সিরাজ ও শাহানা একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করে। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যে শাহানা জানতে পারে সিরাজের আরো একটি পরিবার রয়েছে। এ নিয়ে চরম পারিবারিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয় এবং অবশেষে সিরাজ শাহানাকে মৌখিকভাবে তিন তালাক দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। শাহানা সিরাজের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণে একজন আইনজীবীর শরণাপন্ন হয়। আইনজীবী তাকে একটি বিশেষ আইনের আওতায় মামলা করার 
পরামর্শ দেন।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

শিশু আইনটি ১৯৮০ সালের ১ জুন সারা বাংলাদেশে বলবৎ
হয়।

উত্তরঃ

সমাজ থেকে অবাঞ্ছিত অবস্থা দূর করে সুন্দর, সুষ্ঠু ও উন্নত সমাজ গড়ে তোলার জন্য যে সকল আইন প্রণয়ন করা হয় সেগুলোই সামাজিক আইন।

নাগরিকের কল্যাণে রাষ্ট্র কর্তৃক নানা ধরনের আইন প্রণয়ন করা হয়। এ সকল আইন নাগরিকের অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্যে পরিবর্তন আনয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এ আইনগুলোর মাঝে জনকল্যাণ সম্পর্কিত আইন হচ্ছে সামাজিক আইন। মূলত সমাজের স্বাভাবিক গতিধারাকে টিকিয়ে রাখার জন্য যে আইন প্রণয়ন করা হয় তাই সামাজিক আইন।

উত্তরঃ

আইনজীবী তার পরামর্শে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বর্তমান বাংলাদেশে নারী ও পুরুষের অধিকার সকল ক্ষেত্রে সমান। কিন্তু একসময় এ অবস্থা ছিল না। সকল ক্ষেত্রে নারীরা ছিল বঞ্চিত। বিশেষ করে বিবাহ, দেনমোহর, উত্তরাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে নারীদের কোনো অধিকার ছিল না। এজন্য তৎকালীন পাকিস্তান সরকার (বর্তমান বাংলাদেশ) বিবাহের ক্ষেত্রে নারীরা মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর একটি অধ্যাদেশ জারি করে। ১৯৬১ সালের ১৫ই জুলাই থেকে এ আইনটি বাংলাদেশের সকল মুসলিম নাগরিকের জন্য কার্যকরী হয়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, সিরাজ শাহানাকে ভালোবেসে দ্বিতীয় বিয়ে করে। এর ফলে পারিবারিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয় এবং সিরাজ শাহানাকে মৌখিকভাবে তিন তালাক দেয়। আর শাহানা সিরাজের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে আইনজীবীর শরণাপন্ন হলে তিনি উপরোল্লিখিত ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের আওতায় মামলা করার পরামর্শ দেন।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে উক্ত আইনের দ্বিতীয় বিয়ে ও তালাক এই দুটি ধারায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী প্রথম স্ত্রী বেঁচে থাকতে স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবেনা। তবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে স্বামী ও স্ত্রীর মনোনীত প্রতিনিধির মাধ্যমে গঠিত সালিশ পরিষদের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে। উদ্দীপকের সিরাজের প্রথম স্ত্রী বেছে থাকলেও দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে যে সালিশ পরিষদের মাধ্যমে বিয়ে করেনি। আবার ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী কয়েকবার তালাক উচ্চারণ করলেই তালাক হয় না। এই আইন অনুযায়ী কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দিতে চাইলে স্বামীকে যথাশীঘ্র ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌর চেয়ারম্যানের নিকট লিখিত নোটিশ দিতে হবে। অনুরূপ কপি স্ত্রীকেও দিতে হবে, এ ধারা ভঙ্গ করলে স্বামীকে সর্বাধিক এক বছর কারাভোগ অথবা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। কিন্তু উদ্দীপকের সিরাজ মৌখিকভাবে তিন তালাক দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। সে ইউনিয়ন পরিষদের বা পৌর চেয়ারম্যানের নিকট লিখিত নোটিশ দেয়নি এবং স্ত্রীকেও অনুরুপ কপি দেয়নি। যা ১৯৬১ সালের মুসিলম পারিবারিক আইনের তালাক ধারার লঙ্ঘন।

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, উদ্দীপকে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের দ্বিতীয় বিয়ে ও তালাক সংক্রান্ত দুটি ধারা লঙ্ঘনের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। 

92
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

সামাজিক সমস্যা হলো এমন এক প্রতিকূল পরিস্থিতি যা সমাজের অধিকাংশ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

250
উত্তরঃ

পাত্র-পাত্রী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সময় কন্যাপক্ষ বরপক্ষকে বা বরপক্ষ কন্যাপক্ষকে ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃতভাবে যে উপঢৌকন দিয়ে থাকে তাকে যৌতুক বলে। এখানে উপঢৌকন বলতে বাড়িঘর, জায়গা-জমি, নগদ অর্থ বা যেকোনো প্রকার আর্থিক সুবিধা ইত্যাদিকে বোঝানো হয়েছে।

518
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বাল্যবিবাহ নামক সামাজিক সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের অনুশীলন দেখানো হয়েছে।

বাল্যবিবাহ বলতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়েকে বোঝানো হয়। বাংলাদেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিয়ের জন্য ছেলের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর এবং মেয়ের বয়স ১৮ বছর হতে হবে। সে অনুযায়ী পাত্র বা পাত্রীর বয়স এর কম হলে তা বাল্যবিবাহ হিসেবে বিবেচিত হবে। বাল্যবিবাহ আমাদের দেশের অন্যতম সামাজিক সমস্যা। তবে এ সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ সমস্যা দূর করা সম্ভব।

উদ্দীপকে দেখা যায়, কুমিল্লার লালমাই থানায় দাপাড় গ্রামের কৃষক রহিম মিয়া মাত্র তের বছর বয়সে ফরিদাকে বিয়ে দিয়েছেন যা উপরের বর্ণনানুযায়ী বাল্যবিবাহের অন্তর্ভুক্ত। এক্ষেত্রে ঐ এলাকার একজন সমাজকর্মী অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়াকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য সমাজকর্মের পদ্ধতি অনুশীলন করেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের অনুশীলন দেখানো হয়েছে।

177
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত সমাজকর্মের পদ্ধতি প্রয়োগ করে বাল্যবিবাহ ছাড়াও বাংলাদেশের অন্যান্য সামাজিক সমস্যা, যেমন- নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌতুক, মাদকাসক্তি, কিশোর অপরাধের মতো সমস্যা সমাধান করা যায়।

বাংলাদেশে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান। আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত নারী ও শিশুরা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। বিয়ের সময় কন্যাপক্ষের কাছে যৌতুক দাবি করা হচ্ছে। আবার, শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। এছাড়া মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা, সঙ্গদোষ, কৌতূহল, হতাশা প্রভৃতির কারণে যুবকবয়সীরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের পদ্ধতি ও কৌশল কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে সমাজে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে। এতে সমস্যাগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এর পাশাপাশি সমস্যাগুলো দূর করতে সরকারকে প্রয়োজনীয় সামাজিক আইন প্রণয়নে চাপ প্রয়োগ করতে হবে। একইসাথে সরকার প্রণীত আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন করতে পারলে এ সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব হবে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, কৃষক রহিম মিয়া মাত্র তের বছর বয়সে ফরিদাকে বিয়ে দিয়েছেন, যা ওপরের বর্ণনানুযায়ী বাল্যবিবাহের অন্তর্ভুক্ত। এক্ষেত্রে এলাকায় কর্মরত সমাজকর্মী সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের সমস্যা চিহ্নিতকরণ সচেতনতা সৃষ্টি আইন প্রণয়নে চাপ প্রয়োগ আইন প্রণয়ন আইনের বাস্তবায়ন পদ্ধতিটি অনুসরণ করেছেন। একইভাবে এ পদ্ধতি অনুসরণ করে সমাজে বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের যৌতুক, নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদকাসক্তি, কিশোর অপরাধ প্রভৃতিসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজকর্মের পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা যায়।

191
উত্তরঃ

১৯৮৩ সালের নারী নির্যাতন আইন নারীদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এর অনেকগুলো সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন- নারীর মানসিক নির্যাতনের শাস্তি এ আইনে নেই। এছাড়া যৌতুক আদায়ের জন্য যে অপরাধ করা হয় তা প্রতিরোধে যে আইনি বিধান রাখা হয়েছে তা কঠোর কিন্তু যৌতুক লেনদেনের ব্যাপারে তেমন কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এ আইনে নারী নির্যাতন প্রতিকারে শাস্তির বিধান করলেও বিবাহ ভাঙনজনিত পরিস্থিতিতে স্ত্রী ও সন্তানদের অধিকার এবং স্বার্থরক্ষার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া নির্যাতিত নারীসমাজের এক বিরাট অংশই এ আইনের আলো থেকে বঞ্চিত। এর কার্যকারিতার অভাবে দেশে নারী নির্যাতন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

424
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews