মুঘল সম্রাট আকবর ১৫৫৬ সালে বা ৯৯২ হিজরিতে বাংলা সন চালু করেন।
নতুন বছরের আগমনে উপজাতিরা বৈসুব, সাংগ্রাই ও বিজু এ তিনটি উৎসবকে একত্র করে যে উৎসব করে তাকে বৈসাবি উৎসব বলে।
পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত উপজাতিরাও নববর্ষের উৎসব পালন করে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় নববর্ষের উৎসব নানা আনন্দময় ক্রীড়া-কৌতুকের মধ্য দিয়ে পালিত হয়।
কেননা পাহাড়ি উপজাতিদের প্রধান তিনটি অনুষ্ঠান বৈসুব, সাংগ্রাই ও বিজু। এ তিনটি অনুষ্ঠানকে একত্রিত করে তারা একটি উৎসব করে যার নাম দিয়েছে বৈসাবি। বৈসুব থেকে 'বৈ', সাংগ্রাই থেকে 'সা' ও বিজু থেকে 'বি'- এই বর্ণগুলো নিয়ে বৈসাবি নামকরণ করা হয়েছে।
সাগরিকার দেখা অনুষ্ঠানের সঙ্গে 'বাংলা নববর্ষ' প্রবন্ধে উল্লিখিত বৈশাখী মেলার মিল রয়েছে।
বাঙালি প্রতিবছর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন করে। বৈশাখী মেলা বাংলা নববর্ষের একটি অন্যতম উৎসব। গ্রাম-শহর সব জায়গায়ই বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয় পয়লা বৈশাখে।
উদ্দীপকে সাগরিকা পয়লা বৈশাখে বাবার সাথে মেলায় যায়। সেখানে সে বিভিন্ন ধরনের খেলনাসামগ্রী ক্রয় করে। পুতুল নাচ, কবি গান ও সার্কাস উপভোগ করে সে মেলায়। সে নাগরদোলায় চড়ে। তার দেখা এ মেলাটি 'বাংলা নববর্ষ' প্রবন্ধে উল্লিখিত বৈশাখী মেলা নামে পরিচিত। প্রবন্ধে লেখক বৈশাখী মেলার বর্ণনা দিয়েছেন। এ মেলায় দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসে। মানুষের আগমনে মিলনমেলায় রূপ নেয় মেলা। মানুষ সারা বছরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে রাখে। সেখানে কবিগান, কীর্তন, যাত্রা, গম্ভীরা গান শুনে, পুতুল নাচ দেখে ও নাগরদোলায় চড়ে আনন্দ উৎসব করে মানুষ। তাই বলা যায় যে, সাগরিকার দেখা অনুষ্ঠানের সঙ্গে 'বাংলা নববর্ষ' প্রবন্ধে উল্লিখিত বৈশাখী মেলার মিল রয়েছে।
উদ্দীপকের সাগরিকার দেখা অনুষ্ঠান 'বাংলা নববর্ষ' প্রবন্ধের একমাত্র দিক নয়- মন্তব্যটি যথার্থ।
বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে এ উৎসব সবার। বাংলা নববর্ষ বাঙালি জাতিসত্তার সঙ্গে মিশে আছে।
উদ্দীপকে সাগরিকা তার বাবার সাথে বৈশাখী মেলায় যায়। সেখানে সে একসঙ্গে অনেক মানুষ দেখে। বিভিন্ন খেলার সামগ্রী ক্রয় করে। পুতুল নাচ, কবিগান, সার্কাস উপভোগ করে। অন্যদিকে 'বাংলা নববর্ষ' প্রবন্ধেও বাংলা নববর্ষের অন্যতম অনুষ্ঠান বৈশাখী মেলার কথা বলা হয়েছে। এই বৈশাখী মেলাই 'বাংলা নববর্ষ' প্রবন্ধের একমাত্র আলোচ্য বিষয় নয়। এ ছাড়াও প্রবন্ধে আরও বিষয় প্রকাশ পেয়েছে, যেমন- পুণ্যাহ, আমানি, হালখাতা, বাংলা নববর্ষের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা।
উদ্দীপকে সাগরিকার দেখা অনুষ্ঠানটি হলো বৈশাখী মেলা। বৈশাখী মেলার বর্ণনা 'বাংলা নববর্ষ' প্রবন্ধেও প্রকাশ পেয়েছে। এই বিষয়টি ছাড়াও এখানে নববর্ষের ইতিহাস, ঐতিহ্য, রাজনৈতিক ইতিহাস, বৈশাখী বিভিন্ন উৎসব ইত্যাদির বর্ণনাও প্রকাশ পেয়েছে, যা উদ্দীপকের বর্ণনায় অনুপস্থিত। তাই আমরা বলতে পারি যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allছায়ানট ১৯৬৭ সাল থেকে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু করে।
হালখাতা হলো পহেলা বৈশাখে আয়োজিত অনুষ্ঠানবিশেষ।
হালখাতা অনুষ্ঠানটি করতেন ব্যবসায়ীরা। মানুষ সারাবছর ধরে বাকিতে দোকান থেকে জিনিসপত্র ক্রয় করত। পয়লা বৈশাখের হালখাতা অনুষ্ঠানে দোকানিদের সেই বাকির টাকা মিটিয়ে দিত। হালখাতা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন রঙের কাগজ দিয়ে দোকানিরা তাদের দোকান সাজাতেন। গ্রাহক-খরিদ্দারদের মিষ্টিমুখ করানো হতো। এ সময় হাসিঠাট্টা, গল্পগুজবের মধ্যে বকেয়া আদায় এবং উৎসবের আনন্দ উপভোগ দুই-ই সম্পন্ন হতো।
চৈতির গানে বাংলা নববর্ষের পুরোনো বছরের দুঃখকষ্ট দূরীভূত হয়ে নতুন বছরে পৃথিবী যেন পূত-পবিত্র হয়ে ওঠে সে দিকটি ফুটে উঠেছে।
বৈশাখ মাসের প্রথম দিন বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়। নববর্ষে নানা রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সমস্ত জরা-জীর্ণ-ক্লান্তি দূর হয়ে সবার জীবন যেন সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে- এই কামনা করা হয়।
উদ্দীপকের দুই বান্ধবী সীমা ও চৈতি বাংলা নববর্ষে লাল পাড় সাদা শাড়ি পরে চলে যায় রমনার বটমূলে। সেখানে অসংখ্য মানুষ নানা রকম সাজে সজ্জিত হয়ে এসেছে। সেখানে গিয়ে সীমা নিজের ও খালাতো বোনের জন্য জিনিসপত্র কেনে। চৈতি মনের আনন্দে গান গেয়ে ওঠে। গানের মূলকথায় পুরোনো সব দুঃখ-গ্লানি মুছে গিয়ে নতুন বছরে পৃথিবী যেন শুচি-শুভ্র হয়ে ওঠে সেই প্রত্যাশা করা হয়।
বাংলা নববর্ষ' প্রবন্ধেও বলা হয়েছে যে, বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রধান জাতীয় উৎসব। নববর্ষ সব দেশের, সব মানুষেরই আনন্দের দিন। শুধু আনন্দ-উচ্ছ্বাসই নয়, সব মানুষের জন্য কল্যাণ কামনারও দিন। সুখ শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণের প্রত্যাশা নিয়েই নববর্ষ উদযাপন করা হয়। এভাবে উদ্দীপকে প্রবন্ধের এ কল্যাণ কামনার বিষয়টিই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে 'বাংলা নববর্ষ' প্রবন্ধের মূল সুরটিই যেন ফুটে উঠেছে। উক্তিটি যথার্থ।
বাংলা নববর্ষ বাঙালির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। বিভিন্ন রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় নববর্ষ উপলক্ষ্যে।
উদ্দীপকে নববর্ষে দুই বান্ধবী সীমা ও চৈতি রমনার বটমূলে অনুষ্ঠান দেখতে যায়। মেলায় সীমার দেখা হয় তার খালাতো বোনের সাথে। সে বাড়ির সকলের খবর নেয়। ছোট খালাতো বোনের জন্য উপহার কিনে
দেয়। এ ছাড়া সীমা বাড়ির জন্য কুলা, ঝুড়ি, হাঁড়ি ইত্যাদি কেনে এবং মনের আনন্দে চৈতি গান গেয়ে ওঠে। গানটির মূলকথা হলো- সকল দুঃখ-গ্লানি, জরা দূরীভূত হয়ে পৃথিবী যেন পবিত্র ও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। 'বাংলা নববর্ষ' প্রবন্ধেও বর্ণিত হয়েছে রমনার বটমূলের নববর্ষের আনন্দ উৎসব এবং পুরাতন সব দুঃখ-গ্লানি দূরীভূত হয়ে সবার জীবন সুখ-শান্তিতে ভরে ওঠার প্রত্যাশা।
নববর্ষ প্রত্যেক মানুষেরই আনন্দ-উৎসবের দিন। শুধু আনন্দ উচ্ছ্বাসই নয়, সব মানুষের কল্যাণ কামনারও দিন। তাই সবাই সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি ও কল্যাণের প্রত্যাশা নিয়ে মহা-ধুমধামে নতুন বছরে সবার সঙ্গে নববর্ষ পালন করে। উদ্দীপকের কল্যাণ কামনার বিষয়টি এবং আনন্দ উৎসব প্রবন্ধেরও মূল সুর। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নে উল্লিখিত উক্তিটি যথার্থ।
বাংলা নববর্ষের প্রধান অনুষ্ঠানের নাম বৈশাখী মেলা।
ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সব বাঙালি অভিন্ন জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে উৎসবে মেতে ওঠে বলে বাংলা নববর্ষ আমাদের অন্যতম প্রধান জাতীয় উৎসব।
নতুন বছরের শুরুতে দিনের প্রথম প্রহরে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়। বাঙালি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনন্দে মেতে ওঠে। তারা নববর্ষের দিনে জাতির মঙ্গল কামনা করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পেছনে বাংলা নববর্ষ পালনের প্রেরণা সক্রিয় ছিল। কারণ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে বাঙালি নববর্ষ উৎসব উদ্যাপন করেছিল। সর্বোপরি বাংলা নববর্ষ আমাদের জাতীয় উৎসব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!