বাংলাদেশের উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
বাংলাদেশের জলবায়ু সাধারণত সমভাবাপন্ন।.
দেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করায় এখানে ক্রান্তীয় জলবায়ু বিরাজ করে। কিন্তু এদেশের জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব এত বেশি যে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু নামে পরিচিত।
উদ্দীপকের নদীটি পদ্মা।
বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম নদী পদ্মা। গঙ্গা নদী (বাংলাদেশে এটি পদ্মা নামে পরিচিত) হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। এরপর প্রথমে দক্ষিণ-পশ্চিম ও পরে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে ভারতের হরিদ্বারের নিকট সমভূমিতে পড়েছে। পরে ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহার রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ান নামক স্থানে ভাগীরথী (হুগলি নদী) নামে এর একটি শাখা বের হয়েছে। এটি পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
গঙ্গা নদীর মূল প্রবাহ রাজশাহী অঞ্চলের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমানা বরাবর এসে কুষ্টিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এরপর চাঁদপুরের দৌলতদিয়ার নিকট যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। গঙ্গার মূল ধারা হওয়াতে দৌলতদিয়া পর্যন্ত এই নদীটি গঙ্গা নদী নামেই পরিচিতি পায়। তবে বাংলাদেশে প্রবেশের পর থেকেই স্থানীয়ভাবে এটি পদ্মা নামে পরিচিতি পায়। গঙ্গা ও যমুনার মিলিত ধারা পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরের কাছে মেঘনার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এই তিন নদীর (পদ্মা, মেঘনা, যমুনা) মিলিত প্রবাহ মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
উদ্দীপকে নদী ভরাটের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের নদীগুলো বিভিন্ন কারণে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। নিচে নদী ভরাটের কারণ, প্রভাব ও প্রতিরোধের উপায় বর্ণনা করা হলো:
নদী ভরাটের কারণ:
১. নদীর তলদেশে পলি সঞ্চিত হয়ে ভরাট হয় ও নদীর নাব্যতা কমে যায়।
২. নদীর দুই ধারে অপরিকল্পিত বাঁধ, সড়ক, কলকারখানা, আবাসিক স্থাপনা নির্মাণ ও পয়ঃনিষ্কাশনের নির্গমন স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় নদী ভরাট হচ্ছে।
৩. আন্তর্জাতিক নদীগুলো নিয়ে বিরোধ থাকায় এবং এ সকল নদীতে পানি প্রত্যাহারের ফলে নদীতে স্রোত কমে গেছে। ফলে নদীর মোহনায় পলি জমে চর জেগে উঠেছে।
নদী ভরাটের প্রভাব:
১. বর্ষাকালে নদীর পানির প্রবাহধারা বাধাগ্রস্থ হয় এবং বন্যা দেখা দেয়।
২. নৌচলাচল, মাছ চাষ, সেচ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়।
৩. নদীকেন্দ্রিক শহরগুলোতে (ঢাকা, রাজশাহী) পানি সরবরাহ কমে যাচ্ছে।
৪. নদীর পানি দূষিত হওয়ার ফলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে।
নদী ও জলাশয় ভরাট প্রতিরোধের উপায়:
১. বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে নিয়মিত নদী ও জলাশয়গুলো ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করে এদের নাব্যতা রক্ষা করা।
২. পরিকল্পিত ও পরিবেশ উপযোগী বাঁধ এবং উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা।
৩. অপদখলকৃত নদী ও জলাশয়গুলো উদ্ধার করা।
৪. কলকারখানার সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে বর্জ্য পরিশোধন ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণের ব্যবস্থা করা।
৫. ভারত, নেপাল ও চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক নদী গঙ্গা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ফেনীসহ অন্যান্য নদীগুলোর ন্যায্যতার ভিত্তিতে পানির হিস্যা নিশ্চিত করা।
৬. বিদ্যমান পরিবেশ আইন যুগোপযোগী ও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!