জন্মের সময় কোনো শিশুর ওজন যদি ২.৫ কেজি বা ২৫০০ গ্রামের কম হয়, তবে তাকে কম ওজনের শিশু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
সামাজিক পরিবর্তনের ফলে সমাজে আধুনিক চিন্তাচেতনার বিকাশ ঘটার সাথে সাথে বিভিন্ন সমস্যাও জন্ম নিচ্ছে।
নতুন নতুন তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু এর অপব্যবহার নীতি, আদর্শ, নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে গ্রাস করছে। সামাজিক পরিবর্তনের ফলে বাড়ছে শিশুশ্রম, মাদকাসক্তি, কিশোর অপরাধ, নারী নির্যাতন, পারিবারিক
ভাঙন ইত্যাদি।
উদ্দীপকে মাদকের অবাধ বিস্তারের জন্য এদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের ভয়াবহ বিস্তারের জন্য বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়। ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে এদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মাদক সমৃদ্ধ অঞ্চল গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার গোল্ডেন ক্রিসেন্ট এর মাঝে অবস্থান করছে। এছাড়াও ভারত ও নেপাল সীমান্তের গোল্ডেন ওয়েজ এ উৎপাদিত প্রচুর মাদকদ্রব্য এদেশে প্রবেশ করছে। ফলে মাদকদ্রব্য চোরাচালানের আন্তর্জাতিক পরিবহন পথ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় এদেশেও মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটছে। উদ্দীপকের সাতক্ষীরা জেলা মাদক পাচারের এরকমই একটি জোনে অবস্থান করছে। এ কারণে জেলার কলারোয়া উপজেলা সীমান্ত দিয়ে অতিসহজে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে এদেশে মাদকের প্রবেশ ঘটছে।
এছাড়া প্রশাসনিক দুর্বলতা মাদক বিস্তারের অন্যতম কারণ। মাদকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, অবাধ বেচাকেনা ও চোরাচালান বন্ধের জন্য সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক বিভাগ আছে। কিন্তু এসব বিভাগেরমাঝে কাজের সমন্বয়হীনতা, অপ্রতুল জনবল, আন্তরিকতার অভাব, আইনের কঠোর প্রয়োগ না হওয়া ইত্যাদি কারণে মাদকের বিস্তার হ্রাস করা সম্ভব হচ্ছে না। উদ্দীপকেও এ চিত্র লক্ষণীয়। মাদকের সহজলভ্যতা বন্ধে বারবার পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বলা যায়, ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার অভাবে মাদকের বিস্তার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মাদকের অবাধ বিস্তার সমাজকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেয়-বক্তব্যটির যৌক্তিকতা রয়েছে।
মাদকদ্রব্যের ওপর কোনো ব্যক্তির ক্রমাগত নির্ভরশীলতাকে মাদকাসক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর ধ্বংসাত্বক প্রভাব সুস্থ সামাজিক বিন্যাস ও জাতীয় স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। মাদকের ভয়াল ছোবলে অকাল মৃত্যু, পারিবারিক ভাঙন, বিবাহ বিচ্ছেদ সংঘটিত হতে দেখা যায়। এর ফলে পাল্লা দিয়ে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ, অপহরণসহ নানা ধরনের সামাজিক সমস্যা বৃদ্ধি পায়। আবার অনেক ক্ষেত্রেই মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা মাদকের টাকা সংগ্রহের জন্য বিভিন্নভাবে চোরাচালানের সাথে যুক্ত হয়ে পড়ে। ফলে সমাজে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
আবার মাদকাসক্ত ব্যক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের বিস্তার ঘটে। দেখা যায় যারা সংঘবদ্ধভাবে মাদক গ্রহণ করে তাদের সিরিঞ্জ, সূচ, কাঁচের নল ইত্যাদি পরিষ্কার করার মানসিকতা থাকে না। ফলে সহজেই এইডস, হেপাটাইটিস ইত্যাদি রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া যানবাহনের চালকদের মাঝে মাদকাসক্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। ফলে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণের ফলে ফুসফুস, যকৃত, হৃদযন্ত্র প্রভৃতি অঙ্গ আক্রান্ত হয়। যার প্রভাবে ব্যক্তির স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে এবং সে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটির যৌক্তিকতা আছে।
Related Question
View AllIFNS এর পূর্ণরূপ হলো International Federation of Nematology Societies.
সামাজিক সমস্যা সমাজের অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে বিধায় একে সর্বজনীনভাবে ক্ষতিকর বিবেচনা করা হয়।
বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত কোনো সমস্যাকে সামাজিক সমস্যা বলা যায় না। যখন কোনো বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত সমস্যা সমাজের অধিকাংশ মানুষের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তখন বা সামাজিক সমস্যারূপে গণ্য হয়। এটি সমাজের সামগ্রিক মঙ্গলের পরিপন্থী। এছাড়া সামাজিক সমস্যা সব দেশের সব সময়ের সমাজের মানুষের জন্যই ক্ষতিকর। কোনো সমাজের মানুষই সামাজিক সমস্যার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রেহাই পায়নি। তাই সামাজিক সমস্যাকে সর্বজনীন ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আনিসা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।
যে খাদ্যে খাবারের ছয়টি গুণ, যেমন- আমিষ, শর্করা, স্নেহ পদার্থ, পানি, খনিজ লবণ ও ভিটামিন বিদ্যমান সেই খাবার হলো পুষ্টিসম্মত খাবার। এ ধরনের খাবারের অভাবে শরীরে যে অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি হয় তাই হলো অপুষ্টি বা পুষ্টিহীনতা। আনিসার ক্ষেত্রে এ অস্বাভাবিক অবস্থাই দৃষ্টিগোচর হয়।
বস্তিবাসী আনিসা চোখে সমস্যা, মুখে ঘা, ঠোঁট ফাঁটা সমস্যাগুলোতে ভুগছে। এছাড়া রক্তস্বল্পতার জন্য তার মুখমণ্ডল ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।
এসব সমস্যার কারণে সে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা মূলত অপুষ্টির কারণেই হয়। মানবদেহের স্বাভাবিক অবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের গুণগত ও পরিমাণগত অভাবজনিত অবস্থাকে অপুষ্টি বলা হয়। দৈনন্দিন জীবনে একজন মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম থাকার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ও গুণগত খাবার। এ ধরনের খাবারের ঘাটতিই অপুষ্টির সৃষ্টি করে। এ অবস্থা শরীরে নানা ধরনের রোগের জন্ম দেয়, স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত করে, কর্মশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে। এছাড়া পুষ্টিহীনতার কারণে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। যার ফলে স্বাভাবিক কাজকর্ম বিঘ্নিত হয়। উদ্দীপকের আনিসার ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটার কারণে বলা যায়, সে পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।
উক্ত সমস্যা অর্থাৎ পুষ্টিহীনতা সৃষ্টি হওয়ার জন্য মৌলিক মানবিক চাহিদার অপূরণকে দায়ী করা যায়।
মানুষের বেঁচে থাকার জন্য মৌলিক মানবিক চাহিদাগুলো পূরণ করা অপরিহার্য। কিন্তু বাংলাদেশের মতো নিম্ন আয়ের দেশে দারিদ্র্য, অধিক জনসংখ্যা প্রভৃতি কারণে অনেকেই মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ করতে পারে না। ফলে সৃষ্টি হয় বিভিন্ন ধরনের আর্থ-সামাজিক সমস্যা। এ সমস্যাগুলোর মধ্যে পুষ্টিহীনতা অন্যতম। আমাদের দেশের অনেক মানুষ ঠিকমতো খাবার পায় না। আর পুষ্টিকর খাবারের সংস্থান দরিদ্র লোকের জন্য প্রায় অসম্ভব। এছাড়া খাদ্যের গুণাগুণ সম্পর্কেও এদেশের বেশিরভাগ মানুষ অজ্ঞ। ফলে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবারের অভাবে তারা স্বাস্থ্যহীনতায় বা পুষ্টিহীনতায় ভোগে। এ কারণে এদেশের মানুষ রক্তশূন্যতা, চক্ষুরোগ, রাতকানা, রিকেটসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
আবার সুস্বাস্থ্যের জন্য শুধু খাবারই পর্যাপ্ত নয়, ভালো আবাসন, পোশাক এবং উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন। কিন্তু এদেশের মানুষ পর্যাপ্ত বাসস্থান, পোশাক এবং চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। শহর এলাকায় বস্তি সমস্যা, গ্রাম এলাকায় চিকিৎসা সুবিধার অপ্রতুলতার কারণে অনেকেই অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় দিন পার করছে। এসব কারণে পুষ্টিহীনতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ আলোচনা থেকে তাই বলা যায় অপুষ্টি নামক সমস্যাটি সৃষ্টি হওয়ার জন্য মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ না হওয়াই বেশি দায়ী।
জেলা সমাজসেবা অফিসের প্রধান কর্মকর্তা শহর সমাজসেবা কর্মসূচি তত্ত্বাবধান করেন।
সন্তান উৎপাদন ও লালন-পালন বিবাহের অন্যতম কাজ। বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠিত হয়। আর পরিবার সন্তান উৎপাদন ও লালন-পালনের সর্বোৎকৃষ্ট প্রতিষ্ঠান। মানব শিশুর লালন-পালনের দায়িত্ব বাবা-মার ওপরই বর্তায়। বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠন করায় শিশুর রক্ষণাবেক্ষণ ও লালন-পালনে কোনো সমস্যা হয় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!