কোনো নির্দিষ্ট তাপ ও চাপে বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প থাকে তার সাথে ঐ তাপ ও চাপের বায়ু কী পরিমাণ জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে তার অনুপাতকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে
কৃষিক্ষেত্রে জলবায়ুর ভিন্নতার জন্য 'পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ফসল উৎপন্ন হয়।
অধিক উত্তাপ ও বৃষ্টিযুক্ত মৌসুমি অঞ্চলে ধান, ইক্ষু, চা, কফি, রবার, কোকো, কলা, আনারস প্রভৃতি ফসল উৎপন্ন হয়। আবার নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু অঞ্চলে গম, যব, বাজরা প্রভৃতি ফসল ভাল জন্মে। কাজেই বিভিন্ন দেশের কৃষিজাত ফসল সরাসরি জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত।
উদ্দীপকে 'ক' বৃষ্টিপাত হলো পরিচলন বৃষ্টিপাত। নিচে চিত্রসহ পরিচলন বৃষ্টিপাত ব্যাখ্যা করা হলো।
ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অত্যধিক হলে বায়ুর বাষ্পীভবনের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়। যার ফলে বায়ুর তাপ ক্রমহারে হ্রাস পায় এবং অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। সাধারণভাবে বিকেলের দিকে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়। নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর ধরে রোজ বিকেলে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়।

সুতরাং নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে সাধারণত পরিচলন বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়। তাই উদ্দীপকের 'ক' একটি পরিচলন বৃষ্টিপাত।
উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' বৃষ্টিপাত হলো যথাক্রমে পরিচলন বৃষ্টিপাত ও শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত। বৃষ্টিপাতদ্বয়ের বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো।
সাধারণত নিরক্ষীয় অঞ্চলে ( উ. ও দ. অক্ষাংশ) প্রতিদিন পরিচলন প্রক্রিয়ায় বৃষ্টিপাত হয়। জলভাগ ও বনভূমির প্রাধান্য এবং লম্বভাবে সূর্যরশ্মির পতনে সারাদিন বাষ্পীভবন ও বাষ্পীয় প্রস্বেদনে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু সোজা উপরে উঠে যায়। এ বায়ু শীতল বায়ুস্তরের সংস্পর্শে শীতল ও ঘনীভূত হলে বিকেলে বজ্র-বিদ্যুৎসহ ঝড়-বৃষ্টি হয়। ক্রান্তীয় অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে পরিচলন প্রক্রিয়ায় বিকেলের দিকে ও সন্ধ্যায় পরিচালন প্রক্রিয়ায় বৃষ্টিপাত হয়।
অপরদিকে, সমুদ্র উপকূলের নিকটবর্তী অঞ্চলে পাহাড়, পর্বত, মালভূমি থাকলে নিকটবর্তী উষ্ণ সমুদ্র থেকে আগত জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু এই উচ্চভূমিতে ধাক্কা খায় এবং উপরে উঠতে থাকলে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটায়। এই অংশকে প্রতিবাত পার্শ্ব বলে। উচ্চভূমি অতিক্রম করে বায়ু অপর পার্শ্বে অর্থাৎ অনুবাত পার্শ্বে পৌছলে এতে জলীয়বাষ্প আর থাকে না বলে বৃষ্টি খুব কম হয়। এ অঞ্চলকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে। পর্বতের অনুবাত পার্শ্বের বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলটি সাধারণভাবে শুষ্ক বা প্রায় শুষ্ক হয়। অন্যান্য উপাদান যেমন- গিরিখাতের অবস্থান, উষ্ণতার পার্থক্য ইত্যাদিও শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতের ওপর প্রভাব ফেলে।
উদ্দীপকের নিরক্ষীয় অঞ্চলের পরিচালন বৃষ্টিপাত এবং বাংলাদেশের সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতের কথা বলা হয়েছে। যাদের মধ্যে উপর্যুক্ত বৈশিষ্ট্যগত বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
Related Question
View Allবায়ুর অনুভূমিক গতিকে বায়ুপ্রবাহ বলে।
সমুদ্রস্রোত এবং বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। এ বেঁকে যাওয়াই ফেরেলের সূত্র নামে পরিচিত।
ফেরেলের সূত্র দ্বারা প্রমাণ করে যে, আহ্নিক গতিতে পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে। এ সূত্র অনুসারে অয়ন বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে থাকে। নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্র অনুসারে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ুর গতি বেঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। অর্থাৎ দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রবাহ-২ এ স্থানীয় বায়ুর কথা বলা হয়েছে।
পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে এক ধরনের বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয়, একে স্থানীয় বায়ু বলে। উত্তর আমেরিকার রকি পর্বতের পূর্বপার্শ্বের উষ্ণ ও শুষ্ক প্রবাহিত চিনুক বায়ু; পার্বত্য অঞ্চলের শীতল বায়ু পাহাড়ের উপত্যকার মধ্য দিয়ে সমভূমির দিকে প্রবাহিত ফন বায়ু; ফ্রান্সের রোন নদীর উপত্যকা দিয়ে শীতকালে দক্ষিণে সমভূমি ও দ্বীপ এলাকার দিকে প্রবাহিত মিস্টাল বায়ু; ভূমধ্যসাগরের ওপর দিয়ে যে নিম্নচাপ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয় তার পুরাভাগের সিরক্কো বায়ু এবং মিসরের দক্ষিণ দিক হতে মিশরে প্রবাহিত খামসিন বায়ু প্রভৃতি স্থানীয় বায়ু।
প্রত্যেকটি বায়ু স্থানীয় ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণ দ্বারা প্রভাবিত হয়। তেমনি উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রবাহ-২ স্থানীয় বায়ুর বৈশিষ্ট্য দ্বারা প্রভাবিত। সুতরাং উল্লিখিত প্রবাহ-২ স্থানীয় বায়ু।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রবাহ-১ দ্বারা নিয়ত বায়ুকে নির্দেশ করে।
যেসব বায়ু পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো নিয়ন্ত্রিত হয়ে বছরের সবসময় একই দিকে নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হয় তাদের নিয়ত বায়ু বলে। ভূপৃষ্ঠের চাপবলয়গুলোর অবস্থান লক্ষ্য করলে বায়ুপ্রবাহের দিক সহজেই জানা যায়। বায়ুপ্রবাহ উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হওয়ার সময়, উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় হতে উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরে ওঠে গেলে কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় হতে অয়ন নিয়ত বায়ু শীতল ও ভারী বায়ু নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে, কর্কটীয় ও মকরীয় বলয় হতে আরও দুটি বায়ুপ্রবাহ সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়ের দিকে পশ্চিমা নিয়ত বায়ু প্রবাহিত হয়। আবার, মেরু অঞ্চলের উচ্চচাপ বলয় হতে অতি শীতল ও ভারী বায়ু উত্তর গোলার্ধে নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। এ বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়।
কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০ – ৪০ বছরের আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
বায়ুর উষ্ণ ও শীতল অবস্থাকে বায়ুর তাপমাত্রা বলে।
তাপমাত্রার পরিমাপের উপর কোনো স্থানের জলবায়ু বহুলাংশে নির্ভরশীল। তাপমাত্রা বেশি হলে অঞ্চলটিতে উষ্ণ জলবায়ু বিরাজ করে। আবার তাপমাত্রা খুব কম বা মধ্যম হলে অঞ্চলটিতে যথাক্রমে মেরুদেশীয় অথবা নাতিশীতোষ্ণ বায়ুর সৃষ্টি হয়। এজন্য তাপমাত্রা জলবায়ুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।হসেবে বিবেচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!