যে কোম্পানির সদস্যসংখ্যা দুই থেকে পঞ্চাশ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ, কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরযোগ্য নয়, কোম্পানি শেয়ার বা ডিবেঞ্চার ক্রয়ের জন্য জনসাধারণকে আমন্ত্রণ জানাতে পারে না তাকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলে।
কোনো কোম্পানি নতুন শেয়ার বিলির সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় তা ক্রয়ের অধিকার আনুপাতিক হারে পুরাতন শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সংরক্ষণ করলে তাকে অধিকারযোগ্য শেয়ার বলে।
কোনো কোম্পানি যখন ভালো অবস্থায় থাকে তখন শেয়ার বাজারে তার শেয়ারের দামও বেশি থাকে। সে অবস্থায় নতুন ইস্যুকৃত শেয়ারে পুরাতন শেয়ার মালিকগণ তাদের স্বার্থ দাবি করতে পারেন। এরূপ দাবি পূরণের জন্যই কার্যত এ ধরনের শেয়ার বণ্টন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
উদ্দীপকের কোম্পানিটির মোট মূলধন ৮৫ কোটি টাকা।
মূলধনের অভিধানিক অর্থ হলো ব্যবসায়ে নিয়োজিত অর্থ বা সম্পদ। কোম্পানি তার শেয়ারহোল্ডার ও অন্যান্যদের নিকট থেকে যে মূলধন সংগ্রহ করে তাকেই কোম্পানির মুলধন বলে। আমাদের দেশের কোম্পানিসমূহ সাধারণ শেয়ার ইস্যু করে মূলধন সংগ্রহ করে থাকে। তবে অগ্রাধিকার শেয়ার বিক্রয় করে ক্ষেত্রবিশেষেও মূলধন সংগ্রহ করা যায়। উল্লেখ্য যে, কোম্পানি তার শেয়ার মালিকদের বাইরে অন্য উৎস থেকে যে অর্থ বা মূলধন সংগ্রহ করে তাকে ঋণ মূলধন বলে। তাছাড়া সঞ্চিতি তহবিল, বন্ধকী ও অন্যান্য ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহীত হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সানমুন এন্ড কোম্পানির সাধারণ শেয়ার মূলধন ৫০ কোটি, ১০% অগ্রাধিকার শেয়ার মূলধন ১০ কোটি, সাধারণ সঞ্চিতি ৫ কোটি ও ঋণ মূলধন ২০ কোটি টাকা।
উক্ত কোম্পানির মোট মূলধনের পরিমাণ-
= সাধারণ শেয়ার মূলধন + অগ্রাধিকার শেয়ার মূলধন + সাধারণ সঞ্চিতি + ঋণ মূলধন
= ৫০ কোটি + ১০ কোটি ৫ কোটি ২০ কোটি ৮৫ কোটি।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের কোম্পানিটির মোট মূলধন ৮৫ কোটি টাকা।
কম লভ্যাংশ পেলে ও মি. মারমার ক্রয়কৃত শেয়ার কোম্পানির প্রকৃত মালিকানার নির্দেশক কেননা মি. মারমার শেয়ার হলো সাধারণ শেয়ার।
আইনানুযায়ী যে শেয়ারের মালিকগণ অধিকার, দায়িত্ব কর্তব্যের বিভিন্ন দিক বিচারে অধিক সুবিধা ও মর্যাদাভোগ করলে ও লভ্যাংশ বণ্টনে ও কোম্পানি বিলোপের সময় মূলধন প্রত্যাবর্তনে অগ্রাধিকার পায় না তাকেই সাধারণ শেয়ার বলে।
সাধারণ শেয়ারের মালিকগণ পরিচালক নির্বাচনে প্রার্থী হতে ও নির্বাচনে ভোট দিতে পারে। এ ধরনের শেয়ার মালিকদের লভ্যাংশের হার নির্দিষ্ট থাকে না। পক্ষান্তরে; যে শেয়ারের মালিকগণ লভ্যাংশ প্রাপ্তিতে ও মূলধন প্রত্যাবর্তনে অন্যান্য শেয়ার মালিকগণের চেয়ে অগ্রাধিকার পায় তাকেই অগ্রাধিকারযুক্ত শেয়ার বলে। কোম্পানিতে মুনাফা হলে এরূপ শেয়ার মালিকগণ নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ প্রাপ্ত হয়ে থাকে। তবে এদের ভোটাধিকার থাকে না। সাধারণভাবে এদেরকে শেয়ারহোল্ডার বলা হলেও এরা অনেকটা বিনিয়োগকারী পাওনাদার। আর কোম্পানির মূল মালিক হলেন সাধারণ শেয়ারহোল্ডারগণ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, অগ্রাধিকার শেয়ারের একজন মালিক মি. সাবুর কোম্পানির অর্জিত মুনাফার ওপর ১০% লভ্যাংশ পেলেও সাধারণ শেয়ার ক্রেতা মি. মারমা মাত্র ৫% লভ্যাংশ প্রাপ্ত হন। মি. মারমা সাধারণ শেয়ারহোল্ডার বিধায় তিনি কোম্পানির অর্জিত মুনাফা অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডার ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে বণ্টনের পরে পেয়ে থাকেন। মি. মারমার ভোটাধিকার কিংবা পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার অধিকার থাকলেও মি. সবুরের ভোটাধিকার যা পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার অধিকার নেই। কেননা কোম্পানির মূল মালিকদেরই ভোটাধিকার থাকে। যেহেতু মি. মারমা সাধারণ শেয়ারহোল্ডার এবং তার ভোটাধিকার রয়েছে এবং পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার বা পরিচালক নির্বাচিত করার অধিকার রয়েছে। তাই বলা যায়, মি. মারমা, কম লভ্যাংশ পেলেও ক্রয়কৃত সাধারণ শেয়ার কোম্পানির প্রকৃত মালিকানার নির্দেশক।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!