সমাজকর্মে ১৯৭০ সাল থেকে কেস ম্যানেজমেন্টের ব্যবহার শুরু হয়।
মাঠকর্ম (Field Work) বলতে কোনো বিষয়ের তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগ করাকে বোঝায়।
মাঠকর্ম অনুশীলন সমাজকর্মে একটি অপরিহার্য বিষয়। কারণ সমাজকর্ম একটি ব্যবহারিক সামাজিক বিজ্ঞান। এর তাত্ত্বিক ধারণাকে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার জন্যই মাঠকর্ম অনুশীলন করা হয়। অর্থাৎ এটি সম্পূর্ণ প্রায়োগিক একটি বিষয়।
উদ্দীপকে সাব্বিরকে যে পরামর্শ দেয়া হয়েছে সমাজকর্মের ভাষায় তাকে মাঠকর্মের নীতিমালা বলা হয়।
নীতি হলো সেসব মূল্যবোধ বা আদর্শ যা কোনো প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে। মাঠকর্ম অনুশীলনের জন্য মাঠকর্মীকেও কিছু নিয়ম-নীতি মেনে চলতে হয় যার মাধ্যমে তিনি অর্জিত জ্ঞানের সফল প্রয়োগ ঘটাতে পারেন। উদ্দীপকে এ ধরনেরই কিছু নিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে।সাব্বির সমাজকর্মের ছাত্র। চতুর্থ বর্ষে পড়ার সময় তাকে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল তাত্ত্বিক জ্ঞানের প্রয়োগ ঘটানো।
এক্ষেত্রে শিক্ষক তাকে কিছু পরামর্শ দেন। তার প্রথম পরামর্শটি মাঠকর্মের অংশগ্রহণ নীতির প্রতিফলন। অর্থাৎ সাহায্যার্থী ব্যক্তিকে সাব্বির সাদরে গ্রহণ করবে। দ্বিতীয় পরামর্শ অনুসারে সাব্বিরকে ক্লায়েন্টের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে, যা মাঠকর্মের সাহায্যার্থীর মূল্য ও মর্যাদা বিষয়ক নীতির সাথে সম্পর্কিত। তৃতীয় পরামর্শটি যোগাযোগের নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এক্ষেত্রে সাব্বিরকে ক্লায়েন্টদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে সফল যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। শেষ দুটি পরামর্শ যথাক্রমে আত্মসচেতনতার নীতি ও গোপনীয়তার নীতিকে প্রকাশ করে। অর্থাৎ সাহায্যার্থীর সাথে সাব্বির ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপন করবে না এবং সাহায্যার্থীর যাবতীয় তথ্য গোপন রাখবে। এভাবে সে মাঠকর্ম অনুশীলনের সময় এ নিয়মগুলো প্রয়োগের মাধ্যমে সফলতা অর্জন করবে।
একজন সমাজকর্মীকে দক্ষতা অর্জনের জন্য উদ্দীপকের পরামর্শ ছাড়াও আরও কিছু নিয়ম মানতে হয়। এর মধ্যে আছে-লক্ষ্য নির্ধারণ নীতি, নমনীয় কর্মকাঠামো, সম্পদের সদ্ব্যবহার নীতি, পেশাগত সম্পর্ক নীতি, মূল্যায়ন নীতি প্রভৃতি। প্রায়োগিক দক্ষতা অর্জনের জন্য এই সব নীতির সমন্বয় ঘটানো জরুরি।
মাঠকর্ম অনুশীলনের মাধ্যমে একজন সমাজকর্মী তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগ করেন। এক্ষেত্রে তাকে যে সব নীতি অনুসরণ করতে হয় তার মধ্যে কয়েকটি নীতি উদ্দীপকে উল্লেখিত হয়েছে। এগুলো ছাড়াও অন্য কিছু নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে একজন সমাজকর্মী সফলভাবে নিজের দক্ষতার বিকাশ ঘটাতে পারেন।
একজন মাঠকর্মীকে শুরুতেই কাজ শেষ করার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিতে হবে। কারণ লক্ষ্য অনুযায়ীই তাকে পরিকল্পনা করতে হবে। এক্ষেত্রে সম্পদের সদ্ব্যবহারের নীতি অবশ্যই মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ সম্পদের সীমাবদ্ধতা পরিমাপ করে সাহায্যার্থীকে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করতে হবে। তবে মাঠকর্মী তার সাহায্যার্থীর জন্য এমন কর্ম-পরিকল্পনা করবেন তা যেন যে কোনো পরিস্থিতিতে পরিবর্তন করা যায়। এর পাশাপাশি একজন মাঠকর্মীকে অবশ্যই পেশাগত সম্পর্ক নীতি মেনে চলতে হবে। তার চেষ্টা থাকবে খুব দ্রুত সাহায্যার্থীর সাথে পেশাগত সম্পর্ক তৈরি করার। এগুলোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং তত্ত্বাবধায়কের উপদেশ মেনে চলতে হবে। সর্বোপরি সমাজকর্মীকে প্রতিটি পর্যায়ে নিজের কাজের মূল্যায়ন করতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত পরামর্শগুলোর পাশাপাশি এ নীতিগুলো মেনে চললে একজন সমাজকর্মী নিজের দক্ষতার বিকাশ ঘটাতে পারবেন।
Related Question
View AllRapport হচ্ছে সমাজকর্মীর সাথে সাহায্যার্থীর পেশাগত সম্পর্ক তৈরির প্রক্রিয়া।
সামাজিক কার্যক্রম হচ্ছে বাঞ্ছিত সামাজিক পরিবর্তন সাধন ও সমর্থন আদায়ের জন্যে পরিচালিত সুসংবদ্ধ প্রচেষ্টা।
সামাজিক কার্যক্রম একটি ধারাবাহিক ও সুশৃঙ্খল পদ্ধতি। এটি সুসংগঠিত প্রচেষ্টায় জনগণের মধ্যে সচেতনতা আনয়ন করে সমাজের অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলোকে সংশোধন বা পরিবর্তনের মাধ্যমে উন্নয়ন সাধন করে থাকে।
সমাজকর্মের অন্যতম শাখা সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম হীরার সমস্যা সমাধানে কাজ করতে পারে।
সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের সহায়তায় ভূমিকা রাখে। একজন ব্যক্তি বিভিন্ন কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হতে পারে। এসময় তার পক্ষে সবার সাথে স্বাভাবিক আচরণ করা সম্ভব হয় না। এ ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়ে সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম কাজ করে। এক্ষেত্রে এটি মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির সম্পর্কে অনুধ্যান করে সে অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা প্রদান করে। উদ্দীপকের হীরার সমস্যা সমাধানেও এ শাখা কাজ করতে পারে।
উদ্দীপকের হীরা সৌদি আরব গিয়ে গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করার সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। এক পর্যায়ে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং অসংলগ্ন আচরণ শুরু করে। হীরার মতো মানসিক সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিদের সমস্যা সমাধানে সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম কাজ করে থাকে। তাই বলা যায়, হীরার সমস্যা সমাধানে সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম কাজ করতে পারে।
হীরাকে সুস্থ করে তুলতে সমাজকর্মী হিসেবে লুনা মাঠকর্মের সমস্যা নির্ধারণ, পরিকল্পনা, যোগাযোগ ও হস্তক্ষেপ কৌশলের প্রয়োগ ঘটাতে পারে।
সমাজকর্মের তাত্ত্বিক জ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগ মাঠকর্মের মাধ্যমে ঘটানো হয়। মাঠকর্মের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কৌশল হলো সমস্যা নির্ধারণ, পরিকল্পনা, যোগাযোগ ও হস্তক্ষেপ। সমস্যা নির্ধারণ ও পরিকল্পনা কৌশল প্রয়োগ করে সমাজকর্মী সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির সমস্যা চিহ্নিত করতে সক্ষম হন। সেইসাথে তিনি সমস্যা সমাধানে পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। যোগাযোগ কৌশলের মাধ্যমে সমাজকর্মী সাহায্যার্থীর সাথে সমাজে বিদ্যমান কর্মসূচির সংযোগ ঘটান যা ব্যক্তির সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে হস্তক্ষেপ কৌশলের মাধ্যমে সমাজকর্মী সাহায্যার্থীকে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য প্রদান, সমস্যা মোকাবিলায় তাকে সক্ষমকরণ, নির্দেশনা মেনে চলতে সহায়তাকরণ এবং সমস্যা সমাধানের জন্য তার সাথে অর্থপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এর ফলে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি নিজ সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষম হয়।
উদ্দীপকের হীরা মানসিকভাবে অসুস্থ। সে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিউটে চিকিৎসা নিচ্ছে। সমাজকর্মের ছাত্রী লুনা তার কেসটি নিয়ে কাজ করছে। এক্ষেত্রে লুনা উপরোল্লিখিত কৌশলগুলো প্রয়োগের মাধ্যমে হীরার সমস্যা নির্ণয় করে তাকে সেবা প্রদানের জন্য একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি লুনা হীরার সাথে বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির সংযোগ ঘটিয়ে তাকে সেবা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য ও মানসিকভাবে সমর্থন দেবে। তার এ ছোট পদক্ষেপগুলোই তাকে সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে পারে। এছাড়াও লুনা হীরার সাথে অর্থপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। সেইসাথে হীরাকে যেসব নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে তা মেনে চলতে সহায়তা করতে পারে যা হীরার সুস্থ হওয়ায় সহায়ক হবে।
তাই বলা যায়, লুনা মাঠকর্মের সমস্যা নির্ধারণ, পরিকল্পনা, যোগাযোগ ও হস্তক্ষেপ কৌশল প্রয়োগ করে হীরাকে সুস্থ করে তুলতে পারে।
সমাজকর্ম একটি পেশাগত সেবাদান প্রক্রিয়া।
মনো-সামাজিক সমস্যা সমাধানে কার্যকর ও বাস্তবমুখী সমাধান কৌশল প্রণয়ন করায় সমাজকর্ম বর্তমান বিশ্বে ক্রমশই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
সমাজকর্ম তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগ করার মাধ্যমে মানুষকে সরাসরি সেবা প্রদান করে। একজন শিক্ষার্থী তার অর্জিত জ্ঞানের বাস্তবে প্রয়োগ ঘটিয়ে মানুষের বহুমুখী সমস্যার সমাধানে অংশ নিতে পারে। একই সাথে এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারে বলেই বর্তমান বিশ্বে সমাজকর্ম এত জনপ্রিয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!