দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতার প্রধান লক্ষণ হলো চোখে দেখতে না পাওয়া বা দৃষ্টিজনিত সমস্যা।
সাধারণত যারা চোখে দেখতে পায় না তাদেরই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বলে।
এদের দৃষ্টি সংবেদন থাকে বা দূরের অথবা কাছের জিনিস দেখতে সমস্যা হয়, চোখ ঘন ঘন রগড়াতে থাকে। এসকল বৈশিষ্ট্যের আলোকে সালেহাকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হিসেবে শনাক্ত করা যায়।
সালেহা দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা জনিত সমস্যায় ভুগছে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে যেসকল লক্ষণগুলো দেখা যায় তার মধ্যে কতিপয় সালেহার মধ্যে বিরাজমান। যেমন- প্রায়ই চোখ ফুলে যাওয়া, চোখ ঘন ঘন রগড়ানো, চোখ কুঁচকিয়ে বক্র দৃষ্টিতে টিভি দেখা ইত্যাদি। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের মধ্যে দূরের জিনিস দেখতে সমস্যা হওয়া ছাড়াও কিছু আচরণ দেখে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা যায়। যেমন- চোখের পাতা লাল হওয়া, বক্র দৃষ্টি, চোখের দ্রুত নড়াচড়া, চোখে ব্যথা, মাথা ব্যথা, বর্ণ উল্টো দেখা, অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা ইত্যাদি। যেহেতু সালেহার সমস্যাগুলো স্কুলে যাওয়ার আগেই দেখা দিয়েছিল এবং এগুলো দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতার লক্ষণের সাথে সম্পৃক্ত ছিল তাই শিক্ষকের পূর্বে সালেহার মায়ের সালেহার দৃষ্টিশক্তির সমস্যা চিহ্নিত করা উচিত ছিল।
যারা চোখে দেখতে পায় না তাদেরকেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বলা হয়। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের ক্ষেত্রে শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষা উপকরণ অথবা শিক্ষার পরিবেশের পরিবর্তন করা না হলে শিশুর সর্বোচ্চ শিক্ষণ ও সাফল্য অর্জন সম্ভব হয় না।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতার মাত্রার ভিত্তিতে বিশেষ ধরনের শিক্ষাদান পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। যেমন-
১. ব্রেইলভিত্তিক লিখন ও পঠন পদ্ধতি: দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুরা চোখে দেখার মাধ্যমে লিখতে ও পড়তে পারে না সেজন্য বিশেষ পদ্ধতিতে লেখা ও পড়া শিক্ষা দেওয়া হয়। ব্রেইল নামের এ পদ্ধতিতে স্পর্শের মাধ্যমে অনুভব করার উপযোগী উঁচু ফোঁটা ব্যবহার করা হয়। এ পদ্ধতিতে মোট ৬টি উঁচু ফোঁটা দিয়ে সকল বর্ণ ও সংখ্যা তৈরি করে লেখা ও পড়ার ব্যবস্থা করা যায়। ছোট বয়স থেকেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের ব্রেইল পদ্ধতির মাধ্যমে লেখা ও পড়ার শিক্ষা দেওয়া যায়। টাইপ রাইটার ধরনের মেশিনে ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখা যায় এবং স্লেট ও শক্ত কাঠি দিয়েও লেখা যায়। এজন্য কিছুটা মোটা কাগজ ব্যবহার করা হয়। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুরা হাত দিয়ে স্পর্শ করে লেখা পড়তে পারে।
২. অপটাকন ও কারজওয়েল রিডিং মেশিনভিত্তিক পঠন পদ্ধতি: অপটাকন নামক ইলেকট্রনিক যন্ত্র দিয়ে সাধারণ ছাপার লেখা ব্রেইল পদ্ধতির স্পর্শযোগ্য অনুভূতি তৈরি করা যায়। এ যন্ত্র ব্যবহার করে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুরা সাধারণ ছাপার বইপত্র পড়তে পারে। অপটাকন যন্ত্রটি টাইপ রাইটার, ক্যালকুলেটর বা কম্পিউটার যন্ত্রের সাথে ব্যবহার করা যায়। কারজওয়েল রিডিং মেশিন সাধারণ ছাপার লেখা শব্দ উচ্চারণ করে শোনাতে পারে।
Related Question
View Allমানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতা ০-২৬ ডেসিবল।
প্রতিটি প্রতিবন্ধী শিশুকে তার ক্ষমতার পূর্ণ বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া আবশ্যক। তাই তাদের শিক্ষার বিকল্প নেই। প্রতিবন্ধীদের শিক্ষাদানের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিবন্ধীদের সমাজের মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসা, সুপ্ত ক্ষমতার পূর্ণ বিকাশ, আত্মবিশ্বাস অর্জন এবং স্বনির্ভর জীবনযাপনের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে অবদান রাখা।
ডাক্তার ইমনের মধ্যে শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা খুঁজে পেলেন। শ্রবণ প্রতিবন্ধী তাদের বলা হয় যারা বধির এবং কানে শোনে না। কান ও শ্রবণ সংবেদন পরিবাহী অঙ্গের কোনো প্রকার ক্ষতির জন্য শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা দেখা দেয়।
শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার মাত্রাভেদে কথা শোনা ও কথা বলার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। কোনো শিশুর ০ থেকে ২৬ ডেসিবল পর্যন্ত শ্রবণ অক্ষমতা থাকলে তাদের শ্রবণে সমস্যা হয় না বলে তাদের স্বাভাবিক শ্রবণক্ষমতা সম্পন্ন হিসাবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ২৬ ডেসিবল এর চেয়ে তীব্র শব্দগুলো শুনতে সমস্যা হলে সে অবস্থাকে শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা বলা হয়। ইমনের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাকে বার বার ডাকার পর সে সাড়া দেয়। অর্থাৎ সাধারণ ডেসিবলের শব্দ সে শুনতে পায় না। সে যেহেতু স্বাভাবিক মাত্রার শব্দ শুনতে পায় না তাই জোরে বাড়িয়ে টিভি দেখে ও তার উচ্চারণের ক্ষেত্রেও অস্পষ্টতা দেখা যায়। এসকল বৈশিষ্ট্যই একজন শ্রবণ প্রতিবন্ধীর মধ্যে লক্ষ করা যায়। তাই বলা যায়, ইমন একজন শ্রবণ প্রতিবন্ধী।
ইমন যেহেতু শ্রবণ প্রতিবন্ধী তাই তাকে শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার মাত্রা অনুসারে শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
ইমনের মতো শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষকের দরকার। শ্রবণ সহায়ক যন্ত্র ব্যবহার করে বা না করে কেবল কানের সাহায্যে যারা অন্যের কথা শুনতে পায় না, তাদের শ্রবণ প্রতিবন্ধী বলে।
শিক্ষক যদি ধীরে ও উচ্চ স্বরে প্রতিবন্ধী শিশুর মনোযোগ আকর্ষণ করে কথা বলেন তবে তা শিশুর শিক্ষা গ্রহণের পক্ষে সহায়ক হবে। গুরুতর ও মধ্যম মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে ইশারা ভাষা শিক্ষা দিতে হবে। এছাড়াও সকল ধরনের শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুকে ওষ্ঠপাঠ বিষয়ে শিক্ষা দিলে তাদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সহজ হয়। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির শ্রবণ সহায়ক বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র পাওয়া যায়। শিশুর প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী এ রকম যন্ত্র ব্যবহার করতে দেয়া যায়। তবে শ্রবণ যন্ত্র দেয়া হলে তা ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেয়াও জরুরি।
উপরিউক্ত শিক্ষা পদ্ধতিগুলো প্রয়োগের মাধ্যমে শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের শিক্ষাদান করা যাবে।
অটিজমের ক্ষেত্রে মেয়ে ও ছেলে শিশুর অনুপাত প্রায় ১ : ৪।
প্রতিবন্ধী শিশুরা স্বাভাবিক শিশুদের মতো হয় না। সমাজের মানুষের শিক্ষা সচেতনতার অভাবের কারণে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অভিভাবকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তাদের আচরণের অস্বাভাবিকতার কারণে এসব শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের রাস্তাঘাটে চলাচলে, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে কিংবা যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে নানা ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!