কোনো দেশের অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট অঞ্চল বা এলাকার উন্নয়নের জন্য যে পরিকল্পনা করা হয়, তাকে আঞ্চলিক পরিকল্পনা বলে।
যেমন- উত্তরাঞ্চলের মঙ্গা দূরীকরণের পরিকল্পনা।
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে থাকে। বিভিন্ন খাতে উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের মানুষকে কর্মব্যস্ত রাখা, কৃষি বহির্ভূত খাতগুলোকে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি ও ক্ষুদ্র শিল্পের দ্রুত উন্নয়ন, কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভম্ব। এসব কর্মকাণ্ডে নারী-পুরুষ নির্বিশেষ কাজ করে বলে তারা সবাই কর্মব্যস্ত দিনযাপন করে। ফলে জন্ম নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমও ত্বরান্বিত হয়।
উদ্দীপকের আলোকে উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রকারভেদ নিচে আলোচনা করা হলো-
একটি দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের এবং এই উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী ও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সময়ভেদে উন্নয়ন পরিকল্পনাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- (১) দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা; (২) মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা এবং (৩) বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা।
১। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা: দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুদূরপ্রসারী প্রত্যাশিত চিত্র রূপকে সামনে রেখে দীর্ঘ সময়, মেযন- ১০, ১৫ বা ২০ বছরের জন্য যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়, তাকে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বলে। মানুষের জীবনের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও চাহিদা, রুচি, প্রাকৃতিক সম্পদ ইত্যাদি পরিবর্তনশীল হয় বলে কোনো দেশে বাস্তবে আজ পর্যন্ত ৩০ বছর বা তার ঊর্ধ্বে সময়সীমার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়নি।
২। মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা: পাঁচ বছরের বেশি, অথচ সর্বোচ্চ পনেরো বছর পর্যন্ত সময়সীমার পরিকল্পনাকে মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা বলা হয়। সাধারণত পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার অধীনে পাঁচটি পৃথক বার্ষিক পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়; কিন্তু বার্ষিক পরিকল্পনায় বিভিন্ন খাতের মধ্যে সুষমতা এবং সংগতি বিধানের বিষয়টি অনুপস্থিত থাকে। তাই পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনাকে মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
৩। বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা: সুনির্দিষ্ট কতগুলো আর্থসামাজিক লক্ষ্য অর্জনে নির্দিষ্ট বর্ষে বাস্তবায়নের জন্য যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, তাকে বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বলা হয়। এ ধরনের পরিকল্পনার মধ্যে এমন ধরনের কর্মসূচি, প্রকল্প ও লক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে, যেগুলো জাতীয় স্বার্থে অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই বাস্তবায়িত হওয়া প্রয়োজন।
অতএব বলা যায়, তিন ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন মেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে আন্তঃসংযোগ আবশ্যক। উদ্দীপকের আলোকে নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
উন্নয়ন পরিকল্পনা সময়ের দিক থেকে তিন ভাগে বিভক্ত; যথা-স্বল্পমেয়াদি বা বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
সাধারণত ৬ মাস থেকে ১ বছর মেয়াদি পরিকল্পনাকে স্বল্পমেয়াদি বা বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বলা হয়। ৪ বা ৫ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা হলো মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা। অপরদিকে ১০, ১৫, ২০ বা ২৫ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা হলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এগুলো সবই উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ এবং এগুলোর মধ্যে পারস্পরিক নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা ও উদ্দেশ্যগুলো মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়। আবার, মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পার মধ্যে অন্তর্নিহিত থাকে। কোনো বছর বা স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার ব্যর্থতা অপর কোনো বছর বা পরিকল্পনার সাফল্য দিয়ে পূরণ করা হয়ে থাকে। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার লক্ষ্যসমূহ অর্জন করা না গেলে মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জিত না হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তথা উন্নয়ন, দারিদ্রদ্র্য নিরসন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপঞ্জ ইত্যাদি বিষয়গুলোতে কখনো রাতারাতি পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। সেগুলোকে বছরের পর বছর ধাপে ধাপে অগ্রগতি সাধন করতে হয়। সেজন্য স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার পরিপূরক এবং স্বল্পমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পরিপূরক।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে। গৃহীত স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে
Related Question
View Allউন্নয়ন পরিকল্পনা তিন প্রকার।
সাধারণত কয়েকটি স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে যেসব কর্মসূচি, প্রকল্প ও লক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে জাতীয় স্বার্থে সেগুলো অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই বাস্তবায়িত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু প্রকৃত অর্থে স্বল্প সময়ের মধ্যে এগুলো একত্রে বাস্তবায়ন সম্ব হয় না। তাই এসব কর্মসূচি, প্রকল্প ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়। তাই বলা যায়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হলো কয়েকটি স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার সমষ্টি।
উদ্দীপকে রশিদের কাজের ধারা স্বল্পমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাকে নির্দেশ করছে।
এ ধরনের পরিকল্পনার মধ্যে এমন ধরনের কর্মসূচি, প্রকল্প ও লক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে, যেগুলো জাতীয় স্বার্থে অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই বাস্তবায়িত হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে দ্বি-বার্ষিক ও পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাগুলোকে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা বলা হয়। বাণিজ্যের প্রসার, কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, সেচব্যবস্থার প্রসার, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন প্রভৃতি লক্ষ্য সামাজিক স্বার্থে স্বল্প সময়ের মধ্যে অর্জন করা দরকার। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এক বছরের বেশি অথচ সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সময়সীমা বিবেচনা করে এই পরিকল্পনা করা হয়। সুনির্দিষ্ট আর্থসামাজিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অনিশ্চয়তা হ্রাস করে। এ ধরনের পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথ ত্বরান্বিত করার জন্য বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। উন্নয়ন কর্মসূচিগুলোর সফলতা ও ব্যর্থতা মূল্যায়ন করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
অতএব বলা যায়, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা এমন কিছু পরিকল্পনা, যেখানে জাতীয় স্বার্থ অন্তর্নিহিত থাকে।
উদ্দীপকে রশিদের কাজের ধারা স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাকে নির্দেশ করে। আবার ইউনুসের কাজের ধারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে নির্দেশ করছে। এ দুই ধরনের পরিকল্পনা দেশের উন্নয়নের জন্য ব্যবহৃত। নিচে এই দুই ধরনের পরিকল্পনার তুলনা করা হলো-
সাধারণ সময়সীমার মধ্যে কতগুলো সুনির্দিষ্ট আর্থসামাজিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, তাকে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা বলে। পক্ষান্তরে দীর্ঘ সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য কোনো লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্বাচন করে যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়, তাকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বলে।
সাধারণত স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার সময় ১-৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে। পক্ষান্তরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মেয়াদ ১০-২৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ভেতর ব্যক্তির ক্ষুদ্রস্বার্থ বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। পক্ষান্তরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় জাতীয় স্বার্থ ক্ষুদ্র স্বার্থ অপেক্ষা অগ্রাধিকার পায়। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা একটি অস্থায়ী পরিকল্পনা। এর মধ্যে অর্থনৈতিক অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত থাকতে পারে। পক্ষান্তরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভেতর অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তসমূহের স্থয়িত্ব, অস্তিত্ব, সঠিক কর্মদক্ষতা ও দিকনির্দেশনা থাকে। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা অর্থনৈতিকভাবে কম কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা গ্রহণে সহায়ক। পক্ষান্তরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অর্থনৈতিকভাবে অধিক কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা গ্রহণে সহায়ক।
অতএব স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
পাঁচ বছরের বেশি অথচ সর্বোচ্চ পনেরো বছর পর্যন্ত সময়সীমার পরিকল্পনাই মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা।
স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দেশে প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয় ১৯৭৩ সালে। প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সরকারি খাতের ব্যয় বরাদ্দের ৮১% ও বেসরকারি খাতের ব্যয় বরাদ্দের ৪৯.১১% অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হয়। বার্ষিক জিডিপি বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৫.৫-এর স্থলে প্রকৃত বৃদ্ধি হয়েছিল ৪% হারে। বার্ষিক মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির লক্ষ্য ২.৫% ধরা হলেও পরিকল্পনা শেষে তা বার্ষিক ১.১% হারে বৃদ্ধি পায়। জিডিপির বার্ষিক ১৫.২% হারে সঞ্চয় আহরণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সঞ্চয় আহরণের হার ছিল ৩.৯%।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!