সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটিতে প্রাচীন বাংলার শাসনব্যবস্থার পূর্ণ প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠেনি- মন্তব্যটি যথার্থ।
গুপ্ত শাসনের পূর্বে প্রাচীন বাংলার রাজ্যশাসন সম্বন্ধে সঠিক কোনো বিবরণ পাওয়া যায় না। বাংলাদেশের যে অংশ সরাসরি গুপ্তদের অধীনে ছিল তা কয়েকটি প্রশাসনিক বিভাগে বিভক্ত ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিভাগের নাম ছিল 'ভুক্তি'। প্রত্যেক 'ভুক্তি' কয়েকটি বিষয়ে প্রত্যেক 'বিষয়' কয়েকটি মন্ডলে প্রত্যেক 'মন্ডল' কয়েকটি বীথিতে এবং প্রত্যেক 'বীথি' কয়েকটি 'গ্রামে' বিভক্ত ছিল। অর্থাৎ গুপ্ত শাসনামলে গ্রামই ছিল সবচেয়ে ছোট শাসন বিভাগ। ছয় শতকে গুপ্ত বংশের শাসন শেষ হয়ে যায়। আট শতকের মাঝামাঝি সময়ে পাল বংশ প্রতিষ্ঠিত হয়। পাল শাসনামলে সকল প্রকার শাসনকার্যের জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট শাসন বিভাগ ছিল। প্রতিটি বিভাগের জন্য নির্দিষ্ট বিভাগীয় প্রধান নিয়োগ দেয়া হতো। এ সময় কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ের বিভিন্ন উৎস ছিল যার মধ্যে নানা প্রকার কর ছিল প্রধান উৎস। পাল রাজ্যে যে শাসন-পদ্ধতি প্রচলিত ছিল তা পরবর্তী সময়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজবংশে রাজ্যশাসনের আদর্শ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
উদ্দীপকে রাজা রাধারমণকান্তের শাসনব্যবস্থায় দেখা যায় তিনি রাজ্যকে কয়েকটি বিভাগে ভাগ করেছেন। এছাড়া তার কাজে সাহায্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেছেন। তার এ শাসন ব্যবস্থা প্রাচীন বাংলার শাসন ব্যবস্থার পাল বংশের শাসন-পদ্ধতির সাথে অনেকাংশে সাদৃশ্যপূর্ণ। কিন্তু প্রাচীন বাংলার অন্যান্য শাসন ব্যবস্থার সাথে তার এ পদ্ধতির মিল পরিলক্ষিত হয় না। যেমন উপরে আলোচিত গুপ্ত বংশের শাসন পদ্ধতির সাথে তার পদ্ধতির কোনো মিল নেই।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, উদ্দীপকটিতে প্রাচীন বাংলার শাসনব্যবস্থার আংশিক চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।
Related Question
View Allখড়গ বংশের রাজধানীর নাম ছিল কর্মান্ত-বাসক।
সেনরা ব্রাহ্মণ থেকে পেশা পরিবর্তন করে ক্ষত্রিয় হওয়ায় তাদের ব্রহ্মক্ষত্রিয় বলা হয়। সেন বংশের লোকেরা প্রথমে ব্রাহ্মণ ছিল। কিন্তু কালক্রমে তারা পেশা পরিবর্তন করে ক্ষত্রিয় পেশা গ্রহণ করেন। ফলে কোনো কোনো ঐতিহাসিক তাদেরকে 'ব্রহ্মক্ষত্রিয়' বলেছেন।
উদ্দীপকে নবীনগরের শাসক অজয়ের কর্মকাণ্ডের সাথে সেন শাসক বিজয় সেনের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।
বিজয় সেনের পূর্বপুরুষদের আদি বাসস্থান ছিল সুদূর দক্ষিণাত্যের কর্ণাট। সেখান থেকে তারা বসতি স্থাপন করেন রায় অঞ্চলের গঙ্গা নদীর তীরে। বরেন্দ্র উদ্ধারে রামপালকে সাহায্য করার বিনিময়ে বিজয় সেন স্বাধীনতার স্বীকৃতি পান। এরপর তিনি তার সামরিক কৃতিত্ব দ্বারা রাজ্যসীমা বৃদ্ধি করেন এবং হুগলির ত্রিবেণীতে অবস্থিত বিজয়পুরে প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। ধর্মের দিক থেকে বিজয় সেন ছিলেন শৈব। অন্য ধর্মের প্রতি তার কোনো সহিষ্ণুতা ছিল না।
উদ্দীপকের অজয় তার পরিবারের-সাথে পুরোনো বাসস্থান ছেড়ে নবীনগরে নতুনভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর এলাকার লোকজন ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হন। এ বিষয়গুলো বিজয় সেনের কর্মকাণ্ডের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
বিজয় সেনের বংশধরেরা শিক্ষা ও সাহিত্য বিকাশে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন বলে আমি মনে করি।
বিজয় সেন বৈদিক ধর্মের প্রতি বেশ শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি হিন্দুধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। পরবর্তীতে তার পুত্র বল্লাল সেন অত্যন্ত সুপণ্ডিত ছিলেন। বিদ্যা ও বিদ্বানের প্রতি তার যথেষ্ট অনুরাগ ছিল। তার একটি বিরাট গ্রন্থালয় ছিল। তিনি 'দানসাগর' ও 'অদ্ভুতসাগর' নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি হিন্দুসমাজকে গঠন করার উদ্দেশ্যে- 'কৌলীন্য প্রথা' প্রবর্তন করেছিলেন। এর ফলে সামাজিক আচার-ব্যবহার, বিবাহ অনুষ্ঠান প্রভৃতি বিষয়ে কুলীন শ্রেণির লোকদিগকে কতকগুলো বিশেষ রীতিনীতি মেনে চলতে হতো। আর তার পুত্র লক্ষণ সেনও একজন সুপণ্ডিত ও বিদ্যোৎসাহী ছিলেন। পিতার অসমাপ্ত গ্রন্থ 'অদ্ভুতসাগর' তিনিই সমাপ্ত করেন। ধোয়ী, শরণ, জয়দেব, গোবর্ধন, উমাপতিধর প্রভৃতি প্রসিদ্ধ কবিগণ তার রাজসভা অলঙ্কৃত করতেন। ভারত প্রসিদ্ধ পণ্ডিত হলায়ুধ তার প্রধানমন্ত্রী ও ধর্মীয় প্রধান ছিলেন।
তাই বলা যায়, বিজয় সেনের বংশধরেরা যথার্থই শিক্ষা ও সাহিত্য বিকাশে অবদান রেখেছেন।
পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন গোপাল।
শশাংকের মৃত্যুর পর বাংলার ইতিহাসে যে দুর্যোগপূর্ণ অন্ধকারময় যুগের শুরু হয়েছিল তা মাৎস্যন্যায় হিসেবে অভিহিত। এ সময় বাংলায় কেন্দ্রীয় শাসন শক্ত হাতে ধরার মতো কেউ ছিলেন না। ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়। ভূস্বামীরা প্রত্যেকেই বাংলার রাজা হওয়ার কল্পনায় একে অন্যের সাথে সংঘাতে মেতে ওঠে। এ সময়কালকে আখ্যায়িত করা হয়েছে 'মাৎস্যন্যায়' বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!