স্বাভাবিক অবস্থায় নির্দিষ্ট সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে কোনো উৎপাদন প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ যে পরিমাণ পণ্য বা সেবা উৎপাদন করতে পারে তাই হলো সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা।
স্বাভাবিক নিয়মে যন্ত্রপাতির বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে।
প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো যন্ত্র হতে যে মাত্রায় উৎপাদন পাওয়া সম্ভব, পরবর্তীকালে তা আর সম্ভব হয় না এবং ক্রমান্বয়ে আস্তে আস্তে যন্ত্রের উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পায়। একটি নির্দিষ্ট সময় পরে যন্ত্রের উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাসের কারণ হলো- বিভিন্ন পার্টের দুর্বলতা, ঘন ঘন অকেজো হওয়া, পশ্চাৎপদ প্রযুক্তি ইত্যাদি। তাই বলা যায়, একটি নির্দিষ্ট সময় পরে যন্ত্রের উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পায়।
উদ্দীপকে সাহিদা পারভীনের বুটিক এন্ড টেইলার্স-এ প্রকৃত উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহার হয়েছে।
প্রকৃত উৎপাদনের বিষয়টি উৎপাদিত পণ্য বা সেবার ওপর নির্ভর করে। এটি নির্ণয়ে নিট উৎপাদনের পরিমাণকে মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়। একটি প্রক্রিয়া থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়ে যে পরিমাণ উৎপাদিত পণ্য পাওয়া যায়, তাই হলো প্রকৃত উৎপাদন ক্ষমতা। প্রক্রিয়া ক্ষমতা অপেক্ষা প্রকৃত উৎপাদন ক্ষমতা সব সময় কম হয়।
উদ্দীপকে সাহিদা পারভীন নাটোরের বিসিক এলাকায় একটি বুটিক এন্ড টেইলার্স স্থাপন করেছেন। প্রতিষ্ঠানটিতে তিনি বছরে ২০,০০০ একক পণ্য উৎপাদন করেন। এজন্য তিনি কারখানা ভাড়া, স্থায়ী ব্যয়, কাঁচামাল এবং মজুরি বাবদ অর্থ নির্বাহ করেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটি কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনের কাছাকাছি অবস্থান করছে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে প্রক্রিয়া ক্ষমতা ২০,০০০ একক হলেও প্রতিষ্ঠানটি কিছুটা কম উৎপাদন করছে। সুতরাং, সাহিদা পারভীনের বুটিক এন্ড টেইলার্স-এ প্রকৃত উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহার হয়েছে।
উদ্দীপকে সাহিদা পারভীনের 'বুটিক এন্ড টেইলার্স' এর একক প্রতি উৎপাদন ব্যয় নির্ণয় :
(২০,০০০ একক পণ্য)
ব্যয়ের খাত | টাকা |
কারখানা ভাড়া স্থায়ী ব্যয় কাঁচামাল মজুরি | ২৫,০০০ ৭৫,০০০ ৭,৪০,০০০ ২,৩০,০০০ |
মোট ব্যয় | ১০,৭০,০০০ |
এককপ্রতি উৎপাদন ব্যয় = = ৫৩.৫০ টাকা
মূল্য নির্ধারণে এককপ্রতি উৎপাদন ব্যয় নির্ধারণের যৌক্তিকতা রয়েছে। উৎপাদনের পরিমাণ কম হলেও স্থায়ী ব্যয় কমানো সম্ভব হয় না। তাই এককপ্রতি উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায়। আবার উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে এককপ্রতি উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায়। এককপ্রতি উৎপাদন ব্যয় নির্ধারণ করে তার সাথে একক প্রতি কাঙ্ক্ষিত মুনাফা যোগ করে এককপ্রতি পণ্যের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা যায়। এতে সহজেই মোট উৎপাদিত পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা যায়।
সুতরাং, পণ্যের মূল্য নির্ধারণের জন্য এককপ্রতি উৎপাদন ব্যয় নির্ধারণ করা যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।
Related Question
View Allস্বাভাবিক অবস্থায় একটি কারখানা মিতব্যয়িতার সাথে যে সর্বোচ্চ পরিমাণ উৎপাদন করতে সক্ষম তাকে কার্যকর উৎপাদন ক্ষমতা বলে।
কোনো একটি প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে উৎপাদনকার্য পরিচালনা করে যে সর্বোচ্চ পরিমাণ পণ্য উৎপাদন করতে পারে, তাকে উৎপাদন ক্ষমতা বলে।
দক্ষতা বলতে কম সময় ও অর্থ ব্যয়ে অধিক কাজ সম্পাদন করার সামর্থ্যকে বোঝায়। কিন্তু দক্ষতার অভাবে প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যয় ও সময় ব্যয় উভয়ই বৃদ্ধি পায়। তাই কোনো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অদক্ষ ও অযোগ্য কর্মী নিয়োগ দিলে উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পায়। আবার উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে পুরাতন কর্মীরা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে অদক্ষতার পরিচয় দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পায়। তাই বলা যায়, উৎপাদন ক্ষমতা কর্মীদের অদক্ষতার কারণে হ্রাস পায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন প্রকৌশলগত উৎপাদন ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত।
যখন কেবল যন্ত্রের উৎপাদন ক্ষমতা বিবেচনা করে সর্বোচ্চ উৎপাদন
ক্ষমতা নির্ধারণ করা হয় তাকে প্রকৌশলগত উৎপাদন ক্ষমতা বলে। সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতায় যেখানে উৎপাদনের সাথে জড়িত সকল উপাদানকে বিবেচনা করা হয়; সেখানে প্রকৌশলগত উৎপাদন ক্ষমতায় শুধু যন্ত্রের উৎপাদন ক্ষমতাকে বিবেচনা করা হয়।
উদ্দীপকে সাকুরা সিমেন্ট কারখানা ৩০ টি মেশিন ব্যবহার করে উৎপাদন কাজ পরিচালনা করছে। উক্ত ৩০টি মেশিনের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৬ কোটি একক। বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় মেশিনগুলো অতিরিক্ত ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে প্রায়ই মেশিনগুলো নষ্ট হয়ে উৎপাদন কাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। এক্ষেত্রে উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানের কেবল মেশিনের উৎপাদন ক্ষমতার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে, যা প্রকৌশলগত উৎপাদন ক্ষমতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন প্রকৌশলগত উৎপাদন ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত।
সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহার করে সাকুরা সিমেন্ট কারখানা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে।
স্বাভাবিক অবস্থায় কোনো উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ যে পরিমাণ পণ্য উৎপাদন করা যায় তাকে সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা বলে। এ ধরনের উৎপাদন ক্ষমতায় যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, শ্রমিক-কর্মী, ব্যবস্থাপনা, প্রচেষ্টা ইত্যাদির সর্বোচ্চ ক্ষমতা বিবেচনা করা হয়
উদ্দীপকে সাকুরা সিমেন্ট কারখানা ৩০টি মেশিন ব্যবহার করে উৎপাদন কাজ পরিচালনা করছে। উক্ত ৩০টি মেশিনের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৬ কোটি একক। বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় মেশিনগুলো অতিরিক্ত ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে প্রায়ই মেশিনগুলো নষ্ট হয়ে উৎপাদন কাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। এ কারণে সাকুরা সিমেন্ট কারখানার আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও অনেক সময় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্র অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না।
উদ্দীপকের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাকুরা সিমেন্ট কারখানার উচিত তাদের উৎপাদন কাজ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহার করা। এ ধরনের উৎপাদন ক্ষমতা জরুরি প্রয়োজনে খুবই কম সময়ের জন্য ব্যবহার করা হয়। কেননা এ ধরনের উৎপাদন ক্ষমতা দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা যায় না, এতে পণ্য বা সেবার মানের অবনতি ঘটে। তাই আমি মনে করি, উদ্দীপকের বর্তমান পরিস্থিতে সাকুরা সিমেন্ট কারখানাটি সীমিত সময়ের জন্য সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহার করে তাদের লক্ষ্যমাত্র অর্জন করতে সক্ষম হবে।।
কোনো একটি প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে উৎপাদনকার্য পরিচালনা করে যে সর্বোচ্চ পরিমাণ পণ্য উৎপাদন করতে পারে, তাকে উৎপাদন ক্ষমতা বলে।
কোনো একটি প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে উৎপাদনকার্য পরিচালনা করে যে সর্বোচ্চ পরিমাণ পণ্য উৎপাদন করতে পারে, তাকে উৎপাদন ক্ষমতা বলে।
উৎপাদন ক্ষমতার মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের একটি নির্দিষ্ট সময়ের (সাধারণত এক বছরের) সর্বোচ্চ উৎপাদনের পরিমাণ সম্পর্কে জানা যায়। এরূপ উৎপাদনের ক্ষমতাই কোনো প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ উৎপাদনের পরিমাণ। যেমন- কোনো প্রতিষ্ঠান যদি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ইউনিট পণ্য উৎপাদন করতে সক্ষম হয় তাহলে ঐ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনের পরিমাণ হবে ১ লক্ষ ইউনিট এবং এটিই হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ উৎপাদনের পরিমাণ
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!