১৯৯০ সালে বাংলাদেশে সামরিক সরকার ক্ষমতায় ছিল।
রাজনৈতিক শিক্ষাদানে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক দলের কাজ হচ্ছে জনগণকে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সচেতন করা। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দলীয় কর্মসূচি ব্যাখ্যা করে এবং অন্যান্য দলের কাজের সমালোচনা করে। জনগণ বিভিন্ন দলের মতামত, আলোচনা-সমালোচনা ইত্যাদি থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার অনেক বিষয় জানতে পারে। এভাবে সাধারণ জনগণ রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকে রাজনৈতিক দলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
রাজনৈতিক দল হচ্ছে একটি দেশের জনগোষ্ঠীর সেই অংশ যারা একটি আদর্শ বা কিছু নীতি বা কর্মসূচির ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সমস্যা সমাধানে সংগঠিত হয়। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল অপরিহার্য। আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা মূলত রাজনৈতিক দলেরই শাসন।
রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য হলো নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভের মাধ্যমে সরকার গঠন করা। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের একটি আদর্শ ও সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি থাকে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকে। দলের কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি থাকে। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্বারা দল পরিচালিত হয়। আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি, প্রার্থী মনোনয়ন, নির্বাচনে দলীয় কর্মসূচি প্রণয়ন, নির্বাচনি প্রচার ও ভোেট সংগ্রহের কাজ করে থাকে।
উদ্দীপকের সুমন ও সুজন রাজনৈতিক দল সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলে, রাজনৈতিক দল শুধুমাত্র গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করতেই সহায়তা করে না বরং রাজনৈতিক শিক্ষাদান ও সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যা রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্যসমূহের অনুরূপ।
গণতন্ত্রের বিকাশে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা অপরিসীম।
গণতন্ত্র মানেই হচ্ছে রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি। গণতন্ত্রের সফলতার জন্য রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা রাজনৈতিক দল জনগণের মতামতকে সুসংগঠিত করে এবং জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটায়। গণতান্ত্রিক সরকার পরিচালনার জন্য তাই রাজনৈতিক দল অপরিহার্য।
রাজনৈতিক দল নেতা ও সদস্যদের গণতান্ত্রিক আচার-আচরণে অভ্যস্ত হতে শেখায়। এটি দেশের জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ করে সংক্ষিপ্ত কর্মসূচির ছত্রছায়ায় নিয়ে আসতে কাজ করে। যে কারণে দেশের জনসাধারণ একই ধরনের চিন্তাসূত্রে আবদ্ধ হয়। যেকোনো একটি কর্মসূচিকে সমর্থন করতে এবং তা অনুসরণ করতে রাজনৈতিক দল জনসাধারণকে শিক্ষাদান করে। রাজনৈতিক দলের মাধ্যমেই দেশে নতুন নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়। জনগণের অধিকার রক্ষায় রাজনৈতিক দল ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। কোনো কারণে জনগণের অধিকার খর্ব হলে রাজনৈতিক দল তা ফিরিয়ে আনার জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। অর্থাৎ জনগণের স্বার্থবিরোধী সরকারকে অপসারণ করে রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় একটি নির্দিষ্ট সময় পর নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের ক্ষমতা পরিবর্তন হয়। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে রাজনৈতিক দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
সর্বোপরি দেশের নাগরিকদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গণতন্ত্রের সফলতা নির্ভর করে। রাজনৈতিক দল বিভিন্ন কর্মসূচি, সভা, সেমিনার, বক্তৃতা, মিছিল, প্রচার ইত্যাদির মাধ্যমে নাগরিকদের রাজনৈতিক শিক্ষা দিয়ে সুনাগরিক হতে সাহায্য করে। তাই বলা যায়, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব অপরিসীম।
Related Question
View Allগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল অপরিহার্য।
রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা লাভের মাধ্যমে সরকার গঠন করা।
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আদর্শ ও কর্মসূচিভিত্তিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি। রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষমতায় গিয়ে দলের নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা এবং নির্বাচনি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা। রাজনৈতিক দল একটি আদর্শ বা কিছু নীতি বা কর্মসূচির ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হয়।
'খ' ব্যক্তি প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন।
নির্বাচন হচ্ছে জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া। স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত ভোটাধিকার প্রাপ্ত সব নাগরিক ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি বাছাই করে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ এ দুই প্রকার নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হন। প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রকাশ্য অথবা গোপন ভোটদান পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। প্রকাশ্য ভোটদান পদ্ধতিতে ভোেটারগণ তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে সকলের সামনে প্রকাশ্যে ভোট দেয়। এতে ভোটাররা প্রকাশ্যে 'হ্যাঁ' ধ্বনি বা 'হাত তুলে' সমর্থন দান করে। অন্যদিকে গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে ভোটারগণ গোপনে ব্যালটপত্রে পছন্দকৃত ব্যক্তির নামের পাশে নির্ধারিত চিহ্ন একে বা সিল দিয়ে ভোট প্রদান করে।
উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে ঢাকার একটি আসনের ভোটাররা 'খ' ব্যক্তিকে সৎ ও যোগ্য মনে করে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেন। অর্থাৎ 'খ' ব্যক্তি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়েছেন। আর বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় গোপন ভোটদান পদ্ধতির প্রচলন রয়েছে। গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে ভোটাররা গোপনে ব্যালটপেপারে পছন্দের ব্যক্তির নামের পাশে নির্ধারিত চিহ্ন এঁকে বা সিল দিয়ে ভোট দেন। অর্থাৎ উদ্দীপকের 'খ' ব্যক্তিও প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনে 'ক' ও 'খ' ব্যক্তির কাজগুলোর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলের অন্যতম প্রধান কাজ জনমত গঠনের প্রতিফলন ঘটেছে।
রাজনৈতিক দলের অন্যতম কাজ হচ্ছে দলীয় আদর্শ ও কর্মসূচির পক্ষে জনমত গঠন করা। এই জনমত গঠনে রাজনৈতিক দল বিভিন্ন সভা, মিছিল ও গণযোগাযোগের কর্মসূচি গ্রহণ করে। এছাড়াও রাজনৈতিক দল জনগণকে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে দলীয় কর্মসূচির ব্যাখ্যা এবং অন্য দলের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে 'ক' ও 'খ' ব্যক্তি ঢাকার একটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে কুশল বিনিময় করেন। এছাড়াও নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন স্থানে মিটিং, মিছিল কর্মসূচি পালন করে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' ব্যক্তি জনমত গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনে জয়লাভের চেষ্টা চালিয়েছেন।
সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' ব্যক্তির ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময়, মিটিং, মিছিল প্রভৃতি কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের জনমত গঠনের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে।
আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল।
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকায় আওয়ামী মুসলীম লীগ নামে দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য ১৯৫৫ সালে দলের নাম থেকে 'মুসলীম' শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ আওয়ামী লীগের মূলনীতি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এই দল পাকিস্তানে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!