শুকতারাটা দপ দপ করে জ্বলে।
ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিন কয়লাগুলো ভাঙতে মিনুর কষ্ট হয় বলেই কয়লা মিনুর শত্রু ছিল।
কয়লাগুলো ছিল মিনুর শত্রু। শত্রুর ওপর হাতুড়ি চালিয়ে ভারি তৃপ্তি হয় ওর। মিনু রোজ কয়লা ভাঙে তার পর অন্য কাজে যায়। কয়লাগুলোকে মিনু শত্রু ভাবায় এগুলোকে ভেঙে মিনু আত্মতৃপ্তি পায়।
উদ্দীপকের সারা 'মিনু' গল্পের মিনু চরিত্রের প্রতিচ্ছবি।
মা-বাবার স্নেহ-মমতা শিশুর বিকাশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক সময় তারা মা-বাবার স্নেহ-মমতা-আদর থেকে বঞ্চিত হলে শিশুরা একাকিত্বে ভোগে। তখন তারা প্রকৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গের মাঝে নিজস্ব জগৎ তৈরি করে।
উদ্দীপকের সারার মা-বাবা দুজনই চাকরিজীবী হওয়ায় তাকে প্রায়ই বাড়িতে একা থাকতে হয়। বন্ধুহীন সারা জানালার পাশের জারুল গাছ, উড়ে আসা পাখির সঙ্গে নিজের মনের কথাগুলো ব্যক্ত করে। আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে মনে মনে পাখি হয়ে আকাশে উড়ে বিশ্বভ্রমণ করে। 'মিনু' গল্পের মা-বাবা হারা মিনুও বড় অসহায়। বাবা-মায়ের স্নেহবঞ্চিত বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েটি প্রকৃতির সঙ্গে গভীর মিতালি। তৈরি করে। আর এদিক থেকেই উদ্দীপকের সারা 'মিনু' গল্পের মিনু 'চরিত্রের প্রতিচ্ছবি।
'প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও মিনু ও সারা দুজনেরই আশ্রয় প্রকৃতি'-উক্তিটি যথার্থ।
একটি শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য পরিবেশের ভূমিকা অন্যতম। মা-বাবার স্নেহ-ভালোবাসার অভাবে শিশুরা প্রকৃতির মাঝে নিজেদের একটি আলাদা জগৎ গড়ে তোলে।
উদ্দীপকের সারাকে প্রায়ই বাড়িতে একা থাকতে হয়। কারণ তার মা-বাবা দুজনই চাকরিজীবী। তাই বন্ধুহীন সারা প্রকৃতির সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। জানালার পাশের জারুল গাছ এবং উড়ে আসা পাখির সঙ্গে সারা মনের কথাগুলো ব্যক্ত করে। আকাশের দিকে তাকিয়ে সে আপন মনে স্বপ্ন দেখে। 'মিনু' গল্পের মিনুও বাবা-মা না থাকায় দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে থাকে। বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী মিনু প্রকৃতির সঙ্গে গভীর মিতালি তৈরি করেছে। ভোরবেলাকার নতুন সূর্যকে নিজের জ্বালানো চুল্লির সঙ্গে তুলনা করতেই তার ভালো লাগে। হলদে পাখি দেখে তার মনে পুলক জাগে।
'মিনু' গল্পের মিনু এবং উদ্দীপকের সারা দুজনই বাবা-মাকে না পেয়ে প্রকৃতির মাঝে আশ্রয় খুঁজেছে। প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও দুজনই প্রকৃতির সঙ্গে মিতালি তৈরি করেছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
Related Question
View Allমিনু তার এক দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে থাকত।
ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলতে চোখ, কান, নাক, জিভ ও ত্বকের বাইরে মানুষের তীক্ষ্ণ অনুভূতিশক্তিকে বোঝানো হয়েছে।
ছোট মেয়ে মিনু বোবা ও বধির। চিৎকার করে বললে সে কথা শুনতে পায়। ঠোঁট নাড়া আর মুখের ভাব দেখেই সব বুঝতে পারে সে। মিনু তীক্ষ্ণ অনুভূতিশক্তি দিয়ে এমন সব জিনিস বুঝতে পারে, এমন সব জিনিস সৃষ্টি করে যা সাধারণের দ্বারা কষ্টসাধ্য। মিনুর এ অনুভূতিশক্তিকেই ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় হিসেবে বোঝানো হয়েছে।
অবস্থানগত দিক থেকে উদ্দীপকের বন্যা ও মিনুর মধ্যে 'বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
পৃথিবীতে ভালো-মন্দ দু'রকম মানুষেরই সংমিশ্রণ রয়েছে। ভালো মনের মানুষ পরকেও আপন করে নেয়। আবার মন্দ মনের মানুষ আপনকেও সহজেই পর করে দেয়।
উদ্দীপকের বন্যা মিসেস সালমার বাসায় কাজ করে। সালমা তার আত্মীয় নয়, কিন্তু বন্যাকে স্কুলে পড়াশুনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এছাড়া বন্যার গুণে তিনি তাকে পরিবারের একজন সদস্য মনে করেন। অন্যদিকে 'মিনু' গল্পের মিনু তার দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে থাকলেও তাকে নানা রকম কাজ করতে হয়। সেখানে বন্যার মতো মিনু পড়াশুনার সুযোগ পায়নি। মিনু ও বন্যা উভয়কেই অন্যের সংসারে কাজ করতে হয়। কিন্তু অবস্থানগত কারণে বন্যা বেশি সুযোগ-সুবিধা পায় আর মিনু বঞ্চনার শিকার হয়- উভয়ের মাঝে এই বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
বন্যার শিক্ষা ছিল প্রাতিষ্ঠানিক, আর প্রকৃতি হচ্ছে মিনুর পাঠশালা- মন্তব্যটি যথার্থ।
শিক্ষা মানবজীবনের অপরিহার্য সম্পদ। শিক্ষাগ্রহণ মানুষের জন্মগত অধিকার। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরেও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে মানুষ শিক্ষাগ্রহণ করে এবং সেটাকে সে তার যাপিত জীবনে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করে।
উদ্দীপকের বন্যা এবং 'মিনু' গল্পের মিনুর শিক্ষাগ্রহণের ক্ষেত্রের পার্থক্য রয়েছে। বন্যা সারা সকাল মিসেস সালমার বাসায় কাজ করে দিবা শাখার স্কুলে পড়ালেখা করে। সে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পেলেও বাইরের জগতের শিক্ষা পায়নি। অপরপক্ষে মিনু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না পেলেও প্রকৃতির কাছ থেকে সে শিক্ষা গ্রহণ করেছে।
'মিনু' বাকপ্রতিবন্ধী হলেও তার তীক্ষ্ণ অনুভূতিশক্তি রয়েছে। সেও অন্যের বাড়িতে কাজ করে। প্রকৃতি তার শিক্ষা গ্রহণের পাঠশালা। উদ্দীপকের বন্যার মতো মিনুর বন্ধুত্ব না হলেও প্রকৃতির মাঝে সে শিক্ষা ও সাহচর্য খুঁজে নেয়। তাই বলা যায় বন্যার শিক্ষা ছিল প্রাতিষ্ঠানিক, আর প্রকৃতি হচ্ছে মিনুর পাঠশালা- মন্তব্যটি যথার্থ।
বনফুলের প্রকৃত নাম বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।
শুকতারা মিনুর মতোই খুব ভোরে জেগে ওঠে বলে সে শুকতারাকে সই বলেছে।
পিতৃ-মাতৃহীন মিনু দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে থাকে। বাড়ির সমস্ত কাজকর্ম সে একাই করে। তাই প্রতিদিন ভোরে মিনুকে ঘুম থেকে উঠতে হয়। এরপর প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে শুকতারার সাথে। সে মনে করে শুকতারাও হয়তো তার মতোই কয়লা ভাঙার কাজের জন্য ঘুম থেকে জেগে উঠেছে। মিনু এ কারণেই শুকতারাকে সই বলেছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
