ধর্মকর্মের মূল আধার হলো শরীর।
যারা নিত্যকর্ম অনুশীলন করে না তাদের জীবন সুন্দর হয় না। সামনের সবকিছুই তাদের কাছে বোঝা মনে হয় এবং তাদের নিজস্ব কর্মেও আলস্য ও কুসংস্কার লেগে থাকে। তারা শুভকর্ম সম্পাদনও করে না এবং তাদের মধ্যে মঙ্গল চিন্তারও আবির্ভাব ঘটে না। তাদের জীবনপ্রণালি হয়ে পড়ে নিশ্চল, স্থবির ও গতিহীন। কোনো কাজের মাঝেই তারা আনন্দ খুঁজে পায় না এবং সমস্ত কাজই তাদের কাছে বোঝা মনে হয়। নিত্যকর্মের মতো পবিত্র কর্ম সম্পাদন না করায় তারা ঈশ্বরের সান্নিধ্যও লাভ করতে পারে না। এতে করে তাদের সমস্ত জীবনই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
চিত্রে সুচিত্রা ব্যানার্জি গোমুখাসন অনুশীলন করছে। এ আসনে সে প্রথমে পা দুটি সামনে ছড়িয়ে শক্ত জায়গায় বা মাটির উপর বসবে। তারপর বাম পা হাঁটুর কাছে ভাঁজ করে গোড়ালি ডান দিকের নিতম্বের পাশে স্পর্শ করাবে। অনুরূপভাবে ডান পা ভাঁজ করে বাম পায়ের উপর দিয়ে গোড়ালি বাম নিতম্বের পাশে স্পর্শ করবে। বাম ও ডান পায়ের হাঁটু একই অবস্থানে থাকবে। এবার ডান হাত সোজা মাথার উপরে তুলে ডান কনুই ভাঁজ করে থাকবে পিঠের উপর। বাম হাত কনুই থেকে ভাঁজ করে পিঠের উপর দিকে এনে বাম হাতের আঙুল দিয়ে ডান হাতের আঙুল ধরার চেষ্টা করবে। মেরুদন্ড সোজা রেখে ১০/১৫ বার ধীরে ধীরে গভীরভাবে শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করবে। মানবদেহের দুটি প্রয়োজনীয় কাজ গোমুখাসনের দ্বারা অতি সহজে আয়ত্তে আসে বলে (অনিদ্রা ও পরিপাকযন্ত্রের গোলযোগ) অনুশীলন করা প্রত্যেকের উচিত।
ধর্মচর্চায় যোগাসনের ভূমিকা অতুলনীয়। জাগতিক ও পারমার্থিক কল্যাণ ও উন্নতি এ দুটি উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়েই ধর্মকর্মের চর্চা হয়ে থাকে। ধর্মের বাহ্যিক আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মনের পবিত্রতা ও সামাজিক কল্যাণ সাধনা করতে হয় নিবিড়ভাবে।
দেহ ও মন হচ্ছে সাধনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। সুতরাং এ দুটি। যাতে সুস্থ থাকে সেদিকে অবশ্যই যত্নবান হতে হবে। কেননা দেহ সুস্থ না থাকলে কোনো কাজ সুষ্ঠুভাবে করা যায় না। আবার মনও যদি অস্থির চঞ্চল থাকে সে অবস্থায়ও কোনো কাজ সঠিকভাবে করা সম্ভব নয়। এ সত্যটি প্রাচীনকালের ঋষিগণ উপলব্ধি করে তারা বলে গেছেন, জাগতিক ও পারমার্থিক মঙ্গল লাভের জন্য দেহ ও মনকে অবশ্যই সুস্থ রাখতে হবে। আর এর জন্য যোগাসন অনুশীলন করা একান্ত প্রয়োজন।
Related Question
View Allগোমুখাসন অনুশীলনে অসমান কাঁধ সমান হয়।
বিনম্রতার প্রতীক হচ্ছে নমস্কার। প্রতিদিন গুরুজনকে নমস্কার করলে তাঁদের প্রতি কখনো খারাপ ব্যবহার, অসম্মান বা অমর্যাদা করার সাহস হয় না। যেখানে শ্রদ্ধাভক্তি ও সম্মানের ভাব থাকে সেখানেই বিনম্রতার সৃষ্টি হয়। সেজন্য পিতামাতা, বিদ্বান, বয়োবৃদ্ধ ও গুরুজনদেরকে নিত্য নমস্কার করতে হবে।
উদ্দীপকে প্রাপ্তী খাওয়ার পরে বজ্রাসন অনুশীলন করছে। কেননা এটিই একমাত্র আসন যা খাওয়ার পর অনুশীলন করা যায়। বজ্রাসন অনুশীলনে হাঁটু ভেঙে পা দুটো পিছন থেকে মুড়ে নিতম্বের নিচে এমনভাবে রাখতে হবে যেন গোড়ালি দুটো বাইরের দিকে বেরিয়ে থাকে এবং পায়ের পাতা নিতম্বের সঙ্গে লেগে থাকে। এ অবস্থায় দু-পায়ের বুড়ো আঙুল পরস্পরের সঙ্গে লেগে থাকবে এবং কোমর, গ্রীবা এবং মাথা সোজা হয়ে থাকবে। দুই হাঁটু পরস্পরের সঙ্গে লেগে থাকবে। হাতের কনুই না ভেঙে ডান হাত থাকবে ডান হাঁটুর উপর পাতা এবং বাঁ হাত থাকবে বাঁ হাঁটুর উপর পাতা। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এভাবে ৩০ সেকেন্ড বসতে হবে। তারপর ৩০ সেকেন্ড শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে। এভাবে ৩/৪ বার আসনটি অভ্যাস করতে হবে। এভাবেই প্রাপ্তী তার আসনটি অনুশীলন করে থাকে।
স্বপ্নার অনুশীলনকৃত আসনটি হলো ভুজঙ্গাসন। নিচে এ আসনের প্রভাব তুলে ধরা হলো- ১. মেরুদণ্ড নমনীয় হয়; ২. বাঁকা মেরুদণ্ড সোজা ও সরল হয়; ৩. মেরুদণ্ডের বাত সারে; ৪. পিঠের ও কোমরের পেশি মজবুত হয়, কোমরে ব্যথা হতে পারে না; ৫. স্নায়ুমণ্ডলী সতেজ হয়; ৬. শরীরের নিস্তেজ ভাব দূর হয় ও নতুন শক্তি জন্মায়; ৭. হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস সবল হয়। ৮. বুকের গঠন সুন্দর হয় এবং দেহের লাবণ্য বৃদ্ধি পায়; ৯. যকৃৎ ও প্লীহার কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, হজমশক্তি বাড়ে; ১০. অজীর্ণ, অম্বল, অক্ষুধা, গ্যাস্ট্রিক, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি রোগে সুফল পাওয়া যায়; ১১. যারা কোলকুঁজো তাদের বিশের উপকার হয়।
ভুজঙ্গাসন অনুসরণ ও অনুশীলনে স্বপ্নার কোলকুঁজো ভাব ও বাতের ব্যথা সেরে যাবে বলে আশা করা যায়। এর পাশাপাশি তার অশান্ত মন শান্ত হয় ও তার আত্মশক্তি বৃদ্ধি পায়।
যে আসন অনুশীলনকালে আসন অনুশীলনকারীকে ফণাতোলা ভুজঙ্গ বা সাপের মতো দেখায় তাকে ভুজঙ্গাসন বলে।
সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়'- কথাটি দ্বারা বোঝায় সময়ের কাজ সময়ে করার প্রয়োজনীয়তাকে। নিত্যকর্ম অনুশীলন করার মাধ্যমে মানুষের মাঝে সুঅভ্যাস গড়ে ওঠে। যারা নিত্যকর্ম যথাসময়ে সম্পাদন করতে পারেন তারা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন না সময়মতো কোনো কাজ না করে অসময়ে করতে গেলে নানা ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয়। এ বিষয়টি বুঝাতেই প্রশ্নের কথাটি বলা হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
