জাতীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে যে আয় সংগ্রহ করে, তাকে সরকারি আয় বলে।
কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের বাজারমূল্য এবং ওই পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণের ব্যয়ের পার্থক্যকে 'মূল্য সংযোজন' বলা হয়। এ মূল্য সংযোজনের উপর যে হারে কর আরোপ করা হয় তাকে 'মূল্য সংযোজন কর' বলে। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন হারে এ কর আদায় করা হলেও বাংলাদেশে অধিকাংশ পণ্যে তা ১৫ ভাগ। এ কর সাধারণত পণ্যের মূল্যের উপর আরোপ করে জনসাধারণের নিকট থেকে পরোক্ষভাবে আদায় করা হয় বলে, একে পরোক্ষ কর। বলা হয়। বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আয়ের অন্যতম উৎস হলো এ মূল্য সংযোজন কর।
উদ্দীপকের আলোকে সরকারি ব্যয়ের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
⇒ বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ J. Maurice Clark বলেছেন, "জ্ঞানই উৎপাদনের একমাত্র উপকরণ যার প্রতিদান ক্রমহ্রাসমান নয়।" এ কারণে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষার সম্প্রসারণ ও গুণগত মানোন্নয়ন, নারী শিক্ষার উন্নয়ন, ছাত্রছাত্রীদের মেধাবিকাশে বৃত্তির সংখ্যা এবং হার বৃদ্ধি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার, গুণগত মান উন্নয়ন এবং উন্নয়নের গতিধারাকে টেকসই করার জন্য উচ্চশিক্ষার প্রসারে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয়। এছাড়া দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতেও প্রতি বছর সরকার অর্থ ব্যয় করে।
⇨ সরকারের প্রধান ও পবিত্রতম দায়িত্ব হচ্ছে বহিঃদেশের আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করা। এ লক্ষ্যে সরকার প্রতিরক্ষা বাহিনী (সেবা, নৌ, বিমান) বাহিনী গড়ে তোলেন এবং যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি উৎপাদন ও ক্রয় করে। এক্ষেত্রে সরকার প্রচুর পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে থাকেন।
⇨ আধুনিক রাষ্ট্র কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হওয়ায় সরকার জনগণের সর্বাধিক কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির (যেমন- পেনশন, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, গ্র্যাচুইটি, বিভিন্ন ধরনের বিমার টাকা এবং ক্ষতিপূরণ ইত্যাদির) জন্য যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে থাকেন।
অতএব বলা যায়, উল্লিখিত খাতগুলোই সরকারি ব্যয়ের গুরুত্বপূর্ণ খাত।
উদ্দীপকে যে দুই ধরনের ঋণের কথা বলা হয়েছে তাহলো-অভ্যন্তরীণ উৎস ও বৈদেশিক উৎস থেকে সংগৃহীত ঋণ। এ দুই ধরনের ঋণের তুলনামূলক সুবিধাগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
সরকারি ঋণের অভ্যন্তরীণ উৎসের সুবিধাসমূহ:
⇒ এ উৎস থেকে সরকার নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ ঋণ পেতে পারে এবং এ ঋণের জন্য সরকারকে কম সুদ দিতে হয়।
⇒ ঋণ গ্রহণের এ উৎসগুলো অধিক নির্ভরযোগ্য এবং প্রয়োজনের সময় সহজেই ঋণ সংগ্রহ করা যায়।
⇒ এ ঋণের উৎসগুলো থেকে সরকার বাধ্যতামূলকভাবে ঋণ। গ্রহণ করতে পারে এবং ঋণ প্রত্যপর্ণ বিলম্বিত করতে পারে।
⇒ এ উৎস থেকে সংগৃহীত ঋণ সরকার প্রয়োজনবোধে। অস্বীকার বা স্থগিত করতে পারে।
সরকারি ঋণের বৈদেশিক উৎসের সুবিধাসমূহ:
⇒ বিদেশি উৎস থেকে প্রাপ্ত ঋণ বৈদেশিক মুদ্রায় পাওয়া যায়।
=> এ উৎস থেকে প্রাপ্ত ঋণের অর্থ দ্বারা বিদেশ থেকে শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি সহজেই আমদানি করা যায়।
⇒ এ ঋণের বদৌলতে বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ কারিগর পাওয়ার সুযোগ ঘটে।
⇒ এ উৎস থেকে কখনও কখনও বিপুল অংকের ঋণপ্রান্তি সম্ভব হয়।
বাংলাদেশের জন্য যে ধরনের ঋণ আমি উত্তম বলে মনে করি তা হলো অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সংগৃহীত ঋণ। বর্তমানে নানাবিধ কারণে সরকারের ব্যয়ভার অধিকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের আয় অপেক্ষা ব্যয় বেশি হলে ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকার দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করে এবং দেশের ঋণ পর্যাপ্ত না হলে বৈদেশিক ঋণের সাহায্য নিয়ে থাকে। সরকারি ঋণ যেহেতু সরকারি ব্যয়কে প্রভাবিত করে, তাই দেশের অভ্যন্তর থেকে সংগৃহীত ঋণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি, বাংলাদেশের জন্য অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণ করা উত্তম।
Related Question
View Allজাতীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে যে আয় সংগ্রহ করে, তাকে সরকারি আয় বলা হয়।
সরকার দেশ পরিচালনার জন্য এবং জাতীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে আয় সংগ্রহ করে। যেমন- আয়কর, মুনাফা কর, শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, আবগারি শুল্ক, প্রশাসনিক রাজস্ব, জরিমানা ও বাজেয়াপ্ত, লাইসেন্স ফি, ঋণ, দান/অনুদান ইত্যাদি থেকে সরকার আয় করে থাকে। সরকারের এসব খাত থেকে আয় করাকে বলা হয় সরকারি আয়। সরকারের এই আয়ের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো সরকারি ব্যয়। তাই উল্লেখিত উৎস থেকে সরকার আয় করে থাকে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রশাসনিক ও প্রতিরক্ষা ব্যয়সহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটানোর জন্য সরকার বিভিন্ন উপায়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যে অর্থ আদায় করে, তাকে সরকারি আয় বা রাজস্ব বলে।
সরকারি আয় সরকারি কোষাগারে জমা থাকে এবং দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের পক্ষে এর হিসাব রাখে। সরকারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো কর। সরকার বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কর হিসেবে যে অর্থ আদায় করে, তাকেই কর আয় বলে। এই কর আয় আবার দুই ধরনের; যথা- প্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ কর। যে ব্যক্তির উপর কর ধার্য করা হয় তার বোঝা যদি তাকে বহন করতে হয়, তবে সেই করকে প্রত্যক্ষ কর বলে। যেমন-আয়কর, সম্পদ কর, ভূমি কর, মৃত্যু কর ইত্যাদি। আবার কোনো ব্যক্তির উপর যে কর ধার্য করা হয়, তার ভার বা বোঝা সে যদি অন্য কারও উপর চাপাতে পারে, তবে তাকে পরোক্ষ কর বলা হয়। যেমন- বিক্রয় কর, পণ্যকর, প্রমোদ কর ইত্যাদি। এছাড়া করবহির্ভূত আয় রয়েছে, যা থেকে রাষ্ট্র/সরকার আয় করে থাকে। সরকার কর ব্যতীত অন্যান্য উৎস থেকে যে রাজস্ব বা অর্থ পায়, তাকে করবহির্ভূত আয় বলে। এ ধরনের আয় সরকারের বাধ্যতামূলক পাওনা নয়। বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে সরকার জনগণের কাছ থেকে পেয়ে থাকে। যেমন- ফি, বাণিজ্যিক আয়, সরকারি সম্পত্তির আয়, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ, সরকারি ঋণ, সুদ, দান ও অনুদান ইত্যাদি। বিভিন্ন উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে রাষ্ট্রীয় আয় এসব উৎস থেকে হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ সরকার প্রশাসন পরিচালনা, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণ সাধন প্রভৃতির জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে।
এ ব্যয় নির্বাহের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করতে হয়। বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসকে দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা- (ক) কর রাজস্ব, (খ) করবহির্ভূত রাজস্ব। সরকারের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হলো কর রাজস্ব। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো আয়কর। বাংলাদেশ সরকারের আয়কর আইন অনুযায়ী যাদের আয় একটি নির্দিষ্ট সীমার ঊর্ধ্বে, তাদের কাছ থেকে আয়কর আদায় করা হয়। বাংলাদেশে কর ব্যবস্থায় মূল্য সংযোজন কর (VAT) ১৯৯২ সালে প্রচলন করা হয়। দেশের মধ্যে পণ্যসামগ্রী বিক্রয়ের উপর এ কর ধার্য করা হয়। দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যাদির উপর যে কর ধার্য করা হয়, তাকে আবগারি শুল্ক বলা হয়। বাংলাদেশে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত চা, চিনি, তামাক, সিগারেট, দিয়াশলাই প্রভৃতি দ্রব্যের উপর আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়। এছাড়া সম্পূরক শুল্ক, ভূমি রাজস্ব, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, রেজিস্ট্রেশন, যানবাহন শুদ্ধ, অন্যান্য কর ও শুল্ক কর রাজস্বের অন্তর্ভুক্ত। সরকার বিভিন্ন আর্থিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়ে তার উপর সুদ বাবদ প্রচুর আয় করে থাকে। সরকারি সম্পত্তি ভাড়া ও ইজারা দেওয়ার মাধ্যমে, দেশের বিভিন্ন রাস্তা, ব্রিজ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে টোল ও লেভি সংগ্রহ করে, বনভূমি থেকে, ডাক বিভাগ থেকে, রেলওয়ে থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ আয় করে, যা করবহির্ভূত রাজস্ব বলে পরিচিত।
উল্লেখিত উৎসসমূহ থেকে বাংলাদেশ সরকার প্রচুর অর্থ আয় করে থাকে।
হ্যাঁ, সমাজে ভালোভাবে চলতে হলে অবশ্যই ব্যয় অপরিহার্য।
রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার বিভিন্ন খাতে যে ব্যয় নির্বাহ করে, তাকে সরকারি ব্যয় বলে। দেশের ভেতরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো নির্মাণ, সামাজিক কল্যাণসাধন, দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রভৃতি কাজের জন্য সরকারকে ব্যয় করতে হয়। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করে বর্তমানে প্রায় প্রতিটি দেশের সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাত বিবেচনায় রেখে বাজেটে ব্যয় বরাদ্দ রাখে; পরে আবার তা ব্যয়ও করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!