'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে উল্লিখিত বিখ্যাত ভাস্করের নাম কী? (জ্ঞানমূলক)

Updated: 7 months ago
উত্তরঃ

সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে উল্লিখিত বিখ্যাত ভাস্করের নাম- ফ্রাঁসোয়া অগুস্ত রোদ্যাঁ।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
115

জগৎ-বিখ্যাত ফরাসি ভাস্কর রোদ্যাঁ, যিনি নিতান্ত জড় প্রস্তরের দেহ থেকে অসংখ্য জীবিতপ্রায় দেবদানব কেটে বার করেছেন তিনিও শুনতে পাই, যখন তখন হাতে কাদা নিয়ে, আঙুলের টিপে মাটির পুতুল ত'য়ের করে থাকেন। এই পুতুল গড়া হচ্ছে তাঁর খেলা। শুধু রোদ্যাঁ কেন, পৃথিবীর শিল্পী মাত্রেই এই শিল্পের খেলা খেলে থাকেন। যিনি গড়তে জানেন, তিনি শিবও গড়তে পারেন, বাঁদরও গড়তে পারেন। আমাদের সঙ্গে বড় বড় শিল্পীদের তফাত এইটুকু যে, তাঁদের হাতে এক করতে আর হয় না। সম্ভবত এই কারণে কলারাজ্যের মহাপুরুষদের যা-খুশি তাই করবার যে অধিকার আছে, ইতর শিল্পীদের সে অধিকার নেই। স্বর্গ হতে দেবতারা মধ্যে মধ্যে ভূতলে অবতীর্ণ হওয়াতে কেউ আপত্তি করেন না, কিন্তু মর্তবাসীদের পক্ষে রসাতলে গমন করাটা বিশেষ নিন্দনীয়। অথচ একথা অস্বীকার করবার জো নেই যে, যখন এ জগতে দশটা দিক আছে তখন সেই সব দিকেই গতায়াত করবার প্রবৃত্তিটি মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক। মন উঁচুতেও উঠতে চায়, নিচুতেও নামতে চায়। বরং সত্য কথা বলতে গেলে সাধারণ লোকের মন স্বভাবতই যেখানে আছে তারই চারপাশে ঘুরে বেড়াতে চায়, উড়তেও চায় না ডুবতেও চায় না। কিন্তু সাধারণ লোকে সাধারণ লোককে কী ধর্ম, কী নীতি, কী কাব্য, সকল রাজ্যেই অহরহ ডানায় ভর দিয়ে থাকতেই পরামর্শ দেয়। একটু উঁচুতে না চড়লে আমরা দর্শক এবং শ্রোতৃমণ্ডলীর নয়ন মন আকর্ষণ করতে পারি নে। বেদীতে না বসলে আমাদের উপদেশ কেউ মানে না। রঙ্গমঞ্চে না চড়লে আমাদের অভিনয় কেউ দেখে না, আর কাষ্ঠমঞ্চে না দাঁড়ালে আমাদের বক্তৃতা কেউ শোনে না। সুতরাং জনসাধারণের চোখের সম্মুখে থাকবার লোভে আমরাও অগত্যা চব্বিশ ঘণ্টা টঙে চড়ে থাকতে চাই, কিন্তু পারি নে। অনেকের পক্ষে নিজেদের আয়ত্তের বহির্ভূত উচ্চস্থানে ওঠবার চেষ্টাটাই মহাপতনের কারণ হয়। এসব কথা বলবার অর্থ এই যে, কষ্টকর হলেও আমাদের পক্ষে অবশ্য মহাজনদের পথ অনুসরণ করাই কর্তব্য। কিন্তু ডাইনে-বাঁয়ে ছোটখাট গলিঘুঁজিতে খেলাচ্ছলে প্রবেশ করবার যে অধিকার তাদের আছে, সে অধিকারে আমরা কেন বঞ্চিত হব। গান করতে গেলেই যে সুর তারায় চড়িয়ে রাখতে হবে, কবিতা লিখতে হলেই যে মনের শুধু গভীর ও প্রখর ভাব প্রকাশ করতে হবে, এমন কোনো নিয়ম থাকা উচিত নয়। শিল্পরাজ্যে খেলা করবার প্রবৃত্তির ন্যায় অধিকারও বড়-ছোট সকলের সমান আছে। এমনকি, একথা বললেও অত্যুক্তি হয় না যে, এ পৃথিবীতে একমাত্র খেলার ময়দানে ব্রাহ্মণশূদ্রের প্রভেদ নেই। রাখাল ছেলের সঙ্গে দরিদ্রের ছেলেরও খেলায় যোগ দেবার অধিকার আছে। আমরা যদি একবার সাহস করে কেবলমাত্র খেলা করবার জন্য সাহিত্যজগতে প্রবেশ করি, তাহলে নির্বিবাদে সে জগতের রাজ-রাজড়ার দলে মিশে যাব। কোনোরূপ উচ্চ আশা নিয়ে সে ক্ষেত্রে উপস্থিত হলেই নিম্নশ্রেণিতে পড়ে যেতে হবে।

লেখকেরাও অবশ্য দশের কাছে হাততালির প্রত্যাশা রাখেন, বাহবা না পেলে মনঃক্ষুণ্ণ হন। কেননা তারাই হচ্ছেন যথার্থ সামাজিক জীব, বাদবাকি সকলে কেবলমাত্র পারিবারিক। বিশ্বমানবের মনের সঙ্গে নিত্য নূতন সম্বন্ধ পাতানোই হচ্ছে কবিমনের নিত্যনৈমিত্তিক কর্ম। এমনকি, কবির আপন মনের গোপন কথাটিও গীতিকবিতাতে রঙ্গভূমির স্বগতোক্তি স্বরূপেই উচ্চারিত হয়, যাতে করে সেই মর্মকথা হাজার লোকের কানের ভিতর দিয়ে মরমে প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু উচ্চমঞ্চে আরোহণ করে উচ্চৈঃস্বরে উচ্চবাক্য না করলে যে জনসাধারণের নয়ন-মন আকর্ষণ করা যায় না, এমন কোনো কথা নেই। সাহিত্যজগতে যাঁদের খেলা করবার প্রবৃত্তি আছে, সাহস আছে, ক্ষমতা আছে, মানুষের নয়ন-মন আকর্ষণ করবার সুযোগ বিশেষ করে তাদের কপালেই ঘটে। মানুষ যে খেলা দেখতে ভালোবাসে তার পরিচয় তো আমরা জড় সমাজেও নিত্য পাই। টাউনহলে বক্তৃতা শুনতেই বা ক'জন যায় আর গড়ের মাঠে ফুটবল খেলা দেখতেই বা ক'জন যায়। অথচ এ কথাও সত্য যে, টাউনহলের বক্তৃতার উদ্দেশ্য অতি মহৎ, আর গড়ের মাঠের খেলোয়াড়দের ছুটোছুটি, দৌড়াদৌড়ি আগাগোড়া অর্থশূন্য এবং উদ্দেশ্যবিহীন। আসল কথা এই যে, মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ, কেননা তা উদ্দেশ্যহীন। মানুষে যখন খেলা করে, তখন সে এক আনন্দ ব্যতীত অপর কোনো ফলের আকাঙ্ক্ষা রাখে না। যে খেলার ভিতর আনন্দ নেই কিন্তু উপরি পাওনার আশা আছে, তার নাম খেলা নয়, জুয়াখেলা। এবং যেহেতু খেলার আনন্দ নিরর্থক অর্থাৎ অর্থগত নয়, সে কারণে তা কারও নিজস্ব হতে পারে না। এ আনন্দে সকলেরই অধিকার সমান।

সুতরাং সাহিত্যে খেলা করবার অধিকার যে আমাদের আছে, শুধু তাই নয়, স্বার্থ এবং পরার্থ এ দুয়ের যুগপৎ সাধনের জন্য মনোজগতে খেলা করাই হচ্ছে আমাদের পক্ষে সর্বপ্রধান কর্তব্য। যে লেখক সাহিত্য ক্ষেত্রে ফলের চাষ করতে ব্রতী হন, যিনি কোনোরূপ কার্য-উদ্ধারের অভিপ্রায়ে লেখনী ধারণ করেন, তিনি গীতের মর্মও বোঝেন না, গীতার ধর্মও বোঝেন না। কেননা খেলা হচ্ছে জীবজগতে একমাত্র নিষ্কাম কর্ম, অতএব মোক্ষলাভের একমাত্র উপায়। স্বয়ং ভগবান বলেছেন, যদিচ তার কোনোই অভাব নেই তবুও তিনি এই বিশ্ব সৃজন করেছেন, অর্থাৎ সৃষ্টি তাঁর লীলামাত্র। কবির সৃষ্টিও এই বিশ্ব সৃষ্টির অনুরূপ, সে সৃজনের মূলে কোনো অভাব দূর করবার অভিপ্রায় নেই-সে সৃষ্টির মূল অন্তরাত্মার স্ফূর্তি আর তার ফল আনন্দ। এক কথায় সাহিত্য সৃষ্টি জীবাত্মার লীলামাত্র এবং সে লীলা বিশ্বলীলার অন্তর্ভূত; কেননা জীবাত্মা পরমাত্মার অঙ্গ এবং অংশ। সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। এ দুয়ের ভিতর যে আকাশ-পাতাল প্রভেদ আছে, সেইটি ভুলে গেলেই লেখকেরা নিজে খেলা না করে পরের জন্যে খেলনা তৈরি করতে বসেন।

সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য যে স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে, তার প্রমাণ বাংলাদেশে আজ দুর্লভ নয়। কাব্যের ঝুমঝুমি, বিজ্ঞানের চুষিকাঠি, দর্শনের বেলুন, রাজনীতির রাঙালাঠি, ইতিহাসের ন্যাকড়ার পুতুল, নীতির টিনের ভেঁপু এবং ধর্মের জয়ঢাক-এইসব জিনিসে সাহিত্যের বাজার ছেয়ে গেছে। সাহিত্যরাজ্যে খেলনা পেয়ে পাঠকের মনতুষ্টি হতে পারে, কিন্তু তা গড়ে লেখকের মনতুষ্টি হতে পারে না। কারণ পাঠক সমাজ যে খেলনা আজ আদর করে, কাল সেটিকে ভেঙে ফেলে। সে প্রাচ্যই হোক আর পাশ্চাত্যই হোক, কাশীরই হোক আর জার্মানিরই হোক দুদিন ধরে তা কারও মনোরঞ্জন করতে পারে না। আমি জানি যে, পাঠক সমাজকে আনন্দ দিতে গেলে তারা প্রায়শই বেদনা বোধ করে থাকেন। কিন্তু এতে ভয় পাবার কিছুই নেই; কেননা কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।

অপর পক্ষে এ যুগে পাঠক হচ্ছে জনসাধারণ, সুতরাং তাদের মনোরঞ্জন করতে হলে আমাদের অতি সস্তা খেলনা গড়তে হবে, নইলে তা বাজারে কাটবে না। এবং সস্তা করার অর্থ খেলো করা। বৈশ্য লেখকের পক্ষেই শূদ্র পাঠকের মনোরঞ্জন করা সংগত। অতএব সাহিত্যে আর যাই কর-না কেন, পাঠক সমাজের মনোরঞ্জন করবার চেষ্টা কোরো না।

তবে কি সাহিত্যের উদ্দেশ্য লোককে শিক্ষা দেওয়া? অবশ্য নয়। কেননা কবির মতিগতি শিক্ষকের মতিগতির সম্পূর্ণ বিপরীত। স্কুল না বন্ধ হলে যে খেলার সময় আসে না, এ তো সকলেরই জানা কথা। কিন্তু সাহিত্য রচনা যে আত্মার লীলা, এ কথা শিক্ষকেরা স্বীকার করতে প্রস্তুত নন। সুতরাং শিক্ষা ও সাহিত্যের ধর্মকর্ম যে এক নয়, এ সত্যটি একটু স্পষ্ট করে দেখিয়ে দেওয়া আবশ্যক। প্রথমত শিক্ষা হচ্ছে সেই বস্তু যা লোকে নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হয়, অপর পক্ষে কাব্যরস লোকে শুধু স্বেচ্ছায় নয়, সানন্দে পান করে; কেননা শাস্ত্রমতে সে রস অমৃত। দ্বিতীয়ত শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনকে বিশ্বের খবর জানানো, সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো; কাব্য যে সংবাদপত্র নয়, একথা সকলেই জানেন। তৃতীয়ত অপরের মনের অভাব পূর্ণ করবার উদ্দেশ্যেই শিক্ষকের হস্তে শিক্ষা জন্মলাভ করেছে, কিন্তু কবির নিজের মনের পরিপূর্ণতা হতেই সাহিত্যের উৎপত্তি। সাহিত্যের উদ্দেশ্য যে আনন্দদান করা, শিক্ষা দান করা নয়, একটি উদাহরণের সাহায্যে তার অকাট্য প্রমাণ দেওয়া যেতে পারে।

বাল্মীকি আদিতে মুনি-ঋষিদের জন্য রামায়ণ রচনা করেছিলেন, জনগণের জন্য নয়। এ কথা বলা বাহুল্য যে, বড় বড় মুনি-ঋষিদের কিঞ্চিৎ শিক্ষা দেওয়া তার উদ্দেশ্য ছিল না। কিন্তু রামায়ণ শ্রবণ করে মহর্ষিরাও যে কতদূর আনন্দে আত্মহারা হয়েছিলেন তার প্রমাণ তাঁরা কুশীলবকে তাঁদের যথাসর্বস্ব, এমনকি কৌপীন পর্যন্ত পেলা দিয়েছিলেন। রামায়ণ কাব্য হিসেবে যে অমর এবং জনসাধারণ আজও যে তার শ্রবণে-পঠনে আনন্দ উপভোগ করে তার একমাত্র কারণ, আনন্দের ধর্মই এই যে তা সংক্রামক। অপর পক্ষে লাখে একজনও যে যোগবশিষ্ঠ রামায়ণের ছায়া মাড়ান না তার কারণ, সে বস্তু লোককে শিক্ষা দেবার উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছিল, আনন্দ দেবার জন্য নয়। আসল কথা এই যে, সাহিত্য কস্মিনকালেও স্কুলমাস্টারির ভার নেয়নি। এতে দুঃখ করবার কোনো কারণ নেই। দুঃখের বিষয় এই যে, স্কুলমাস্টারেরা একালে সাহিত্যের ভার নিয়েছেন।

কাব্যরস নামক অমৃতে যে আমাদের অরুচি জন্মেছে, তার জন্য দায়ী এ যুগের স্কুল এবং তার মাস্টার। কাব্য পড়বার ও বোঝবার জিনিস, কিন্তু স্কুলমাস্টারের কাজ হচ্ছে বই পড়ানো ও বোঝানো। লেখক এবং পাঠকদের মধ্যে এখন স্কুলমাস্টার দণ্ডায়মান। এই মধ্যস্থদের কৃপায় আমাদের সঙ্গে কবির মনের মিলন দূরে থাক, চার চক্ষুর মিলনও ঘটে না। স্কুলঘরে আমরা কাব্যের রূপ দেখতে পাই নে, শুধু তার গুণ শুনি। টীকা-ভাষ্যের প্রসাদে আমরা কাব্য সম্বন্ধে সকল নিগূঢ় তত্ত্ব জানি, কিন্তু সে কী বস্তু তা চিনিনে। আমাদের শিক্ষকদের প্রসাদে আমাদের এ জ্ঞান লাভ হয়েছে যে, পাথুরে কয়লা হীরার সবর্ণ না হলেও সগোত্র; অপর পক্ষে হীরক ও কাচ যমজ হলেও সহোদর নয়। এর একের জন্ম পৃথিবীর গর্ভে অপরটি মানুষের হাতে; এবং এ উভয়ের ভিতর এক দা-কুমড়ার সম্বন্ধ ব্যতীত অপর কোনো সম্বন্ধ নেই। অথচ এত জ্ঞান সত্ত্বেও আমরা সাহিত্যে কাচকে হীরা এবং হীরাকে কাচ বলে নিত্য ভুল করি, এবং হীরা ও কয়লাকে একশ্রেণিভুক্ত করতে তিলমাত্র দ্বিধা করিনে, কেননা ওরূপ করা যে সঙ্গত তার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আমাদের মুখস্থ আছে। সাহিত্য শিক্ষার ভার নেয় না, কেননা মনোজগতে শিক্ষকের কাজ হচ্ছে কবির কাজের ঠিক উলটো। কারণ কবির কাজ হচ্ছে কাব্য সৃষ্টি করা, আর শিক্ষকের কাজ হচ্ছে প্রথমে তা বধ করা, তারপরে তার শবচ্ছেদ করা, এবং ঐ উপায়ে তার তত্ত্ব আবিষ্কার করা ও প্রচার করা। এই সব কারণে নির্ভয়ে বলা যেতে পারে যে, কারও মনোরঞ্জন করাও সাহিত্যের কাজ নয়। কাউকে শিক্ষা দেওয়াও নয়। সাহিত্য ছেলের হাতের খেলনাও নয়, গুরুর হাতের বেতও নয়।

বিচারের সাহায্যে এই মাত্রই প্রমাণ করা যায়। তবে বস্তু যে কী, তার জ্ঞান অনুভূতিসাপেক্ষ তর্কসাপেক্ষ নয়। সাহিত্যে মানবাত্মা খেলা করে এবং সেই খেলার আনন্দ উপভোগ করে। এ কথার অর্থ যদি স্পষ্ট না হয় তাহলে কোনো সুদীর্ঘ ব্যাখ্যার দ্বারা তা স্পষ্টতর করা আমার অসাধ্য।

এই সব কথা শুনে আমার জনৈক শিক্ষাভক্ত বন্ধু এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, সাহিত্য খেলাচ্ছলে শিক্ষা দেয়।

Related Question

View All
উত্তরঃ

সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে 'অতি সস্তা খেলনা' বলতে সেই সাহিত্যকে বোঝানো হয়েছে, যা অতি সহজেই পাঠকের মনোরঞ্জন করে।
লেখকের মতে, সাহিত্যের প্রধান উদ্দেশ্য আনন্দ দেওয়া, কারো মনোরঞ্জন করা নয়। সাহিত্য যখন কারো মনোরঞ্জন করে তখন তার মধ্যে আর কোনো আদর্শ থাকে না। তা পরিণত হয় একটি সস্তা খেলনায়। প্রকৃত সাহিত্যিকদের কাছ থেকে এ রকম 'সস্তা খেলনা' জাতীয় সৃষ্টিকর্ম প্রাবন্ধিক প্রত্যাশা করেন না।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
289
উত্তরঃ

উপরের অনুচ্ছেদে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের মনোরঞ্জনের মাধ্যমে সাহিত্যের স্বধর্মচ্যুত হওয়ার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, খেলাধুলার যেমন আনন্দ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকে না, সাহিত্যেরও পিছনে তেমনই আনন্দদান ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকা উচিত নয়। লেখকের ব্যক্তি-মননের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ ঘটবে সাহিত্যে। প্রাবন্ধিকের মতে, সাহিত্যে যখন তত্ত্ব-উপদেশ প্রকাশ পায় বা সাহিত্য যখন জনসাধারণের মনোরঞ্জনের জন্য রচিত হয় তখন তা স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জ্ঞানের কথা আমাদের মনে কোনো আকর্ষণ সৃষ্টি করে না। যেমন, সূর্য পূর্বাকাশে ওঠে- এ তথ্য আমাদের মন টানে না। কিন্তু সূর্যোদয়ের যে সৌন্দর্য তা আমাদের মনে আনন্দের জন্ম দেয়। এই আনন্দ সৃষ্টি করা অর্থাৎ সৌন্দর্যলোকের সন্ধান দেওয়াই সাহিত্যের কাজ। সাহিত্যে নির্মিত সৌন্দর্য-অনুভূতি যদি লোকহিত সাধন করে, তাতে সাহিত্যের কুললক্ষণ নষ্ট হয় না। শুধু লোকহিতার্থে ও সন্তুষ্টির জন্য প্রচেষ্টা সাহিত্যকে কুলত্যাগী করে। উল্লিখিত অনুচ্ছেদে এ বিষয়ই উপস্থাপিত হয়েছে। সাহিত্যের স্বধর্মচ্যুত হওয়ার বিষয়টি অনুচ্ছেদটিতে যথাযথভাবেই প্রতিফলিত হয়েছে।'

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
159
উত্তরঃ

উপরের অনুচ্ছেদে শিক্ষা ও সাহিত্যের পার্থক্য স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের 'শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য যে ভিন্নধর্মী' বক্তব্যটি উপরের অনুচ্ছেদে সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয়েছে।

সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধ অনুযায়ী সাহিত্যের কাজ মানুষের মনকে জাগানো। সেখানে জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। অন্যদিকে, শিক্ষা হলো সেই জিনিস যা অনিচ্ছা সত্ত্বেও মানুষ গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হয়। সেখানে আনন্দ থাকে না, থাকে বাস্তবতার কৌশল। সাহিত্যে থাকে রসের আবেগ ও ব্যক্তি-মনের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ। লেখকের এ বক্তব্য প্রমাণ করে, শিক্ষা ও সাহিত্য এক জিনিস নয়। উভয়ের উদ্দেশ্যও ভিন্ন।
উদ্দীপকের অনুচ্ছেদটিতে শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্যকে স্বতন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকের মর্মার্থ হচ্ছে, শিক্ষণীয়। বিষয় অর্থাৎ জ্ঞানের কথা একবার জানা হয়ে গেলে তা আর জানতে ইচ্ছা করে না বা তা জেনে মনে আনন্দও জন্মে না। কিন্তু-সাহিত্য সৃষ্টিকাল থেকে আজও পাঠক-হৃদয়ে সৌন্দর্য ও আনন্দানুভূতি জাগিয়ে রেখেছে।
আলোচ্য প্রবন্ধ ও উদ্দীপকের বক্তব্য থেকে উপলব্ধি করা যায়, শিক্ষা মানুষকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে বেঁধে রাখে এবং তা একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকেই বাস্তবায়ন করে। কিন্তু সাহিত্য মানুষের মনের প্রসার ঘটায় ও পাঠককে নির্মল আনন্দদান করে। শুধু লোকহিতার্থে বা পাঠকের সন্তুষ্টির জন্য সাহিত্য রচনার প্রচেষ্টা সাহিত্যকে কুলত্যাগী করে। সাহিত্যিক তখন শিক্ষকে রূপান্তরিত হন। বস্তুত, মানুষের বিবেক ও বিবেকতাড়িত বিষয়ের সমষ্টিগত দৃষ্টিভঙ্গি সাহিত্যের মাধ্যমে প্রকাশ ছাড়া আর কোনো মাধ্যম দিয়ে সম্ভব নয়। এ বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে বলা যায়, শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য যে ভিন্নধর্মী তা উল্লিখিত অনুচ্ছেদে যথার্থভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
157
উত্তরঃ

রোদ্যার একটি শ্রেষ্ঠ ভাস্কর্যের নাম হলো 'নরকের দুয়ার'।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
479
উত্তরঃ

মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ, কেননা-তা উদ্দেশ্যহীন বা নিষ্কাম কর্ম।
প্রাবন্ধিকের মতে, সাধারণত মানুষ যখন খেলা করে তখন সে আনন্দ ছাড়া অন্য কোনোকিছুর আকাঙ্ক্ষা রাখে না। নিষ্কাম আনন্দই তার একমাত্র প্রত্যাশা। মানুষ খেলা করে শুধু সেসময়ের কাঙ্ক্ষিত আনন্দের জন্য, অন্য কোনোকিছু পাওয়ার ইচ্ছা তার থাকে না। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক মনে করেন, এ কথাটির পিছনে ব্যক্তির কামনা-বাসনা বা অভিসন্ধির মতো কোনো হীন প্রবৃত্তি কাজ করে না। ক্রীড়াকে তাই তিনি শ্রেষ্ঠ কর্ম হিসেবে বিবেচনা করেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
174
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews