বিশেষ অবস্থায় যে খাবার রোগীর চাহিদা ও রোগের লক্ষণ অনুযায়ী উপযোগী, যথার্থ ও পরিমিত এবং যা ঐ রোগ উপশম করে রোগীকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে তাই পথ্য।
পথ্য পরিকল্পনায় সঠিকভাবে রোগ নির্ণয়, রোগটির কারণ এবং রোগটি সম্পর্কে ধারণা থাকা আবশ্যক।
রোগের জন্য পরিপাক ও বিপাকে যে পরিবর্তন হয়, তার প্রকৃতি জানতে হয়। রোগীর শরীরে যদি কোনো বিশেষ উপাদান কম থাকে তবে সেই বিশেষ উপাদান সমৃদ্ধ খাদ্য রোগীকে পরিবেশন করানো উচিত।
সামিন সাহেব উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হয়েছেন। উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণসমূহ হলো মাথা ঘোরা ও মাথা ব্যথা, ঘাড় ব্যথা, ক্লান্তিবোধ, কখনো কখনো বুকে ব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্ট, হৃৎপিণ্ডের গতি বৃদ্ধি প্রভৃতি।
সামিন সাহেবের প্রায়ই ঘাড় ব্যথা করে এবং অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এছাড়া একদিন অফিস থেকে ফেরার পথে মাথা ঘুরে পড়ে যান। তার এসকল লক্ষণসমূহ উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, সামিন সাহেব উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হয়েছেন। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, গলগণ্ড রোগে উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বংশগত কারণেও এ রোগ হতে পারে। দেহ স্থূল হলে রক্তনালীর ভিতরের আবরণে চর্বি কোলেস্টেরলের আকারে জমা হলে উচ্চ রক্তচাপের সম্ভাবনা থাকে। অত্যধিক ধুমপান উচ্চ রক্তচাপের একটি কারণ। মানসিক দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা ইত্যাদি কারণে উচ্চ রক্তচাপ বাড়তে পারে। খাদ্যে অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় উপাদান উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়।
নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের মাধ্যমেই উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সামিন সাহেব চর্বিযুক্ত মাংস এবং তেলজাতীয় খাবার খেতে বেশি পছন্দ করেন। কিন্তু এ ধরনের খাবার উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই সামিন সাহেবকে এসব খাবার বর্জন করতে হবে। এর পাশাপাশি তাকে প্রোটিনযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া তার খাদ্যে লবণের পরিমাণ কমাতে হবে। বেশি মশলাযুক্ত খাদ্য, উত্তেজক পানীয় যেমন চা, কফি, মদ, বিয়ার ইত্যাদি পরিহার করতে হবে। অত্যধিক ধুমপান উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই সুস্থতার জন্য সামিন সাহেবকে ধুমপান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
যেসব খাদ্যে সোডিয়াম বেশি থাকে সেসব খাদ্য বাদ দিতে হবে। যেমন- গরুর মাংস, যকৃত, নোনতা খাবার, পনির, চিপস, টিনজাত খাবার, আচার, চাটনি, বেকিং পাউডার, দুধ, ডিম, ডাল প্রভৃতি। সামিন সাহেবকে ভাত, রুটি, আটা ইত্যাদি কম গ্রহণ করতে হবে। ভিটামিন ও খনিজ লবণ সরবরাহের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ শাকসবজি, ফল ও ফলের রস গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া তিনি লৌহ ও আয়রনযুক্ত ট্যাবলেট গ্রহণ করতে পারেন। এর পাশাপাশি তাকে প্রচুর তরল খাদ্য ও পানি গ্রহণ করতে হবে।
উপরোক্ত নিয়মকানুনগুলো সঠিকভাবে মেনে চললেই সামিন সাহেব উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন। এজন্য সামিন সাহেবের সুস্থতার জন্য নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন প্রয়োজন।
Related Question
View Allরক্ত প্রবাহের সময় রক্তবাহী নালির ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয় তাকে রক্তচাপ বলে।
শাকসবজি ও তরল খাবার খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা সম্ভব হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে। কারণ এগুলোর আঁশ কোষ্ঠ পরিষ্কারে সহায়তা করে। সুষম খাদ্যে যতটা শাকসবজি থাকা দরকার কোষ্ঠকাঠিন্য হলে তার দ্বিগুণ পরিমাণ শাকসবজি খেতে হবে। এ সময় চা-কফি বর্জন করা ভালো।
জামান সাহেবের শারীরিক লক্ষণসমূহ হৃদরোগকে নির্দেশ করছে। হৃদরোগে হৃৎপিণ্ডের ধমনীর গায়ে চর্বি ও অন্যান্য স্নেহপদার্থ জমে ধমনীর ভিতরের গাত্র সরু হয়ে হয়ে যায় এবং অবরোধের সৃষ্টি করে।
ফলে স্বাভাবিক রক্ত চলাচল, অক্সিজেন সরবরাহ প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ কার্যকলাপ বাধা প্রাপ্ত হয়, হৃৎপিণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে। হৃদপেশি নষ্ট হয় এমনকি রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।
জামান সাহেবের শরীরের ওজন বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায়ই তার বুক ধড়ফড় এবং বুকে ব্যথা করে। এ লক্ষণগুলো হৃদরোগকেই নির্দেশ করে। হৃদরোগ নানা কারণে হয়ে থাকে। মধ্যবয়সী অথবা তার বেশি বয়সে হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। শরীরের ওজন বেশি হলে তাদের মধ্যে হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যারা শারীরিক পরিশ্রম করে না তাদের হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। বর্তমান যুগের মানসিক চাপ হৃদরোগের আশঙ্কা অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। বংশগত হৃদরোগ থাকলে এই রোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়। যারা অধিক ধূমপান করেন তাদের মধ্যে হৃদরোগের আশঙ্কা বেশি থাকে। খাদ্যে অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় উপাদান থাকলে হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ে।
'সচেতনতাই পারে জামান সাহেবকে সুস্থ জীবন ফিরিয়ে দিতে' উক্তিটির সাথে আমি একমত।. সঠিকভাবে নিয়মকানুন মেনে জীবনযাপন করলে হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এক্ষেত্রে সচেতনতাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হৃদরোগের অন্যতম কারণ হলো দেহের ওজন বেড়ে যাওয়া। শারীরিক পরিশ্রম না করলেও হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ে। এছাড়া খাবারে চর্বি জাতীয় উপাদান হৃদরোগে আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।
জামান সাহেব হাঁটাচলা কম করেন। শারীরিক পরিশ্রমও তেমন একটা করেন না। কিন্তু তিনি খেতে খুব ভালোবাসেন। এর ফলে তার শরীরের ওজনে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সকল কারণে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু তিনি যদি সচেতনভাবে জীবন যাপন করেন তাহলে তিনি সুস্থ জীবন ফিরে পেতে পারেন। তাই তাকে কতগুলো নিয়ম মেনে চলতে হবে।
জামান সাহেবকে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ওজন কমানোর জন্য তাকে খাদ্যে ক্যালরির পরিমাণ কমাতে হবে। চিনি, মধু, মিষ্টি জাতীয় খাদ্য বর্জন অথবা পরিমিত পরিমাণ গ্রহণ করতে হবে। শাকসবজি, লেবু জাতীয় ফল, চর্বিহীন মাংস, মাছ, ডিমের সাদা অংশ, গোটা ডিম সপ্তাহে ১-২ বার গ্রহণ করতে হবে। চর্বিযুক্ত মাংস, মাখন, মগজ, চিংড়ি মাছ, দুধের সর, আইসক্রীম, দুধের ঘন পায়ে, লবণ, ভাজা খাদ্য, পনির ইত্যাদি বর্জন করতে হবে। উদ্ভিজ্জ তেল গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া তাকে খাদ্যে সোডিয়ামের পমিাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ওজনে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জামান সাহেবকে শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটতে হবে। কোনো রকম মানসিক চাপ নেয়া যাবে না। নিয়মতান্ত্রিকভাবে জীবন-যাপন করলে জামান সাহেব হৃদরোগ-নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। কিন্তু তিনি যদি নিয়ম মেনে না চলেন তাহলে তার স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি এমনকি মৃত্যুর সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। তাই সুস্থ জীবনের জন্য জামান সাহেবের উচিত হবে উপরিউক্ত নিয়মগুলো যথাযথভাবে মেনে চলা।
আঁশ জাতীয় খাদ্য কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।
খাবার গ্রহণের কতক্ষণ পর খাদ্যের অবশিষ্টাংশ মলরূপে দেহ থেকে নিষ্কাশন হবে তা নির্ভর করে খাদ্যের প্রকৃতির ওপর। শাকসবজি ও আঁশ জাতীয় খাদ্য মল দ্রুত নিষ্কাশনে সাহায্য করে। এছাড়া এ ধরনের খাদ্য মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। তাই আঁশ জাতীয় খাদ্য ও শাকসবজি বেশি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!