জার্মান ভূগোলবিদ অধ্যাপক কার্লরিটার প্রদত্ত ভূগোলের সংজ্ঞাটি হলো-'ভূগোল হচ্ছে পৃথিবীর বিজ্ঞান'।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ, নতুন নতুন আবিষ্কার, উদ্ভাবন, চিন্তা ধারণার বিকাশ, সমাজের মূল্যবোধের পরিবর্তন ভূগোলের পরিধিকে অনেক বিস্তৃত করেছে। বর্তমানে ভূমিরূপবিদ্যা, আবহাওয়াবিদ্যা, সমুদ্রবিদ্যা, মৃত্তিকাবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা, সমাজবিদ্যা, অর্থনীতি, রাজনীতি ইত্যাদি ভূগোল বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আর এসব নিয়েই ভূগোলের পরিধি অনেক সম্প্রসারিত হয়েছে।
উদ্দীপকে আলোচিত বিষয়টি ভূগোল।
পৃথিবীর ভূমিরূপ, এর গঠন প্রক্রিয়া, বায়ুমণ্ডল, বারিমণ্ডল, জলবায়ু প্রভৃতি বিষয়গুলো সম্পর্কে নিখুঁতভাবে ধারণা দেয় ভূগোল। আবার পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিয়ে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য মানুষ যেসব কাজ করে (যেমন- কৃষিকাজ, পশুপালন, বনজসম্পদ ও খনিজ সম্পদ সংগ্রহ, ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা ইত্যাদি) তার সুস্পষ্ট ধারণাও ভূগোল প্রদান করে থাকে। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন পরিবেশে মানুষ কীভাবে বসবাস করছে, কীভাবে জীবনযাপন করছে, কেন এভাবে জীবনযাপন করছে এ সম্বন্ধে বিশদভাবে বর্ণনা করে থাকে ভূগোল।
অন্যদিকে পৃথিবী, চন্দ্র, সূর্য, বায়ুমণ্ডল, পাহাড়, পর্বত, নদীনালা, গাছপালা, প্রাণিজগৎ এ সবকিছুর সম্মিলিত অবয়বই হচ্ছে পরিবেশ। এ প্রকৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য বর্ণনা করে থাকে ভূগোল।
প্রকৃতি, পরিবেশ ও সমাজ সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান হলো ভূগোলের আলোচ্য বিষয়'- বক্তব্যটি যথার্থ হয়েছে।
ভূগোল মানুষ ও প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে। ভূগোল একদিকে যেমন প্রকৃতির বিজ্ঞান আবার অন্যদিকে পরিবেশ ও সমাজের বিজ্ঞান। পৃথিবীর জলবায়ু, ভূপ্রকৃতি, উদ্ভিদ, প্রাণী, নদনদী, সাগর, খনিজ সম্পদ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে। আবার মানুষের ক্রিয়াকলাপ যেমন- ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শহর-বন্দর নির্মাণ প্রকৃতি ও পরিবেশে নানারকম পরিবর্তন ঘটায়। তাই বলা যায়, মানুষ ও পরিবেশের মধ্যে একটি মিথস্ক্রিয়ার (Interaction) সম্পর্ক আছে। এই সম্পর্কের মূলে আছে কার্যকারণের (Cause and effect) খেলা। ভূগোলের প্রধান কাজ হলো এই কার্যকারণ উদঘাটন করা। পৃথিবীর পরিবেশের মধ্যে মানুষের বেঁচে থাকার যে সংগ্রাম চলছে সে সম্পর্কে যুক্তিযুক্ত আলোচনাই ভূগোল।
তাই বলা যায়, মানুষ ও প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে সম্পর্ক তথা প্রকৃতি, পরিবেশ ও সমাজ সম্পর্কে আলোচনা করাই ভূগোলের আলোচ্য বিষয়।
Related Question
View Allভূগোল শব্দটি সর্বপ্রথম ইরাটসথেনিস ব্যবহার করেছেন।
পৃথিবীর প্রায় চারভাগের তিনভাগই সমুদ্র। তাই সমুদ্রবিদ্যার বিষয়বস্তুও ব্যাপক।
সমুদ্রপথে যোগাযোগ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উত্থান, অবনমন, সমুদ্রের পানির রাসায়নিক গুণাগুণ ও লবণাক্ততা নির্ধারণ, সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি সমুদ্রবিদ্যার বিষয়বস্তুর অন্তর্গত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!