'জেতের ফাতা' অর্থ জাত বা ধর্মের বৈশিষ্ট্য।
"মূলে এক জল, সে যে ভিন্ন নয়"- বলতে কবি জগৎ জুড়ে থাকা মানুষের অভিন্নতাকে বোঝাতে চেয়েছেন।
কবি জগতের মানুষের কাছে নানা রকম সহজ ও সাধারণ বিষয় উপমার মাধ্যমে মানবতার বাণীকে মূর্ত করে তুলেছেন। তিনি জলের উপমা দিয়ে মানুষে মানুষে অভিন্নতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি দেখান যে, জলের বিশেষ কোনো নাম নেই, পাত্র অনুসারে তার নামকরণ করা হয়। গর্তে থাকা জলকে আমরা কূপজল বলি, আবার এ জল যখন গঙ্গায় যায় তখন তা গঙ্গাজল নাম ধারণ করে। এখানে জলের নামের যে সম্পর্ক তা পাত্রের সাথে সম্পর্কিত, জলের সাথে নয়। এভাবে তিনি মানুষকে বোঝাতে চেয়েছেন যে, মানুষ জলের মতো অভিন্ন সত্তার অধিকারী। কূপ ও গঙ্গা এখানে বিশেষ অর্থে মানুষের তৈরি মিথ্যা, জাত, ধর্ম, বর্ণ ইত্যাদি বিষয়কে নির্দেশ করেছে। মূলত অভিন্ন মানবসত্তাকে তুলে ধরতে কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
উদ্দীপকে 'মানবধর্ম' কবিতার জাতি-ধর্মের দিকটি ফুটে উঠেছে।
পৃথিবীতে সব মানুষ এক ও অভিন্ন। মানুষ মিথ্যে জাতিভেদ তৈরি করে মানুষে মানুষে বৈষম্য সৃষ্টি করে। এর ফলে সামাজিক সম্পর্ক ও সৌহার্দ্য নষ্ট হয়ে যায়।
উদ্দীপকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের দেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এখানে সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। 'মানবধর্ম' কবিতায় মানুষের মাঝে জাতি, বর্ণের বৈষম্যের কথা বলা হয়েছে। জাত-ধর্ম নিয়ে মানুষের মাঝে যে প্রচলিত ধারণা আছে, তা তুলে ধরা হয়েছে কবিতায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'মানবধর্ম' কবিতার জাতি-ধর্মের দিকটি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকটি 'মানবধর্ম' কবিতার মূলভাবকে আংশিক ধারণ করেছে- মন্তব্যটি সার্থক।
সব মানুষই ঈশ্বরের সৃষ্টি। তাই সবারই বড় পরিচয় হলো সে মানুষ। আর এ কারণেই মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ও বৈষম্য রাখা উচিত নয়।
উদ্দীপকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রতি সাম্প্রদায়িক আগ্রাসনের কথা বলা হয়েছে। তারা তাদের দেশের সেনাবাহিনী দ্বারা নির্যাতিত হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে। 'মানবধর্ম' কবিতায় মানুষের জাত নিয়ে বিভিন্ন যৌক্তিক প্রশ্ন উপস্থাপিত হয়েছে। মানুষের জন্ম ও মৃত্যুর মাঝে জাতের কোনো চিহ্ন থাকে না। আর স্রষ্টা যেখানে একজন, সেখানে জাতের এত ভিন্নতা দিয়ে কী আসে যায়?
উদ্দীপকে শুধু রোহিঙ্গা মুসলমানদের কথা উপস্থাপিত হয়েছে। কিন্তু 'মানবধর্ম' কবিতায় সব ধর্মের ও বর্ণের মানুষের কথা বলা হয়েছে। মানুষকে যেন জাত-ধর্ম দিয়ে বিচার করা না হয়, মানুষে মানুষে যেন বৈষম্য না থাকে সেদিকটি তুলে ধরা হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'মানবধর্ম' কবিতার মূলভাবকে পুরো নয়, আংশিক ধারণ করে।
Related Question
View All'কূপজল' শব্দের অর্থ কুয়োর পানি।
জাতিগত পরিচয় মানুষের আসল পরিচয় নয়। তাই জাতপাত নিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়।
এই পৃথিবীতে নানা জাতি ধর্ম ও বর্ণের মানুষ বাস করে। কিন্তু এসবের ভিত্তিতে মানুষের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করা উচিত নয়।
মনুষ্যধর্মের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হওয়া উচিত মানুষের পরিচয়। এই পৃথিবীতে সবাই একই রক্ত-মাংসে গড়া। তাই জাতপাত নিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়।
উদ্দীপক ও 'মানবধর্ম' কবিতায় পৃথিবীর সব মানুষকে এক জাতি হিসেবে নির্দেশ করা হয়েছে, এখানেই উদ্দীপক ও 'মানবধর্ম' কবিতার মিল পাওয়া যায়।
পৃথিবীতে মানুষের জাতিগত বা ধর্মীয় পরিচয় কোনো আসল পরিচয় নয়; তারা সবাই এক ও অভিন্ন মানবজাতি। সব মানুষ রক্ত-মাংসের তৈরি।
উদ্দীপকে পৃথিবীর সব মানুষকে এক জাতি হিসেবে দেখা হয়েছে। মানুষকে 'মানুষ জাতি' বলে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। কারণ পৃথিবীর সব মানুষ একই চন্দ্র-সূর্যের তাপ গ্রহণ করে বেঁচে থাকে। বাইরে আলাদা হলেও ভেতরে সবার এক। সবার শরীরেই লাল রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। 'মানবধর্ম' কবিতায় সাধক লালন শাহ্ও পৃথিবীতে মানুষের মধ্যে কোনো ভিন্ন ভিন্ন জাত খুঁজে পান না। তিনি সব মানুষকে 'অভিন্ন এক জাতি' হিসেবে বিবেচনা করেছেন। এভাবে উদ্দীপক ও 'মানবধর্ম' কবিতা পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপক ও 'মানবধর্ম' কবিতায় যে-ধর্মচর্চার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে তা হলো মনুষ্যধর্ম।
মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। পৃথিবীর সব মানুষ অভিন্ন এক জাত। ধর্ম, বর্ণ, জাতি ভেদে মানুষের মধ্যে যে বিভাজন সৃষ্টি করা হয়, তা মিথ্যা। জগতে মানবধর্মই শ্রেষ্ঠ।
উদ্দীপকের চরণগুলোতে মানুষ জাতির স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে। কারণ পৃথিবীর সব মানুষ এক ও অভিন্ন, বাহ্যিক চেহারায় কিছু পার্থক্য থাকলেও শরীরে প্রবাহিত রক্তের রং সবারই এক, তা হলো লাল। এ বক্তব্যে অভিন্ন এক ধর্মের কথাই উঠে এসেছে। আর এ ধর্ম হলো মনুষ্যধর্ম। 'মানবধর্ম' কবিতায় কবি সব ধর্মকে পরিহার করে সেই মনুষ্যধর্ম চর্চার কথাই বলেছেন। কারণ মনুষ্যধর্মই মানুষের প্রকৃত পরিচয়।
'মানবধর্ম' কবিতায় লালন ফকির মানুষের জাত-পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। নিজে কোন ধর্মের বা জাতের এমন প্রশ্ন লালন সম্পর্কে আগেও ছিল, এখনও আছে। কিন্তু লালন বলেছেন জাতকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না। মনুষ্যধর্মই মূলকথা। উদ্দীপকেও সেই ধর্মের কথা উঠে এসেছে। কারণ এই ধর্মই মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়।
লালন শাহ্ মানবতাবাদী মরমি কবি।
মানুষের জাত সম্পর্কে অভিমত ব্যক্ত করতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
মরমি সাধক লালন শাহ্'র মানবধর্মের প্রতি কর্মকাণ্ডে জগতের লোকের মনে প্রশ্ন জাগে। লালন শাহ্'র জাত কী? তিনি কোন ধর্মের, কোন বর্ণের, কোন জাতের, কোন গোত্রের লোক তা তারা জানতে চায়। কারণ লালন কোনো বিশেষ ধর্মের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে কেবল মানবসত্তার ওপর গুরুত্ব দেন। লালনসাধনার গভীরে যেতে পারে না বলেই মানুষ লালন শাহ্'র কাছে জাত সম্পর্কে জানতে চায়। লালন বলেন, জগতে জাতের কোনো রূপ তার চোখে পড়েনি। তিনি কেবল মানুষ চেনেন, মানুষের তৈরি জাত-ধর্ম তাঁর কাছে অর্থহীন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!