একজন ব্যক্তির মালিকানায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়কে একমালিকানা ব্যবসায় বলে।
একক মালিকানায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত সংগঠনকে একমালিকানা ব্যবসায় বলে।
এ ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব মালিকের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করে। মালিকের মৃত্যু, শারীরিক অক্ষমতা, দেউলিয়াত্ব প্রভৃতি কারণে এ ব্যবসায় যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই, ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্য বিচারে এর স্থায়িত্বের অভাব দেখা যায়।
উদ্দীপকের সালামের ব্যবসায়টি একমালিকানা ব্যবসায় সংগঠন।
এ ধরনের ব্যবসায় একক ব্যক্তির মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়। যে কেউ স্বল্প পুঁজি নিয়ে সহজেই এ ব্যবসায় গঠন করতে পারে। ব্যবসায়ে মুনাফা হলে মালিক একাই পায়। আবার, ক্ষতি হলেও তার দায় সে একাই নেয়।
উদ্দীপকের সালাম কলেজের কাছে একটি স্টেশনারি দোকান পরিচালনা করে। এতে সে একাই মূলধন বিনিয়োগ করে। তার ব্যবসায়টি খুব তাড়াতাড়ি লাভজনক হয়ে ওঠে। এজন্য সে ব্যবসায়ের পরিধি আরও বাড়ায়। বাড়তি কাজ করার জন্য সে তার ভাইকে নিয়োগ করে। এজন্য তাকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণে বেতন দেওয়া হয়। তবে ব্যবসায়ের মালিক সালাম একাই। তাই মুনাফা সে একাই পাবে। এসব বৈশিষ্ট্যের সাথে একমালিকানা ব্যবসায়ের মিল আছে। সুতরাং, সালামের পরিচালিত ব্যবসায়টি একমালিকানা সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকের সালামের ভাই ব্যবসায়টির মালিক না হওয়ায় তার মুনাফা দাবির বিষয়টি অযৌক্তিক বলে আমি মনে করি।
একমালিকানা ব্যবসায়ের মালিক নিজ দায়িত্বে ব্যবসায় পরিচালনা করে। প্রয়োজনে কর্মচারী সাথে নিয়ে সে ব্যবসায়িক কাজ করতে পারে। তবে ব্যবসায়ে মুনাফা বা ক্ষতি যা-ই হোক, মালিক একাই তা বহন করে।
উদ্দীপকের সালামের স্টেশনারি দোকানটি কলেজের কাছে অবস্থিত। তার সততা ও দক্ষতার কারণে ব্যবসায়টি লাভজনক হয়ে ওঠে। এজন্য সে ব্যবসায়টির পরিধি আরও বাড়ায়। পণ্য কেনা-বেচার পাশাপাশি সে ফটোকপি, কম্পোজ, প্রিন্ট প্রভৃতি কাজ করে। ব্যবসায়ের কাজ বেড়ে যাওয়ায় সে মাসিক নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার বিনিময়ে তার ভাইকে নিয়োগ করে। কিন্তু, বছর শেষে তার ভাই মুনাফা দাবি করে।
একমালিকানা ব্যবসায়ে মালিক তার কাজে সহযোগিতার জন্য কর্মচারী নিয়োগ করতে পারে। এক্ষেত্রে সালাম তার ভাইকে নিয়োগ করেছে। এজন্য সালাম তার ভাইকে নির্দিষ্ট পরিমাণে মাসিক বেতনও দেয়। তার ভাই এ ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করেনি। তাই সে এ ব্যবসায়ের বিনিয়োগকারী বা অংশীদার নয়। আর একমালিকানা ব্যবসায়ের মুনাফা মালিক একাই পায়। এজন্য সালামের ভাই মুনাফার কোনো অংশ পাওয়ার অধিকার রাখে না। অতএব, ব্যবসায়টির মুনাফার ওপর সালামের ভাইয়ের কোনো অধিকার নেই।
Related Question
View Allএকমালিকানা ব্যবসায়ের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন করা।
একমালিকানা ও অংশীদারি ব্যবসায়ের একটি পার্থক্য হলো:
এ ব্যবসায়ের মালিক একাই ব্যবসায় পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। অপরদিকে, অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদারগণ যৌথভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করে থাকেন।
আবিরের ব্যবসায়টি একমালিকানা সংগঠন হওয়ায় এর স্থায়িত্বের কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এ ব্যবসায় একক ব্যক্তির মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়। মালিক কোনো কারণে ব্যবসায় পরিচালনায় ব্যর্থ হলে এ ব্যবসায়ের বিলোপ ঘটে। এজন্য এ ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়।
উদ্দীপকের আবির কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের কাছে ছোট একটি চায়ের দোকান খুলে কর্মজীবন শুরু করেন। দোকানটি তিনি নিজেই পরিচালনা করেন। কোনো অংশীদার কিংবা কর্মচারী না থাকায় সব কিছু তাকেই তত্ত্বাবধান করতে হয়। কোনো কারণে দোকান খুলতে না পারলে সেদিন তাকে ব্যবসায় বন্ধ রাখতে হয়। দোকানটি খোলা কিংবা বন্ধ রাখা তার ব্যক্তিগত সুবিধা-অসুবিধার ওপর নির্ভরশীল। তাই আবিরের চায়ের দোকানের স্থায়িত্ব সবসময়ই অনিশ্চিত থাকে।
সাংগঠনিক ধরন বিবেচনায় আবিরের ব্যবসায়টি একমালিকানা ব্যবসায়; যা কম ঝুঁকিপূর্ণ অথচ অসীম দায়সম্পন্ন।
এ ব্যবসায় স্বল্প পুঁজি ও দৈনন্দিন চাহিদা আছে এমন পণ্য নিয়ে সহজেই গঠন করা যায়। তাই এ ব্যবসায় কম ঝুঁকিপূর্ণ। তবে এ ব্যবসায়ের লাভ হলে মালিক সম্পূর্ণ মুনাফা পায়। আবার লোকসান হলেও সম্পূর্ণটাই তাকে বহন করতে হয়। এজন্য এ ব্যবসায়ের ঝুঁকি কম হলেও মালিকের দায় অসীম হয়।
উদ্দীপকের আবিরের চায়ের দোকানটি একটি একমালিকানা ব্যবসায়। এ ব্যবসায়টি কম ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ ব্যবসায়টির পুঁজি স্বল্প। ব্যবসায়ের সব লাভ তিনি একাই ভোগ করেন। তবে লোকসান হলে সব দায়- দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে। কারণ ব্যবসায়ে লাভ-লোকসান যা-ই হোক তার কারণেই হয়।
ব্যবসায়ে ক্ষতি হলে প্রয়োজনে আবিরকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে হলেও দায় পরিশোধ করতে হবে। এ কারণেই ব্যবসায়ের ধরন বিবেচনায় আবিরের চায়ের দোকানে ঝুঁকি কম থাকলেও দায় অসীম হয়।
ব্যবসায় সংগঠন পাঁচ প্রকার।
একক ব্যক্তির মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ব্যবসায়ই হলো একমালিকানা ব্যবসায়।
একমালিকানা ব্যবসায়ের মালিক নিজেই এর নিয়ন্ত্রক। ব্যবসায়ে অন্য কোনো অংশীদার না থাকায় যাবতীয় দায়-দেনার জন্য মালিক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকে। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে হলেও তাকে ব্যবসায়ের দায়-দেনা পরিশোধ করতে হয়। এ জন্যই বলা হয়, একমালিকানা ব্যবসায়ে মালিকের দায় অসীম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
