অর্থনীতির নীতিমালা ১০টি।
যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে। এ ব্যবস্থায় ভোক্তা ও উৎপাদক উভয়ই নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ভোগ করে। তবে সরকার প্রয়োজন মনে করলে দ্রব্যের দামের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে এবং প্রয়োজন অনুসারে কোনো দ্রব্যের উৎপাদন কিংবা ভোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যেমন- ধূমপান, মাদকদ্রব্য উৎপাদন ও ভোগ ইত্যাদি। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। বাংলাদেশ, ভারত ও ফ্রান্সে এ অর্থব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে।
উদ্দীপকে ডেভিটের দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত।
ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সমাজের অধিকাংশ সম্পদ বা উৎপাদনের উপকরণগুলো ব্যক্তিমালিকানায় থাকে। ব্যক্তি এগুলো হস্তান্তর ও ভোগ করে থাকে। এ অর্থব্যবস্থায় প্রত্যেক ভোক্তা তার পছন্দ, ইচ্ছা ও রুচি অনুযায়ী অবাধে দ্রব্য ক্রয় ও ভোগ করতে পারে। ভোক্তার চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদনকারী দ্রব্য সরবরাহ করে। তাছাড়া এ অর্থব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে তথা বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার দরকষাকষির মাধ্যমে দ্রব্যের দাম নির্ধারিত হয়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ডেভিটের সাথে ওয়াংতু-এর পরিচয় হয়। ফেসবুকে আলোচনার মধ্য দিয়ে ওয়াংতু ডেভিটের দেশের অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে পারে। ডেভিটের দেশে অবাধে দ্রব্য ক্রয় ও ভোগের ক্ষেত্রে ভোক্তার স্বাধীনতা রয়েছে এবং উৎপাদনকারী ভোক্তার চাহিদা অনুযায়ী দ্রব্য উৎপাদন ও সরবরাহ করে। তাছাড়া, ডেভিটের দেশে সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানাও স্বীকৃত। সুতরাং এসব বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ডেভিটের দেশের অর্থব্যবস্থা হলো ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা।
ডেভিটের দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা এবং ওয়াংতু-এর দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। উভয় অর্থব্যবস্থার মধ্যে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে একটি দেশের জন্য অধিকতর কল্যাণকর বলে আমি মনে করি।
যে ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণ ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং' প্রধানত বেসরকারি উদ্যোগে, সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার মাধ্যমে যাবতীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়, তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। অপরদিকে, যে অর্থব্যবস্থায় সমাজের অধিকাংশ সম্পদ ও উৎপাদনের উপকরণের ওপর রাষ্ট্রের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং সবকিছু সরকারি নির্দেশে পরিচালিত হয় তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। উপরোক্ত অর্থব্যবস্থার মধ্যে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা একটি দেশের উন্নয়নের জন্য অধিক কল্যাণকর। কারণ ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উৎপাদন মুনাফার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। মুনাফার আশায় উৎপাদনকারীরা অধিক ঝুঁকি গ্রহণ করে নতুন নতুন দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন করে। ফলে দেশের উন্নয়ন দ্রুত ত্বরান্বিত হয়। এ অর্থব্যবস্থায় বিভিন্ন উৎপাদনকারীর মধ্যে অবাধ প্রতিযোগিতা বিরাজ করে। উৎপাদনকারীরা সর্বাপেক্ষা কম খরচে বেশি উৎপাদন করার চেষ্টা করে। ফলে উৎপাদন ব্যয় কম হয় এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হ্রাস পায়। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় প্রত্যেক ক্রেতা স্বাধীনভাবে তার রুচি ও ইচ্ছা অনুযায়ী দ্রব্যসামগ্রী ভোগ করতে পারে। অন্যদিকে, ওয়াংতু-এর দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিরাজমান থাকায় সরকারের নিয়ন্ত্রণে প্রায় সবকিছু পরিচালিত হয়। এখানে ভোক্তার স্বাধীনতা সীমিত থাকে। তাই উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ডেভিট ও ওয়াংতু-এর দেশের অর্থব্যবস্থার মধ্যে ডেভিটের দেশের অর্থব্যবস্থা অধিক কল্যাণকর।
Related Question
View Allভূমিবাদীদের (Physiocracy) মতে, কৃষিই (খনি ও মৎস্য ক্ষেত্রসহ) হলো অন্যতম বা প্রধান উৎপাদনশীল খাত।
দুষ্প্রাপ্যতা বলতে অসীম অভাবের তুলনায় সম্পদের সীমাবদ্ধতাকে বোঝায়।
মানুষ তার অভাব পূরণ করার জন্য যে পরিমাণ দ্রব্য ও সেবা ভোগ করতে চায় তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। অর্থাৎ মানবজীবনের অসংখ্য অভাবের তুলনায় উৎপাদনের উপকরণ তথা প্রাপ্ত সম্পদের স্বল্পতাকে অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতা বলে। উদাহরণ- সাকিবের কাছে এক হাজার টাকা আছে। তার শার্ট, প্যান্ট এবং ভালো জুতা দরকার। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তার টাকার পরিমাণ কম। এটি সম্পদের 'দুষ্প্রাপ্যতাকে' নির্দেশ করছে।
সুমি যে দেশে বাস করে সেখানে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সমাজের অধিকাংশ সম্পদ ও উৎপাদনের উপাদানের ওপর রাষ্ট্রের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত। সেখানে প্রায় সব শিল্প- কারখানা ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের মালিক সরকার এবং সেগুলো সরকারি বা সামাজিক নির্দেশে পরিচালিত হয়ে থাকে। তাছাড়া সমাজতন্ত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভোক্তারা সরকার নির্ধারিত দামে দ্রব্যাদি ভোগ করে থাকে। কোনো ভোক্তা চাইলেই নিজের খুশিমতো অর্থ ব্যয় করে কোনো কিছু ভোগ করতে পারে না। এ অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফা নেই বললেই চলে, কারণ সকল অর্থনৈতিক কার্যাবলি জনগণের সামগ্রিক কল্যাণের জন্য পরিচালিত হয়। উদ্দীপকের সুমি যে দেশে বাস করে সেখানে জমি, কলকারখানা ও খনি প্রভৃতি প্রায় সকল কিছুর মালিকানা থাকে সরকার বা রাষ্ট্রের হাতে। সেখানে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের উৎপাদন ও বণ্টন প্রক্রিয়া (কোন দ্রব্য, কী পরিমাণে, কীভাবে এবং কাদের জন্য উৎপাদিত হবে) সম্পর্কে মৌলিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসব বৈশিষ্ট্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সুমির দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত।
সুমির দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সাথে মিশ্র অর্থব্যবস্থার কিছু পার্থক্য রয়েছে।
যে অর্থব্যবস্থায় সমাজের অধিকাংশ সম্পদ ও উৎপাদনের উপকরণের। ওপর রাষ্ট্রীয় বা সরকারি মালিকানা থাকে তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। পক্ষান্তরে, যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলা হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভোক্তার স্বাধীনতা থাকে না। অপরদিকে মিশ্র অর্থব্যবস্থায় প্রায় সকল ক্ষেত্রেই ভোক্তা অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে। উদ্দীপকের সুমি যে দেশে বাস করে সেখানে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। কারণ সেখানে দাম-সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব কেন্দ্রের হাতে ন্যস্ত। সেখানে কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সকল অর্থনৈতিক কার্যাবলি পরিচালিত হয়। অপরদিকে মিশ্র অর্থব্যবস্থায় চাহিদা- যোগানের স্বয়ংক্রিয় ঘাত-প্রতিঘাতের দ্বারা দাম নির্ধারিত হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় কোন কোন দ্রব্য, কী পরিমাণে ও কীভাবে উৎপাদিত হবে এবং কীভাবে বণ্টন করা হবে- এসব পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা নির্ধারিত হয়। তাই সেখানে ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের কোনো সুযোগ থাকে না। অন্যদিকে, মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা হয়, তাই সেখানে ধনতন্ত্রের মতো সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিকানা ও মুনাফা অর্জনের বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। সেই সাথে বেসরকারি পর্যায়ে - অর্থনৈতিক কার্যাবলির ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণও বজায় থাকে।
কাজেই বলা যায়, সুমির দেশের অর্থব্যবস্থা তথা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সাথে মিশ্র অর্থব্যবস্থার অনেক পার্থক্য রয়েছে।
ইংল্যান্ডের অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথের প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি হলো- "অর্থনীতি হলো এমন একটি বিজ্ঞান, যা জাতিসমূহের সম্পদের ধরন ও কারণ সম্পর্কে অনুসন্ধান করে।"
অর্থনীতির ভাষায় শ্রমিকদেরকে কাজে উৎসাহিত করার জন্য গৃহীত বিভিন্ন ব্যবস্থাই হলো প্রণোদনা।
অর্থনীতিতে উৎসাহ বা প্রণোদনা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষ প্রণোদনা পায় বলেই যে কোনো কাজ যত্নের সাথে সম্পন্ন করে। কাজের স্থায়িত্ব, শ্রমিকদেরকে লভ্যাংশ প্রদান, বিনামূল্যে পোশাক, চিকিৎসা, বাসস্থান, বেতনসহ ছুটি, বৃদ্ধ বয়সে পেনশন, কাজের ঝুঁকি হ্রাস ইত্যাদি প্রণোদনার কৌশল ব্যবহার করে শ্রমিকদেরকে অধিক উৎপাদনে উৎসাহিত করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!