হযরত ওমর (রা) তার বিশাল সাম্রাজ্যকে ১৪টি প্রদেশে বিভক্ত করেন।
মিরাজের কথা সর্বপ্রথম বিশ্বাস করার জন্য মহানবি (স) হযরত আবু বকর (রা) কে 'সিদ্দিক' উপাধি দিয়েছিলেন।
হযরত আবু বকর (রা) ছিলেন মহানবি (স)-এর একান্ত সহযোগী। তাই রাসুল (স)-এর নবুয়ত লাভের পর বয়স্ক পুরুষ হিসেবে তিনি সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। এছাড়া রাসুল (স)-এর মেরাজ (আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের জন্য ঊর্ধ্বগমন) গমনের কথা হযরত আবু বকর (রা) সর্বপ্রথম নির্ধিদ্বায় বিশ্বাস করেন। এসব কারণে মহানবি (স) তাঁকে 'সিদ্দিক' বা বিশ্বাসী উপাধিতে ভূষিত করেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আসলাম সাহেবের সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত খলিফা হযরত আবু বকর (রা)-এর সাদৃশ্য আছে। হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ওফাতের (মৃত্যুবরণ) পর যে চারজন সাহাবি তাঁর প্রতিনিধিরূপে মুসলিম রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন তাদের মধ্যে আবু বকর (রা) একজন। তিনি ইসলাম ধর্ম ও মুসলিম রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এবং সুষ্ঠুভাবে শাসনকার্যাদি পরিচালনা করেছেন। এ দক্ষ রাষ্ট্র পরিচালকের বৈশিষ্ট্যটিই আসলাম সাহেবের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়।
সাধুহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আল-আমীনের মৃত্যুর পর ইউনিয়নবাসী আসলাম সাহেবকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেন। চেয়ারম্যান হয়ে তিনি অনেক সমস্যা ও বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হন। এ সময় কিছু ভণ্ডপির ও ইউনিয়নের কর অস্বীকারকারীগণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটান। কিন্তু জনাব আসলাম অসীম সাহস ও অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন। এছাড়া বিশ্বস্ততার জন্য তিনি বিশেষ উপাধিতে ভূষিত হন। হযরত আবু বকর (রা)-এর ক্ষেত্রেও এমনটি লক্ষণীয়। তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হন। মহানবি (স)-এর জীবনের শেষ দিকে এবং আবু বকর (রা)-এর ক্ষমতা গ্রহণের পর আসওয়াদ আনাসি, মুসায়লামা, তোলায়হা এবং সাজাহ নবুয়তের দাবি করে রাজ্যের সর্বত্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। কিন্তু তিনি বিশিষ্ট মুসলিম সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদদের সহায়তায় এদেরকে কঠোর হস্তে দমন করেন। এছাড়া মহানবি (স)-এর মেরাজ গমনের ঘটনা তিনিই প্রথম বিশ্বাস করে সিদ্দিক উপাধিপ্রাপ্ত হন। এসব কারণে বলা যায়, আসলাম সাহেবের সাথে ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
হ্যাঁ, ইসলামের সেবায় কল্যাণধর্মী ভূমিকা রাখায় হযরত আবু বকর (রা) কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা যায়।
মহানবি (স)-এর মৃত্যুর পর তার প্রতিনিধি হয়ে হযরত আবু বকর (রা) মুসলিম সাম্রাজ্য পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মহানবি (স)-এর যোগ্য ও উপযুক্ত প্রতিনিধি। মহান আল্লাহ ও রাসুলের নির্দেশ অনুযায়ী ইসলামের একনিষ্ঠ সেবা করে তিনি ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে স্বীকৃতি পান।
মহানবি (স)-এর ওফাতের পর মুসলমানদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছিল তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তা দূর করে মুসলিম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করেন। রাসুল (স)-এর পবিত্র দেহ সমাহিতকরণ ও খলিফা নির্বাচনকেন্দ্রিক সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করে তিনি প্রাথমিক পর্যায়ে ইসলামকে রক্ষা করেন। ইসলামের সংকটকালীন পরিস্থিতিতে খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি নিয়ন্ত্রণহীন বিশৃঙ্খল জনগণকে সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় অনুশাসন পালনে বাধ্য করেন। তাছাড়া যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী বেদুইন গোত্রগুলোর (আবস ও জুবিয়ান) বিরুদ্ধে তিনি উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে ইসলামি বিধান অনুযায়ী, তাদের যাকাত প্রদানে বাধ্য করেন। তিনি দীনকে (ইসলাম) সকল আদর্শের ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠা করেন। ভণ্ডনবিদের সমুচিত শিক্ষা দিয়ে তিনি ইসলামের ভিত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। আমির উল মুমেনীন (বিশ্বাসীদের নেতা) হিসেবে হযরত আবু বকর (রা) আরব ভূখণ্ড থেকে প্রবঞ্চনা, প্রতারণা, ভণ্ডামি এবং অনৈসলামিক কার্যকলাপের মূলোৎপাটন করে ইসলামকে নিরাপদ করেন। এছাড়া তিনি বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা পবিত্র কুরআনের বাণীগুলো সংগ্রহ করে পুস্তক আকারে লিখে রাখার ব্যবস্থা করেন।
পরিশেষে বলা যায়, খিলাফত লাভের পর ইসলাম ধর্ম ও মুসলিম রাষ্ট্রের একনিষ্ঠ সেবা করে হযরত আবু বকর (রা) ইসলামি খেলাফতকে যেভাবে রক্ষা করেছেন, তাতে নিঃসন্দেহে তাকে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা যায়।
Related Question
View Allহযরত ওমর (রা) ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে খিলাফতে অধিষ্ঠিত হন।
দক্ষ ও সুকৌশলী বীর সেনাপতি হিসেবে খালিদ বিন ওয়ালিদ ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন।
প্রাথমিক জীবনে কুরাইশদের সেনাপতি হিসেবে যুদ্ধ করলেও হুদায়বিয়ার সন্ধির পর (৬২৮ খ্রি.) খালিদ বিন ওয়ালিদ ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর রাসুল (স)-এর সময়ে হুনায়ুনের যুদ্ধ, তায়েফ বিজয়, তাবুক অভিযানে দক্ষতার সাথে যুদ্ধ করে তিনি ইসলামের বিজয় ত্বরান্বিত করেন। তাছাড়া রাসুল (স)-এর মৃত্যুর পর ইয়ামামার যুদ্ধে বীরবিক্রমে যুদ্ধ করে তিনি ভণ্ডনবিদের শায়েস্তা করেন। এরপর জীবিত থাকা পর্যন্ত তিনি ইসলামের সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ইসলামের বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। ইসলামের খেদমতে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যই তিনি ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন।
সিদ্ধান্ত গ্রহণে নতুন অধ্যক্ষের গৃহীত ব্যবস্থার সাথে হযরত ওমর (রা)-এর প্রশাসনিক ব্যবস্থার অন্যতম দিক মজলিস-উশ-শুরা বা পরামর্শসভা গঠনের মিল রয়েছে।
হযরত ওমর (রা) ছিলেন গণতন্ত্রমনা। তার প্রশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল গণতান্ত্রিক শাসন। আর এ আদর্শ দ্বারাই তিনি প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ইসলামি গণতন্ত্রের পূর্ণ বিকাশ সাধন করেন। কুরআন-হাদিসের আলোকে জনগণের ইচ্ছার প্রতি খেয়াল রেখে তিনি পরামর্শভিত্তিক প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। আর তার এ বৈশিষ্ট্যেরই প্রতিফলন লক্ষ করা যায় নতুন অধ্যক্ষের গৃহীত ব্যবস্থার মধ্যে।
কলেজের নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে জনাব 'ক' সকল বিষয়ে শিক্ষক পরিষদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। হযরত ওমর (রা)ও শাসনকার্য পরিচালনার জন্য মজলিস-উশ-শুরা বা পরামর্শসভা গঠন করেছিলেন। যেকোনো সমস্যা তিনি কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক মজলিস-উশ-শূরার সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সমাধান করতেন। তিনি দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেন, 'পরামর্শ ব্যতীত কোনো খিলাফত চলতে পারে না।' তার গঠিত পরামর্শসভা দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। যেমন-ক. মজলিস-উল-আম এবং খ. মজলিস-উল-খাস। মহানবি (স)-এর ঘনিষ্ঠ ও বয়োজ্যেষ্ঠ সাহাবা এবং মদিনার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মজলিস-উল-আম গঠিত ছিল। এরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। অন্যদিকে দৈনন্দিন কার্যাদি সম্পাদনের জন্য অল্প সংখ্যক মুহাজিরিন নিয়ে মজলিস-উল-খাস গঠিত ছিল। হযরত ওমর (রা) মজলিস-উশ-শুরা ছাড়াও রাজ্য শাসনের ব্যাপারে সাধারণ জনগণের মতামত গ্রহণ করতেন। হযরত ওমর (রা)-এর উল্লিখিত আদর্শেরই প্রতিফলন ঘটেছে নতুন অধ্যক্ষের গৃহীত কর্মকাণ্ডে।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'উদ্বৃত্ত অর্থ' বিষয়ে অধ্যক্ষের গৃহীত পদক্ষেপে হযরত ওমর (রা)-এর রাষ্ট্রীয় কোষাগার হিসেবে বায়তুল মাল পুনর্গঠন নীতির প্রতিফলন লক্ষণীয়।
হযরত ওমর (রা) ছিলেন জনকল্যাণকামী ও ন্যায়ের উজ্জ্বল আদর্শ। খলিফা হিসেবে তিনি ইসলামের আদর্শকে ধারণ করে সর্বদা জনকল্যাণে ব্রতী হয়েছেন। তাই খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে তিনি যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা গড়ে তোলেন। তিনি ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার সরকারি কোষাগার হিসেবে বায়তুল মালকে পুনর্গঠন করেন। বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে রাষ্ট্রীয় খরচ বাদে উদ্বৃত্ত অর্থ বায়তুল মাল বা কেন্দ্রীয় অর্থ তহবিলে জমা করা হতো। এ অর্থই বিভিন্ন খাতে সরকারিভাবে বণ্টন করা হতো। উল্লিখিত নীতিরই প্রতিফলন লক্ষ করা যায় উদ্বৃত্ত অর্থ বিষয়ে অধ্যক্ষের নেওয়া পদক্ষেপে।
কলেজের নতুন অধ্যক্ষ কলেজের ব্যয়ভার বহনের জন্য একটি আর্থিক ফান্ড গড়ে তোলেন। এ ফান্ডে তিনি কলেজের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের পর উদ্বৃত্ত অর্থ জমা রাখেন এবং এ অর্থ কলেজের উন্নয়ন ও বৃত্তি হিসেবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বণ্টন করেন। একইভাবে হযরত ওমর (রা) বায়তুল মাল সংস্কার ও পুনর্গঠন করে সকল প্রদেশে এর শাখা প্রতিষ্ঠা করেন। বায়তুল মাল প্রধানত তিন প্রকারের ছিল। ক. বায়তুল মাল আল খাস-এটি ছিল শাসক ও অভিজাতদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। খ. বায়তুল মাল আল আম-এটি খিলাফতের রাষ্ট্রীয় বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ছিল। গ. বায়তুল মাল আল মুসলেমিন- এটি ছিল ইসলামি রাষ্ট্রের দ্বিতীয় রাজকোষাগার। বায়তুল মালের এ শাখা সমাজকল্যাণমূলক কাজ, যেমন-রাস্তাঘাট, সেতু, মসজিদ, মাদ্রাসা নির্মাণ, এতিম ও দরিদ্রের সাহায্যদান ইত্যাদি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত।
পরিশেষে বলা যায়, জনকল্যাণকামী চিন্তা-চেতনা ও কর্মকান্ডের দিক দিয়ে অধ্যক্ষের গৃহীত 'উদ্বৃত্ত অর্থ' বিষয়ক পদক্ষেপটি হযরত ওমর (রা)-এর বায়তুল মাল নীতির আংশিক প্রতিফলন।
যুন্নুরাইন' অর্থ দুই জ্যোতি বা নুরের অধিকারী।
সাহাবিদের দ্বারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ওসমান (রা) খলিফা নির্বাচিত হন।
খলিফা নির্বাচনের জটিলতা এড়াতে হযরত ওমর (রা) মৃত্যুর পূর্বে একটি নির্বাচনি পরিষদ গঠন করেন। যার সদস্য ছিলেন হযরত ওসমান (রা), হযরত আলী (রা), তালহা, যুবাইর, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস ও আবদুর রহমান। হযরত ওমর (রা)-এর মৃত্যুর পর (৬৪৪ খ্রি.) খলিফা নির্বাচন নিয়ে একটি বৈঠক বসে। তালহা এ সময় মদিনায় উপস্থিত ছিলেন না এবং আব্দুর রহমান খিলাফতের গুরুভার নিতে সম্মত ছিলেন না। আব্দুর রহমান, যুবাইর, ওসমান ও আলীকে সমর্থন করেন। অন্যদিকে, সাদ ওসমানকে, ওসমান আলীকে এবং আলী ওসমানকে সমর্থন করেন। ফলে এক ভোট বেশি পেয়ে হযরত ওসমান ৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিম বিশ্বের তৃতীয় খলিফা নির্বাচিত হন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!