পরিবেশের যেসব উপাদান মানুষের সৃষ্টি নয়, সেসব উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত পরিবেশকে প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে।
অর্থনৈতিক উন্নয়নে মূলধন অপরিহার্য। প্রয়োজন মতো মূলধন গঠন না হওয়ায় বিনিয়োগ স্বল্পতায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। আবার প্রাকৃতিক সম্পদ' ও মানবসম্পদের অপূর্ণ ব্যবহারেও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। এছাড়াও মাত্রাতিরিক্ত জনসংখ্যা, অনুন্নত কৃষি ও শিল্প, বেকার সমস্যা, খাদ্যঘাটতি, নিরক্ষরতা, মাথাপিছু আয়ের স্বল্পতা, জীবনযাত্রার নিম্নমান, বাণিজ্য ঘাটতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ইত্যাদি অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতার কারণ। তাই বলা যায়, মূলধনের স্বল্পতা অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতার প্রধান কারণ নয়।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। উদ্দীপকের আলোকে নিচে যুক্তি দেওয়া হলো-
⇒ বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও কৃষিতে অনুন্নত; কৃষির উৎপাদনশীলতা যেমন কম, তেমনি দেশে ব্যাপক খাদ্য ঘাটতি বিদ্যমান। তবে সম্প্রতি বাজেটে কৃষি খাতে অধিক বরাদ্দ, সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, উন্নতমানের সার ও বীজ সরবরাহ প্রভৃতি কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
⇒ দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নে কারিগরি জ্ঞানের ভূমিকা অপরিসীম হওয়ায় কারিগরি শিক্ষা প্রসারে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। 'ভিশন ২০২১'এর 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' ধারণায় তথ্য ও প্রযুক্তির প্রভূত উন্নতি সাধন হচ্ছে।
⇒ শিক্ষা মানুষকে সচেতন করে, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করে। এ কারণে শিক্ষার প্রসারে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা, নারী শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষার প্রসারে সরকার ভূমিকা গ্রহণ করেছে; ফলে শিক্ষার হার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
⇒ স্বাধীনতা লাভের সময় বাংলাদেশ শিল্পক্ষেত্রে খুবই পশ্চাৎপদ ছিল। কিন্তু সরকার যুগোপযোগী শিল্পনীতি গ্রহণের ফলে দেশে শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটছে।
⇒ বৈশ্বিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশে জিডিপি'র প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক। গত তিন বছরে বাংলাদেশে গড়ে ৬ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
অতএব উল্লিখিত পর্যালোচনা থেকে ধারণা করা যায়, বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
না, দারিদ্র্য বিমোচনে উদ্দীপকে গৃহীত সরকারি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় বলে আমি মনে করি। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
⇒ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হলেও দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে নিমজ্জিত। এ চক্র থেকে বেড়িয়ে আসার জন্য সরকার বিভিন্ন সামাজিক, নিরাপত্তা বেষ্টনী, একটি বাড়ি একটি খামার, টেস্ট রিলিফ ইত্যাদি কর্মসূচি চালু করলেও যথাযথ নজরদারির অভাবে তা সফলতার মুখ দেখছে না। সরকার এ ধরনের কর্মসূচি আরও বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখতে পারে।
⇒ দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে সরকার শিল্প বিকাশের জন্য পরামর্শ ও শিল্প ঋণ প্রদানের পাশাপাশি ইপিজেড প্রতিষ্ঠা করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ইপিজেড প্রতিষ্ঠা করে দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করা দরকার।
⇒ সরকার দেশের সার্বিক মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মানের ক্রমশ বৃদ্ধির কথা বললেও সমাজে ধনী ও দরিদ্র শ্রেণির কারণে তা বাস্তব রূপ লাভ করছে না। তাই সরকারকে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য হ্রাসকরণে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
⇒ দারিদ্র বিমোচনে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প চালু থাকলেও জনগণের সঞ্চয় প্রবণতা কম হওয়ায় মূলধন গঠন কম হচ্ছে। ফলে বিনিয়োগের ঘাটতি পুরণ হচ্ছে না। সরকার সাধারণ জনগণের সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধির জন্য প্রণোদনা সৃষ্টি করলে মূলধন গঠিত হতে পারে, যা বিনিয়োগে উৎসাহ জোগায়।
⇒ বাংলাদেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রাকৃতিক সম্পদের যোগান থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবলের অভাবে তা উত্তোলন সম্ভব হচ্ছে না। তাই উপযুক্ত বিনিয়োগের মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল বৃদ্ধি করে প্রাকৃতিক সম্পদ সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব।
পরিশেষে বলা যায়, সরকার দারিদ্র্য বিমোচনে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও তা যথেষ্ট নয়। তাই এ ধরনের কার্যক্রম বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন হ্রাস করা সম্ভব l
Related Question
View Allবাংলাদেশে ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়।
দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধীন দেশ হলো বাংলাদেশ। ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বাংলাদেশের। অবস্থান বিস্তৃত। এ দেশের মধ্যভাগ দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। সাগরের অবস্থান বাংলাদেশের দক্ষিণে হওয়ার কারণে এ দেশের অবস্থান প্রান্তীয়। বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম, পূর্বে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মিয়ানমার এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ।
উদ্দীপকে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে। নিচে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রের প্রকৃতি তুলে ধরা হলো-
দারিদ্র্য যেকোনো দেশের জন্যই অভিশাপ। সাধারণত স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ থাকে। সেই দেশগুলোর জনগণের আয় অনেক কম থাকার কারণে সেসব দেশে সঞ্চয়ের পরিমাণও কম হয়। একটি দেশে যখন সঞ্চয়ের পরিমাণ কম হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেই দেশে বিনিয়োগ কম হবে। বিনিয়োগ যখন কম হয়, তখন সেই দেশের জনগণ বেকার থাকে। তাদের কর্মসংস্থানের অভাব দেখা দেয়, ফলে নিয়োগ কম হয়। একটি দেশে নিয়োগ, কর্মসংস্থান কম থাকার অর্থ সে দেশের উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো অচল থাকে অথবা উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধও থাকতে পারে। ফলে উৎপাদন কম হয়। একটি দেশের উৎপাদন কম হলে আয় কম হবে, এটাই স্বাভাবিক। এভাবেই একটি দেশ দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ থাকে।
অতএব বলা যায়, একটি দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। অধিক জনসংখ্যা এ দেশের প্রধান বৈশিষ্ট্য। অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৭ অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় ২৩.৫ ভাগ লোক বর্তমানে দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে।
এ দেশেও তাই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিদ্যমান রয়েছে। এ দেশে অধিক জনসংখ্যার কারণে শ্রম সস্তা। এই সস্তা শ্রমের কারণে জনগণের আয় কম। আয় কম হওয়ার কারণে সঞ্চয় কম। ফলে বিনিয়োগ কম। তবে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে, যার ফলে দেশের অধিক জনসংখ্যার কিছু অংশের কর্মসংস্থান রয়েছে। তার পরও প্রায় ৩ কোটির উপরে বেকার জনগোষ্ঠী এ দেশে রয়েছে। ফলে এই নিয়োগ কম হওয়ায় আশানুরূপ উৎপাদন হচ্ছে না। আশানুরূপ উৎপাদন না হওয়ার কারণে জনগণের আয়ও কম হচ্ছে। এভাবেই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বাংলাদেশকে ঘিরে রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করছে। দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র যত দিন বাংলাদেশ থেকে দূর না হবে, তত দিন বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে না।
বাংলাদেশের বর্তমান মাথাপিছু আয় ১৭৫২ মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান খাত কৃষি। এদেশের মোট শ্রম শক্তির ৪৫.১% কৃষির উপর নির্ভরশীল এবং প্রায় ৭৫% মানুষ কৃষির উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। ২০১৬-১৭অর্থবছরে দেশের জিডিপির ১৪.৭৯% আসে কৃষি থেকে। বাংলাদেশের শিল্পের কাঁচামালের বেশিরভাগই আসে কৃষি থেকে। তাই বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!