যে মার্কেটিং মতবাদে বর্তমান মার্কেটিং চিন্তা-চেতনা এবং কার্যক্রমে পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে, পণ্য মোড়কীকরণে এবং পণ্য বণ্টনে পরিবেশের কোনো ক্ষতি করবে না এমন নিশ্চয়তা দেওয়া হয়, তাকে গ্রিন মার্কেটিং বলে।
টেলিফোনের মাধ্যমে ক্রেতাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করে বিক্রয়ের প্রচেষ্টাকে টেলিমার্কেটিং বলে।
টেলিমার্কেটিং-এ বিপণনকারীরা সম্ভাব্য ক্রেতার একটি অংশকে টার্গেট করেন। বিপণনকারী উদ্যোগী হয়ে এসব ক্রেতার নিকট পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে টেলিফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করেন। অনেক সময় বিক্রেতারাও উদ্যোগী হয়ে ইলেকট্রনিক্স টেলিফোন মাধ্যমে বিপণনকারীর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেন।
ট্রান্সটেক কোম্পানির কর্মসূচিটি হলো গ্রিন মার্কেটিং।
পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদন ও বিপণন করাই গ্রিন মার্কেটিং-এর উদ্দেশ্য। গ্রিন মার্কেটিংয়ে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়। গ্রিন মার্কেটিংয়ের অন্যতম একটি প্রয়োগ ক্ষেত্র হলো শক্তি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি।
উদ্দীপকে ট্রান্সটেক কোম্পানি বিনামূল্যে সাধারণ বাল্ব পরিবর্তন করে এনার্জি বাল্ব প্রদানের ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটির এই কার্যক্রমের ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। এতে কম শক্তি ব্যয় করেই চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে প্রকৃতির ওপর যে চাপ পড়ে, তা কমে আসবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত কয়লা, তেল, পরমাণু, তাপ ইত্যাদির সাশ্রয় হবে; যা গ্রিন মার্কেটিংয়ের বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, ট্রান্সটেক কোম্পানি গ্রিন মার্কেটিং অনুসরণ করছে।
ট্রান্সটেক কোম্পানির গৃহীত উদ্যোগটি বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে খুবই ইতিবাচক এবং পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গ্রিন মার্কেটিং পরিবেশ দূষণ রোধ এবং পরিবেশের নিরাপত্তা প্রদানে সর্বদা সচেষ্ট থাকে। বর্তমান বৈশ্বিক উষ্ণতা বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় দেশসমূহের জন্য হুমকি। গ্রিন মার্কেটিং এক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্বে তুলনামূলক বিদ্যুৎ খরচ বেশি হয়। তাই ট্রান্সটেক কোম্পানি এসব বাল্ব ফেরত নিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এনার্জি বাল্ব প্রদান করার ঘোষণা প্রদান করেছে। এসব বাল্ব নিকটস্থ বিক্রয় কেন্দ্রে জমা দিয়ে এনার্জি বাল্ব নিয়ে যেতে বলেছে।
সাধারণভাবে বাংলাদেশ প্রতিবছর বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। চাহিদামাফিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হিমশিম খেতে হয়। তাই এনার্জি বাল্ব যদি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে তাহলে চাহিদামাফিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে এবং এর উৎপাদন ব্যয় কমে যাবে। তাছাড়া বাংলাদেশের অধিকাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র তাপ, কয়লা ও তেলভিত্তিক, যা পোড়ালে প্রচুর উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে দুই মেরুতে জমে থাকা বরফ গলতে থাকে। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যায়, যার প্রভাব আমাদের দেশের ওপর পড়ে। কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে এসব ক্ষতি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব।
সুতরাং বলা যায়, ট্রান্সটেক কোম্পানির গৃহীত পদক্ষেপটি বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে খুবই ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ।
Related Question
View Allআন্তঃক্রিয়াশীল অনলাইন কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলেকট্রনিক উপায়ে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যে যোগাযোগ স্থাপিত হয় তাকে অনলাইন মার্কেটিং বলে।
যে বিপণন মতবাদে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় তাকে গ্রিন মার্কেটিং বলে।
গ্রিন মার্কেটিং পরিবেশবান্ধব পণ্য বিপণনকে উৎসাহিত করে। এটি এমন একটি ধারণা বা মতবাদ যেখানে পণ্য বিপণনের ক্ষেত্রে পরিবেশের নিরাপত্তার বিষয়টিকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়। এই মতবাদে পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়াটি এমন হতে হবে যেন তা পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করে। আবার পণ্যের মোড়কীকরণ এমন হবে যেন তা পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করে। অন্যদিকে পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয় এ দিকটিকে লক্ষ রেখে পণ্যের বণ্টনকার্য পরিচালনা করতে হয় বলে বলা যায় গ্রিন মার্কেটিং পরিবেশবান্ধব বিপণনকে উৎসাহিত করে।
উদ্দীপকের 'জিপান' একটি চেইন স্টোর।
একই মালিকানা ও পরিচালনায় দেশের বা শহরের বিভিন্ন স্থানে শাখা খুলে উৎপাদনকারীর উৎপাদিত পণ্য ভোক্তাদের নিকট বিক্রয়কারী
প্রতিষ্ঠানকে চেইন স্টোর বা বিপণিমালা বলে। যেমন- স্বপ্ন, আগোরা, মীনা বাজার ইত্যাদি।
উদ্দীপকের মি. জিতু বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর বাণিজ্যিক কেন্দ্রে 'জিপান' নামে ২৫টি বিপণি প্রতিষ্ঠা করেন; যার পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান তিনি নিজেই করেন। তিনি 'জিপান' বিপণিতে বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন ব্র্যান্ডের উন্নতমানের পণ্যসামগ্রী একই নীতি অনুসরণ করে বিক্রয় করেন। অর্থাৎ 'জিপান' বিপণির সকল কর্মকান্তই চেইন স্টোরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই 'জিপান' বিপণি একটি চেইন স্টোর।
উদ্দীপকের মি. জিতুর বিভাগীয় বিপণি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যবসায় সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত সঠিক ও বাস্তবসম্মত।
একই দালানে অবস্থিত ও একই মালিকানায় পরিচালিত বিভিন্ন পণ্য পৃথক পৃথক বিভাগের মাধ্যমে কোনো বৃহদায়তন খুচরা বিপণির মাধ্যমে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হলে তাকে বিভাগীয় বিপণি বলে। যেমন- বাংলাদেশের আড়ং একটি বিভাগীয় বিপণি।
উদ্দীপকের মি. জিতু জাপান থেকে এসে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে 'জিপান' নামে ২৫টি চেইন স্টোর প্রতিষ্ঠা করেন। তার দক্ষ পরিচালনার ফলে 'জিপান' অল্পদিনের মধ্যেই বেশ লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। পরবর্তীতে তিনি ব্যবসায় সম্প্রসারণের চিন্তা করেন এবং ঢাকা শহরে নতুন একটি বিল্ডিং ভাড়া নিয়ে পৃথক পৃথক বিভাগের মাধ্যমে পণ্যসামগ্রী বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অর্থাৎ তিনি চেইন স্টোরের মাধ্যমে সফলতা অর্জনের পর একটি আধুনিক বিভাগীয় বিপণি প্রতিষ্ঠা করে ব্যবসায়কে আরও সম্প্রসারণ ও লাভজনক করতে চাচ্ছেন। এক্ষেত্রে যেহেতু 'জিপান' বিপণির ব্যাপক - সুনাম রয়েছে, তাই নতুন বিভাগীয় বিপণিটিও ক্রেতাদের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে সুনাম অর্জন করতে পারবে এবং ব্যবসায়িকভাবেও সফল হবে বলে আশা করা যায়।
সুতরাং, সার্বিক বিষয়াদি বিবেচনায় মি. জিতুর ব্যবসায় সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তটি সঠিক ও বাস্তবসম্মত হয়েছে।
যে মার্কেটিং মতবাদে বর্তমান মার্কেটিং চিন্তা-চেতনা এবং কার্যক্রমে, পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে, পণ্য মোড়কীকরণে এবং পণ্য বইনে পরিবেশের কোনো ক্ষতি করবে না এমন নিশ্চয়তা দেওয়া হয়, তাকে গ্রিন মার্কেটিং বলে।
কোনো প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরবরাহকৃত ক্যাটালগ দেখে ক্রেতারা পণ্য নির্বাচন করে মেইলের মাধ্যমে অথবা টেলিফোনে পণ্য সরবরাহের অর্ডার প্রদান করলে, তাকে ক্যাটালগ মার্কেটিং বলা হয়।
ক্যাটালগ মার্কেটিং পদ্ধতিটি সর্বপ্রথম ১৮৭২ সালের ফ্রান্সের Montgomery Ward এ বসবাসকারী পরিবারের জন্য চালু করা হয়। শুরুতে ক্যাটালগগুলো ছাপানো অবস্থায় সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে প্রচার করা হয়। ক্যাটালগ মার্কেটিং-এ বিজ্ঞাপনের সহায়তা গ্রহণ করা হলে তা অধিক কার্যকরী হয়। আমাদের দেশে মেশিনারি পণ্য বিক্রয়, কোচিং সেন্টারের প্রচার ইত্যাদি ক্ষেত্রে ছাপানো ক্যাটালগ পদ্ধতি ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!