নব্যপ্রস্তর যুগে চাকার আবিষ্কার হয়।
ময়নামতির প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
ময়নামতিতে খনন কাজের ফলে প্রাপ্ত নিদর্শনসমূহের মধ্যে শালবন বিহার অন্যতম। মূলত এটি একটি বৌদ্ধ বিহার যেখানে ১১৫টি কক্ষের সন্ধান পাওয়া যায় যা পূজা অর্চনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো। এছাড়াও প্রাপ্ত অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ যেমন- কোটিলা মুড়া, আনন্দ বিহার থেকে প্রাপ্ত নিদর্শনসমূহের ধর্মীয় তাৎপর্য দেখে মনে হয় তৎকালীন সময়ে এ অঞ্চলে বৌদ্ধধর্মের শক্তিশালী পৃষ্ঠপোষক ছিল এবং বৌদ্ধ ধর্মের ব্যাপ্তি ও প্রসারে সমাজপতিরা কাজ করেছিল।
উদ্দীপকে সুখেন দাসের স্ত্রীর পছন্দের কাজটির সাথে সিন্ধু সভ্যতার সমাজজীবনের ধর্মীয় দিকটির মিল লক্ষ করা যায়।
সিন্ধু সমাজে ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না। কেননা, এখানে কোনো মন্দির বা মঠের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তাদের মধ্যে যে ধর্মবিশ্বাস ছিল সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সিন্ধু সভ্যতার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাপ্ত পোড়ামাটির মূর্তি থেকে বোঝা যায়, তাদের ধর্মীয় জীবনে মূর্তি পূজার প্রভাব ছিল। প্রাপ্ত মূর্তিসমূহ ছিল মূলত নারী মূর্তি যা থেকে ধারণা করা হয় তাদের মাঝে মাতৃপূজার প্রচলন ছিল। এছাড়াও প্রাপ্ত সিলমোহর থেকে বোঝা যায় তারা বিভিন্ন দেবতার পূজা করে থাকত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সুখেন দাসের স্ত্রী তার স্বামী ও সন্তানের মঙ্গল কামনায় বিভিন্ন দেবতার উপাসনা করে থাকে যা উপরে আলোচিত সিন্ধু সভ্যতার ধর্মীয় জীবনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
'সুখেন দাসের পেশা সিন্ধু সভ্যতার অর্থনৈতিক ব্যবস্থারই প্রতিচ্ছবি'- বক্তব্যটির সাথে আমি একমত।
সিন্ধু সভ্যতা নগরকেন্দ্রিক হলেও অধিকাংশ মানুষ গ্রামে থাকত। কৃষিই ছিল তাদের প্রধান পেশা। অর্থাৎ, সিন্ধু সভ্যতার অর্থনীতির ভিত্তি হলো কৃষি। বৃহৎ শস্যাগার সভ্যতার কৃষি সমৃদ্ধির সাক্ষ্য দেয়। সিন্ধু নদের বন্যার জল জমিকে উর্বর করত, সেই উর্বর জমিতে তারা গম, যব, মুগ, মসুর, তিল প্রভৃতি শস্য চাষ করত। কৃষিকাজের পাশাপাশি সিন্ধু সভ্যতার জনগণ পশুপালন করত। তারা মেষ, গরু, ছাগল, প্রভৃতি গৃহপালিত পশু লালন-পালন করত। মূলত সিন্ধু সভ্যতার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ছিল কৃষি ও পশুপালন নির্ভর।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সুখেন দাস জীবিকার প্রয়োজনে বিভিন্ন ধরনের গৃহপালিত পশু পালন করেন। পাশাপাশি, নিজস্ব জমিতে ধান, গম, ভুট্টাসহ প্রভৃতি চাষ করে থাকেন যা উপরে আলোচিত সিন্ধু সভ্যতার অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। পরিশেষে বলা যায়, সুখেন দাসের পেশা সিন্ধু সভ্যতার অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি-এ বক্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allমহাস্থানগড় বৌদ্ধ ও হিন্দু সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ।
বাংলাদেশের নগরায়ণ বৃদ্ধির হার দ্রুতগতিতে বেড়ে চলায় সাংস্কৃতিক ব্যবধান দেখা দিচ্ছে। দেশে নগরায়ণ যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে নগর মানসিকতা সে তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে। অর্থাৎ বস্তুজগতের উন্নতির সাথে তাল মিলিয়ে মনোজগতের উন্নতি সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সাংস্কৃতিক ব্যবধান দেখা দিচ্ছে।
উদ্দীপকের শিক্ষার্থীরা বগুড়ার মহাস্থানগড় নামক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে শিক্ষা সফরে গিয়েছে।
মহাস্থানগড় প্রাচীন বাংলার সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন ও পুরাকীর্তির স্থান। বগুড়া শহর থেকে তেরো কিলোমিটার উত্তরে বর্তমান শিবগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর তীরে এটি অবস্থিত। এর প্রাচীন নাম পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ডনগর। এক সময় এটি ছিল প্রাচীন বাংলার রাজধানী। মহাস্থানগড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এগুলোর ওপর ভিত্তি করে বাংলার সামাজিক ইতিহাস রচনা করা সম্ভব হয়েছে। মহাস্থানগড়ে আবিষ্কৃত প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো হলো- বৈরাগীর ভিটা, গোবিন্দ ভিটা, পরশুরামের প্রসাদ, গোকুল মেধ, শীলাদেবীর ঘাট, মুনীর ঘোন ইত্যাদি। এছাড়াও মহাস্থানগড়ে আবিষ্কৃত অন্যান্য নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে পোড়ামাটির ফলক, খেলনা, থালা-বাসন, জলপাত্র, রন্ধনপাত্র, সীলমোহর, ব্রোঞ্জের গহনা ইত্যাদি।
উদ্দীপকের শিক্ষার্থীরা বগুড়ার একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে শিক্ষাসফরে গিয়ে পোড়ামাটির ফলক, তামা ব্রোঞ্জের গহনা, পাথরের মূর্তি, সীলমোহর ইত্যাদি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখতে পায়। শিক্ষার্থীদের দেখা এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো বগুড়ার মহাস্থানগড়কে নির্দেশ করে, যা উপরের আলোচনায় সুস্পষ্ট। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শিক্ষার্থীরা বগুড়ার মহাস্থানগড়ে শিক্ষাসফরে গিয়েছে।
উদ্দীপকের আসহাব সাহেবের বক্তব্যে সমকালীন সামাজিক ইতিহাস রচনা করার ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞান বিষয়টির গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।
সমাজবিজ্ঞানকে বলা হয় সমাজকাঠামোর বিজ্ঞান। আর সমাজকাঠামো হলো সমাজের সামগ্রিক ব্যবস্থা। সমাজবিজ্ঞান যেহেতু সমাজকাঠামো তথা ব্যক্তি, গোষ্ঠী, বিভিন্ন অনুষ্ঠান- প্রতিষ্ঠান, মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও কার্যাবলি, সমাজের অতীত ইতিহাস ইত্যাদি সম্পর্কে পঠন-পাঠন ও গবেষণা করে সেহেতু সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে সমাজ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও গভীর জ্ঞান অর্জন করা যায়। উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো এই সমাজকাঠামোরই উপাদান। এ উপাদানগুলোই সমাজ ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে। বিশেষ করে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সামাজিক ইতিহাসের অংশ। আর সামাজিক ইতিহাস হলো একটি জাতি বা সম্প্রদায়ের অতীতের নির্দিষ্ট সময়ের সমাজব্যবস্থার পূর্ণ বিবরণ। আমরা জানি, ভবিষ্যৎ সমাজকে সুষ্ঠুভাবে গড়ে তুলতে হলে অতীতের মানব গোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা, আইন-কানুন, রীতি-নীতি জানা দরকার। এক্ষেত্রে সামাজিক ইতিহাসের জ্ঞান খুবই জরুরি। আর সামাজিক ইতিহাস জানতে হলে সমাজবিজ্ঞান পাঠের বিকল্প নেই। কারণ একমাত্র সমাজবিজ্ঞানই সামাজিক ইতিহাস নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা করে। তাই বলা যায়, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বিশ্লেষণ করে সামাজিক ইতিহাস রচনা করতে হলে সমাজবিজ্ঞান পাঠের বিকল্প নেই।
সাঁওতালরা রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, মৌলভীবাজার, বগুড়া, ময়মনসিংহ, সিলেট, নওগাঁ, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরে বাস করে।
মানুষের জীবনাচরণের সব দিক সংস্কৃতির আওতাভুক্ত হওয়ায় ব্যাপক অর্থে সংস্কৃতি একটি জাতির পরিচয় বহন করে। সংস্কৃতি হলো সমাজস্থ মানুষের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পরিচয়ের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহনকারী একটি উপাদান। প্রকৃত অর্থে সংস্কৃতি হচ্ছে মানুষের জীবনপ্রণালি। সংস্কৃতি একটি সমাজ বা জাতিকে পরিচালিত করে। সর্বোপরি বলা যায়, সংস্কৃতি একটি সমাজ বা জাতির পরিচয় বহন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!