প্রকল্পের স্তর চারটি।
কোনো ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনের জন্য প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সাধারণত প্রকল্প গঠন করা হয়। অর্থাৎ প্রকল্প হচ্ছে ঘটনার কারণ সম্পর্কে গৃহীত প্রাথমিক আনুমানিক ধারণা। তবে এমন কিছু জাগতিক ঘটনাবলি আছে, যেগুলোর কারণ সম্পর্কে উপযুক্ত প্রমাণ গঠন করা যায় না। এরূপ অবস্থায় আপাতত কাজ চালানোর জন্য সাময়িকভাবে বিশেষ এক ধরনের প্রকল্প গঠন করা হয়। আর এ জাতীয় প্রকল্পকেই বলা হয় 'কাজ চালানো প্রকল্প'।
উদ্দীপকের সানজিদার বাড়ি আসা সম্পর্কে তার মায়ের ধারণার যুক্তিবিদ্যার অন্তর্গত প্রকল্পের বাস্তব কারণ বিষয়টি ফুটে উঠেছে। নিচে বাস্তব কারণ ব্যাখ্যা করা হলো-
প্রকল্প হচ্ছে আনুমানিক ধারণা, যা কোনো ঘটনাকে জানার ক্ষেত্রে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ। তবে যেকোনো আনুমানিক ধারণাকেই প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। কারণ এভাবে ইচ্ছামতো গৃহীত প্রকল্প সত্য হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। সে ক্ষেত্রে এমনভাবে প্রকল্প গঠন করতে হয়, যা ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং অধিক পরিমাণে সম্ভাবনাময়। বস্তুত এরূপ প্রকল্প গঠনের জন্য কতগুলো শর্ত পালন করতে হয়, যার ফলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটি বৈধ বা সুসংগত হিসেবে গৃহীত হয়ে থাকে। আর বাস্তব কারণ হচ্ছে প্রকল্পের এরূপ একটি অন্যতম শর্ত। বাস্তব কারণ অনুযায়ী, যেকোনো ঘটনার ব্যাখ্যার সংশ্লিষ্ট প্রকল্প হতে হবে বাস্তব ঘটনাভিত্তিক, যাকে অভিজ্ঞতায় পাওয়া যায়। যেমন: একটি শিশু হারিয়ে গেলে যদি বলা হয় যে, 'শিশুটি অপহরণ হয়েছে' বা 'শিশুটিকে কোন আত্মীয় নিয়ে গেছে', তাহলে তা হয় বাস্তব কারণ। কেননা এই কারণগুলো 'সত্য কারণ'-কে নির্দেশ করে এবং এগুলো সম্পূর্ণরূপে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও অভিজ্ঞতানির্ভর।
সুতরাং উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকে সানজিদার বাড়ি আসা সম্পর্কে তার মায়ের ধারণাটি একটি রাস্তব কারণ।
উদ্দীপকে সানজিদার বাবার ধারণা প্রকল্পের বিভিন্ন স্তরকে ইঙ্গিত হরেছে। প্রকল্পের বিভিন্ন স্তরের মাধ্যমে কীভাবে সানজিদার বাবার ধারণা প্রমাণিত হয় তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
প্রকল্পের স্তর চারটি-
১. ঘটনার নিরীক্ষণ
২. আনুমানিক ধারণা গঠন
৩. সিদ্ধান্ত গ্রহণ
৪. যাচাইকরণ
নিরীক্ষণ হলো প্রকল্পের প্রথম স্তর। আমরা যে বিষয়টিকে প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করত তা প্রথমে নিরীক্ষণের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে। উদ্দীপকে সানজিদার বাড়ি না আসাকে অর্থাৎ বাড়িতে তার অনুপস্থিত নিরীক্ষণ করেই প্রকল্প গঠন করা হয়েছে। প্রকল্পের দ্বিতীয় স্তরে আনুমানিক ধারণা গঠন করতে হবে। এখানে 'সানজিদা সরাসরি কলেজে চলে গেছে' বলে তার বাবা যে মন্তব্য করল তাই আনুমানিক ধারণা।
প্রকল্পের তৃতীয় স্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে সানজিদার বাবা কলেজে গিয়ে জানতে পারলেন সে কলেজে আছে। এতে করে আনুমানিক ধারণা সিদ্ধান্ত হিসেবে গৃহীত হলো। প্রকল্পের শেষ স্তর হলো যাচাইকরণ। উদ্দীপকে যাচাইকরণের জন্য সানজিদার বাবা তার ক্লাসে গিয়ে তাকে যুক্তিবিদ্যার ক্লাসে উপস্থিত দেখলেন। এর ফলে, প্রকল্পটি চূড়ান্ত যাচাইয়ের মাধ্যমে বৈধ প্রমাণিত হলো। সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকে সানজিদার বাবার ধারণা বৈধ প্রকল্প হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
Related Question
View Allসাধারণভাবে পূর্বাপর অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে একটি অধিক সম্ভাবনাপূর্ণ বিষয়কে সাময়িকভাবে কারণ হিসেবে অনুমান করাই হলো প্রকল্প।
কোনো প্রকল্পের সত্যতা বা মিথ্যাত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে সমর্থন প্রয়োজন। প্রকল্প অনন্যসাধারণ প্রকৃতি হতে হবে। আরোহ সমন্বয় হলো প্রকল্পের অন্যতম প্রমাণ। কোনো ঘটনাকে সুস্পষ্টরূপে ব্যাখ্যা করার উদ্দেশ্যে গৃহীত প্রকল্পটির প্রকৃতি স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেই প্রকল্পটিতে প্রমাণিত হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রকল্পকে ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষমতা থাকতে হবে এবং সেই সাথে সরল প্রকৃতির হতে হবে।
উদ্দীপকে ব্যবসায়ী ঘরে ঢুকেই চুরি হওয়ার কারণ সম্পর্কে যে ধারণা করলেন, তার সাথে কাজ চালানো প্রকল্পের সাদৃশ্য রয়েছে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
কোনো ঘটনার কারণ উদঘাটনের জন্য প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সাধারণত প্রকল্প গঠন করা হয়। তবে এমন কিছু জাগতিক ঘটনাবলি আছে, যেগুলোর কারণ সম্পর্কে উপযুক্ত প্রমাণ গঠন করা যায় না।০ ফলে কাজ চালানোর জন্য সাময়িকভারে বিশেষ এক ধরনের প্রকল্প গঠন করা হয়। কোনো অপরিচিত নতুন ঘটনাকে ব্যাখ্যা করার জন্য এ সম্পর্কে যথার্থ ধারণা না থাকার ফলে আপাতত উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে যখন অসম্পূর্ণ কোনো আনুমানিক ধারণাকে সাময়িকভাবে প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হয়, সেই আনুমানিক ধারণাই হলো কাজ চালানো প্রকল্প।
উদ্দীপকে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী যখন তার বন্ধুর বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে এলেন, তখন তিনি ঘরের ভেতরে ঢুকেই জিনিসপত্র এলোমেলো দেখে অনুমান করলেন, তার ঘরে চুরি হয়েছে। অনুসন্ধান করে দেখলেন, ঘরের ভেন্টিলেটর, জানালা কিংবা সিঁধ কেটে চোর ঘরে ঢুকল কি না। কিন্তু দেখলেন সবই ঠিক আছে। এই অনুসন্ধান কাজ এগিয়ে নিতে তিনি কাজ চালানো প্রকল্প গঠন করলেন। এ জাতীয় প্রকল্প হলো অসম্পূর্ণ এবং সাময়িকভাবে গঠিত আনুমানিক ধারণা, কিন্তু তার পরও উদ্দেশ্য থাকে সংশ্লিষ্ট ঘটনার স্বরূপ বিশ্লেষণ করা। প্রকৃতপক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে এর চেয়ে অধিক স্বয়ংসম্পূর্ণ কোনো প্রকল্প না পাওয়ার কারণেই মূলত ঘটনার ব্যাখ্যায় কাজ চালানো প্রকল্পকে প্রয়োগ করা হয়। তাই ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ঘটনার প্রাথমিক কাজ চালানোর জন্য এ প্রকল্পকে কাজে লাগিয়েছেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দিলে প্রকল্পের ধারণা পরিলক্ষিত হয়।
কারণ প্রকল্প হতে হলে কোনো ঘটনার উপস্থিতি আবশ্যক, যা উদ্দীপকে বর্তমান। জগতের প্রতিটি ঘটনাই কোনো না কোনো কারণ থেকে সংঘটিত হয়। সে ক্ষেত্রে এসব ঘটনা জানতে হলে এদের মূলে বিদ্যমান এসব কারণ জানা আবশ্যক। আর যুক্তিবিদ্যা মূলত এসব কারণের অনুসন্ধান ও আবিষ্কারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বস্তু বা ঘটনা সম্পর্কে সার্বিক নিয়ম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। তবে ঘটনার মূলে নিহিত কারণ সহজে পাওয়া যায় না। কেননা এ ক্ষেত্রে কারণটি সমজাতীয় আর অনেক ঘটনার সাথে মিশ্রিত থাকে। এ অবস্থায় সঠিক কারণটি খুঁজে পাওয়ার জন্য কারণ হওয়ার সম্ভাবনা আছে, আমরা এমন এক বা একাধিক বিষয়ে সাময়িকভাবে চিহ্নিত করে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে অগ্রসরই হই। আর সাময়িকভাবে গৃহীত এ জাতীয় সম্ভাব্য বিষয়কেই বলা হয় প্রকল্প। প্রকল্পকে পরবর্তীকালে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ বলে প্রমাণ করা সম্ভব হলেই কেবল তা সার্বিক নিয়মে উপনীত হতে পারে।
উদ্দীপকে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ঘরে ঢুকে জিনিসপত্র এলোমেলো দেখে ধারণা করলেন, তার ঘরে চুরি হয়েছে। তা যাচাই করার জন্য তিনি ঘরের ভেন্টিলেটর, জানালা কিংবা সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকল কি না তা ওপরীক্ষা করে দেখলেন সবকিছু ঠিক আছে। পরে তিনি আনুমানিক ধারণা নিলেন, চোর তালার চাবি ফাঁকে কোনো একসময় বানিয়ে নিয়েছে। তার এই আনুমানিক ধারণাই হলো প্রকল্প।
জগতে এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য না হয়েও কোনো ঘটনা বা বিষয়ের বাস্তব কারণ অথবা সত্য কারণ হতে পারে। আর এ জাতীয় প্রকল্পই হলো প্রতিবেদক অনুকল্প।
যেকোনো প্রকল্প গঠনের ক্ষেত্রে প্রথমে সংশ্লিষ্ট সংঘটনের মূলে নিহিত সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে আন্দাজ করে নেওয়া হয়। এরপর আরোহ প্রক্রিয়ার সাহায্যে ঐ সম্ভাব্য কারণটি সত্য হওয়ার পক্ষে কোন কোন ঘটনা কার্যকর হতে পারে, সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং শেষ পর্যায়ে সিদ্ধান্তটি বাস্তব ঘটনার অনুরূপ কি না তা যাচাই করার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটির সত্যতা বা মিথ্যাত্ব নির্ধারণ করা হয়। আর এভাবেই একটি প্রকল্প গঠিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!