ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রধান মূল্যবোধ ৬টি।
লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠা করতে ওয়ার্ল্ড ভিশন লিঙ্গসমতা ভিত্তিক এলাকা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করে।
এ কর্মসূচির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো নারীদের ঋণ প্রদান ও সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করা। এক্ষেত্রে দরিদ্র নারীদের সংগঠিত করে ঋণ দেয়া ও সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করা হয়। এর পাশাপাশি দলের সদস্যদের উন্নয়নে গ্রহণ করা হয় ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্ব বিকাশমূলক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে নারী অধিকার ও নারীর ক্ষমতায়নও অন্তর্ভুক্ত থাকে।
সাদিকুর রহমানের কাজ বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত।
ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। এর সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব। ফলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, খরা, ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড, জলাবদ্ধতা ইত্যাদি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু এসব মোকাবিলা, প্রতিরোধ ও প্রতিকারে বাংলাদেশ সরকার নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সাদিকুরের কাজে এসব কর্মসূচির আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে।
সাদিকুর রহমান বাংলাদেশের দুর্যোগ মোকাবিলা এবং দুর্যোগ ঝুঁকি কমানোর জন্য বিভিন্ন কাজের সাথে জড়িত আছেন দক্ষিণাঞ্চলের দুর্যোগ আক্রান্ত জনগণ তার কাছ থেকে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে চাল, ঢেউটিনসহ বিভিন্ন গৃহনির্মাণ সামগ্রী, শীতের পোশাক ইত্যাদি পায়। এসব কাজ বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকেই নির্দেশ করে। কারণ বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের একটি অংশ হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি।
মোট ৯টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে এ কার্যক্রমের বাস্তবায়ন চলছে। এর মধ্যে ৩টি গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য। আর পরবর্তী ৬টি মানবিক সহায়তা ও নিরাপত্তা কর্মসূচি। এই মানবিক সহায়তার আওতায় ভিজিএফ কার্ড দেওয়া হয়েছে ২,০১,১৬৩৮৫টি, জিআর (চাল) পেয়েছে ৩২, ৫১, ৯৩৩টি পরিবার, শীতবস্ত্র দেওয়া হয়েছে ৩,২৬,৯৫০ পিস। এছাড়া গৃহনির্মাণ সামগ্রী পেয়েছে ১০,৭০০ জন, আর (নগদ অর্থ) পেয়েছে ৬৬,৩২৩ জন এবং ঢেউটিন দেওয়া হয়েছে ৭,৯০২টি পরিবারকে। এ আলোচনা থেকে বোঝা যায়, সাদিকুর রহমানের কাজ বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাজেরই অংশবিশেষ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি। এ সংস্থা সম্পর্কে উদ্দীপকের দক্ষিণাঞ্চলের জনগণের মন্তব্য সঠিক।
আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি অন্যতম। সংস্থাটি মুসলিম দেশগুলোতে ত্রাণ ও মানবিক সাহায্য পরিচালনা করে। এ সাহায্যের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবসৃষ্টসমস্যায় রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি বিভিন্নরকম কাজ করে। উদ্দীপকের জনগণের মন্তব্যে এ বিষয়টিরই ইঙ্গিত রয়েছে।
উদ্দীপকে দুর্যোগ আক্রান্ত দক্ষিণাঞ্চলের জনগণ রেডক্রিসেন্ট এর সোসাইটি থেকে সাহায্য পান বলে মন্তব্য করেছেন। এছাড়া না তাদের কথায় এটিও স্পষ্ট হয় যে, এ সহযোগিতামূলক কার্যক্রম সারা বাংলাদেশেই অব্যাহত আছে। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা শহরে এবং পুরোনো চারটি বিভাগীয় শহরে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এটি বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় প্রভৃতি দুর্যোগের সময় নানা ধরনের ত্রাণ সহায়তা করে থাকে। এসব সাহায্যের মধ্যে রয়েছে চিড়া, গুড়, ডাল, কলা, দুধ, আটা, ময়দা, ত্রিপল ইত্যাদি বিতরণ। সম্প্রতি সিডর ও আইলার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং রানা প্লাজা মতো মানবসৃষ্ট দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন দুর্গত এলাকায় রেডক্রিসেন্ট সমিতি ত্রাণসহ নানা ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করেছে।
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আক্রমণ। এ সমস্যা মোকাবিলায় রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ঘূণিঝড়ের পূর্বাভাস প্রচার এবং ঝড়ের সময় জনগণকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করে। এছাড়া এ সংস্থাটি দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতাও চালায়। ১৯৬৬ সালে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি 'প্রাক দুর্যোগ পাইলট প্রকল্প' এবং ১৯৭৯ সালে কক্সবাজারে দুর্যোগ সংকেত লাভের জন্য রাডার কেন্দ্র স্থাপন করে। এ আলোচনা থেকে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি সম্পর্কে উদ্দীপকে উল্লিখিত দুর্যোগ আক্রান্ত জনগণের মন্তব্য সঠিক বলে প্রমাণিত হয়।
Related Question
View All১৯৯৭ সালে পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
মানবহিতৈষী ব্যক্তি হেনরি ডুনান্ট (Henri Dunant) এর উদ্যোগে Red Cross Society প্রতিষ্ঠিত হয়।
২৪ জুন, ১৮৫৯ সালে ইতালির সলফ্যারিনো গ্রামে ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে হেনরি ডুনান্ট A Memory of Solferino' নামক বইতে বিশ্বব্যাপী মানুষের কাছে যুদ্ধাহতদের সেবার জন্য একটি বিশ্ব সংস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ১৮৬৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি হেনরি ডুনান্ট অপর ৪ জন জেনেভাবাসীকে নিয়ে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেন। ১৮৬৩ সালের ২৬ অক্টোবর তারিখে এ কমিটি ১৬টি দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে জেনেভায় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আহ্বান জানায়। এ সম্মেলনের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক রেডক্রস প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
সুরমার উপসর্গগুলো এইডস রোগকে নির্দেশ করে।
এইডস একটি প্রাণঘাতী রোগ। এইডস রোগের ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করে ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে।
এই রোগে আক্রান্ত হলে শরীরের ওজন দ্রুত কমতে থাকে। এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত অবসাদগ্রস্ততা, বিরতিহীন ডায়রিয়া, খাবারে অরুচি, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ফুলে যাওয়া, শারীরিক দুর্বলতা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়।
উদ্দীপকের সুরমার ক্ষেত্রে এই উপসর্গগুলোই দেখা দিয়েছে।
উদ্দীপকের সুরমার সন্তান জন্মের পর দ্রুত ওজন কমতে থাকে। প্রায় সপ্তাহখানেক জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ আরওউপসর্গ নিয়ে সুরমা ডাক্তারের কাছে যায়। তখন রক্ত পরীক্ষায় জানা যায় সে একটি প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত। সুরমার প্রাণঘাতী রোগটির উপসর্গগুলো ওপরে বর্ণিত এইডস রোগের লক্ষণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, সুরমার উপসর্গগুলো এইডস রোগকে নির্দেশ করে।
সুরমার সন্তানের সহযোগিতায় সেভ দ্যা চিলড্রেন ভূমিকা রাখতে পারে বলে আমি মনে করি।
এইডস এর বিস্তৃতি বন্ধে এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সেভদ্যা চিলড্রেন বিশ্বব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে যেসব শিশুর এইডস আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি তাদের জন্য সংস্থাটি বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করে। এক্ষেত্রে সংস্থাটি যেসব কাজ করে তা হলো সমষ্টিকেন্দ্রিক সাহায্য প্রদান, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের শিক্ষা, মানসিক সমর্থন, পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ ইত্যাদি। অসহায়, এতিম এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের ওপর গুরুত্বারোপ করে এইডস বিষয়ে সেভদ্যা চিলড্রেন ব্যাপক কর্মসূচি পালন করে। ২০১৪ সালে সংস্থাটি HIV/AIDS কর্মসূচির আওতায় বিশ্বব্যাপী ১১.৮ মিলিয়ন শিশুকে সহযোগিতা প্রদান করেছে। সুরমার সন্তানের ক্ষেত্রে সংস্থাটি সহযোগিতা করতে পারে।
উদ্দীপকের সুরমা এইডসে আক্রান্ত হওয়ায় তার সন্তানও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আর যেসব শিশু এইডসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে তাদের সুরক্ষায় সেভদ্যা চিলড্রেন নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করে। যেহেতু সুরমার সন্তান এইডসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে আছে সেহেতু সংস্থাটি সুরমার সন্তানকে সহযোগিতা করতে পারে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, সুরমার সন্তানের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সেভ দ্যা চিলড্রেন ভূমিকা রাখতে পারে।
ওয়ার্ল্ড ভিশনের স্থায়ী কার্যালয় অবস্থিত নেত্রকোণার বিরিশিরিতে।
ইউএনডিপির বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম হলো সংকট প্রতিরোধ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম।
UNDP বিভিন্ন দেশে বিদ্যমান সশস্ত্র সংঘাত এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসের ক্ষেত্রে কাজ করে। পাশাপাশি সংঘাত ও দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রমেও সহায়তা দিয়ে থাকে। এছাড়া UNDP ঝুঁকি হ্রাসের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেশের সরকারকে ঝুঁকি হ্রাস বিষয়সমূহ নির্ধারণ, ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, সমন্বিত নীতি প্রণয়ন এবং কর্মসূচির মান নির্ধারণে সহযোগিতা করে থাকে। UNDP নিরস্ত্রীকরণ, সেনা অপসারণ, মাইন অপসারণ, বাস্তুহারা লোকদের পুনর্বাসন এবং নির্যাতন রোধে কর্মসূচি পরিচালনা ইত্যাদি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!