ঢাকার ঐতিহ্যের পরিচায়ক।
লালবাগ মসজিদ ও সিতারা বেগম মসজিদ মোগল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। এগুলোর গঠনশৈলী চমৎকার এবং কারুকাজ অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। এই মসজিদগুলোতে মোগল শাসনামলের ঐতিহ্য ফুটে ওঠে।
শিয়াদের ইমামবাড়া এবং হোসেনি দালান শিয়া সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। এখানে মহররমের সময় নানা ধর্মীয় কার্যক্রম পালিত হয়। ইমামবাড়া ঢাকার ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতির প্রতীক। এগুলো ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ইংরেজ শাসনামলে এগুলো পুনর্নির্মাণ করা হয়।
ঢাকার প্রাচীন মন্দিরগুলোর মধ্যে ঢাকেশ্বরী মন্দির ও রমনা কালীমন্দির বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ঢাকেশ্বরী মন্দির অনেক পুরনো এবং এটি ঢাকার ঐতিহ্যের পরিচায়ক। রমনা কালীমন্দির ঔপনিবেশিক আমলে পুনর্নির্মাণ করা হয়। এই মন্দিরগুলো ঢাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ঢাকার আর্মেনিয়ান গির্জা ১৭৮১ সালে আরমানিটোলায় নির্মিত হয়। এটি ঢাকার সবচেয়ে পুরানো গির্জা এবং আর্মেনীয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ঐতিহ্যের নিদর্শন। গির্জাটির স্থাপত্যশৈলী চমৎকার এবং এটি বর্তমানে ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!