সম্পদ ব্যবহারে পারদর্শিতা অর্জনের মাধ্যম হলো পরিকল্পনা প্রণয়ন, সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়ন।
সদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বশেষ পর্যায় হলো গৃহীত সিদ্ধান্তের জন্য দায়িত্ব
বিকল্প পন্থা বাছাইকরণের পর যে সমাধান গ্রহণ করা হলো তা কার্যকর করার জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব তিনিই বহন করবেন যার সঙ্গে সকলের সুসম্পর্ক রয়েছে।
সিদ্ধান্ত দুইভাবে গ্রহণ করা হয়ে থাকে। যথা: একক ও দলীয়।
গৃহ ব্যবস্থাপনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গৃহ ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ক্ষেত্রে ছোট বড় নানা ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূলকথা হলো সমস্যা সমাধানের একাধিক কার্যক্রম বা পন্থা থেকে একটি বিশেষ কার্যক্রম পছন্দ করা।
উদ্দীপকে একক ও দলীয় সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ দু' ধরনের সিদ্ধান্তের মধ্যে পার্থক্য হলো-
| একক সিদ্ধান্ত | দলীয় সিদ্ধান্ত |
| i. এই সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া যায়। ii. ছোটখাটো কোনো সমস্যায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। iii. সৃজনশীল কাজে বা জটিল সমস্যায় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর নয়। iv. বিকল্প উত্থাপনে এই সিদ্ধান্ত ততটা কার্যকর হয় না। v. এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কাজ সবসময় সুন্দর ও নির্ভুল হয় না। | i. এই সিদ্ধান্ত সময়সাপেক্ষ। ii. জটিল কোনো সমস্যার ক্ষেত্রে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। iii. সৃজনশীল কাজে বা জটিল সমস্যায় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর। iv. বিকল্প উত্থাপনে এই সিদ্ধান্ত অনেক কার্যকর। v. এই সিদ্ধান্তে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাজ সুন্দর হয় এবং ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে |
উদ্দীপকে উল্লিখিত পদ্ধতিটি হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ একটি জটিল প্রক্রিয়া। পরিবারের ছোটখাটো বা বড় উভয় ধরনের সমস্যা সমাধানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা ভুল সিদ্ধান্ত লক্ষ্য অর্জনে বাধার সৃষ্টি করে।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ হলো কিছু বিকল্প পন্থা থেকে একটি বাছাইকরণ বা একটি কাজের ধারা নির্বাচন। এর পাঁচটি পর্যায় রয়েছে। যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীকে এ পর্যায়গুলো ধারাবাহিকভাবে অতিক্রম করতে হয়। নতুবা লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হতে পারে।
সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রথম পর্যায়ে যে সমস্যা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে তার প্রকৃতি নির্ণয় করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ এবং সমস্যা সমাধানের সম্ভাব্য পন্থাগুলো অনুসন্ধান করা হয়। যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য অনেক বিকল্প পন্থা থাকতে পারে। তৃতীয় পর্যায়ে সমস্যা সমাধানের বিকল্প পন্থাগুলো বিশদভাবে মূল্যায়ন করা হয়। প্রত্যেকটি বিকল্পের ফলাফল, সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করে দেখতে হয়। চতুর্থ পর্যায়ে অনেকগুলো বিকল্প পন্থার মধ্য থেকে একটি পন্থা বেছে নেওয়া হয়। এ স্তরটি মানুষের সমস্ত জীবনধারাকে প্রভাবিত করে। যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো তার ফলাফল জেনে দায়িত্ব গ্রহণ করাই হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বশেষ পর্যায়। গৃহীত সিদ্ধান্তটির দায়িত্ব গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করতে হয়। উল্লিখিত পর্যায়গুলো অনুসরণের মাধ্যমেই যে কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
Related Question
View Allলক্ষ্য অর্জনের জন্য যা কিছু প্রয়োজন এবং মূল্যবান বলে মনে করা হয় তাকে মান বলে।
পরিকল্পনা গৃহে সময়, শক্তি ও অর্থের সাশ্রয় করে।
পরিকল্পনার সাথে কাজ করলে বাস্তববাদীভাবে অর্থ ব্যয় করা যায়।পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের মতামতের ওপর এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধা চিন্তা করে পরিকল্পনা করলে কাজে সফল হওয়া যায়। তাই গৃহ ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ।:
উদ্দীপকে 'A' চিহ্নিত স্থান গৃহ ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত ধাপটি নির্দেশ করে।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ গৃহ ব্যবস্থাপনা কার্যকলাপের মৌলিক অঙ্গ। এটি গৃহ ব্যবস্থাপনার প্রাণস্বরূপ। সিদ্ধান্ত ছাড়া গৃহ ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা যায় না।গৃহ ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ যেকোনো সমস্যা সমাধানের সঠিক পথ নির্দেশ দেয়।ফলে সর্বোত্তম সমাধান নিশ্চিত হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সমস্যার স্বরূপ উদঘাটন করতে হয়। এজন্য সমস্যা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে হয়। এতে মেধা, মননশীলতা, যুক্তি ও অনুসন্ধানী মনোভাব গড়ে ওঠে। সীমিত সম্পদ সুপরিকল্পিতভাবে ব্যবহারের ওপর পরিবারের সাফল্য নির্ভর করে। সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এগুলো এমনভাবে ব্যবহার করাহয় যা থেকে সর্বোত্তম ফল লাভ করা যায়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের বিকল্প পন্থা নির্ধারণ করা হয় বলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অযথা সময় নষ্ট হয় না। সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরিবারকে নানা প্রতিকূলতা ও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা যায়
উদ্দীপকে 'B' গৃহ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য ধাপকে নির্দেশ করছে। আর এই লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে গৃহ ব্যবস্থাপনার সবগুলো ধাপ চক্রাকারে আবর্তিত হয়।
গৃহ ব্যবস্থাপনার ধাপ বা পদ্ধতিসমূহ হচ্ছে পরিকল্পনা, সংগঠন, নির্দেশনা, সমন্বয় সাধন, নিয়ন্ত্রণ, মূল্যায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ। আমরা যদি কর্মসম্পাদনের সময় সচেতনভাবে ব্যবস্থাপনার এই ধাপসমূহ অনুসরণ করি তাহলে সহজেই লক্ষ্যে পৌছানো সম্ভব। লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে সিন্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে গৃহ ব্যবস্থাপনার ধাপসমূহ চক্রাকারে আবর্তিত থাকে।
পরিকল্পনা গৃহ ব্যবস্থাপনার প্রথম ও মৌলিক কাজ। লক্ষ্য অর্জনের জন্য কী করতে হবে, কখন ও কত সময় নিয়ে করতে হবে ইত্যাদি বিষয়ে পূর্বসিদ্ধান্ত গ্রহণই পরিকল্পনা। গৃহ ব্যবস্থাপনার দ্বিতীয় ধাপ হলো সংগঠন। এই পর্যায়ে কোনো কাজ কোথায়, কীভাবে করা হবে তা স্থির করা হয়। সংগঠনের পরবর্তী ধাপ হলো নির্দেশনা। নির্দেশনা হলো কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের মূল লক্ষ্যের আলোকে কাজ সম্পাদনের জন্য আদেশ-নির্দেশ প্রদান করা। পরিকল্পনা ও নির্দেশনা অনুসারে কোনো কাজ বাস্তবে রূপান্তরিত করাই হলো বাস্তবায়ন। আর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সকল ভুল ত্রুটি খুঁজে বের করে সংশোধনের ব্যবস্থা নিয়ে উদ্দেশ্য অর্জন নিশ্চিত করা হয়। বাস্তবায়ন ও নিয়ন্ত্রণের পরবর্তী ধাপ হচ্ছে সমন্বয়সাধন। এর মাধ্যমে মতানৈক্য দূর করে ব্যক্তিবর্গ ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য, সমঝোতা, সহযোগিতা ও সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা করা হয়। এতে কাজের মধ্যে নিরবচ্ছিন্নতা ও ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। গৃহ ব্যবস্থাপনার সর্বশেষ ধাপ হচ্ছে মূল্যায়ন। মূল্যায়নের মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জিত হলো কি না আর যদি হয়ে থাকে সেটা কতোটা তা পরিমাপ করা যায়।
কোনো একটি কাজ সম্পূর্ণভাবে করার জন্য কাজের বিভিন্ন পর্যায়ের বর্ণনাই প্রসেস চার্ট।
কাজ করার স্থানের পরিসর এমন হওয়া উচিত, যাতে স্বাভাবিক দেহভঙ্গি ও দেহের অবস্থান ঠিক রেখে কাজ করা যায়। সময় এবং শক্তি সংরক্ষণে দেহভঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বসে বা দাঁড়িয়ে সহজভাবে হাতের নাগালের মধ্যে কাজের স্থান হলে সময় ও শ্রম বাঁচে এবং সহজে কাজ করা যায়। কাজ সহজ করার জন্য একইভাবে কাজ না করে সহজ উপায়ে সময় ও শক্তি ব্যয় করে কাজটি শেষ করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!