মানুষের কর্মকাণ্ড ও গুণাবলির সাথে ভৌগোলিক পরিবেশের মধ্যকার সম্পর্কের প্রকৃতি ও বিন্যাস নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তাকে মানব ভূগোল বলে।
এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণাংশে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান।
বাংলাদেশ উত্তর অক্ষরেখা থেকে উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে এবংপূর্ব দ্রাঘিমারেখা থেকে পূর্ব দ্রাঘিমারেখার মধ্যে অবস্থিত। বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। ফলে এদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলো হলো উন্নত বসতি, অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা যা যথাক্রমে মানব ভূগোল শাখার বসতি ভূগোল, পরিবহন ভূগোল ও কৃষি ভূগোলের অন্তর্ভুক্ত। মানব ভূগোলের একটি উল্লেখযোগ্য শাখা হচ্ছে বসতি ভূগোল। প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের মাধ্যমে আধুনিক গ্রামীণ ও নগর বসতির উদ্ভব কীভাবে হলো তা এ শাখায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যেমন- বসতির ধরন, বিন্যাস, গ্রামীণ বসতি ও শহুরে বসতির মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য, নগরায়ণের ধারা, মানচিত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন পদ্ধতিতে বসতি চিহ্নিতকরণ প্রভৃতি বিষয়গুলো এ শাখার আওতাভুক্ত।
পরিবহন ভূগোল মানব ভূগোলের একটি শাখা। এখানে বিশ্বব্যাপী পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিবহন ব্যবস্থার ওপর ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব, সমুদ্রবন্দর, নৌবন্দর গড়ে ওঠার অনুকূল পরিবেশ, অর্থনৈতিক উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভাব প্রভৃতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করা যায় পরিবহন ভূগোল পাঠের মাধ্যমে।
কৃষি ভূগোলও মানব ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। বর্তমানকালে উন্নত প্রযুক্তির কারণে কৃষির কলেবর বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কৃষি ভূগোল পাঠ অত্যন্ত জরুরি। এ শাখায় কৃষিকাজের ভূগোলিক নিয়ামক, বিশ্বব্যাপী কৃষি উপকরণ (ধান, গম, আখ, চা)-এর উৎপাদন, নিয়ামক, বণ্টন ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলো ভূগোলের নির্দিষ্ট শাখায় শ্রেণিবিভক্ত করা হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশ দুটি হলো বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র।
উভয়ই উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত হলেও দেশ দুটির অবস্থানগত ভিন্নতা রয়েছে।
এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশে বাংলাদেশ অবস্থিত। এটা প্রায় ' উত্তর হতে উত্তর অক্ষরেখা এবং পূর্ব
দ্রাঘিমারেখা হতে ∞ পূর্ব দ্রাঘিমারেখা পর্যন্ত বিস্তৃত। বাংলাদেশের মাঝামাঝি দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা চলে গেছে; ফলে এ দেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত।
বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ (জলপাইগুড়ি জেলা), মেঘালয় ও আসাম; পূর্বে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার এবং পশ্চিমে পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক অবস্থান ভিন্ন। বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রথম স্থানের অধিকারী যুক্তরাষ্ট্র উত্তর আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত। ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং একটি ফেডারেল ডিস্ট্রিক্টের সমন্বয়ে যুক্তরাষ্ট্র গঠিত। যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরে কানাডা এবং দক্ষিণে মেক্সিকো অবস্থিত। আলাস্কা ব্যতীত যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক অবস্থান উত্তর থেকে উত্তর (প্রায়) অক্ষাংশ এবং পশ্চিম থেকে পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ।
তাই বলা যায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভৌগোলিক অবস্থানগত বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
Related Question
View Allবাংলাদেশের মোট আয়তন ১,৪৭.৫৭০ বর্গ কি.মি.।
যেসব অঞ্চল দিয়ে ক্রান্তীয় রেখা অতিক্রম করেছে তাকে ক্রান্তীয় অঞ্চলের দেশ বলে।
বাংলাদেশের উপর দিয়ে ২৩.৫° কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। তাই বাংলাদেশকে ক্রান্তীয় অঞ্চলের দেশ বলে।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দেশটি হলো-যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ও সর্ববৃহৎ অংশ উত্তরে কানাডার সীমানা হতে দক্ষিণে মেক্সিকো এবং পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরের তীর হতে পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগরের তীর পর্যন্ত বিস্তৃত। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ অংশটি ২৫° উত্তর হতে ৪৫° উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত।
আবার আলাস্কার অংশটি বেরিং সাগর ( পশ্চিম দ্রাঘিমা) হতেপশ্চিম দ্রাঘিমা পর্যন্ত এবং উত্তর অক্ষাংশ হতে দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত। অন্যদিকে হাওয়াই পূর্ব-পশ্চিমে পশ্চিম দ্রাঘিমা এবং উত্তর-দক্ষিণে হতে উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত। দেশটির মোট আয়তন ৯৮,২৬,৬৭৫ বর্গ কিলোমিটার।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দেশ দুটি হলো যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। উভয় দেশের শাসনব্যবস্থার মধ্যে কিছু পার্থক্য বিরাজ করে। নিচে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের শাসন-ব্যবস্থার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা 'হলো :
যুক্তরাষ্ট্রে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রজাতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান। রাষ্ট্রীয় নাম ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা। আইনসভা দ্বিকক্ষিক। নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং এর সদস্যসংখ্যা ৪৩৫। উচ্চকক্ষ হচ্ছে সিনেট এবং এর সদস্যসংখ্যা ১০০। ভোট প্রদানের যোগ্যতা অর্জনের বয়স ১৮ বছর। ১৭৮৭সালের ১৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়ন করা হয় এবং ১৭৮৯ সালের ৪ মার্চ থেকে এটি কার্যকর করা হয়। সুপ্রিমকোর্ট দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়। এর কেন্দ্রীয় আইনসভার নাম কংগ্রেস।অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য প্রকৃত বিচারে সংসদীয় গণতন্ত্রব্যবস্থা বিদ্যমান। এর আইনসভার নাম পার্লামেন্ট। আইনসভা দুই স্তরবিশিষ্ট। নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্স যার সদস্যসংখ্যা ৬৫০, সকলেই নির্বাচিত। উচ্চকক্ষ হাউজ অব লর্ডস। যুক্তরাজ্যে সংবিধান সময়ের ব্যবধানে কিছু কিছু লিখিত হলেও অধিকাংশই প্রচলিত নীতি ও প্রথানির্ভর।
পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশের নাম হলো অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ।
যে সমস্ত রাজনৈতিক অঞ্চলের কেবল নামীয় পরিচিতি রয়েছে সেগুলোকে নামীয় অঞ্চল বলে।
মহাদেশ ও মহাদেশের অংশবিশেষ নামীয় অঞ্চলের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
যেমন- এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, ইউরেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি এলাকাও নামীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। নামীয় অঞ্চলের সীমানা সুনির্দিষ্ট নয় এবং এসব অঞ্চলের একক নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রও থাকে না; যেমন- এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকার কোনো রাজধানী নেই। তাই বলা যায় নামীয় অঞ্চলের সীমানা সুনির্দিষ্ট নয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!