সামাজিক বনায়নে সচেতনতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে মেহেরপুর গ্রামের কৃষকদের নিয়ে স্থানীয় বন কর্মকর্তা জনাব মাহবুব দুই দিনব্যাপি আলোচনার আয়োজন করেন। প্রথম দিন তিনি সামাজিক বনায়নে উপকারভোগীদের সাথে চুক্তিনামা ও লভ্যাংশের বিষয় আলোচনা করেন। দ্বিতীয় দিনের আলোচনার শেষে তিনি সামাজিক বন। কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে করণীয় কাজসমূহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বুঝিয়ে দেন। 

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

গাছের যথাযথ দৈহিক বৃদ্ধি, আলো-বাতাস ও খাদ্য উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করতে এবং রোগবালাই ও কীটপতঙ্গের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে গাছের ঘনত্ব কমানোকে বলে থিনিং।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

পারিবারিক প্রয়োজন মেটানোর উদ্দেশ্যে বসতবাড়ির আশেপাশে স্বল্প পরিসরে যে গাছ লাগানো হয় তাকে বসত বন বলে। বসত বনের প্রধান উপযোগিতা হলো এর মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের ফল ও সবজির চাহিদা পূরণ হয়। বাংলাদেশের গ্রামীণ জ্বালানি কাঠের শতকরা ৮৫ ভাগ আসে বসত বন থেকে। এই বনের বৃক্ষের পাতা (যেমন- কাঁঠাল) পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং কাষ্ঠল গাছ থেকে পারিবারিক আসবাবপত্র তৈরির কাঠ পাওয়া যায়। কাজেই এ বন অনেক প্রয়োজনীয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

প্রথম দিনের আলোচনায় বন কর্মকর্তা জনাব মাহবুব মেহেরপুর গ্রামের সামাজিক বনায়নে উপকারভোগীদের সাথে বিভিন্ন পক্ষের চুক্তিনামা ও উপকারভোগীদের লভ্যাংশ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

সামাজিক বনায়নের জন্য নির্বাচিত উপকারভোগী, বনবিভাগ ও ভূমি মালিকের মধ্যে একটি চুক্তিনামা স্বাক্ষরিত হয়ে থাকে। চুক্তিনামায় সংশ্লিষ্ট বাগানের স্থায়িত্ব কাল, বিভিন্ন পক্ষের লভ্যাংশ, বাগান সৃজন, পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে উপকারভোগীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সংবলিত কিছু শর্ত থাকে। চুক্তিনামায় উল্লিখিত সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ, যেমন- বন অধিদপ্তর, উপকারভোগীগণ, ভূমি মালিক, ইউনিয়ন পরিষদ সামাজিক বনায়ন বিধিমালা অনুযায়ী তাদের লভ্যাংশ প্রাপ্ত হবেন। যুক্তিসংগত কারণে ছাঁটাইকৃত ডালপালা, প্রথম ঘনত্ব হ্রাসকরণকালে কর্তিত বৃক্ষ, ফলদ বৃক্ষের ফল এবং উৎপাদিত কৃষিজাত ফসল সম্পূর্ণভাবে উপকারভোগীগণ পান। পরবর্তীতে বন থেকে লব্ধ আয়ের ৫০%-৬০% উপকারভোগীদের দেওয়া হবে। এছাড়া এ আয় থেকে ১০% বন অধিদপ্তর, ৫% স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, ২০% বনায়নকারী প্রতিষ্ঠান নেবে। অবশিষ্টাংশ বৃক্ষরোপণ ও ব্যবস্থাপনা বাবদ খরচ করা হবে।

বন কর্মকর্তা জনাব মাহবুব প্রথম দিন উপরিউক্ত বিষয়গুলোই বিশদভাবে আলোচনা করেছেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

বন কর্মকর্তা জনাব মাহবুব দ্বিতীয় দিনের আলোচনার সর্বশেষে সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে করণীয় কাজসমূহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বুঝিয়ে বলেন।

প্রথমত, তিনি জমি নির্বাচনের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি যেখানে বাগান করার উপযুক্ত জায়গা আছে, রোপণকৃরার, কোনো ক্ষতি হবে না এবং স্থানীয় সকলের সমর্থন আছে এতোবার নির্বাচনের কথা বলেন। তিনি নির্বাচিত এলাকার স্থানীয় জনগণের ব থেকে ভূমিহীন কৃষক, দুস্থ মহিলা, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী, সচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা, প্রান্তিক কৃষকদের নিয়ে দল গঠন করে চুক্তিনামা সম্পাদনের কথা বলেন। অতঃপর তিনি সামাজিক বন সফলভাবে বাস্তবায়নে বর্ষার শুরুতে জমি প্রস্তুতকরণ, সঠিক মাপের গর্ত তৈরি, চারা রোপণের ১৫ দিন পূর্বে আনুপাতিক হারে সার প্রয়োগ, সঠিক চারা নির্বাচন, ছেঁড়া ও খুঁটি দেওয়া, মৃত চারার শূন্যস্থান পূরণ ইত্যাদি কাজের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করেন। সর্বশেষে তিনি চারার পরিচর্যা হিসেবে শুষ্ক মৌসুমে সেচ প্রদান, নিয়মিত আগাছা পরিষ্কারকরণ ও সার প্রয়োগ, চারার গোড়ায় মালচিং করা, চারার বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে কাষ্ঠল বৃক্ষ প্রুনিং করা, দৈহিক বৃদ্ধি ঠিক রাখতে গাছের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ করা, প্রয়োজনে থিনিং করার গুরুত্ব ইত্যাদি বিষয় সকলকে বুঝিয়ে বলেন।

উপরের উল্লিখিত বিষয়গুলো যদি উপকারভোগীরা সঠিকভাবে না করে তবে তাদের পরিশ্রম বিফলে যাবে। সুতরাং উপকারভোগীগণ বন অধিদপ্তরের সাথে যৌথ কার্যপরিকল্পনা তৈরি করে প্রকল্পটিকে সফল করার জন্য ভূমিকা পালন করবে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
86
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

বন বলতে সাধারণভাবে বিস্তৃত এলাকা জুড়ে বৃহদাকার গাছপালা দ্বারা আচ্ছাদিত স্থানকে বোঝায়, যেখানে বন্য পশুপাখি, কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য জীব প্রাকৃতিকভাবে বসবাস করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
657
উত্তরঃ

বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবের সক্রিয় উপস্থিতি, বিস্তৃতি ও পারস্পরিক প্রাকৃতিক সুষম সহাবস্থাকে জীববৈচিত্র্য বলে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গাছ ও প্রাণীর জন্মস্থান, বাসস্থান ও বংশ বিস্তারের স্থান হলো বন। বন জীবের খাদ্যশৃঙ্খল রক্ষা করে। খাদ্যশৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটলে খাদ্য উৎপাদন হ্রাস পাবে। আবার বনাঞ্চলে জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে বন্যপ্রাণী আবাস এলাকায় চলে আসবে। ভবিষ্যতের জৈবিক উৎপাদনশীলতা রক্ষার্থে বন্য জীবের গুরুত্ব অনেক বেশি। বন আছে বলেই বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ, পশুপাখি, কীট-পতঙ্গ ও অণুজীব রয়েছে। বন না থাকলে এসব জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যেত।

 

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1.5k
উত্তরঃ

খোকনের দেখা প্রথমোক্ত বনটি হলো ম্যানগ্রোভ বন বা উপকূলীয় বন। এ বনের বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-

i. ম্যানগ্রোভ বনের নিম্নভূমি জোয়ার-ভাটা দ্বারা দৈনিক দুইবার প্লাবিত হয়। 

ii. এ বনাঞ্চলে বৃক্ষসমূহের জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম হয় এবং শ্বাসমূল থাকে। 

iii. এ বনাঞ্চল নদ-নদী, খাল-বিল দ্বারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন থাকে। 

iv. ম্যানগ্রোভ বনের মাটি সর্বদা লোনা পানিতে ভেজা থাকে বলে বৃক্ষসমূহ চিরহরিৎ। 

V. এ বনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরি, যার জন্য এ বনের নাম হয়েছে সুন্দরবন।

vi. ম্যানগ্রোভ বনের প্রধান প্রধান কাষ্ঠল বৃক্ষ হলো- সুন্দরি, গেওয়া, গরান, বাইন, কেওড়া, পশুর, ওড়া ইত্যাদি। 

vii. এ বনের অকাষ্ঠল বৃক্ষের মধ্যে গোলপাতা, হোগলা, হেতাল, কেয়া, হারগোজা, বেত, শন ইত্যাদি প্রধান। 

viii. ম্যানগ্রোভ বনের প্রাণীর মধ্যে রয়েছে বানর, কুমির, হাঙ্গর, অজগর ও বিভিন্ন প্রজাতির সাপ। 

ix. এ বনের প্রধান আকর্ষণ রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও চিত্রা হরিণ এবং গোলপাতা।

 

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
450
উত্তরঃ

উদ্দীপকে খোকনের দেখা প্রথম বনটি হলো ম্যানগ্রোভ বন ও পরের বনটি হলো পাহাড়ি বন।

সমুদ্র উপকূলীয় এলাকার লোনা মাটিতে যে বন গড়ে উঠেছে তাকে ম্যানগ্রোভ বন বলে। অপরদিকে পাহাড়ি উঁচু এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো বনকে পাহাড়ি বন বলে। ভৌগোলিক অবস্থান ও জলাবায়ুভেদে বন দুটির মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়। যেমন-

১. পাহাড়ি বনের ভূমি উঁচু ও মাঝারি হয় কিন্তু ম্যানগ্রোভ বনের ভূমি নিচু হয়। 

২. পাহাড়ি বনের মাটি অম্লীয় (pH = ৫-৬) কিন্তু ম্যানগ্রোভ বনের মাটি ক্ষারীয় (pH = ৭.৫-৮.৫) প্রকৃতির হয়। 

৩. পাহাড়ি বনে বন্যার পানি প্রবেশ করতে পারে না, অপরদিকে ম্যানগ্রোভ বনে জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে বন্যার পানি প্রবেশ করে এবং বেশিরভাগ এলাকা পানির নিচে ডুবে থাকে। 

৪. ম্যানগ্রোভ বনের উদ্ভিদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এদের শ্বাসমূল থাকে, জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম হয়, যা পাহাড়ি বনের উদ্ভিদে অনুপস্থিত। পাহাড়ি বনে আবহাওয়া উষ্ণ ও শুষ্ক হওয়ার ফলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পর্ণমোচী জাতীয় বৃক্ষ জন্মে। 

৫. পাহাড়ি বনের প্রধান বৃক্ষ চাপালিশ, সেগুন, কড়ই, শাল ইত্যাদি। ম্যানগ্রোভ বনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরি, গেওয়া, বাইন, গরান, কেওড়া, পশুর ইত্যাদি। 

৬. পাহাড়ি বনের প্রধান পশু হলো হাতি, চিতাবাঘ, নেকড়ে, বন্য শূকর, কাঠবিড়ালি, বানর, সাপ, গিরগিটি ইত্যাদি। ম্যানগ্রোভ বনের প্রধান পশু হলো রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রাহরিণ, কুমির, অজগর ইত্যাদি। 

৭. পাহাড়ি বনের প্রধান পাখি হলো বনমোরগ, ময়না, টুনটুনি, কাঠঠোকরা, ধনেশ ইত্যাদি। ম্যানগ্রোভ বনের প্রধান পাখি হলো মাছরাঙা, মদনটাক, সবুজ বক, শিকরা, সিঁদুরে সহেলী, লালপা, কানি বক ইত্যাদি।

পরিশেষে বলা যায়, পাহাড়ি ও ম্যানগ্রোভ বনের মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দু'প্রকার বনই আমাদের দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
725
উত্তরঃ

কৃষি বন হলো একটি ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি যার মাধ্যমে একই জমিতে একই সাথে পর্যায়ক্রমিকভাবে বৃক্ষ, খাদ্য বা পশুখাদ্যের চাষাবাদের মাধ্যমে জমির সার্বিক উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1.8k
উত্তরঃ

ট্রেনিং ও প্রুনিং উভয় ক্ষেত্রেই গাছের অংশবিশেষ ছাঁটাই করা হয়। প্রুনিং-এ গাছের শাখা, পাতা, কাণ্ড, ফুল, ফল-মূল ইত্যাদি কেটে অপসারণ করা হয়।' অন্যদিকে গাছকে নির্দিষ্ট উচ্চতা, আকার-আকৃতি, সুন্দর সুগঠিত ও শক্ত কাঠামো দেওয়ার জন্য ট্রেনিং করা হয়। ট্রেনিং-এ গাছের শাখা-প্রশাখা ছাঁটাই করা হয় যা এক প্রকার প্রুনিং। প্রুনিং গাছের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে ফুল ও ফল ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, রোগ ও পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং গাছে বেশি আলো-বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা করে। ট্রেনিংয়ের ফলে ব্যবহারযোগ্য কাঠের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তাই বলা যায়, সকল ট্রেনিং হলো প্রুনিং কিন্তু সকল প্রুনিং ট্রেনিং নয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1.5k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews