মনোবিজ্ঞান হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মানুষ ও প্রাণীর আচরণ এবং মানসিক প্রক্রিয়া অনুধ্যান করে থাকে।
মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস অনৈচ্ছিক আচরণ।
ব্যক্তির যে আচরণগুলো স্বয়ংক্রিয় এবং তার ইচ্ছার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয় সেগুলো হলো অনৈচ্ছিক আচরণ। যেমন- হৃদপিন্ডের ক্রিয়া, শ্বাস-প্রশ্বাস, আগুনে হাত লাগা মাত্র হাত সরিয়ে নেওয়া ইত্যাদি।
মল্লিকার খাতা মূল্যায়নে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির 'যথার্থতা প্রমাণ' নীতির প্রয়োগ হয়েছে।
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সুবিন্যস্ত ও সুপরিকল্পিত অবস্থায় কোনো বস্তু বা ঘটনাকে নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। এক্ষেত্রে কত গুলো নীতি মেনে চলা হয়। এসব নীতির মধ্যে 'যথার্থতা প্রমাণ' অন্যতম। এ নীতি অনুসারে কোনো বিজ্ঞানী তার গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করার পর বিভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন বিজ্ঞানীগণ তার হুবহু পুনরুৎপাদন করে ফলাফল যাচাই করতে পারেন। অর্থাৎ একজন মনোবিজ্ঞানী যখন কোনো গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেন তখন পৃথিবীর অন্য যেকোনো মনোবিজ্ঞানী তা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। পরীক্ষার ফলাফল যদি পূর্ববর্তী মনোবিজ্ঞানীর গবেষণার সাথে সংগতিপূর্ণ হয় তবে তাকে যথার্থ বলা যায়।
উদ্দীপকে মল্লিকার খাতা শ্রেণিশিক্ষক কর্তৃক মূল্যায়নের পর পুনরায় বিভাগীয় প্রধান খাতা পুনঃমূল্যায়ন করে একই ফলাফল পান। তাই এক্ষেত্রে মল্লিকার প্রাপ্ত নম্বরের যথার্থতা প্রমাণিত হয়। তাই বলা যায়, মল্লিকার খাতা মূল্যায়নে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির 'যথার্থতা প্রমাণ' নীতির প্রয়োগ হয়েছে।
উদ্দীপকে মল্লিকা ও প্রীতির সমস্যা সমাধানের বিষয়টি মনোবিজ্ঞানের ভিন্ন ভিন্ন শাখায় আলোচিত হয়। মল্লিকা ও প্রীতির সমস্যা যথাক্রমে কাউন্সেলিং ও নির্দেশনা মনোবিজ্ঞানে আলোচিত হয়।
মনোবিজ্ঞানের যে শাখায় ব্যক্তির মানসিক অশান্তি, বৃত্তি নির্বাচন, শিল্প সংকট, পারিবারিক বিশৃঙ্খলা প্রভৃতি বিষয়ে সঠিক দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয় তাকে কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞান বলা হয়। কাউন্সেলিং সাহায্যকারী প্রক্রিয়া, যেখানে একজন কাউন্সেলর পেশাগত সম্পর্কের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের দ্বারা ক্লায়েন্টের আচরণ পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন। এক্ষেত্রে তিনি ৩টি প্রধান ভূমিকা পালন করেন। যেমন- প্রতিকারমূলক ভূমিকা, নিবৃত্তমূলক ভূমিকা এবং শিক্ষা ও বিকাশমূলক ভূমিকা।
অপরদিকে, নির্দেশনা মনোবিজ্ঞানে একজন মনোবিজ্ঞানী জ্ঞান ও দক্ষতার মাধ্যমে ক্লায়েন্টের ছাত্রজীবনের পাঠক্রম নির্বাচন সমস্যা ও অকৃতকার্যতা, চাকরিগত সমস্যা, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যা প্রভৃতি ক্ষেত্রে নির্দেশনা প্রদান করেন।
উদ্দীপকে মল্লিকা পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়ের ফলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং চুপচাপ হয়ে যায়। তাকে একাকীত্ব পেয়ে বসে। এমতাবস্থায় সে কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞানীর সহায়তা নিতে পারে। অন্যদিকে প্রীতির উচ্চি মাধ্যমিক পাশের পর কোন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেবে এ সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হচ্ছে তাই সে নির্দেশনা মনোবিজ্ঞানীর শরণাপন্ন হতে পারে।
Related Question
View Allমনোবিজ্ঞান হলো আচরণ ও অভিজ্ঞতার বিজ্ঞানসম্মত অনুধ্যান এবং মানুষের সমস্যায় সেই জ্ঞানের প্রয়োগ।
সমাজ মনোবিজ্ঞানের জ্ঞানকে বাস্তবজীবনে কাজে লাগিয়ে মানুষ সমাজে খাপ-খাইয়ে চলতে শেখে। সামাজিক জীব হিসেবে মানুষকে সমাজে বসবাস উপযোগী আচরণ করতে হয়। সমাজ মনোবিজ্ঞানী ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, ব্যক্তির সাথে দলের এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সমাজের মানুষের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে। সমাজের প্রচলিত রীতি-নীতি, আচার-অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক রীতি পদ্ধতি কীভাবে জীবনে প্রয়োগ করে সুন্দর সমাজ গঠন করা যায় তা মনোবিজ্ঞানের আলোচনা থেকে জানা যায়। আর মনোবিজ্ঞানের এই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে মানুষ সমাজে খাপ-খাইয়ে চলতে শিখে।
উদ্দীপকের ছবির কাজটি মনোবিজ্ঞানের শিক্ষা মনোবিজ্ঞান শাখায় আলোচনা করা হয়।
শিক্ষা মনোবিজ্ঞান মনোবিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এখানে মানুষের শিক্ষা সম্পর্কিত আচরণের বিভিন্ন সমস্যার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা হয়। শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে শিক্ষা ব্যবস্থা আবর্তিত হয় এবং শিক্ষণ হলো শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের মূল বিষয়বস্তু। সে দিক দিয়ে শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীর জীবনের সার্বিক ও সুষম বিকাশ সাধনে সহায়তা করা; শিক্ষার কার্যকরী পদ্ধতি অনুসন্ধান, উদ্ভাবন ও প্রয়োগ করা; শিক্ষাক্ষেত্রে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা। এছাড়াও কীভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক সৃষ্টি করা যায়, গঠনমূলক আচরণ শেখা যায়, গঠনমূলক আচরণ শেখা যায় তাও মনোবিজ্ঞানের এই শাখায় আলোচিত হয়।
প্রদত্ত উদ্দীপকের দিকে লক্ষ করলে দেখতে পাই, ছবি একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষা পরিবেশের ওপর জোর দেন। মূলত শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের তিনটি প্রধান উপাদান হলো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষা পরিবেশ। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যকার সুন্দর সম্পর্ক শিক্ষা পরিবেশকে তরান্বিত করে। আবার সুন্দর শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে ইতিবাচক গঠনমূলক সম্পর্ক তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কেননা, শিক্ষণের গতি-প্রকৃতি, ধরন, কলা-কৌশল, শর্তাবলি, উপকরণ, শিক্ষণে পুরস্কার ও
শাস্তির প্রভাব, শিক্ষার পদ্ধতি, শিক্ষার পরিবেশ প্রভৃতি হলো শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের মূল আলোচ্য বিষয়। তাই উদ্দীপকের ছবির কাজটি মনোবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ শাখা শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় তা খুব সহজেই অনুমেয়।
মিতা ও বিজয়ের কাজের মধ্যে বিজয়ের কাজটি অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ।
মনোবিজ্ঞানের একটি অতীব জরুরি শাখা হলো শিল্প ও সাংগঠনিক মনোবিজ্ঞান। শিল্প কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করার জন্য মনোবিজ্ঞানের এ শাখার উদ্ভব হয়েছে। শিল্প কারখানায় শ্রমিক নিয়োগ, কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী উপযুক্ত লোক নির্বাচন, তাদের প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি ও মূল্যায়ন প্রভৃতি শিল্প মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু। উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে কর্মচারীদের দক্ষতা, মনোবল ও কর্মসন্তুষ্টি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
উদ্দীপকে বর্ণিত মিতার কোম্পানিতে কর্মসন্তুষ্টি ও কাজের সঠিক মূল্যায়ন হওয়ায় উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বলা যায়, মিতার কোম্পানিতে শিল্প ও সাংগঠনিক মনোবিজ্ঞানের যথাযথ প্রয়োগ হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত ছবি ও মিতার বন্ধু বিজয় নিয়মিত মানসিক সমস্যাগ্রস্তদের নিয়ে কাজ করেন। বিজয়ের এ কাজটি অস্বভাবী মনোবিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত হলেও তা কোনো না কোনোভাবে অন্যান্য প্রায় সব মনোবিজ্ঞানের শাখার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। অস্বভাবী মনোবিজ্ঞানের কাজ হলো অস্বভাবী আচরণের স্বরূপ বিশ্লেষণ করা, বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে তথ্য সংগ্রহ করে তার কারণ নির্ণয় করা এবং সবশেষে অস্বভাবী আচরণের প্রতিকার ও প্রতিরোধ করা। প্রত্যেক মানুষের ভিতরেই কোনো না কোনো মানসিক চাপ থাকে যা তার আচরণ ও কর্মপরিবেশকে প্রভাবিত করে। মানসিক সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিদের যথাযথভাবে সাহায্য ও প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে পারলে তারা অন্যের উপর বোঝা হয়ে থাকবে না। তারা আত্মনির্ভরশীল ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীতে পরিণত হবে। এর ফলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য আর্থিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সহজ ও কার্যকরী হবে।
পরিশেষে সার্বিক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, মিতা ও বিজয় উভয়ের কাজ গুরুত্বপূর্ণ হলেও মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিজয়ের কাজটি অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি।
শিক্ষার্থীর জীবনের সার্বিক ও সুষম বিকাশের জন্য শিক্ষা মনোবিজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষা মনোবিজ্ঞানে মানুষের শিক্ষা সম্পর্কিত আচরণের বিভিন্ন সমস্যার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা হয়ে থাকে। মনোবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ এই শাখায় ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিকতার বিকাশ ঘটানো, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের উন্নতিকরণ, লেখাপড়ার ব্যাপারে ছাত্র-ছাত্রীদের আগ্রহ ও মনোযোগ বাড়ানো, স্মৃতিশক্তি উন্নত করার কৌশল নির্ধারণ, কার্যকরী শিক্ষাদান প্রণালি প্রণয়ন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। তাই শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের জন্যই শিক্ষা মনোবিজ্ঞান খুবই গুরুত্বপূর্ণ
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!