স্ত্রী প্রজননতন্ত্র পাঁচটি অংশ নিয়ে গঠিত।
যেসব মহিলা গর্ভাবস্থায় মাদক গ্রহণ করেন তাদের গর্ভস্থ - সন্তানের ওপর মাদকাগ্রহণের প্রভাব লক্ষ করা যায়।
গর্ভবতী মা মাদকাসক্ত থাকলে মাদকের প্রতি সন্তানদের আসক্তি থাকে। খিচুনি, শাসকষ্ট ও আন্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। এছাড়া অতিরিক্ত কান্না, ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, বমি, কাঁপুনি দেখা দেয়। ফলে অতি শৈশবেই শিশুর মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সামিয়ার ছেলের মধ্যে ডাউন্স সিনড্রোম পরিলক্ষিত হয়। ডাউন সিনড্রোমে শিশুর মানসিক বর্ধন ব্যাহত হয়। এতে আক্রান্ত শিশুর চেহারা গোল, লাল, অপরিণত দেখায় এবং স্ফীত জিহ্বার জন্য লালা ঝরে। হাত, পা ছোট হয় এবং হৃৎপিণ্ডের অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। সামিয়ার ছেলের মতো শিশুদের জীবনকাল ১০-১৫ বছর পর্যন্ত হয়। এ ধরনের শিশুদের বুদ্ধি বিকাশের ওপর যথেষ্ট গবেষণা হয়েছে। এদের গড় বুদ্ধাঙ্ক ২০-২৫ হয় এবং ৫% ডাউন্স সিনড্রোম শিশু পড়াশোনা করতে পারে। এক্ষেত্রে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের বুদ্ধাঙ্ক বেশি থাকে।
সামিয়ার ছেলের বয়স ছয় বছর হলেও এ বয়সী শিশুর তুলনায় তার হাত পায়ের আকার ছোট। তার মুখ দিয়ে সব সময় লালা ঝরে। এ সকল বৈশিষ্ট্যসমূহ ডাউন্স সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশুর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সামিয়ার ছেলেকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ডাক্তার জানান, গর্ভকালীন সময়ে বংশগতির ত্রুটির কারণে এরূপ হয়েছে। অর্থাৎ বংশগতির ত্রুটির কারণে সামিয়ার ছেলে ডাউন্স সিনড্রোমে আক্রান্ত।
পুরুষের শুক্রাণু ও মহিলাদের ডিম্বাণুর মিলনে যে জাইগোটটি সৃষ্টি হয় তাতে ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। কিন্তু ডাউন্স সিনড্রোম জাতীয় ত্রুটিতে ফলবতী ডিম্ব বা জাইগোটে ৪৭টি ক্রোমোজোম অর্থাৎ ১ টি অতিরিক্ত ক্রোমোজোম থাকে।
শিশুর এই অস্বাভাবিক ত্রুটির জন্য দায়ী মায়ের বয়স। যদিও বয়ঃসন্ধিকালের আগ পর্যন্ত এসব ডিম্ব নিষ্ক্রিয় থাকে। প্রতি ঋতুচক্রে এসব ডিম্বের বিন্যাস ঘটে। তবুও কিছু কিছু ডিম্ব ৪০-৪৫ বছর পর্যন্ত থেকে যায় এবং বয়স বৃদ্ধির সাথে এ ডিম্বের মধ্যে ত্রুটি বা অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। কোনো কারণে সাধারণত জন্মের পরই মেয়ে শিশুর দেহে ডিম্বের সৃষ্টি হয়। এসব ত্রুটিযুক্ত ডিম্বের সাথে যদি কোনো শুক্রাণুর মিলন ঘটে তবে অস্বাভাবিক ভ্রূণে পরিণত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ৩৫ বছরের ওপরে সন্তান ধারণ করলে এবং সেটি যদি প্রথম সন্তান হয় তাহলে সেই শিশু ডাউন্স সিনড্রোমে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বংশগত ত্রুটির কারণেই সামিয়ার ছেলে ডাউন্স সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়েছে। তাই বলা যায়, ডাক্তারের বক্তব্যটি সঠিক ও যথার্থ।
Related Question
View Allমেলানিন তৈরি হয় টাইরোসিন হতে।
হাইড্রোসেফালি এক ধরনের জিনগত অস্বাভাবিকতা। হাইড্রোসেলফালি হলে মাথার মধ্যে তরল পদার্থ সেরেব্রো-স্পাইনাল রস নিঃসরণ না হয়ে জমা থাকে। ফলে মাথা অস্বাভাবিক বড় হয়। শিশু প্রতিবন্ধী হয়।
রহিম মিয়ার বড় সন্তানটির মধ্যে থাইরয়েড গ্রন্থি হতে নিঃসৃত থাইরক্সিন হরমোনের ঘাটতি রয়েছে।
থাইরয়েড হরমোনের অভাবে শিশু বামনত্ব লাভ করে। এ ধরনের জিনগত অস্বাভাবিকতাকে ক্রেটিনিজম বলে। এর অপর নাম হাইপোথাইরয়েডিজম।
বংশগত বা অন্য কোনো কারণে গর্ভাবস্থায় আয়োডিন এর অভাব হলে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা কমে যায়। ফলে বামনত্ব দেখা দেয়। এছাড়া মাথায় চুল অল্প থাকে। কপাল ছোট, নাক চ্যাপ্টা হয়। এদের জিহবা বেশ মোটা থাকে। অনেকের গলগণ্ড হয় ও বিপাক ক্রিয়া হ্রাস পায়। এ রোগে হজমজনিত গোলযোগ থাকে এবং যৌনাঙ্গের বিকাশ ঠিকমতো হয় না।
রহিম মিয়ার ছোট সন্তানটির মধ্যে হিমোফিলিয়া নামক জিনগত অস্বাভাবিকতা রয়েছে।
হিমোফিলিয়া রোগে শরীরের কোথাও কেটে গেল তার রক্ত জমাট বাঁধতে চায় না। মায়ের রক্ত থেকে পুত্রসন্তানদের দেহে বিস্তার লাভ করে এই রোগ।
ছেলেদের এই রোগ দেখা যায়। মেয়েরা বাহক হিসেবে কাজ করে। এই রোগে কোনো স্থান কেটে গেলে রক্তক্ষরণ সহজে বন্ধ হয় না। আঘাত পেলে চামড়ার নিচে বা জোড়ার অভ্যন্তরে রক্তপাত হতে থাকে। একে রক্তক্ষরণীয় রোগ বলা হয়, মহিলাদের চেয়ে পুরুষের sex chromosome কে এর জন্য দায়ী করা হয়।
হিমোফিলিয়ায় কোনো cloting factor থাকে না। এই রোগে রোগীর রক্তে রক্ত বন্ধনকারী অ্যান্টি হিমোফিলিক ফ্যাক্টর VIII থাকে না। ফলে রক্ত জমাট হতে অনেক সময় লাগে। রহিম মিয়ার ছোট সন্তানের মধ্যে এ ধরনের জিনগত অস্বাভাবিকতাই পরিলক্ষিত হয়।
স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের প্রধান অঙ্গের নাম ডিম্বাশয়।
ভালভা স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের একটি অংশ বা অঙ্গাণু। ভালভা বলতে যোনি যে ছিদ্রপথে বাইরে উন্মুক্ত থাকে তাকে বোঝায়। লেবিয়া মেজরা, লেবিয়া মাইনরা, ক্লাইটোরিস এবং ভেন্টিবুলার গ্রন্থিকে একত্রে ভালভা বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!