সালে আসামের শিলচর শহরে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দাবির আন্দোলনে এক তরুণীসহ ১১ জন নিহত হয়। তাদের আন্দোলনের দরুন বাংলা ভাষা শুধু আসামের রাজ্যভাষা হিসেবেই নয় পশ্চিমবঙ্গের প্রধান ভাষা ও ভারতবর্ষের প্রধান ৫টি ভাষার একটি হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পায়। ক. পঞ্চাশের দশকব্যাপী 

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

পঞ্চাশের দশকব্যাপী বাঙালিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতিকাল ছিল।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

মুসলিম লীগের অগণতান্ত্রিক আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে সংস্কারপন্থিরা আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করে।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মুসলিম লীগের পশ্চিম পাকিস্তানি মদদপুষ্ট প্রতিক্রিয়াশীল অংশ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ও সংস্কারপন্থি অংশটির ওপর নানাভাবে দমনপীড়ন চালাতে থাকে। ফলে সংস্কারপন্থিরা মুসলিম লীগের দ্বিজাতি তত্ত্বের ধ্যানধারণা থেকে বের হয়ে অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে ১৯৬১ সালে আসামের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সাথে বাংলাদেশের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সামঞ্জস্য রয়েছে। ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রয়েছে বাংলাদেশের দামাল ছেলেদের আত্মত্যাগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।

পাকিস্তান সৃষ্টির আগেই এ রাষ্ট্রের ভাষা কী হবে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ১৯৪৭ সালে এপ্রিল মাসে পাকিস্তান নামক একটি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা যখন প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়, তখনই বিতর্কটি পুনরায় শুরু হয়। ১৯৪৭ সালের ১৭ই মে চৌধুরী খলীকুজ্জামান এবং জুলাই মাসে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দিলে ভাষাবিজ্ঞানী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও ড. মুহাম্মদ এনামুল হকসহ বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবী এর প্রতিবাদ করেন। ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত এক শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে পূর্ব বাংলায় তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। ১৯৪৮ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রেসকোর্স ময়দানে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে ছাত্রসমাজ ও সর্বস্তরের জনগণ প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। সর্বশেষ ১৯৫২ সালে পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন পল্টন ময়দানে জিন্নাহর অনুকরণে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করলে আন্দোলন চূড়ান্ত পরিণতির দিকে অগ্রসর হয়। এক পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলার দামাল ছেলেদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে।

অতএব বলা যায়, আসামের আন্দোলনের সাথে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের ঘটনাটির মতো বাংলাদেশে সংঘটিত আন্দোলনটি হচ্ছে ভাষা আন্দোলন; যা বাঙালি জাতির মুক্তির প্রথম আন্দোলন হিসেবে বিবেচিত।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালি জাতিকে সুনজরে দেখেনি। বাঙালি জাতির ওপর আধিপত্য বিস্তারের বিশেষ পাঁয়তারা চলছিল। তারা চেয়েছিল বাঙালি জাতির ভাষা ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিতে। ফলে পূর্ব বাংলায় সুসংগঠিত আন্দোলন শুরু হয়। এমতাবস্থায় ১৯৪৮ সালে ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেন। পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এক পর্যায়ে শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জোর প্রচেষ্টা চালায়। কিন্তু গণবিস্ফোরণের কাছে শাসকগোষ্ঠী মাথানত করতে বাধ্য হয়। তারা বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষারূপে মেনে নিতে বাধ্য হয়। অবশেষে ১৯৫৬ সালের পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানে বাংলাকে উর্দুর পাশাপাশি রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

ভাষা আন্দোলন মূলত সাংস্কৃতিক আন্দোলন হলেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর গুরুত্ব অপরিসীম ও সুদূরপ্রসারী। এ আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতির প্রথম সফল আন্দোলন, যা বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক স্বাধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়। বাঙালি জাতির মনে রাজনৈতিক সচেতনতা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে। এ আন্দোলন পরবর্তী আন্দোলনকে আরও জোরদার করে তোলে। জাতীয়তাবাদ বিকাশের পথ সুগম হয়।

উপরিউক্ত আলোচনার আলোকে পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনাটির মতো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতির প্রথম মুক্তি আন্দোলন। কারণ এ আন্দোলনের পথ ধরে পরবর্তী রাজনৈতিক আন্দোলনগুলো সংঘটিত হয় এবং বাঙালি জাতি স্বাধীনতা যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
200
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

৬ দফা দাবিনামায় পূর্ব বাংলার জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা তুলে ধরা হয় বলে একে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয়।

ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালির জাতীয় চেতনামূলে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার কথা বলা না হলেও এ ৬ দফা কর্মসূচি বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। এ ছয় দফা দাবির পথ ধরে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। এ কারণে ছয় দফাকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয়।

 

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
323
উত্তরঃ

সারণি-ক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে।

পাকিস্তান সৃষ্টির আগে পূর্ব বাংলা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে অগ্রসর ছিল। কিন্তু ১৯৪৭ সালে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসনশোষণ প্রতিষ্ঠার ফলে পূর্ব পাকিস্তান দ্রুত পিছিয়ে যেতে থাকে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পেতে থাকে দুই অঞ্চলের মধ্যকার বৈষম্য। এসব ক্ষেত্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র অন্যতম। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনীতে বাঙালিদের নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য বিরাজ করছিল। মোট অফিসারের মাত্র ৫%, সাধারণ সৈনিকদের 'মাত্র ৪%, নৌবাহিনীর উচ্চপদে ১৯%, নিম্নপদে ৯%, বিমানবাহিনীর পাইলটদের ১১% এবং টেকনিশিয়ানদের ১.৭% ছিল বাঙালি।

উদ্দীপকের সারণি-ক থেকে উপরোল্লিখিত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের বৈষম্যের চিত্রই দেখতে পাই। অতএব বলা যায়, সারণি-ক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের বৈষম্য ফুটে উঠেছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1.3k
উত্তরঃ

উদ্দীপকে সারণি-খ এ প্রদর্শিত বৈষম্যের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রকৃত অবস্থা ছিল ভয়াবহ বৈষম্যমূলক।

পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে পূর্ব বাংলার চেয়ে পশ্চিম পাকিস্তান অনেক বেশি অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করেছিল। ১৯৫৫-৫৬ থেকে ১৯৫৯-৬০ অর্থবছর পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান লাভ করেছিল মোট বাজেটের বরাদ্দের মাত্র ১১৩ কোটি ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অপরদিকে পশ্চিম পাকিস্তান পেয়েছিল ৫০০ কোটি টাকা। একইভাবে ১৯৬০-৬১ থেকে ১৯৬৪-৬৫ অর্থবছর পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ৬৪৮০ মিলিয়ন টাকা আর পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তা ছিল ২২,২৩০ মিলিয়ন টাকা। পূর্ব বাংলার পাট, চা, চামড়া প্রভৃতি বিদেশে রপ্তানি করে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো, তার সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় হতো। ফলে ব্যবসায় বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, কৃষিসহ অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের চাইতে কয়েকগুণ পিছিয়ে পড়ে।

পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে প্রদর্শিত সারণি-খ এর মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে। এ বৈষম্য ছিল ভয়াবহ ও হতাশাব্যঞ্জক।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1k
উত্তরঃ

বাংলা ভাষা-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বাঙালির জাতিগত পরিচয়ে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে, সে জাতীয় ঐক্যকে বলা হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদ। মূলত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আমাদের মধ্যে যে জাতীয় চেতনার জন্ম হয়, তাই বাঙালি জাতীয়তাবাদ। বাঙালি জাতীয়তাবাদ হচ্ছে বাঙালি জাতির ঐক্যের প্রতীক।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
2.5k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews