শিখিনী' শব্দের অর্থ 'ময়ূরী'।
প্রশ্নোক্ত চরণটি দ্বারা বর্ষাকালে ব্যাঙ ও ময়ূরীর ডাক এবং এর মাধ্যমে মানবমনে সৃষ্ট পুলকের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
আলোচ্য কবিতায় কবি আলাওল বর্ষায় প্রকৃতি চিত্রিত করতে মাদি ব্যাঙ ও ময়ূরীর প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। বর্ষাকালে প্রায়শই এদের ডাক শোনা যায়। প্রকৃতিতে ব্যাঙ ও ময়ূরীর এই কলধ্বনি মানুষের চিত্তকেও আন্দোলিত করে। প্রকৃতির রূপ পরিবর্তন যেন মানবমনেও ভাবের সঞ্চার ঘটায়।
উদ্দীপকে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার বর্ষাকালে প্রকৃতির রূপ ও মানবমনে এর প্রভাবের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি আলাওল ষড়ঋতুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। কবিতাটিতে বর্ষাকালে প্রকৃতি ও জীবনের বর্ণনাও রয়েছে। বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে চারিদিকে পানি থইথই করে। এসময় আনন্দে ডেকে ওঠে ব্যাঙ ও ময়ূরী, অন্যান্য কীট-পতঙ্কাও বর্ষাকালে বিচিত্র রকমের আওয়াজ করে। আর প্রকৃতিতে প্রাণের এ কোলাহলে মানবমনেও উল্লাসের সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে বর্ষাকালের বর্ণনা রয়েছে। ঝিরঝির বৃষ্টির মধ্যে ছাতা মাথায় দিয়ে স্কুলে যাবার সময় সজীব রাস্তার পাশের ডোবায় অসংখ্য ব্যাঙ দেখতে পায়। তারা ক্রমাগত ডাকছিল, ব্যাঙের ডাক শুনে সজীব মুগ্ধ হয়ে যায়। তার মনে যেন এক অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে, ফলে সে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ব্যাঙের ডাক শোনে। অর্থাৎ, ঐ উদ্দীপকের ঘটনাও বর্ষাকালের বৈশিষ্ট্য, এসময় প্রাণীদের আওয়াজ এবং মানুষের হৃদয়ে এর অদ্ভুত প্রভাবের দিকটিকে নির্দেশ করে। উভয়ক্ষেত্রেই প্রকৃতি ও জীবনে বর্ষার চিরায়ত রূপটির প্রতিফলন দেখা যায়।
উদ্দীপকে. 'ঋতু বর্ণন' কবিতার মূলভাবের আংশিক প্রতিফলন ঘটলেও সম্পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বাংলার ষড়ঋতুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরা হয়েছে। ছয়টি ঋতুর ভিন্ন ভিন্ন রূপবৈচিত্র্যের চিত্রায়ণ দেখা যায় কবিতায়। আবহাওয়া ও ষড়ঋতুর প্রভাবেই মূলত প্রকৃতির বিচিত্র রূপ অভিব্যক্ত হয়। এছাড়া কবিতাটিতে মানবমনে ষড়ঋতুর প্রভাব সম্পর্কেও বর্ণনা করা হয়েছে'।
উদ্দীপকে বর্ষাকালের প্রকৃতি ও জীবনের প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে। এখানে বর্ষার অবিরাম জলধারা এবং এ সময়ের পরিবেশের কথা বলা - হয়েছে। উদ্দীপকে সজীবের মনে বর্ষার প্রভাবও পরিলক্ষিত হয়। সে ডোবার ধারে ব্যাঙের ডাক শুনে আনন্দিত হয়। উদ্দীপকটি বর্ষার রূপ, ব্যাঙের ডাক এবং মানব হৃদয়ে বর্ষার কারণে সৃষ্ট অনুভূতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। একইভাবে 'ঋতু বর্ণন' কবিতায়ও বর্ষাঋতুর এহেন বর্ণনা ফুটে উঠেছে।
'ঋতু বর্ণন' কবিতার মতো উদ্দীপকে বৃহৎ পরিসরে ষড়ঋতুর রূপবৈচিত্র্য ফুটে ওঠেনি। তবে বর্ষাকালের বৃষ্টিস্নাত প্রকৃতি, ডোবায় ব্যাঙের ডাক এবং মানুষের মনে এর ফলে সৃষ্ট ভাবের দিকটি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তাই উদ্দীপকে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার আংশিক ভাবের প্রতিফলন লক্ষণীয়। কিন্তু এটি আলোচ্য কবিতার সমগ্র মূলভাবের প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম নয় বলে আমি মনে করি।
Related Question
View Allমল্লার হলো সংগীতের একটি রাগ; রাত্রির দ্বিতীয় প্রহরে গাওয়া হয়।
রৌদ্র ত্রাসে রহে ছায়া চরণে সরণে' বলতে গ্রীষ্মে সূর্যের প্রখরতায় মানুষের ছায়াও চরণতলে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি আলাওল গ্রীষ্মের তাপদাহের কথা বলেছেন। এ সময় সূর্যের প্রচণ্ড তাপ থাকে। প্রকৃতিতে গ্রীষ্মের আগমনে চারদিক প্রচণ্ড উত্তাপে ফেটে পড়ে। সূর্য তার সমস্ত রাগ নিয়ে যেন হাজির হয়। রৌদ্রের এই প্রখরতার জনজীবন অতীষ্ঠ হয়ে পড়ে। সূর্যের কিরণ থাকে মাথার উপর। ফলে দুপুরে ছায়াও মানুষের সোজা পায়ের নিচ বরাবর যেন আশ্রয় নেয়। আর এ বিষয়টি বোঝাতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
উদ্দীপকে বসন্তের সৌন্দর্যের কথা বর্ণিত হয়েছে যা 'ঋতু বর্ণন' কবিতার বসন্ত ঋতুর বর্ণনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বসন্তের অপরূপ সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে। এই ঋতুতে চারিদিক ফুলে ফুলে শোভিত থাকে। দখিনা বাতাস প্রেমের দেবতার বার্তাবাহক হয়ে হাজির হয়। চারপাশের গাছপালায় নতুন পাতা এবং ফুলের সমারোহ থাকে। ফলে বনে বনে সৌন্দর্য উপভোগের সাড়া পড়ে যায়।
উদ্দীপকে বসন্তের অপরূপ সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে। এই সময় জোছনা রাতে সবাই বনে বনে সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছে। বসন্তের মাতাল সমীরণ সবাইকে সৌন্দর্য উপভোগের বার্তা দিয়ে গিয়েছে। বসন্তের এই অপরূপ সৌন্দর্য 'ঋতু বর্ণন' কবিতায়ও আমরা দেখতে পাই। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সঙ্গো 'ঋতু বর্ণন' কবিতার বসন্ত ঋতুর সাদৃশ্য রয়েছে।
ঋতু বর্ণন' কবিতায় বাংলার ষড়ঋতুর অপরূপ সৌন্দর্যের কথা বলা হলেও উদ্দীপকে কেবল বসন্ত ঋতুর কথা বর্ণিত হয়েছে বিধায় উদ্দীপকটি কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করেনি।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় ষড়ঋতুর রূপবৈচিত্র্য এবং এর সঙ্গে মানবমন্ত্রে সম্পর্কের দিকটি বর্ণিত হয়েছে। বাংলার প্রকৃতিতে বসন্তে নবীন পত্র-পুষ্প, 'গ্রীষ্মের সূর্যতাপ, বর্ষার অবিরল জলধারা, শরতের নির্মল আকাশ, হেমন্তের পুষ্পতুল্য তাম্বুল, শীতের দীঘল রজনি যে পরিবর্তন সাধন করে তা কবি তাঁর কবিতায় সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রকৃতির এই রূপমাধুরী মানুষের মনেও প্রভাব ফেলে। প্রকৃতির মতোই মানুষের মনও একেক ঋতুতে একেক রূপ ধারণ করে।
উদ্দীপকে বসন্তের মাতাল সমীরণের কথা বলা হয়েছে। এই ঋতুতে জোছনা রাতে সবাই বনে সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছে। কেননা বসন্তের বন ফুলে ফুলে শোভিত থাকে। এই শোভা উপভোগ করার আনন্দ সবাই পেতে চায়। বসন্তের এই অপরূপ সৌন্দর্য তুলে ধরার জন্যই উদ্দীপকটির অবতারণা করা হয়েছে। 'ঋতু বর্ণন' কবিতায়ও বসন্ত ঋতুর প্রায় একইরকম বর্ণনা ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে বসন্তের রূপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বসন্তের রূপ ছাড়াও বাংলার সব ঋতুর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। কবিতায় গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত ঋতুর রূপমাধুরী ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া ঋতুর এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কের দিকটিও আলোচ্য কবিতায় তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে বসন্ত ঋতুর সৌন্দর্য ব্যতীত অন্যান্য দিক অনুপস্থিত। ফলে উদ্দীপকটি ঝতু বর্ণন' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করতে পারেনি।
'কিংশুক' শব্দের অর্থ পলাশ ফুল বা বৃক্ষ।
'নানা পুষ্প মালা গলে বড় হরষিত'- বলতে বসন্ত ঋতুতে নিজেকে সাজিয়ে আনন্দিত হওয়ার দিককে বোঝানো হয়েছে।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বসন্ত প্রকৃতির নতুন সাজে সেজে ওঠার কথা বলা হয়েছে। বসন্তে নানা রকম ফুল ফোটে। প্রকৃতি তখন রঙিন রূপ ধারণ করে। বসন্তকে বরণ করতে এবং প্রকৃতির সাথে নিজেদের সংযুক্ত করতে সবাই নানা রকম সাজে নিজেকে সজ্জিত করে। ফুলের মালা গলায় পরে তারা আনন্দ, উল্লাস করে। এ দিক বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!