BOT বা বোর্ড এর ট্রেড ইউনিট হলো বিদ্যুৎ হিসাব করার কাজে ব্যবহৃত একক।
তড়িৎ মুদ্রণের জন্য প্রথমে লেখাটি সাধারণ টাইপে কম্পোজ করে। মোমের ওপর ছাপ নেওয়া হয়। এর উপরে কিছু গ্রাফাইট গুঁড়ো ছড়িয়ে একে তড়িৎ পরিবাহী করা হয়। এরপর কপার সালফেট দ্রবণে এটি ক্যাথোড পাত হিসেবে ডুবানো হয় এবং একটি তামার পাতকে অ্যানোড হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এখন দ্রবণের মধ্যে তড়িৎ প্রবাহ চালালে মোমের ছাঁচের ওপর তামার প্রলেপ পড়বে। প্রলেপ খানিকটা পুরু হলে ছাঁচ হতে ছাড়িয়ে নিয়ে ছাপার কাজে ব্যবহার করা হয়।
শিক্ষক সায়েমকে তড়িতের সিস্টেম লস সম্পর্কে যে ভাবে ব্যাখ্যা দিলেন তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
আমাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত পাওয়ার প্লান্টগুলো বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করে। এই বিদ্যুৎকে প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্ন এলাকায় পাঠাতে হয়। বিদ্যুৎ বিতরণ করার জন্য প্রথমে বিভিন্ন এলাকার সাব-স্টেশনে পাঠানো হয়। সাব-স্টেশন থেকে বিদ্যুৎ বিতরণ-ব্যবস্থা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ শক্তিকে একেবারে গ্রাহক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এই শক্তিকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বিতরণ করার জন্য যে পরিবাহী তার ব্যবহার করা হয়, কম হলেও তাদের এক ধরনের রোধ থাকে। একটা রোধের (R) ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ (1) হলে প্রতিসেকেন্ডে (I'R) তাপ উৎপন্ন হয় এবং এটিই বিদ্যুৎ শক্তির লস বা ক্ষয়। এই লসকে বলা হয় সিস্টেম লস। একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ শক্তির জন্য যদি উচ্চ ভোল্টেজ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় তাহলে রোধজনিত তাপশক্তি হিসেবে লস কমে যায়। সে জন্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রে যে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা হয় সেটিকে স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার দিয়ে উচ্চ ভোল্টেজে রূপান্তর করা হয়। গ্রাহকদের ব্যবহারের জন্য বিদ্যুৎ শক্তিকে বিতরণ করার আগে স্টেপ ডাউন টান্সফর্মার ব্যবহার করে সেটিকে আবার ব্যবহারযোগ্য ভোল্টেজে নামিয়ে আনা হয়।
Related Question
View Allকোনো তড়িৎ যন্ত্র প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি ব্যয় করে বা অন্য শক্তিতে (তাপ, আলো, যান্ত্রিক ইত্যাদি) রূপান্তরিত করে তাই তড়িৎ ক্ষমতা।
একটি বান্ধের গায়ে ২২০ ভোল্ট- ৬০ ওয়াট লেখা আছে। এর অর্থ হলো, ২২০ ভোল্ট বিভব পার্থক্যে বান্ধটিকে সংযুক্ত করলে বাল্বটি সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বলভাবে জ্বলবে এবং প্রতি সেকেন্ডে ৬০ জুল বৈদ্যুতিক শক্তি আলো ও তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হবে।

আমরা জানি, সাধারণ বাল্ব প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে আলো তৈরি করে, যার ফলে অনেক বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়। অন্যদিকে, এনার্জি সেভিং বাল্ব, যেমন সি.এফ.এল বা এলইডি বাল্ব, কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে একই পরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি আলো দেয়।
এখন আমরা হিসাব করে দেখি মনসুরা খানম ঠিক কতটা লাভবান হলেন:
- আগের বিদ্যুৎ ব্যবহার:
- প্রতিদিন ৫টি বাল্ব, প্রতিটি ১০০ ওয়াট করে।
- মোট ওয়াট: ৫×১০০=৫০০ ওয়াট।
- প্রতিদিন মোট বিদ্যুৎ খরচ: ৫০০ ওয়াট×৬ ঘণ্টা=৩০০০ ওয়াট-ঘণ্টা=৩ ইউনিট (কারণ ১০০০ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ইউনিট)।
- বর্তমান বিদ্যুৎ ব্যবহার:
- প্রতিদিন ৫টি এনার্জি সেভিং বাল্ব, প্রতিটি ২০ ওয়াট করে।
- মোট ওয়াট: ৫×২০=১০০ ওয়াট।
- প্রতিদিন মোট বিদ্যুৎ খরচ: ১০০ ওয়াট×৬ ঘণ্টা=৬০০ ওয়াট-ঘণ্টা=০.৬ ইউনিট।
দৈনিক সাশ্রয়: ৩ ইউনিট−০.৬ ইউনিট=২.৪ ইউনিট।
এই হিসাব থেকে বোঝা যায়, মনসুরা খানম প্রতিদিন ২.৪ ইউনিট বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছেন। এর ফলে মাসিক বিদ্যুৎ বিল অনেক কমে আসবে। সাধারণ বাল্বের তুলনায় এনার্জি সেভিং বাল্ব ৮ থেকে ১৫ গুণ বেশি দিন টিকে থাকে। তাই মনসুরা খানমকে ঘন ঘন বাল্ব পরিবর্তন করতে হবে না, যা তাঁর অর্থ এবং সময় দুটোই বাঁচাবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!