বিজ্ঞানসম্মত অনুসন্ধানের যুক্তিসংগত উপায়কে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি (Scientific Method) বলা হয়।
কোনো ব্যক্তি যদি নিজেই নিজেকে হত্যা করে তখন তাকে আত্মহত্যা বলে।
ফরাসি সমাজবিজ্ঞানের জনক এমিল ডুর্খেইম-এর মতে, আত্মহত্যা হলো ব্যক্তিগত ঘটনা কিন্তু আত্মহত্যার হার সামাজিক ঘটনা। তিনি বলেন, প্রতিটি মৃত্যু যিনি মারা গেলেন তার দ্বারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পাদিত কাজ, যা ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক হতে পারে। এরকম কাজের ফলশ্রুতিতে কেউ মারা গেলে সে মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে।
সীমু ও তার বাবা-মার নাটক উপভোগ করা অবস্তুগত সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত।
সংস্কৃতির যে অংশ অদৃশ্য তথা উপলব্ধির ওপর নির্ভরশীল তাই অবস্তুগত সংস্কৃতি। আবার যখন সংস্কৃতিকে সাধারণভাবে ব্যাখ্যা করা হয় তখন তাকে মূলত অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে। অবস্তুগত সংস্কৃতি বিশেষত মানুষের সহজাত প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটায়। যেমন-মানুষের বিশ্বাস, ভাষা, মূল্যবোধ, গুণাবলি, অভ্যাস, আচার-আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি, পছন্দ-অপছন্দ ইত্যাদি। আমরা কি করছি, কি অনুভব করছি, কি চিন্তা করছি- সবই অবস্তুগত সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও ধর্ম, ভাষা, শিল্প, সাহিত্য, রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক সংগঠনও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ। অবস্তুগত সংস্কৃতি অপেক্ষাকৃত ধীরগতিতে চলে এবং সহজে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় না। অবস্তুগত সংস্কৃতির অবদান সাধারণ মানুষ সহজে উপলব্ধি করতে পারে না এবং সংস্কৃতির এই উপাদানটিকে অর্জন করে নিতে হয়। এ ছাড়াও অবস্তুগত সংস্কৃতি বলতে মানুষের সব বিমূর্ত সৃষ্টিকে বোঝায়।
উদ্দীপকের সীমু তার বাবা-মার সাথে ঢাকা মহিলা সমিতির নাট্যমঞ্চে নাটক উপভোগ করে। নাটক উপভোগ করা বিমূর্ত বিষয়। তাই সীমু ও তার বাবা-মায়ের নাটক উপভোগ করাকে অবস্তুগত সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত করা যায়।
উদ্দীপকে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা সভ্যতার উৎকর্ষতাই প্রমাণ করে- উক্তিটি যথার্থ।
সভ্যতা বলতে মানব সমাজের উন্নততর অবস্থাকে বোঝায়। এটি হলো সমাজ-সংস্কৃতির অপেক্ষাকৃত উন্নত অবস্থার প্রতীক বা অগ্রগতির ফল। সভ্যতার ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Civilization যা ল্যাটিন শব্দ Civilies (অর্থ-নাগরিক) থেকে এসেছে। ব্যুৎপত্তিগত অর্থ বিশ্লেষণ করলে সভ্যতা বলতে মানব সংস্কৃতির উন্নত পর্যায়কে বোঝায়, যে পর্যায়ে রাষ্ট্র ব্যবস্থার উদ্ভব হয়েছে। অর্থাৎ, সভ্যতা একটি নগরকেন্দ্রিক প্রপঞ্চ (Urbanised Phenomenon)।
নগরজীবনের উদ্ভবের সাথে সাথে সভ্যতার উন্মেষ ঘটে। সুপ্রাচীনকালে মানুষ কৃষিকাজ জানত না। ধীরে ধীরে কৃষিকাজ শুরু করল। উদ্ভব হলো নবোপলীয় অর্থনীতির (Neolithic Economy) তারপর মানুষ নতুন নতুন হাতিয়ার ও যন্ত্রপাতি আবিষ্কার করতে সক্ষম হলো। তারা মৃৎশিল্প, ধাতুবিদ্যা, কৃষি যন্ত্রপাতি, লাঙ্গল, ভার বহনে পশুশক্তির ব্যবহার, ইট, গাড়ির চাকা ইত্যাদি তৈরি করতে শিখল। ফলে সমাজ কাঠামোতে পরিবর্তন সাধিত হয়। ঊনবিংশ শতাব্দির পর থেকে উড়োজাহাজ, স্যাটেলাইট, কম্পিউটার, জেনারেটর, ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তির আবিষ্কার মানব সমাজকে সভ্যতার চূড়ায় পৌঁছে দিয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সীমু তার বাব-মার সাথে নাটক উপভোগ করতে ঢাকা মহিলা সমিতির নাট্যমঞ্চে যায়। নাটক উপভোগ করার সময়ে বিদ্যুৎ চলে গেলেও বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে নাটক চালিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু আগে এরূপ কোনো ব্যবস্থা ছিল না। বিদ্যুৎ চলে গেলে না আসা পর্যন্ত নাটক বন্ধ থাকত। শুধু প্রযুক্তির কল্যাণে ও সভ্যতার উৎকর্ষতা সাধনের মাধ্যমেই এরূপ বিকল্প ব্যবস্থা রাখা সম্ভব হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা অর্থাৎ, বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এবং জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সভ্যতার উৎকর্ষতাই প্রমাণ করে।
Related Question
View Allকমার্কসীয় তত্ত্বানুযায়ী শ্রেণির প্রকৃতি উৎপাদন পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল।
জনসাধারণের পেশা ভৌগোলিক প্রভাবে নির্ধারিত হয় এবং তা সমাজজীবনকে প্রভাবিত করে।
ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ পাট উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। শীতলক্ষ্যার উপকূলে ডেমরা অঞ্চলে তাঁত শিল্প গড়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত হলো যে, শীতলক্ষ্যার পানির প্রভাবে এ অঞ্চলের আবহাওয়া তাঁত-সুতার নমনীয়তা বাড়িয়ে দেয়। ফলে তাঁতিদের সুতিবস্ত্র বয়নে সুবিধা হয়। বাংলাদেশের সিলেটে ও আসামে গড়ে ওঠেছে চা শিল্প। এই শিল্পের মাধ্যমেও মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে, আর এসব শিল্পের উৎপাদনে ভূমিকা রাখছে 'ভৌগোলিক পরিবেশ'।
উদ্দীপকের শ্রমিকদের আন্দোলন মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বের ইঙ্গিত বহন করে।
শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কার্ল মার্কস বলেন, প্রতিটি মানবসমাজ দুটি বিবদমান শ্রেণিতে বিভক্ত। একটি শ্রেণি হলো উৎপাদন উপায়ের মালিক এবং অন্যটি হলো উৎপাদন উপায়ের মালিকানা থেকে বঞ্চিত অর্থাৎ শ্রমিক শ্রেণি। ঠিক এমনিভাবে আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজকেও কার্ল মার্কস পুঁজিপতি ও সর্বহারা শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজে পুঁজিপতি শ্রেণি কর্তৃক শ্রমিক শ্রেণিকে অত্যধিক শোষণের ফলে এ সমাজে শ্রেণিসংগ্রাম তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। ফলে শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং পুঁজিপতিদের বিরুদ্ধে - দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
উদ্দীপকে দেখতে পাই, জমির আলী যে গার্মেন্টসে কাজ করেন সেখানে শ্রমিকদের মজুরি খুবই কম। তাই জমির আলী শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলনের ডাক দেন। জমির আলী ও শ্রমিকদের এই আন্দোলন কার্ল মার্কসের শ্রেণি সংগ্রাম তত্ত্বকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই বলা যায়, জমির আলী ও শ্রমিকদের আন্দোলন মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বকেই নির্দেশ করে।
উদ্দীপকের জমির আলীর বক্তব্যটি সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম বাহন ধর্মকে ইঙ্গিত করে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি ধর্মেরই সর্বজনীন আবেদন থাকে যা মানুষকে ন্যায়ের পথে এগিয়ে যেতে এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকতে উৎসাহ যোগায়। ধর্মীয় বিধান মানুষকে সৎ, সত্যবাদী, কর্তব্যপরায়ণ, উদার ও পরোপকারী হওয়ার শিক্ষা দেয়। ফলে মানুষ ধর্মীয় প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে অপরাধ ও অন্যায়মুক্ত জীবন গঠনে প্রয়াসী হয়।
ধর্ম মানুষকে নীতি আদর্শ মেনে চলতে একটি নির্দিষ্ট ধারায় পরিচালিত করে। কারণ পৃথিবীতে প্রচলিত প্রায় সব ধর্মেই ইহজগতে সৎকর্মের মাধ্যমে পরজগতে অনন্ত সুখের ধারণা দেওয়া হয়েছে। সাথে সাথে অসৎকর্মের শাস্তির কথাও বলা হয়েছে। ফলে পরজগতে সুখের প্রত্যাশা ও শাস্তির ভয় মানুষকে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রিত আচরণ করতে অনুপ্রাণিত করে।
উদ্দীপকের জমির আলী শ্রমিকদের চুরি করা থেকে বিরত করে বলেন, 'আল্লাহ সব দেখছেন। আসেন আমরা চুরি না করে ন্যায্য মজুরির জন্য আন্দোলন করি।' তার এ বক্তব্য সামাজিক নিয়ন্ত্রণের বাহন ধর্মের ইঙ্গিতবহ। তাই এ কথা সন্দেহাতীতভাবে বলা যায়, সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের জমির আলীর বক্তব্যটি সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম বাহন ধর্মকে ইঙ্গিত করে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি ধর্মেরই সর্বজনীন আবেদন থাকে যা মানুষকে ন্যায়ের পথে এগিয়ে যেতে এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকতে উৎসাহ যোগায়। ধর্মীয় বিধান মানুষকে সৎ, সত্যবাদী, কর্তব্যপরায়ণ, উদার ও পরোপকারী হওয়ার শিক্ষা দেয়। ফলে মানুষ ধর্মীয় প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে অপরাধ ও অন্যায়মুক্ত জীবন গঠনে প্রয়াসী হয়।
ধর্ম মানুষকে নীতি আদর্শ মেনে চলতে একটি নির্দিষ্ট ধারায় পরিচালিত করে। কারণ পৃথিবীতে প্রচলিত প্রায় সব ধর্মেই ইহজগতে সৎকর্মের মাধ্যমে পরজগতে অনন্ত সুখের ধারণা দেওয়া হয়েছে। সাথে সাথে অসৎকর্মের শাস্তির কথাও বলা হয়েছে। ফলে পরজগতে সুখের প্রত্যাশা ও শাস্তির ভয় মানুষকে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রিত আচরণ করতে অনুপ্রাণিত করে।
উদ্দীপকের জমির আলী শ্রমিকদের চুরি করা থেকে বিরত করে বলেন, 'আল্লাহ সব দেখছেন। আসেন আমরা চুরি না করে ন্যায্য মজুরির জন্য আন্দোলন করি।' তার এ বক্তব্য সামাজিক নিয়ন্ত্রণের বাহন ধর্মের ইঙ্গিতবহ। তাই এ কথা সন্দেহাতীতভাবে বলা যায়, সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অপরাধ বিজ্ঞানের জনক এডউইন এইচ, সাদারল্যান্ড।
ক্রিয়াবাদের জনক ডুর্খেইম তার ক্রিয়াবাদের ব্যাখ্যায় সমাজকে জীবদেহের সাথে তুলনা করেন।
একটি জীব বা একজন ব্যক্তিমানুষের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থাকে এবং জীবদেহ বা ব্যক্তিমানুষকে সচল রাখার জন্য তার অঙ্গ- প্রত্যঙ্গগুলো বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করে। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো তাদের কর্ম সঠিকভাবে সম্পাদন করলেই ব্যক্তিমানুষ সচল থাকে। তেমনি সমাজেরও থাকে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা অংশ। সমাজ সচল থাকে তখনই যখন সমাজের অভ্যন্তরে প্রতিষ্ঠানসমূহ ও ব্যক্তিবর্গ নিজ নিজ কর্ম ও দায়িত্ব পালন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!