"সমাজবিজ্ঞান একমাত্র বিজ্ঞান যা সমাজ এবং সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে অধ্যয়ন করে।"- সংজ্ঞাটি সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার ও পেজের।
সমাজবিজ্ঞানে গোটা সমাজের নিখুঁত বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা থাকে বলে সমাজবিজ্ঞানকে বিশ্লেষণধর্মী বিজ্ঞান বলা হয়।
আমরা জানি, সমাজবিজ্ঞান কেবল সমাজের প্রপঞ্জ বা ঘটনাবলির আলোচনাই করে না, বরং ঐ প্রপঞ্চ বা ঘটনাসমূহের মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের প্রচেষ্টাও চালায়। এক্ষেত্রে যুক্তিবাদী বিচার- বিশ্লেষণের সহায়তা নেয়া হয়। তাই সমাজবিজ্ঞানকে একটি বিশ্লেষণধর্মী বিজ্ঞান বলা হয়।
উদ্দীপকের সালাম সাহেবের ছেলের আচরণ সমাজবিজ্ঞানের 'অপরাধ সমাজবিজ্ঞান' শাখায় আলোচনা করা হয়।
অপরাধ, অপরাধ প্রবণতা, দারিদ্র্য, কিশোর অপরাধ, ভদ্রবেশী অপরাধ, অপরাধ সংঘটনে পরিবেশের প্রভাব, অপরাধের কারণ, অপরাধের তত্ত্ব, অপরাধের স্বরূপ, পতিতাবৃত্তি, সামাজিক স্থিতিশীলতা ভেঙে পড়া প্রভৃতি বিষয়ের আলোচনার জন্য অপরাধ সমাজবিজ্ঞান নামে সমাজবিজ্ঞানে আলাদা একটি ক্ষেত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সালাম সাহেব পরিবার-পরিজন নিয়ে শহরে বাস করেন। তাঁর একমাত্র কলেজপড়য়া ছেলে পাড়ার বন্ধুদের সাথে মিলে ধুমপানে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। মাঝেমধ্যে বাবার অজান্তে তাঁর পকেট থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে থাকে এবং দেরি করে বাড়ি ফেরে। সালাম সাহেবের ছেলে যেহেতু কলেজে পড়ে, সেহেতু বয়স বিচারে আমরা তাকে কিশোর বলতে পারি। আর তার সংঘটিত কাজগুলোও কিশোর অপরাধের অন্তর্ভুক্ত। তাই আমরা বলতে পারি, সালাম সাহেবের ছেলে কিশোর অপরাধী। আর কিশোর অপরাধের কারণ, প্রকৃতি ও ফলাফল নিয়ে অপরাধ সমাজবিজ্ঞান বিস্তারিত আলোচনা করে।
উদ্দীপকের সালাম সাহেবের ছেলের ঘটনা বর্ণনার মাধ্যমে কিশোর অপরাধকে নির্দেশ করা হয়েছে। আর এ ধরনের সমস্যা সমাধানে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আমি মনে করি।
আমরা জানি, সমাজবিজ্ঞান সমাজের বিভিন্ন সমস্যার কারণ এবং তা সমাধানের উপায় সম্পর্কে আলোচনা করে থাকে। উদ্দীপকের সালাম সাহেবের ছেলে কিশোর অপরাধের সাথে যুক্ত। এক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞান তার অপরাধের সাথে যুক্ত হওয়ার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে পারবে। এছাড়া তার অপরাধী হওয়ার পেছনে পরিবার ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশের প্রভাব কতটুকু সে সম্পর্কেও সঠিক তথ্য খুঁজে বের করতে পারবে। অপরাধের যথার্থ কারণ খুঁজে বের করার পর সমাজবিজ্ঞান তা সমাধানে উপযুক্ত উপায় সম্পর্কে জ্ঞানদান করে। কীভাবে সালাম সাহেবের ছেলেকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে, সে সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞান কার্যকরী উপায় সম্পর্কে ধারণা দিতে পারবে। সমাজবিজ্ঞানের এ উপায়ের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে সালাম সাহেবের ছেলেকে কিশোর অপরাধ থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞান পরিবারের ভূমিকার ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করবে। অনেক সময় দেখা যায়, সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পর সঠিক পরিচর্যা ও তত্ত্বাবধানের অভাবে কিশোর অপরাধীরা পুনরায় অপরাধকর্মে জড়িয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে সালাম সাহেবের ছেলে যাতে পুনরায় অপরাধকর্মে জড়িয়ে না পড়ে সে সম্পর্কেও সমাজবিজ্ঞান করণীয় আলোচনা করে থাকে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান সালাম সাহেবের ছেলের আচরণের পরিবর্তন ঘটিয়ে তাকে সমাজে পুনর্বাসিত করতে পারবে বলে আমি মনে করি।
Related Question
View Allধর্মের উৎপত্তি সংক্রান্ত একটি মতবাদ হলো সর্বপ্রাণবাদ।
ধর্ম হলো পবিত্র বস্তু সম্পর্কিত কতগুলো বিশ্বাস ও প্রথার সমষ্টি ।
মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই অতিমাত্রায় কোনো শক্তির উপর ভর বা বিশ্বাস করে মনস্তাত্ত্বিক পরিতৃপ্তির সাথে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে আসছে। ধর্ম জ্ঞান অপেক্ষা বিশ্বাস দ্বারা অধিকতর নিয়ন্ত্রিত। বিপদ-আপদ থেকে মুক্তির আশায় মানুষ প্রার্থনা করে। ধর্ম যেহেতু মনস্তাত্ত্বিক বিষয় দ্বারা অধিকতর নিয়ন্ত্রিত সেহেতু এটি মানসিক শান্তি প্রদান করে।
উদ্দীপকে সংঘটিত অপরাধের জন্য অর্থনৈতিক কারণ দায়ী।
অপরাধের একটি অন্যতম কারণ হলো অর্থনীতি। যেমনটি মার্কস বলেছেন পুঁজিবাদী অর্থনীতির শোষণের ফলশ্রুতিই অপরাধ। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সমাজে আর্থিক অনটন দেখা গেলে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যায়। গরিব শ্রেণির মানুষের মধ্যে অপরাধী বেশি দেখা যায়। কারণ ধন-সম্পদের অধিকারীরাই আইন প্রণয়ন করে এবং অপরাধীদের বিচার তাদের এখতিয়ারে। তাই তারা অপরাধ করেও শাস্তি ভোগ থেকে রেহাই পেতে পারে। আর গরিবরা অনেক সময় আর্থিক কারণে অপরাধ করে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে যেমন অপরাধ সংঘটিত হতে পারে তেমনি অত্যধিক ধন লাভের আকাঙ্ক্ষা থেকেও অপরাধ সংঘটিত হতে পারে আর্থ- সামাজিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত মানুষের একটি অংশ তাদের পেশাগত কাজের মাধ্যমে অপরাধ করে থাকে যাকে ভদ্রবেশী অপরাধ বলে। যেমন- ঘুষ, দুর্নীতি ইত্যাদি।
উদ্দীপকের রহমত তার স্বল্প উপার্জনে পরিবারের ব্যয়ভার চালাতে সক্ষম হলেও অসুস্থ বাবার চিকিৎসা খরচ চালাতে ব্যর্থ হয়। বাবার চিকিৎসার অর্থ যোগানের জন্যই সে টাকা চুরি করে। অতএব এ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, রহমতের অপরাধ সংগঠনের পিছনে অর্থনৈতিক কারণটিই দায়ী।
উদ্দীপকে রহমতের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সমাজজীবনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জানো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের মাঝে শৃঙ্খলা থাকা প্রয়োজন। তাই প্রতিটি সমাজে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা প্রচলিত থাকে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণ মূলত দুটি মাধ্যমে তথা আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে হতে পারে। এক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষা, ধর্ম, মূল্যবোধ, রীতিনীতি, আইন, প্রথা প্রভৃতি মাধ্যম ভূমিকা রাখে। সমাজের প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পরিবারের আদর্শ, মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা, জীবনযাপন পদ্ধতি ব্যক্তির জীবনে স্থায়ী ছাপ ফেলে যা সামাজিক জীবনকেও প্রভাবিত করে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণের আরেকট গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো শিক্ষা। শিক্ষা মানুষকে ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দের ভেদাভেদ শেখায় এবং তাঁর পারিবারিক ও সামাজিক আদর্শ-মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। ফলশ্রুতিতে মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ, রীতি-নীতি সমাজ কাঙ্ক্ষিত পন্থায় গড়ে ওঠে। এছাড়া সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিটি ধর্মেরই সর্বজনীন আবেদন থাকে যা মানুষকে ন্যায়ের পথে এগিয়ে যেতে এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকতে উৎসাহ যোগায়। সুষ্ঠু সমাজজীবনের স্বার্থে একটি সমাজে আইন ব্যবস্থা প্রচলিত হয়। আইন প্রণয়নের মাধ্যমে আইন অমান্যকারীর শাস্তির বিধান করা হয়, যা সামাজিক নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়। এছাড়া এসকল বিষয় ছাড়াও ব্যক্তির নিজস্ব মূল্যবোধ, আদর্শ, রীতি-নীতির পাশাপাশি সমাজের আদর্শ স্থানীয় ব্যক্তিত্ব, লোকাচার ও লোকরীতি, প্রচার ও বিজ্ঞাপন প্রকৃতি সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।
উদ্দীপকে রহমত টাকা চুরি করার পর পত্রিকায় একজন রিকশাচালকের সততার সংবাদ পড়ে অনুপ্রাণিত হয়। যার ফলে সে সিদ্ধান্ত নেয় চুরি করা টাকা পুনরায় নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দিবে। রহমতের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হিসেবে তার নিজস্ব মূল্যবোধ, রীতি-নীতি, আদর্শ স্থানীয় ব্যক্তিত্ব, প্রচার মাধ্যম ভূমিকা রেখেছে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ব্যক্তিকে সমাজ স্বীকৃত রীতিনীতির মাধ্যমে সমাজে বসবাসের উপযুক্ত করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমগুলোর উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিদ্যমান।
"সমাজবিজ্ঞান একমাত্র বিজ্ঞান যা সমাজ এবং সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে অধ্যয়ন করে।"- সংজ্ঞাটি সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার ও পেজের।
সমাজবিজ্ঞানে গোটা সমাজের নিখুঁত বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা থাকে বলে সমাজবিজ্ঞানকে বিশ্লেষণধর্মী বিজ্ঞান বলা হয়।
আমরা জানি, সমাজবিজ্ঞান কেবল সমাজের প্রপঞ্জ বা ঘটনাবলির আলোচনাই করে না, বরং ঐ প্রপঞ্চ বা ঘটনাসমূহের মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের প্রচেষ্টাও চালায়। এক্ষেত্রে যুক্তিবাদী বিচার- বিশ্লেষণের সহায়তা নেয়া হয়। তাই সমাজবিজ্ঞানকে একটি বিশ্লেষণধর্মী বিজ্ঞান বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!