অ্যামোনিয়া একধরনের তীব্র গ্যাস।
বস্তু ধৌতকরণের পূর্বে প্রয়োজনীয় মেরামত করে নিতে হয়। কাপড়ের কোনো অংশ ছেঁড়া থাকলে তা রিফু বা তালি দিয়ে ঠিক করে নিতে হয়। তা না হলে ধৌত করার সময় আরও বেশি ছিঁড়ে যেতে পারে। এই ছেঁড়া বড় হলে পোশাক পরার অযোগ্য হয়ে পড়ে। এছাড়াও বোতাম, হুক, বকলেস ঢিলা কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
সাবিহা তার পশমি কাপড় ধোয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন।
পানি, উত্তাপ, ক্ষার ও ঘর্ষণ পশম তত্ত্বকে দুর্বল করে। এজন্য পশমি কাপড় ধোয়ার সময় ঈষদুষ্ণ পানি, কম ক্ষারযুক্ত পরিষ্কারক দ্রব্য ব্যবহার করতে হয়।
সোয়েটার ও শাল পশমি কাপড়ের অন্তর্ভুক্ত। সাবিহা তার পশমি কাপড় ধোয়ার কাজে ঈষদুষ্ণ পানি ব্যবহার করেন। কম ক্ষারযুক্ত গুঁড়া সাবান যেমন- জেট পাউডার ব্যবহার করেন। একটি বড় গামলায় ঈষদুষ্ণ পানিতে সাবান গুলে কাপড় কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে তারপর দুইহাত দিয়ে ধরে এপিঠ-ওপিঠ করে সাবান লাগান। সাবান লাগাবার পর দুই হাত দিয়ে হালকাভাবে চাপ দিয়ে নেড়েচেড়ে এপিঠ-ওপিঠ করে কেচে পরিষ্কার করেন এবং মাঝে মাঝে পানি দিয়ে নেন। কাপড়ের ময়লা ভালোভাবে দূর হওয়ার পর সাবান পর্যাপ্ত পরিমাণে নতুন পানি দিয়ে ধুয়ে ছাড়িয়ে নেন। তিন চারবার ঈষদুষ্ণ পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেন। পশমের সাদা জামাকাপড় শেষবার পানি দিয়ে ধোয়ার সময় পানির মধ্যে কয়েক ফোঁটা সাইট্রিক এসিড বা লেবুর রস মিশিয়ে নেন। এতে কাপড়ের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। রঙিন পশমি কাপড় ধোয়ার সময় পানিতে তিনি ভিনিগার মিশিয়ে নেন। এতে কাপড়ের রং ভালো থাকে। ধোয়ার পর তিনি একটি মোটা বড় পরিষ্কার তোয়ালের মধ্যে ভেজা কাপড়টিকে জড়িয়ে দুই হাতে চেপে চেপে পানি বের করেন। এভাবে সাবিহা তার পশমি কাপড় ধৌত করেন।
সাবিহা মনে করেন 'যথাযথ উপায়ে সংরক্ষণের মাধ্যমে পোশাকের স্থায়িত্ব বাড়ে।' তার এ মন্তব্যটি সাঠিক বলে আমি মনে করি।
আমরা নানা ধরনের কাপড় ব্যবহার করি। এগুলোর উজ্জ্বলতা, সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব রক্ষার জন্য সঠিকভাবে যত্ন ও সংরক্ষণ করতে হয়।
কাপড় সংরক্ষণের আগেই নিয়মানুযায়ী ধোয়া, শুকানো ও ইস্ত্রির কাজটি করে নিতে হবে। ইস্ত্রি করা রেশমি বস্ত্রের জলীয়বাষ্প ভালোভাবে দূর করতে হবে। তা না হলে ফাঙ্গাস সৃষ্টি হয়ে বস্ত্রের তত্ত্ব দুর্বল হয় এবং ব্যবহারের সময় ফেঁসে যায়। রেশমি কাপড়ের চরম শত্রু কাপড় কাটার রূপালি পোকা। তাই অবশ্যই সংরক্ষিত স্থানটি আর্দ্রতামুক্ত হতে হবে। মাঝে মাঝে হালকা রোদে বাতাস চালনা করে শুকিয়ে নিতে হবে। পশমের সবচেয়ে বড় শত্রু মথ। ময়লা পশমি কাপড়ে এদের আরও বেশি উপদ্রব হয়। মথপোকার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে কাপড় সংরক্ষণের আগেই সঠিক নিয়মে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর ইস্ত্রি করে বাতাসে শুকিয়ে আর্দ্রতা মুক্ত করে নিতে হবে। তারপর ভাগে ভাগে আলমারি বা বাক্সের মধ্যে ভরে রাখতে হবে। কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে ন্যাপথলিন দিতে হবে। এছাড়া শুকনো নিমপাতা, তামাক পাতা কাপড়ে জড়িয়ে ভাঁজে ভাঁজে রাখা যায়। সংরক্ষণ করার আগে আলমারি বা বক্সে কীটনাশক স্প্রে করে নিলে ভালো হয়। সংরক্ষিত কাপড়গুলো মাঝে মাঝে বের করে হালকা রোদে মেলে বাতাসে লাগিয়ে স্যাঁতসেঁতে ভাব দূর করতে হয়। পশমি কোট, প্যান্ট, জ্যাকেট প্রভতি আলমারির ভেতর হ্যাঙারে ঝুলিয়ে রাখলে ভালো থাকে। রেশমি বস্ত্র মূল্যবান হয়ে থাকে। এসব বস্ত্র ব্যবহারোপযোগী রাখার জন্য যত্নের সাথে সংরক্ষণ করতে হয়।
উল্লিখিত উপায় অনুসরণ করে কাপড় সংরক্ষণ করলে কাপড়ের স্থায়িত্ব বাড়ে। তাই বলা যায়, সাবিহার মন্তব্যটি সঠিক।
Related Question
View Allকরেশম বস্ত্রের কাঠিন্য ঠিক করতে গঁদ অথবা এরারুটের তৈরি মাড় ব্যবহার করা হয়।
পোশাককে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করে তোলার জন্য রিফু করা হয়।
পোশাকের কোনো স্থানে খোঁচা লেগে ছিঁড়ে বা ফেঁসে গেলে, ছেঁড়া স্থানে পড়েন সুতা সূক্ষ্ম ও নিপুনভাবে সুঁচের সাহায্যে ভরে দেওয়াকে রিফু বলে। রিফু করে ছেঁড়া বা ফেঁসে যাওয়া পোশাকটি পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করে তোলা যায়।
নাইলন ও পলিয়েস্টার কৃত্রিম তন্তু বলে নষ্ট হয়নি। যেসব তত্ত্ব প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট নয়, মানুষ বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যাদির সংমিশ্রণ ঘটিয়ে তৈরি করেছে সেগুলোকে কৃত্রিম তন্তু বলে। যেমন- নাইলন, পলিয়েস্টার ইত্যাদি।
রূপা কাপড় ধোয়ার সময় কমলা রঙের রেশমি কাপড়ের সাথে সাদা রঙের ব্লাউজ এবং পলিয়েস্টার, নাইলনের কিছু কাপড় একসাথে ধৌত করেন। ধোয়ার পর তিনি দেখলেন সাদা ব্লাউজটি সংকুচিত হয়ে গেছে। আবার কমলা রঙের রেশমি কাপড়ের রং উঠে গেছে। কিন্তু নাইলন, পলিয়েস্টারের কাপড়গুলো নষ্ট হয়নি। কারণ এগুলো কৃত্রিম তন্তুর কাপড়। এসব সিনথেটিক তন্তুর বস্ত্রাদি পানিতে ভিজিয়ে রাখলে সহজে নষ্ট হয় না এবং রংও উঠে না। রেশমি, পশমি বা সুতির কাপড় ধোয়ার সময় যেমন সাবধানতা বা নিয়ম মেনে পরিষ্কার করতে হয়, নাইলন ও পলিয়েস্টার কাপড় ধোয়ার জন্য তেমন প্রয়োজন হয় না। এই সমস্ত বস্ত্রাদি বেশি ময়লা হলে ইষদুষ্ণ সাবান পানিতে ভিজিয়ে রাখলে সহজে পরিষ্কার করা যায়।
সুতরাং, নাইলন ও পলিয়েস্টার কাপড়ের রং সহজে উঠে না এবং ইষদুষ্ণ পানিতে কুঞ্চন হয় না বিধায় রূপার কাপড়গুলো নষ্ট হয়নি।
রূপার রঙিন রেশমি বস্তুটি যথাযথ নিয়মে ধোয়াটাই যুক্তিযুক্ত ছিল- আমি এর সাথে একমত।
রেশমি কাপড় দুই ভাবে ধোয়া যায়; পানি দিয়ে এবং শুষ্ক পদ্ধতিতে যে পদ্ধতিতেই রেশমি কাপড় ধোয়া হোক না কেন তা যথাযথ বা উপযুক্ত নিয়মে করা উচিত। তাহলে কাপড়ের কোনো ক্ষতি হয় না।
রেশমি কাপড় বেশ দামি। এ কাপড়ে রং লেগে বা উঠে নষ্ট হয়ে গেলে তা পরার অযোগ্য হয়ে পড়ে। তাই রেশমি বস্ত্র ধোয়ার আগেই তার ময়লার ধরন, রং, আকার-আকৃতি ও আয়তন বিবেচনা করে ধোয়া উচিত। ধোয়ার সময় সাদা ও রঙিন রেশমি বস্ত্র আলাদা করে নিতে হয়। রূপা তার রেশমি বস্তুটি আলাদা করে মৃদু গরম পানি এবং কম ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে ধুতে পারতেন। যেহেতু তার রেশমি বস্তুটি থেকে রং উঠেছে, তাই ময়লা ও সাবান দূর করার পর ঠান্ডা পানিতে প্রতি গ্যালনে বড় এক চামচ লবণ ও সমপরিমাণ ভিনেগার মিশিয়ে নিতে পারতেন। এতে রেশমি বস্ত্রটির উজ্জ্বলতা বজায় থাকত।
অর্থাৎ, উপরিউক্ত নিয়মে রূপা তার রেশমি কাপড়টি ধৌত করলে তা ভালো থাকত।
আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অন্যতম শর্ত হচ্ছে সুস্বাস্থ্য।
পোশাকের পরিচ্ছন্নতার সাথে দেহের সুস্থতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
পোশাক মানুষের দেহের সাথে সংলগ্ন থাকে এবং পরিচ্ছন্নতাকে সংরক্ষণ করে। অপরিচ্ছন্ন পোশাক দৈহিক পরিচ্ছন্নতাকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই দেহের পরিচ্ছন্নতার জন্য পোশাক-পরিচ্ছদের পরিচ্ছন্নতা প্রয়োজন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!