সালমা হকের নির্বাচিত পোশাক নাহির জন্য উপযোগী-
বক্তব্যটির সাথে আমি একমত। সালমা হক নাহির জন্য যে পোশাক নির্বাচন করেছেন তা আমার মতে প্রাকবিদ্যালয় শিশুদের জন্য বেশ উপযোগী। যেহেতু নাহির বয়স চার বছর অর্থাৎ সে প্রাকবিদ্যালয়ের শিশু উপযোগী সেহেতু নাহির জন্য উক্ত পোশাক যথোপযুক্ত। পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের বয়সকে প্রাধান্য দিতে হবে। কেননা বিভিন্ন বয়সের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক চাহিদা অনুযায়ী পোশাক, নির্বাচন করতে হয়। স্কুলে যাওয়ার পূর্বে প্রাকবিদ্যালয় বয়সে শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি দ্রুত হয় এবং দুর্ঘটনা সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা থাকে না। তাই তাদের জন্য কিছুটা ঢিলেঢালা কিন্তু খুব লম্বা নয় এমন পোশাক নির্বাচন করতে হবে। এদের পোশাক নির্বাচনের সময় বিভিন্ন রঙের পোশাকের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে যেন পোশাকে জীবজন্তু, গাছপালা, পশুপাখি বা প্রাকৃতিক বস্তুর ছাপ থাকে। এতে করে স্কুলে যাওয়ার আগেই তারা বিভিন্ন রং ও চারপাশের নানা ধরনের বস্তু সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারবে। প্রাক-বিদ্যালয় বয়সের শিশুরা যেন নিজেরাই নিজেদের পোশাক খুলতে ও পরতে পারে সেজন্য পোশাকের সামনে বুক কাটা অর্থাৎ আত্মনির্ভরশীল পোশাক-পরিচ্ছদ (Self-help garments) নির্বাচন করতে হবে। উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, নাহির জন্য কেনা পোশাকটি যথার্থ ছিল।
Related Question
View Allআমরা সমাজে নানা পেশার লোক দেখতে পাই। কে কোন ধরনের পোশাক নির্বাচন করবে তা নির্ভর করে তার পেশার ওপর। যেসব পেশায় ইউনিফর্ম রয়েছে তাদের পোশাক নির্বাচনে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন নেই। তবে যাদের পেশায় ইউনিফর্ম নেই তাদের পোশাক নির্বাচনে খেয়াল রাখতে হবে যেন তা অনানুষ্ঠানিক পোশাক না হয়। কেননা পেশা ও সামাজিক মর্যাদা অনুযায়ী পোশাক পরলে মানুষ কাজে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে এবং সম্মান পায়। তাই পোশাক নির্বাচনে পেশার প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিভিন্ন বয়সে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক চাহিদা অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন করতে হয়। দুর্ঘটনা এড়াতে হলে বোতাম, হুক, সেফটিপিন ইত্যাদি বর্জন করে নিরাপত্তামূলক পোশাক নির্বাচন করতে হবে। পোশাক সামাজিক নিরাপত্তা ও মানসিক তৃপ্তি আনে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন করলে সে পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া যায় এবং মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায়। পোশাক শুধু সৌন্দর্যের প্রতীকই নয়, এটা মানুষের দৈহিক নিরাপত্তাও প্রদান করে। আদিম যুগে মানুষ ছাল বাকল পরিধান করত লজ্জা নিবারণের জন্য। তারপর তারা পশুর চামড়া দিয়ে পোশাক বানাত শরীরকে নিরাপদ রাখার জন্য। 'তাই বলা যায়, পোশাক সামাজিক নিরাপত্তা ও মানসিক তৃপ্তি আনয়নে সহায়তা করে।
পরিবারের সদস্যদের পোশাক নির্বাচনে পারিবারিক আয় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। পরিবারের মোট আয় বেশি হলে পোশাকের খাতে বরাদ্দকৃত ব্যয়ের পরিমাণও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। আবার আয় কম হলে স্বল্প টাকার বুদ্ধিমত্তার সাথে সময়োপযোগী পোশাক নির্বাচন করতে হয়। এভাবেই পরিবারের সদস্যদের পোশাক নির্বাচনে পারিবারিক আয় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে।
পরিবারের সদস্যদের পোশাক-পরিচ্ছদ নির্বাচনে প্রথমেই আসে আয়ের প্রসঙ্গ। পরিবারের আয় আবার কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। যেমন- পরিবারের কতজন সদস্য উপার্জন করছে। তাদের পেশা কী। পরিবারের অন্যান্য বিষয় সম্পত্তি হতে অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাবনা আছে কিনা ইত্যাদি। দেখা গেছে যে, পরিবারের মোট আর্থিক আয় বেশি হলে পোশাকের খাতে ব্যয় বরাদ্দের পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। অন্যদিকে, আয় কম হলে স্বল্প টাকায় বুদ্ধিমত্তার সাথে সময় উপযোগী পোশাক নির্বাচন করা হলে অনেক সময় দামি পোশাকের চেয়েও বেশি প্রশংসা পাওয়া যায়।
পোশাকের উৎপত্তির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে বাইরের প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে আমাদের শরীরকে রক্ষা করা। আমাদের দেশ ষড়ঋতুর দেশ হলেও পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা তিনটি ঋতুকে প্রাধান্য দিই। গ্রীষ্মকালে গরমে ঘাম বেশি হয় তাই এ সময় সুতি, লিনেনের মতো তাপ সুপরিবাহী বস্ত্র বেশি নির্বাচন করা উচিত। যাতে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে। এর ফলে আরামবোধ হয়।
মৌসুম অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন শরীরের আরাম এবং সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে শীত, গ্রীষ্ম এবং বর্ষা তিনটি প্রধান মৌসুম রয়েছে, এবং প্রতিটি মৌসুমের জন্য আলাদা ধরনের পোশাক প্রয়োজন হয়। তাই মৌসুম অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!