সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে ভাব সম্প্রসারণ করুন:

গ্রন্থগত বিদ্যা আর পরহস্তে ধন,

নহে বিদ্যা, নহে ধন, হলে প্রয়োজন।

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

গ্রন্থগত বিদ্যা আর পরহস্তে ধন, নহে বিদ্যা নহে ধন হলে প্রয়োজন।

ভাব-সম্প্রসারণ: ধন-সম্পদ যদি নিজের নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তবে দরকারের সময়ে তা কোনো কাজে আসে না। একইভাবে জ্ঞান যদি শুধু বইয়ের পাতায় আটকে থাকে, সে-বিদ্যা ব্যক্তি তার নিজের জীবনে কাজে লাগাতে পারে না।

মানুষের অভিজ্ঞতা ও প্রমাণ-লব্ধ জ্ঞান বইয়ের মধ্যে সঞ্চিত থাকে। বই পাঠ করলে পৃথিবীর সব ধরনের জ্ঞানের সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায়। কেউ যদি নিয়মিত বই পড়ে তাহলে সে ধীরে ধীরে নিজেকে জ্ঞানী করে তুলতে পারবে। বই থেকে অর্জিত এই জ্ঞান দিয়ে সে নিজের বা অন্যের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম। বই থেকে আহরিত জ্ঞান থেকে সে নিজে যেমন আলোকিত হতে পারে, অন্যকেও আলোকিত করতে পারে। কিন্তু জ্ঞান যদি বইয়ের মধ্যেই শুধু আবদ্ধ থাকে, তাহলে তা কারো কোনো কাজে আসে না। ধরা যাক, কোনো ব্যক্তি লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে হাজার হাজার বই কিনলেন আর তা দিয়ে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করলেন। লাইব্রেরির তাকে তাকে বইগুলোকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখলেন। কিন্তু জ্ঞানের কোনো বিষয়ে কেউ যদি তাঁকে প্রশ্ন করে, তিনি তার যথাযোগ্য জবাব দিতে ব্যর্থ হবেন। আবার বইয়ের বিদ্যা না বুঝে কেবল ঠোঁটছ বা মুখস্থ করলেই হবে না। এই বিদ্যার প্রায়োগিক দিকটিও উপলব্ধি করতে হবে। অনেকটা জায়গা-জমি বা অর্থের মতো। নিজের সম্পদ-সম্পত্তি অন্যের হাতে থাকলে তা ভোগ করা যায় না। অন্যের কাছে থাকা অর্থ আর বইয়ের পাতার সীমাবদ্ধ জ্ঞান এভাবে সমার্থক হয়ে যায়।

বইকে শুধু পরীক্ষা পাশের উপকরণ মনে করলে চলবে না। বইয়ের জ্ঞানকে জীবনে কাজে লাগাতে পারলে তবেই সার্থকতা।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
433

'ভাব-সম্প্রসারণ' কথাটির অর্থ কবিতা বা গদ্যের অন্তর্নিহিত তাৎপর্যকে ব্যাখ্যা করা, বিস্তারিত করে লেখা, বিশ্লেষণ করা। আবৃতকে উন্মোচন, সংকেতকে নির্ণীত করে তুলনীয় দৃষ্টান্ত ও প্রবাদ-প্রবচনের সাহায্যে সহজ ভাষায় ভাবের বিন্দুকে বিস্তার করার নাম ভাব-সম্প্রসারণ।

  • ভাব-সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কয়েকটি দিকের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। যেমন:

ক. প্রদত্ত চরণ বা গদ্যাংশটি একাধিকবার মনোযোগ সহকারে পড়ে অন্তর্নিহিত ভাবটি কী, তা সঠিকভাবে বুঝতে হবে। মূল ছত্রটি হুবহু ব্যবহার করা উচিত নয়।

খ. অন্তর্নিহিত মূলভাবটি কোনো উপমা, রূপক-প্রতীকের আড়ালে প্রচ্ছন্ন থাকে, তবে ভাব-সম্প্রসারণের সময় প্রয়োজনে অতিরিক্ত অনুচ্ছেদ-যোগে ব্যাখ্যা করলে ভালো হয়।

গ. সহজ ভাষার, সংক্ষেপে ভাবসত্যটি উপস্থাপন করা উচিত। প্রয়োজনে যুক্তি উপস্থাপন করে তাৎপর্যটি উদ্ধার করতে হবে।

ঘ. মূল ভাব-বীজকে বিশদ করার সময় সহায়ক দৃষ্টান্ত, প্রাসঙ্গিক তথ্য বা উদ্ধৃতি ব্যবহার করা চলে।

ঙ. ভাব-সম্প্রসারণ করার সময় মনে রাখতে হবে যে, যেন বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। বারবার একই কথা লেখা ভাব-সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে দূষণীয়।

চ. ভাব-সম্প্রসারণকে প্রধানত তিনটি অংশে বিভক্ত করা যায়। যথা: প্রথম অংশে ভাবের অর্থ, দ্বিতীয় অংশে ভাবের ব্যাখ্যা, তৃতীয় অংশে ভাবের তাৎপর্য।

ছ. ভাব-সম্প্রসারণ করার সময়ে প্রদত্ত অংশের রচয়িতার নাম উল্লেখ করাতে হয় না।

জ. প্রয়োজনে সংক্ষিপ্ত উদ্ধৃতি ব্যবহার করা যেতে পারে।

Related Question

View All
উত্তরঃ

সমাজে বসবাস করতে হলে মানুষকে একে অপরের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হয় এবং সমাজে শত্রু-মিত্র উভয়ের সাথেই কোন না কোনভাবে মেলামেশা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয় সেটি হল শিক্ষা। মানুষের বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষার মানদণ্ডটি অতীব জরুরি। কেননা, অশিক্ষিত বন্ধুর যত আন্তরিকতাই থাক না কেন, সে যে কোন মুহূর্তে নিজের অজ্ঞতাবশত অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বলা হয়, মূর্খ ব্যক্তি পশুর সমান। ভালোমন্দ বিচার করার যথাযথ ক্ষমতা তার নেই। অনেক সময় বন্ধুর ভালোর জন্য কিছু করলেও তার অজ্ঞতার কারণে তা বন্ধুর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। এজন্য তাকে দোষও দেওয়া যায় না। অন্যদিকে, শত্রুকে আমরা সাধারণত অনিষ্টের কারণ হিসেবেই বিবেচনা করি। কিন্তু তুলনামূলক বিচারে দেখা যায়, একজন মুর্খ বন্ধু অজ্ঞতাবশত যা করতে পারে, একজন শিক্ষিত শত্রু সজ্ঞানে তেমনটি করতে পারে না। জ্ঞানের নির্মল পরশ অন্তত তাকে এ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে। যদি অনিষ্ট সে করে তবে সেটা হবে তার দুরাচার। আর মানুষ সব সময়ই শত্রুর দুরাচার সম্পর্কে সজাগ থাকে। ফলে শত্রুর এ চেষ্টা সফল নাও হতে পারে। কিন্তু বন্ধুর ব্যাপারে কোন সন্দেহ না থাকায় মানুষ এতটা সতর্ক থাকে না। অথচ এ অসতর্কতার ফাঁকে মূর্খ বন্ধুর অজ্ঞতাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

তাই বন্ধু নির্বাচনে জ্ঞান, প্রজ্ঞা আর শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা, জ্ঞান আলো এবং মূর্খতা অন্ধকারের সমতুল্য। আলোতে অনেক বিপদেও নিরাপদ থাকা যায়, অন্যদিকে অন্ধকারে সর্বদাই বিপদের আশঙ্কা থাকে

ABDUL MALEK
ABDUL MALEK
2 years ago
4.7k

"ভাবের ললিত ক্রোড়ে না রাখি নিলীন, কর্মক্ষেত্রে করি দাও সক্ষম স্বাধীন।" 

এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "যতদিন ছিলে" কবিতার একটি অংশ। 

**ভাব-সম্প্রসারণ:** 

এই উদ্ধৃতিটি একটি গভীর জীবনদর্শনের প্রতিফলন। এখানে 'ভাবের ললিত ক্রোড়ে না রাখি নিলীন' বলতে বোঝানো হচ্ছে যে, ব্যক্তিগত চিন্তা, অনুভূতি বা ভাবনাগুলোকে শুধুমাত্র মনস্তাত্ত্বিক বা আবেগগতভাবে না রেখে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। 'নিলীন' শব্দের মাধ্যমে এখানে অভ্যন্তরীণ চিন্তা বা অনুভূতির গভীরতা প্রকাশ করা হয়েছে, যা শুধুমাত্র অন্তরেও লুকিয়ে থাকলে চলবে না। অন্যদিকে, 'কর্মক্ষেত্রে করি দাও সক্ষম স্বাধীন' বাক্যে বলা হচ্ছে যে, আমাদের দক্ষতা, কর্মক্ষমতা ও স্বাধীনতা কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগ করা উচিত। কর্মক্ষেত্রে আমরা যে সিদ্ধান্ত নিতে পারি এবং যে কাজ করতে পারি, তা যেন আমাদের স্বাধীনতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে হয়। এখানে স্বাধীনতার সাথে সক্ষমতার সম্মিলন প্রস্ফুটিত হচ্ছে, যেখানে ব্যক্তি নিজের দক্ষতা অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করার স্বাধীনতা পায়। সংক্ষেপে, এই উদ্ধৃতিটি আমাদেরকে উৎসাহিত করে যে, আমাদের অভ্যন্তরীণ ভাবনা বা চিন্তাকে শুধু মনে সীমাবদ্ধ না রেখে, বাস্তব জীবনের কাজে লাগিয়ে কার্যকরীভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা ও স্বাধীনতা প্রমাণ করতে হবে।

উত্তরঃ

আমরা সবসময় ভাবের গহনায়, অনুভূতির গভীরতায় হারিয়ে থাকি, যেখানে কোনো এক নিস্তব্ধতা বা মাধুর্য লুকিয়ে থাকে। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে, বাস্তব জীবনে সেই ভাবনার পরিবর্তে আমাদের প্রমাণিত করতে হয় আমাদের ক্ষমতা এবং স্বাধীনতার। সেখানে ভাবের বন্দি হয়ে থাকার সুযোগ নেই। আমরা যদি শুধু ভাবনায় নিমজ্জিত থাকি, তবে বাস্তবতার চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারব না।

এখানে "ভাবের ললিত ক্রোড়ে" বলতে বোঝানো হচ্ছে যে আমরা আমাদের ভাবনাগুলোকে এতটাই গুরুত্ব দিই যে সেগুলো আমাদের কর্মক্ষমতা বা স্বাধীনতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু বাস্তবিকভাবে আমাদের শক্তি এবং স্বাধীনতা আমাদের কাজের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। আমাদের উচিত আমাদের ভাবনার সাথে সাথে কর্মক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে কাজ করা, যাতে আমাদের সক্ষমতা এবং স্বাধীনতা স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশ পায়।

এইভাবে, কবি আমাদের শেখাতে চাইছেন যে ভাবনা ও কর্মের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। ভাবনার সৌন্দর্য বা গভীরতা তার স্থানেই মূল্যবান, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা ও স্বাধীনতার প্রয়োগই আসল বিষয়।

Shamim Hossan
Shamim Hossan
1 year ago
2.1k
উত্তরঃ

“যত মত তত পথ” – এই প্রবাদটি মানব সমাজের বৈচিত্র্য, চিন্তার স্বাধীনতা এবং সত্য উপলব্ধির বহুবিধ পন্থাকে নির্দেশ করে। জগৎ ও জীবনের জটিলতা এত গভীর যে, একটি মাত্র দৃষ্টিকোণ থেকে এর সম্পূর্ণতা অনুধাবন করা অসম্ভব। মানুষ যেহেতু স্বতন্ত্র সত্তা, তাদের চিন্তাভাবনা, অভিজ্ঞতা, বিশ্বাস এবং মূল্যবোধ ভিন্ন হওয়া স্বাভাবিক। এই ভিন্নতা থেকেই জন্ম নেয় বহুমুখী মতাদর্শ।

সৃষ্টির প্রতিটি বস্তুর মধ্যেই রয়েছে বৈচিত্র্য। জীবজগৎ থেকে শুরু করে সামাজিক রীতিনীতি, ধর্ম, দর্শন – সবকিছুতেই এই বৈচিত্র্যের প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়। মানুষ নিজেদের পারিপার্শ্বিকতা, শিক্ষা ও রুচি অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন পথ বেছে নেয় তাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য। আধ্যাত্মিক সাধনার ক্ষেত্রে যেমন বিভিন্ন ধর্ম ও মতবাদ ঈশ্বর বা পরম সত্যে পৌঁছানোর ভিন্ন ভিন্ন পথ নির্দেশ করে, তেমনই সামাজিক বা বৈজ্ঞানিক গবেষণায় একটি সমস্যার সমাধানে একাধিক দৃষ্টিভঙ্গি ও পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়।

একক মতবাদ বা পথকে সর্বশ্রেষ্ঠ মনে করে অন্য সব মত ও পথকে অস্বীকার করা এক সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচায়ক। বস্তুত, যত বেশি মত থাকবে, ততই চিন্তার ক্ষেত্র প্রসারিত হবে, নতুন নতুন ধারণার উন্মোচন হবে এবং সমাজের প্রগতি ত্বরান্বিত হবে। সুস্থ সমাজ ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনে পরমতসহিষ্ণুতা এবং ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ অত্যন্ত জরুরি। ভিন্ন মতের অস্তিত্বকে স্বীকার করে নিলেই কেবল মানবিক মূল্যবোধ ও সহাবস্থান সম্ভব। এই প্রবাদটি মূলত সহনশীলতা, উদারতা এবং বহুত্ববাদের মহিমাকে তুলে ধরে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
889
উত্তরঃ

গতিময়তাই জীবনের ধর্ম। যে ব্যক্তি বা জাতি গতিহীন ও নিষ্ক্রিয়, সে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে পারে না। কর্মহীন জীবন যেমন অর্থহীন, তেমনি গতিহীন জাতিও একসময় স্থবির হয়ে পড়ে। পঙ্কিলতা ও শৈবাল যেমন নদীর স্রোতধারাকে রুদ্ধ করে দেয়, তেমনি প্রাচীন ও জীর্ণ লোকাচার বা অন্ধ বিশ্বাস একটি জাতির অগ্রগতিকে পদে পদে ব্যাহত করে।

নদী তার স্বাভাবিক ধর্মেই বহমান থাকে। কিন্তু যখন তার স্রোত কমে যায়, তখন চারপাশ থেকে আসা শৈবাল ও আবর্জনা জমে তার গতিকে সম্পূর্ণ থামিয়ে দেয়। এর ফলে নদী তার নিজস্বতা হারায় এবং একসময় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। একইভাবে, যে জাতি সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে না, নতুন জ্ঞান ও প্রগতিকে গ্রহণ করতে অনীহা দেখায়, তারাই ধীরে ধীরে জীবনশক্তি হারিয়ে ফেলে। জীর্ণ ও অপ্রয়োজনীয় লোকাচার, কুসংস্কার ও অন্ধ বিশ্বাস তখন সেই জাতির অগ্রগতির পথে বিশাল বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

সমাজ ও জীবনের জন্য কল্যাণকর নয় এমন প্রথা বা বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে থাকলে কোনো জাতিই উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না। জাতির প্রাণশক্তি ও মননশীলতা সচল না থাকলে তা স্থবির হয়ে পড়ে এবং কালের বিবর্তনে পিছিয়ে যায়। তাই জাতীয় জীবনে গতিশীলতা বজায় রাখা এবং কুসংস্কার ও জীর্ণ লোকাচারকে পরিহার করা অপরিহার্য। এর মাধ্যমেই একটি জাতি প্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে পারে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
1.2k
উত্তরঃ

কবির কাছে কবিতা কেবল ছন্দ, সুর বা কল্পনার বিলাসিতা নয়, বরং তা জীবনের প্রতিচ্ছবি। যখন জীবন কঠিন সংগ্রামে আচ্ছন্ন হয়, ক্ষুধার জ্বালা যখন সমস্ত সৌন্দর্যবোধকে গ্রাস করে, তখন সুন্দরের প্রতি মন উদাসীন হয়ে পড়ে। কবির উল্লেখিত পঙক্তিটি এই নির্মম বাস্তবতাকে তুলে ধরে।

পূর্ণিমার চাঁদ আবহমানকাল ধরে সৌন্দর্য, স্নিগ্ধতা ও প্রেমের প্রতীক। কিন্তু যখন জীবন রুক্ষ ও কঠিন হয়, যখন অভাব ও দারিদ্র্য গ্রাস করে, তখন সেই পরম সুন্দর চাঁদকেও পোড়া রুটির মতো মনে হয়। এখানে 'ঝলসানো রুটি' প্রতীকী অর্থে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও জীবনের কঠোর বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। একসময় যা মনকে মুগ্ধ করত, তা এখন আর মনকে টানতে পারে না। কারণ জীবন যখন খাদ্যসংস্থান ও মৌলিক চাহিদার সংগ্রামে নিমজ্জিত, তখন মানুষের কাছে শিল্প-সাহিত্য বা কল্পনার জগতের আবেদন গৌণ হয়ে পড়ে।

এই পঙক্তিটির মাধ্যমে কবি দেখাতে চেয়েছেন যে, চরম অভাব ও ক্ষুধা মানুষের সংবেদনশীলতা ভোঁতা করে দেয়। শিল্প বা কবিতার বিমূর্ত সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য একটি সুস্থ ও স্বচ্ছন্দ মন প্রয়োজন। কিন্তু যখন মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থতা আসে, তখন মানুষের মন থেকে সকল কাব্যিকতা ও রোমান্টিকতা বিদায় নেয়, এবং বাস্তবতার কঠোর আঘাত সমস্ত কল্পনাকে চূর্ণ করে দেয়। তাই কবি কবিতার প্রতি সাময়িক ছুটি ঘোষণা করে বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে পূর্ণিমার চাঁদও তার রূপ হারিয়ে 'ঝলসানো রুটি'তে রূপান্তরিত হয়। এই লাইনটি বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কঠোর প্রকাশ এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের এক মর্মান্তিক চিত্র।

Satt AI
Satt AI
5 days ago
714
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews