পূর্ণবয়স্ক খাসির মাংসকে বলা হয় মাটন।
হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান উন্নত জাতের গরু। দুধাল জাতের মধ্যে এরা সবচেয়ে বড় আকারের গরু। এরা দৈনিক ৩০-৪০ লিটার দুধ দেয় যা দেশি ও বিদেশি জাতের তুলনায় অনেক বেশি। দুধের চর্বির পরিমাণ ৩.৫-৪%। হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের বড় আকারের গাভির ওজন ৫০০-৬০০ কেজি এবং ষাঁড়ের ওজন ৮০০-৯০০ কেজি। ফলে অধিক মাংস উৎপাদনকারী হিসেবেও এরা জনপ্রিয়। এই জাতের গরুর দেহ দ্রুত বৃদ্ধি পায়, প্রজনন ক্ষমতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশি। তাই অধিক আয়ের জন্য হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরু পালন করা হয়।
উদ্দীপকে দুধের ভেজাল নির্ণয়কারী যন্ত্রটির নাম হলো ল্যাকটোমিটার।
সাধারণত দুধে ৮৭% পানি থাকে। পানির আপেক্ষিক গুরুত্ব ১। আবার, স্বাভাবিক দুধের আপেক্ষিক গুরুত্ব ১.০৩২-১.০৩৪ এবং প্রসবকালীন সময়ে দুধের আপেক্ষিক গুরুত্ব ১.০৬-১.০৭৫ হয়। দুধে পানি মেশালে আপেক্ষিক গুরুত্ব কমে যায় আবার, গুঁড়া দুধ মেশালে আপেক্ষিক গুরুত্ব বেড়ে যায়। নিচে ল্যাকটোরিমিটার সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো- ল্যাকটোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে দুধের আপেক্ষিক ঘনত্ব মেপে খাঁটি ও ভেজাল দুধ নির্ণয় করা যায়। এ পদ্ধতিতে একটি পরিমাপক সিলিন্ডার নিতে হয় যাতে অন্তত আধা লিটার দুধ ধরে। সিলিন্ডারের ২/৩ অংশ দুধ নিতে হবে এবং ল্যাকটোমিটার যন্ত্র দুধে ডুবাতে হবে। দুধের মধ্যে ল্যাকটোমিটার কতটুকু ডুবলো সেটি দুধের উপরের স্তরের সাথে ল্যাকটোমিটারের দাগ দেখে বোঝা যাবে। ল্যাকটোমিটার রিডিং সাধারণত ২৫-৩০ পর্যন্ত হয়ে থাকে। কিন্তু পানি মেশালে এ ঘনত্ব কমে যায় বলে ল্যাকটোমিটারের রিডিংও কমে যায়। ল্যাকটোমিটার রিডিং (L.R) নেওয়ার পর নির্দিষ্ট ফর্মুলা মোতাবেক দুধের আপেক্ষিক ঘনত্ব বের করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে ল্যাকটোমিটার রিডিং ২৫ হলে
এখানে, খাঁটি দুধের স্বাভাবিক ঘনত্ব অপেক্ষা প্রাপ্ত আপেক্ষিক ঘনত্ব কম। এ থেকে বোঝা যায় যে, দুধে পানি মেশানো হয়েছে। তবে গাভির জাতভেদে দুধে পানির পরিমাণ কম বেশি হতে পারে।
উপরোক্ত পদ্ধতিতে ল্যাকটোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে ভেজাল দুধ নির্ণয় করা হয়।
সালমা বেগমের পাত্রের দুধে পশুর লোমসহ পানি মেশানোর আলামত পাওয়া যাওয়ায় তিনি ভেজাল বিরোধী অভিযানের সম্মুখীন হন। যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করলে সালমা বেগমকে এ অভিযোগের সম্মুখীন হতো না তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
সালমা বেগম বাড়ি বাড়ি ঘুরে গরুর দুধ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করেন। তিনি যদি দুধ সংগ্রহের সময় সতর্ক থাকতেন অর্থাৎ বিশুদ্ধ দুধ উৎপাদনের ব্যবস্থাপনা জানতেন তবে সমস্যার সম্মুখীন হতেন না। তিনি যে গরুর দুধ সংগ্রহ করতেন তা গ্রুমিং করা হতো না বলে তার বিক্রিকৃত দুধে চুল পাওয়া যেত। এক্ষেত্রে তিনি যেসব বাড়ি থেকে দুধ সংগ্রহ করতেন তাদেরকে দুধ উৎপাদন সম্পর্কে সচেতন থাকতে বলা উচিত ছিল। একই সাথে গরু থেকে দুধ দোহনের ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে কি-না সে সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়া। এছাড়া দুধ ক্রয়ের পূর্বে দুধ পরীক্ষা করে নিলে তিনি ভেজাল দুধ কেনা হতে সতর্ক থাকতে পারতেন। এছাড়া সচেতনতার অভাবে দুধ বিক্রেতাগণ সালমা বেগমকে ভেজাল দুধ দিয়েছে যা তিনি যাচাই না করেই কিনেছেন এবং বিক্রি করতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।
অতএব বলা যায়, যথাযথ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ না করার কারণেই সালমা বেগম ভেজাল বিরোধী দলের অভিযোগের সম্মুখীন হন।
Related Question
View Allসাইলেজ (Silage) হলো রসালো অবস্থায় ফুল আসার পূর্বে সবুজ ও সতেজ ঘাসকে (ভুট্টা, নেপিয়ার, গিনি ইত্যাদি) কেটে টুকরা করে সেগুলো বায়ুরোধী অবস্থায় সংরক্ষণকৃত খাদ্য।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গবাদিপশু পালন তথা গরু, মহিষ ও ছাগল পালনের প্রয়োজনীয়তা অনেক। এদেশের কৃষিখাতের আয়ের একটি বিরাট অংশ নির্ভর করে পশুসম্পদের উপর। গরু, মহিষ ও ছাগলের মাংস, দুধ, চামড়াসহ বিভিন্ন উপজাত দ্রব্যাদি যেমন- হাড়, শিং, নাড়িভুঁড়ি, গোবর ইত্যাদি অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া কৃষিকাজ, গাড়িটানা, সেচকাজ, ঘানিটানা, ভারবহন, বিনোদন প্রভৃতি কাজে গবাদিপশুর বহুল ব্যবহার হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনে পশুসম্পদের অবদান প্রায় ১৬.৫২%। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণেও গবাদিপশু পালন গুরুত্বপূর্ণ।
রুহুল আমিনের দুগ্ধ খামারের গাভিগুলো হলো হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরু। নিচে এদের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-
i. দুধাল জাতের মধ্যে এরা সবচেয়ে বড় আকারের গরু। এদের গায়ের রং সাধারণত সাদা-কালো ছোপ ছোপ হয়।
ii. মাথা লম্বাটে, সরু ও সোজা হয়। এদের কুঁজ উঁচু হয় না।
iii. দিনে ৩০ লিটারের বেশি দুধ দেয়। দুধে চর্বির পরিমাণ ৩.৫- ৪%।
iv. বড় আকারের গাভির ওজন ৫০০-৬০০ কেজি এবং ষাঁড়ের ওজন ৮০০-১০০০ কেজি হয়।
V. বকনা ১৮ মাস বয়সে প্রজননক্ষম হয় এবং ৩০ মাসে বাচ্চা দেয়।
রুহুল আমিনের খামারের গরুগুলো ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত।
ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে ৬ মাস বয়সে পশুকে টিকা দিতে হবে। পরে প্রতি বছরে একবার করে টিকা দিতে হবে। এছাড়া সুস্থ পশুকে আক্রান্ত পশু হতে পৃথক রাখতে হবে এবং আক্রান্ত পশুর মল, রক্ত ও মৃতদেহ মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে। সর্বোপরি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত শুকনো স্থানে পশু লালন-পালনের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ক্ষুরা রোগ দেখা দিলে আক্রান্ত পশুকে সুস্থ পশু হতে আলাদা করে পরিষ্কার ও শুকনা জায়গায় রাখতে হবে। আক্রান্ত পশুকে কচি ঘাস ও তরল খাবার যেমন ভাতের মাড় বা জাউভাত খেতে দিতে হবে। আক্রান্ত পশুর মুখের বা পায়ের ঘা-এর চিকিৎসা করাতে হবে। মুখের ক্ষত ও জিহ্বা প্রত্যহ ২/৩ বার পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (০.০১%) অথবা ফিটকিরি বা এলম (২%) দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে। ৩% আইওসান সলিউসান দ্বারা ক্ষতস্থান দৈনিক ৩ বার করে ৩ ৫ দিন ধুয়ে দিতে হবে। অথবা মুখের ঘা-এ সোহাগার খৈ গুঁড়া করে মধু বা ঝোলাগুড়ের -সাথে মিশিয়ে লাগাতে হবে। আইওসান দ্বারা ধোয়ার পরপরই ক্ষতস্থানে এন্টিবায়োটিক পাউডার লাগিয়ে অথবা পায়ের ক্ষত স্থানে তুঁতে (১%) অথবা সোডিয়াম বাইকার্বোনেট (২%) অথবা পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (০.০১%) সলিউশন দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে। এরপর | গন্ধকের গুঁড়া বা সালফানিলামাইড পাউডার দিনে ২-৩ বার লাগাতে হবে। নারিকেল তেল ও তারপিন তেল ৪:১ অনুপাতে মিশিয়ে ঘা-এ লাগাতে হবে যাতে ক্ষতস্থানে মাছি না পড়ে। প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শে উপরোক্ত ব্যবস্থাসমূহ গ্রহণ করে রুহুল আমিন তার খামারে ক্ষুরারোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার করতে পারেন।
সুষম খাদ্য বলতে যে খাদ্যে সকল খাদ্য উপাদান সুনির্দিষ্ট পরিমাণে বা অনুপাতে থাকে সে খাদ্যকে বোঝায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!