ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে যাবতীয় বিষয় সংবলিত জ্ঞানই ইসলামি শিক্ষা।
মৌলিক ও তাত্ত্বিক দিক থেকে ধর্মের সাথে নৈতিকতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ধর্মের মূল কথা হলো- সংঘাত নয়, সমঝোতা। সম্প্রদায়িকতা নয়, সহমর্মিতা। যুদ্ধ নয়, শান্তি আর বন্ধুত্ব। হিংসা নয় সদাচরণ। পরনিন্দা নয়, আত্মসমালোচনা। আর এ বিষয়গুলো নৈতিকতার দিক নির্দেশক। তাই আমরা বলতে পারি- ইসলাম ও নৈতিকতা পরস্পরের পরিপূরক।
সালাম সাহেবের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শিশু শিক্ষার প্রতিষ্ঠান। গ্রামের শিশুরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরুর পূর্বে সালাম সাহেবের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকেন। আর তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদানের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন মসজিদের ইমাম সাহেব।
প্রায় প্রতিটি গ্রামেই শিশুদেরকে স্কুলের জন্য প্রস্তুতকরণের জন্য সাধারণত গ্রামের মসজিদের ইমাম কর্তৃক পরিচালিত হয় 'মক্তব'। সাধারণত মসজিদ, বৈঠকখানা বা অন্য কোনো সুবিধাজনক জায়গায় এরকম প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। আর পরিচালিত হয় কোনো ধনাঢ্য এলাকাবাসীর নিজস্ব উদ্যোগে ও আর্থিক সহায়তায়। এখানে শিশুরা অক্ষরজ্ঞানের পাশাপাশি ইসলামের বুনিয়াদি শিক্ষা পেয়ে থাকে। এটি ইসলামি ও সাধারণ শিক্ষার প্রাথমিক স্তর। কোমলমতি শিশুদের যেমন এখানে হাতেখড়ি হয়, তেমনি নিরক্ষর বয়স্ক মানুষও পেতে পারে স্বাক্ষর জ্ঞানসহ শিক্ষার প্রয়োজনীয় আলো।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সালাম সাহেবের প্রতিষ্ঠানটিও অনুরূপ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যা তার একান্ত ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হচ্ছে। আর এর পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন গ্রামেরই ইমাম সাহেব।
রফিক সাহেবের কর্মকাণ্ড ইসলামি সংস্কৃতি বিরোধী, যা সমাজে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। মুসলিম জাতির জাতীয় ও ব্যক্তিজীবনে ইসলামি সংস্কৃতির অনুসরণ, খুবই জরুরি। এ সংস্কৃতি মূলত ইসলামি বিধিবিধানের ব্যবহারিক দিক। এ সংস্কৃতি রাসুল (স)-এর জীবনাদর্শভিত্তিক। সেজন্য এ সংস্কৃতির অনুশীলন মানে আল্লাহ তায়ালা প্রিয় হাবিবের জীবনাদর্শেরই অনুশীলন। এর অনুশীলনে রাসুলপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এর মাধ্যমে ব্যক্তি, আল্লাহ তায়ালা এবং রাসুল (স)-এর ভালোবাসা অর্জন করতে পারে। ইসলামি সংস্কৃতির অনুশীলন হলো দেখা হলে সালাম দেয়া, ইসলামি বিধান মেনে চলা, ইসলামি অনুষ্ঠানাদিতে কুরআন তেলাওয়াত, দরুদ তেলাওয়াত করা। নাচগান ও অনৈসলামিক কার্যকলাপ পরিহার করা ইত্যাদি।
উদ্দীপকের রফিক সাহেবের যে কর্মকাণ্ড ইসলামবিরোধী ও সমাজে এর বিরূপ বা মন্দ প্রভাব পড়বে এবং মুসলমানদেরকে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে দেবে। সুতরাং দুনিয়া ও আখিরাতে প্রকৃত কল্যাণের অধিকারী হতে চাইলে রফিক সাহেবের কর্মকাণ্ড পরিহারের বিকল্প নেই। আমাদের সকলেরই উচিত পরিপূর্ণভাবে ইসলামের অনুসরণ করা। আল্লাহ ও রাসুল (স)-এর অনুগ্রহ লাভই হলো একজন মুসলমানের চূড়ান্ত সাফল্য। আর তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইসলামি সংস্কৃতির রঙে নিজেকে রাঙিয়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
Related Question
View Allকযে শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামকে একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা দেওয়া হয় তাকে ইসলাম শিক্ষা বলে। বলে
ইসলাম শিক্ষা আল্লাহর একত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় একে তাওহিদভিত্তিক শিক্ষা বলা হয়।
'তাওহিদ' শব্দের অর্থ একত্ববাদ। ইসলাম শিক্ষার মূলকথা হলো- لا اله الا الله অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা এবং ইবাদত ও আনুগত্যের যোগ্য এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে মুখে স্বীকার ও অন্তরে বিশ্বাস করার নাম তাওহিদ। পৃথিবীতে যত নবি- রাসুল এসেছেন তাদের প্রত্যেকেই এই তাওহিদের দাওয়াত দিয়েছেন। তাওহিদে বিশ্বাস ছাড়া কোনো ব্যক্তিই মুমিন বা মুসলমান হতে পারে না। এজন্যই ইসলাম শিক্ষা তাওহিদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
ছকে 'ক' দলের আলোচিত বিষয়গুলো ইসলাম শিক্ষার ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যকে বোঝায়।
ইসলাম শিক্ষায় ইসলামকে একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা দেওয়া হয়। এ শিক্ষার সাধারণত দুই ধরনের উদ্দেশ্য রয়েছে। যথা- ধর্মীয় ও সামাজিক। ধর্মীয় উদ্দেশ্যগুলো হলো- আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করা, তাঁর ওপর ইমান আনা এবং ইবাদতের পদ্ধতি ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানা। যথাযথভাবে আল্লাহর ইবাদত করা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের ক্ষেত্রে ইসলামের বিধিবিধান মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে বান্দার সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। ছকে 'ক' 'দলের শিক্ষার্থীদের আলোচনায় এ বিষয়গুলোই ফুটে উঠেছে।
ইসলাম শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো ইসলামকে সঠিকভাবে জানা এবং বাস্তব জীবনে তা মেনে চলার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি সৃষ্টিকর্তা, রিজিকদাতা, আইন প্রণেতা এবং সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী একমাত্র সত্তা। তিনি অনাদি এবং অনন্ত। আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ এবং তার পূর্ণ আনুগত্যের শিক্ষা দেওয়াও ইসলাম শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' দলের আলোচিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে ইসলাম শিক্ষার ধর্মীয় উদ্দেশ্যগুলোই বোঝানো হয়েছে।
'খ' দলের আলোচনায় ইসলাম শিক্ষার দু'ধরনের উদ্দেশ্যের মধ্যকার সামাজিক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আর আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীতে মানুষের বিশেষ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। ইসলাম শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ সেসব দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করতে পারে। যা ছকের 'খ' দলের আলোচনায় ফুটে উঠেছে।
ইসলাম শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর দীন ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করা। তাছাড়া এ শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো- মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া, ভালো কাজের আদেশ দেওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা। সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করা মুসলমানদের পবিত্র দায়িত্ব। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, 'তোমরা উত্তম জাতি। মানুষের কল্যাণের জন্যই তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে ও মন্দকাজে নিষেধ করবে' (সুরা আলে ইমরান: ১১০)। ইসলাম শিক্ষার অন্যতম সামাজিক উদ্দেশ্য হলো হালাল-হারাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানার্জন করা। এর ফলে ব্যক্তি হালাল উপার্জন করতে উৎসাহিত হবে এবং হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকবে। কেননা হালাল উপার্জন, ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত। ইসলামের শিক্ষা সঠিকভাবে মেনে চলার মাধ্যমে পরকালীন মুক্তির পাশাপাশি দুনিয়ার জীবনেও কল্যাণ লাভ করা যায়।
উদ্দীপকের 'খ' দলের শিক্ষার্থীদের আলোচনায় উপরের বিষয়গুলোই ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, তাদের আলোচনায় ইসলাম শিক্ষার সামাজিক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে।
ইসলামি সংস্কৃতির উৎস হলো- কুরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াস।
দুনিয়ার কল্যাণ ও আখিরাতের মুক্তির জন্য ইসলামে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব অপরিসীম।
ইসলামে জ্ঞানার্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত মানুষ ও পূর্ণাঙ্গ মুসলিম হওয়ার জন্য জ্ঞানার্জনের বিকল্প নেই। আল-কুরআনের বহু আয়াতে এবং রাসুলুল্লাহ (স)-এর বিভিন্ন হাদিসে জ্ঞানার্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসলামের মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ। সৃষ্টির শুরুতে ফেরেশতাদের ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার মূলেও ছিল জ্ঞান। ইসলামের সঠিক জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজেকে পাপমুক্ত করে জান্নাতের উপযুক্ত করে গড়ে তোলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!